Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৬ ০১:৪১ অপরাহ্ণ

তিতুমীর-১৭৮২ সাল

বীর সংগ্রামী তিতুমীর: জীবন ও সংগ্রামের সারসংক্ষেপ

১. তিতুমীরের পরিচয় ও প্রস্তুতি

১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মীর নিত্যানন্দ, যিনি আমাদের কাছে তিতুমীর নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন বাংলার এক মহান বীর সংগ্রামী ও স্বাধীনতাসেনানী। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত সাহসী ও শক্তিশালী ছিলেন। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন ডন-কুস্তি, লাঠিখেলা, তির-ধনুক এবং তরবারি চালনা শেখার মাধ্যমে।

২. ইংরেজ ও জমিদারদের অত্যাচার এবং প্রতিরোধ

তৎকালীন বাংলায় ইংরেজ শাসক ও দেশীয় জমিদাররা সাধারণ মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালাত। ইংরেজরা কৃষকদের জোর করে লাভহীন নীল চাষ করতে বাধ্য করত এবং এদেশের টাকা লুটে নিয়ে ধনী হতো। অন্যদিকে, অত্যাচারী জমিদাররা খাজনা আদায়ের নামে গরিব কৃষকদের চাবুক মারত ও জমি থেকে তাড়িয়ে দিত। এই সীমাহীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাঁড়ান তিতুমীর।

৩. নারকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা ও বীরত্ব

অন্যায়কারী ইংরেজ ও জমিদারদের প্রতিহত করতে তিতুমীর নারকেলবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে একতাবদ্ধ করেন। সেখানে তিনি শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বাঁশ দিয়ে একটি মজবুত দুর্গ বা ‘বাঁশের কেল্লা’ তৈরি করেন। এই কেল্লায় তিনি স্থানীয় তরুণদের অস্ত্র ও যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ দেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের ডাক দেন।

৪. ঐতিহাসিক লড়াই ও মহান আত্মত্যাগ

১৮৩১ সালে ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিক তিতুমীরের বিদ্রোহ দমন করার জন্য এক বিশাল ও আধুনিক সেনাবহর পাঠান। ভোরের আলো ফোটার আগেই ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বাঁশের কেল্লায় অতর্কিত হামলা চালায়। তিতুমীর ও তাঁর বীর তরুণ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইংরেজদের কামানের গোলার বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে একটি গুলি এসে সরাসরি তিতুমীরের বুকে লাগে এবং তিনি বাঁশের কেল্লাতেই শহিদ হন।

মন্তব্য করুন