Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সূরা আত-তূর (ঈমান, আখিরাত ও মুক্তির আলোকে) মোঃ মুজিবুর রহমান

সূরা আত-তূর

(ঈমান, আখিরাত ও মুক্তির আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

তূর পাহাড়ের শপথ নিয়ে কুরআনের বাণী,
সৃষ্টিজুড়ে ছড়িয়ে আছে আল্লাহর নিদর্শনখানি।
লিখিত কিতাব, বাইতুল মা'মুর, আকাশ সুদূর নীল,
উত্তাল সাগর সাক্ষ্য দেয়—স্রষ্টার ক্ষমতা বিপুল।

আল্লাহর বাণী চিরসত্য, তাঁরই বিধান মহান,
কিয়ামতের সেই প্রতিশ্রুতি—অবধারিত অবসান।
আকাশ কাঁপবে ভীষণ বেগে, পর্বত হবে চল,
কোথায় যাবে অহংকারী, কোথায় শক্তির বল?

দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন চিরদিনের নয়,
মৃত্যুর পরে জবাবদিহি—সত্যের হবে জয়।
সম্পদ, ক্ষমতা, পদমর্যাদা থাকবে না আর সাথি,
সৎকর্ম আর ঈমান হবে মুক্তির পথের বাতি।

যারা সত্যকে অস্বীকারে মত্ত অহংকারে,
আখিরাতের কঠিন হিসাব অপেক্ষায় তাদের তরে।
মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢেকে যায় না চিরকাল,
কর্মের ফল ভোগ করতেই হবে—এটাই ন্যায়ের পাল।

জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভয়াবহ এক পরিণাম,
অন্যায় ছেড়ে সত্যের পথে ফেরাই উত্তম কাম।
অবহেলায় কাটিও না আর জীবনের এই ক্ষণ,
তাওবা করে শুদ্ধ করো বিশ্বাস, কাজ ও মন।

মুত্তাকিদের জন্য আছে জান্নাতেরই সুখ,
আল্লাহর রহমতে মুছে যাবে দুঃখ-শোকের দুখ।
সুশোভিত সেই জান্নাতে শান্তির হবে বাস,
ভয়-শঙ্কাহীন জীবন পাবে, পূর্ণ হবে আশ।

সুস্বাদু ফল, উত্তম খাদ্য, নিয়ামতের সম্ভার,
আল্লাহর দানে জান্নাত হবে আনন্দ অপার।
পবিত্র সঙ্গ, নির্মল কথা, ভালোবাসার বন্ধন,
প্রশান্তিতে ভরে উঠবে প্রতিটি হৃদয়-মন।

ঈমানদার বংশধর যদি ঈমানের পথে চলে,
আল্লাহ তাঁদের একত্র করবেন নিজ অনুগ্রহের ফলে।
তবু প্রত্যেকে নিজের কাজের দায় বহন করে,
ন্যায়বিচার হবে সেদিন মহান রবের দরবারে।

পরিবারের প্রতি মমতা, সন্তানের সুশিক্ষা,
ঈমান, নীতি, সৎচরিত্র—জীবন গড়ার দীক্ষা।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ত্যাগে পরিবার হোক সুন্দর,
সত্য ও ন্যায়ের আলোয় উঠুক সমাজ ভরপুর।

রাসুলের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল যারা,
সত্যের আলো ঢাকতে চেয়েও ব্যর্থ হলো তারা।
তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসুল, সত্যের আহ্বানকারী,
মানবজাতির জন্য রহমত, হিদায়াতের দিশারি।

সত্যের পথে বাধা এলে ভেঙো না মন আর,
ধৈর্য ধরে সত্য আঁকড়ে এগিয়ে চলো বারবার।
কটু কথা, অপবাদ এলেও রেখো চরিত্র ভালো,
সত্যের পথে অবিচল থাকো, জ্বালাও ন্যায়ের আলো।

কে করেছে সৃষ্টি মানুষ, কে দিয়েছে প্রাণ?
কার ইশারায় আকাশ-জমিন, কার দানে জীবন-দান?
নিজেই কি মানুষ স্রষ্টা, নিজেই কি সব জানে?
সৃষ্টিজুড়ে আল্লাহর নিদর্শন—চিনে নাও তা জ্ঞানে।

আকাশ-জমিন সৃষ্টির মালিক এক আল্লাহ মহান,
তাঁরই হাতে বিশ্বজগতের পরিচালনার বিধান।
তাঁর সমকক্ষ কেউ তো নেই, নেই কোনো শরিক,
তাঁরই ইবাদত করো সবাই—বিশ্বাস রাখো ঠিক।

শিরক থেকে দূরে থেকো, আঁকড়ে ধরো তাওহিদ,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ো জীবন ও আকিদা সুদৃঢ়।
কুসংস্কার, মিথ্যা ধারণা দূর করো মন থেকে,
সত্যের পথে চলতে শেখো আল্লাহরই নির্দেশ মেনে।

কিয়ামতের সেই কঠিন দিন আসবে একদিন,
অহংকারের সব প্রাচীর হবে ধূলির সমান ক্ষীণ।
ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা তখন দেবে না কোনো ত্রাণ,
আল্লাহরই ন্যায়বিচারে প্রকাশ পাবে কর্মের প্রমাণ।

জালিমের জন্য শাস্তি আছে—কুরআনের সতর্কবাণী,
অন্যের হক নষ্ট কোরো না, মনে রেখো সেই বাণী।
মজলুমের অধিকার রক্ষা, ন্যায়ের পথে চলা,
সৎকর্মে জীবন সাজিয়ে সত্যের প্রদীপ জ্বালা।

রাতের বুকে আল্লাহকে স্মরণ করো ভক্তিভরে,
সালাত আদায় করো নিষ্ঠায়, প্রার্থনা করো অন্তরে।
তাসবিহ, জিকির, দোয়া-তাওবায় নির্মল হোক প্রাণ,
রবের রহমত কামনা করো—তিনিই দয়াবান।

ধৈর্য ধরো বিপদ এলে, রেখো আল্লাহয় ভরসা,
সৎ প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলো, জাগুক মনে আশা।
তাওয়াক্কুল মানে কর্ম ছেড়ে বসে থাকা নয়,
চেষ্টা করে রবের ওপর ভরসাতেই কল্যাণময়।

দুনিয়ার এই জীবন হলো পরীক্ষারই ক্ষেত্র,
সৎকর্মে গড়ো ভবিষ্যৎ, সত্যকে করো কেন্দ্র।
ঈমান, তাকওয়া, ন্যায় ও দয়ায় আলোকিত হোক প্রাণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনেরই প্রধান ধ্যান।

হে আল্লাহ, সত্যের পথে রেখো অবিচল,
অন্যায় থেকে বাঁচার শক্তি দাও নির্মল।
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় জীবন করো গঠন,
ক্ষমা করে দাও আমাদের, শুদ্ধ করো মন।

জান্নাতেরই প্রত্যাশায় কাটুক জীবনের ক্ষণ,
তোমার রহমত লাভের আশায় ভরে উঠুক মন।
ঈমান নিয়ে জীবন শেষে তোমারই কাছে ফিরি,
তোমার দয়ায় মুক্তি পেয়ে জান্নাতবাসী হই।

আমিন, হে পরওয়ারদিগার, কবুল করো দোয়া,
তোমার রহমত ছায়ায় জীবন হোক ধন্য, পবিত্র ও মধুময়।

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ