Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সূরা আল-ফাতহ -মোঃ মুজিবুর রহমান

সূরা আল-ফাতহ

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে করি নিবেদন,
কুরআনের আলোয় খুঁজি সত্য ও মুক্তির সন্ধান।
আটচল্লিশতম সূরা আল-ফাতহ বিজয়ের বাণী,
ঊনত্রিশ আয়াতে জাগায় ঈমান, হিদায়াতের বাণী।

মদিনার বুকে নাজিল হলো সত্যের অমিয় ধারা,
আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা, আঁধার মোচনের তারা।
হুদায়বিয়ার সন্ধি ঘিরে খুলল বিজয়দ্বার,
ধৈর্য, প্রজ্ঞা, দৃঢ় ঈমানে জয় হলো অনিবার।

সুস্পষ্ট বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন দয়াময়,
রাসুলের জীবনে খুলে দিলেন কল্যাণময় জয়।
বাহ্যিক বাধা দেখে যেন হারিয়ে না যায় মন,
আল্লাহর প্রজ্ঞায় লুকিয়ে থাকে সুদূর কল্যাণ।

যে সন্ধি মনে কঠিন লাগে, তাতেও মঙ্গল রয়,
ধৈর্য ধরে সত্যের পথে এগিয়ে চলাই জয়।
ক্ষণিক বাধায় ভেঙো না মন, হারিয়ো না আশা,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে করো সৎকর্মের চর্চা।

আল্লাহর দানে হিদায়াত মেলে, মুছে যায় আঁধার,
তাঁরই রহমত পথ দেখায়, খোলে কল্যাণদ্বার।
ভুলের পথে গেলে ফিরে এসো, তওবায় ভরো প্রাণ,
ক্ষমার আশায় সৎপথ ধরো, জাগাও ঈমান।

অহংকারের পথ ছেড়ে দাও, সত্যকে করো মান,
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো, রাখো বিনয়ী প্রাণ।
পাপের পথে সুখের আশা ক্ষণিক মরীচিকা,
তওবা, সৎকর্ম, তাকওয়ার পথে মুক্তির পথরেখা।

মুমিনের অন্তরে আল্লাহ দেন প্রশান্তিরই আলো,
বিপদ এলেও সত্যের পথে চলতে লাগে ভালো।
ঈমান যখন দৃঢ় হয়, ভয় পায় পিছু হটে,
আল্লাহর স্মরণ শক্তি জোগায় কঠিন সময়স্রোতে।

দুঃখ এলে ধৈর্য ধরো, সুখে কৃতজ্ঞ হও,
অন্যায় থেকে দূরে থেকে সত্যের পথে রও।
আকাশ-জমিনের সব শক্তি আল্লাহরই অধীন,
তাঁরই জ্ঞানে পরিচালিত হয় বিশ্বজগতের দিন।

দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকের, জীবন ফুরায় শেষে,
আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখের কথা ভেবো হেসে।
ঈমান, সৎকর্ম, নেক আমলে সাজাও জীবনখানি,
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ বাণী।

জান্নাতের নিচে নদী বয়ে, অফুরন্ত সুখের ধারা,
মুমিনের তরে রবের দানে খুলবে রহমত-দ্বার।
সম্পদ, খ্যাতি, পদমর্যাদা চিরসুখ দিতে নারি,
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই সাফল্যেরই ভারী।

মুখে ভালো, অন্তর কালো—এ কপটতার ছল,
মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখে অন্তরেরই মল।
আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা সত্যপথের বাধা,
অহংকারে ডুবে গেলে বাড়ে আত্মিক ব্যাধা।

অন্যের অন্তর বিচার করে দিও না অপবাদ,
নিজের ভুলের সংশোধনেই খুঁজে নাও সমাধান।
আল্লাহ জানেন অন্তরের সব গোপন কথা,
তাঁরই ভয়ে সত্যের পথে কাটুক জীবনব্যথা।

আকাশ-জমিন, রাজ্য-সম্পদ—সবই তাঁর দান,
তাঁরই হাতে সৃষ্টিজগতের পরিচালনাবিধান।
ক্ষমতা পেয়ে অহংকারে করো না অবিচার,
একদিন দিতে হবে সবাই কাজের হিসাবভার।

আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়, রহমতের আধার,
তাঁরই কাছে চাও হিদায়াত, কল্যাণের উপহার।
ক্ষমার আশায় তওবা করো, অন্যায় থেকে ফেরো,
সৎপথ ধরে আল্লাহরই সন্তুষ্টি অর্জন করো।

মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, সত্যের আলোকধারা,
সুসংবাদ ও সতর্কবাণী পৌঁছে দেন তিনি সারা।
তাঁরই শিক্ষা পথ দেখায় ন্যায় ও কল্যাণের,
তাঁর আদর্শ আলো জ্বালে মানবজীবনের।

রাসুলের প্রতি ভালোবাসা কাজে হোক প্রকাশ,
সুন্নাহ মেনে চলার মাঝে ফুটুক ঈমানের আভাস।
সত্যবাদিতা, আমানতদারি, দয়া ও সম্মান,
তাঁরই শিক্ষা জীবনে আনুক উত্তম চরিত্রের ঘ্রাণ।

অঙ্গীকারের মর্যাদা রেখো, সত্য কথাই বলো,
আমানতের হক আদায় করে ন্যায়ের পথে চলো।
কথা দিয়ে কথা রাখা মহৎ চরিত্রের চিহ্ন,
প্রতারণাতে ভেঙে যায় বিশ্বাসেরই বন্ধন।

বায়আতের শিক্ষা জানায় দায়িত্বের সম্মান,
সত্যের পথে অবিচল থাকাই মুমিনের পরিচয়দান।
অন্যায় কাজে সায় দিও না, ন্যায়ের পাশে রও,
সততা আর বিশ্বস্ততায় জীবনখানি গড়ো।

কাজের বেলায় অজুহাতের শেষ তো নেই ভাই,
দায়িত্ব এড়িয়ে সাফল্য পাওয়া সম্ভব কখনো নাই।
মুখের কথায় নয়, কাজে আন্তরিকতা চেনা,
সত্যের পথে শ্রম দিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছানো।

নিজের ভুল স্বীকার করে সংশোধনের পথে চলো,
অলসতা আর মিথ্যা ছেড়ে সত্যের প্রদীপ জ্বালো।
অন্যের হক নষ্ট করে সুখের আশা বৃথা,
সততা আর দায়িত্বেই জীবন পায় যথার্থতা।

অসুস্থ কিংবা অক্ষম জন পায় ইসলামে ছাড়,
সামর্থ্য বুঝে দায়িত্ব পালন—এ ন্যায়েরই ধার।
দুর্বল মানুষ অবহেলায় হারাক না অধিকার,
সহমর্মিতায় গড়ে উঠুক মানবতার সংসার।

অন্যের সীমা বুঝতে শেখো, দিও না মনে ব্যথা,
সামর্থ্য অনুযায়ী কাজই দায়িত্ব পালনের কথা।
যে পারে সে সাহায্য করুক, বাড়াক ভালোবাসা,
মানবসেবার পথেই ফুটুক কল্যাণের প্রত্যাশা।

গাছের নিচে সাহাবিদের অঙ্গীকারের ক্ষণ,
আল্লাহ জানেন তাঁদের অন্তর, তাঁদের দৃঢ় মন।
বায়আতে রিদওয়ান হলো ঈমানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,
ত্যাগ ও আনুগত্যে তাঁরা ইতিহাসে দীপ্তিমান।

কঠিন সময় এলেও তাঁরা সত্যের পথে স্থির,
রাসুলের প্রতি ভালোবাসায় ছিলেন অবিচল বীর।
তাঁদের জীবন শিক্ষা দেয় ধৈর্য, ত্যাগ ও মান,
সৎকর্মে গড়ে তুলতে হবে নিজের জীবনখান।

আল্লাহরই হাতে রয়েছে সৃষ্টির পরিণাম,
তাঁরই জ্ঞানে নির্ধারিত সব ঘটনার অবসান।
চেষ্টা করো হালাল পথে, রেখো সৎ উদ্দেশ্য,
ধৈর্য ধরে এগিয়ে চলো, সত্য হোক লক্ষ্য।

সাফল্য এলে কৃতজ্ঞ থেকো, বিপদে রেখো ধৈর্য,
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাগাও নতুন ঐশ্বর্য।
পার্থিব ফল সব সময়ে মনের মতো নয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়।

শক্তি থাকলেই শক্তি দেখানো মহত্ত্বের পরিচয় নয়,
সংযমে আর প্রজ্ঞাতেই সত্যিকারের জয়।
বিরোধ হলে আলোচনায় খুঁজে নাও সমাধান,
রক্তপাত নয়, শান্তির পথে বাঁচুক মানুষের প্রাণ।

ন্যায়ের কথা বলো সাহসে, অন্যায় করো দূর,
ক্ষমা ও সুবিচারে গড়ো সমাজের সুমধুর সুর।
প্রতিহিংসার আগুন জ্বেলে শান্তি মেলে না,
ন্যায়বিচার ছাড়া কখনো স্থায়ী শান্তি হয় না।

অজানা কারও অবস্থাকে তুচ্ছ কোরো না ভাই,
তথ্য যাচাই না করে দোষারোপের অধিকার নাই।
নিরপরাধের নিরাপত্তা রক্ষা করো সদা,
ন্যায়ের পথে বিবেচনা হোক সকল কাজের গাঁথা।

ধর্ম-বর্ণের ভিন্নতা নয় অবিচারের কারণ,
সবার ন্যায্য অধিকার পাক মর্যাদার আসন।
মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা রাখো, ন্যায়ের প্রদীপ ধরো,
অন্যায় থেকে নিজেকে ও সমাজকে মুক্ত করো।

অহংকারে অন্ধ হলে সত্য হয় আড়াল,
বিনয়ী মন সত্যের পথে খুঁজে পায় সকাল।
ধন-সম্পদে, জ্ঞান-গরবে কোরো না অবিচার,
তাকওয়ার গুণে মানুষ পায় মর্যাদার অধিকার।

আল্লাহসচেতন জীবন গড়ো, অন্যায় থেকে ফেরো,
সত্যের বাণী গ্রহণ করে কল্যাণপথে চলো।
পরের দোষের আগে নিজের ভুলটি দেখো,
আত্মশুদ্ধির আলো জ্বেলে সুন্দর জীবন লেখো।

হুদায়বিয়ার পরেও এল উমরার শুভক্ষণ,
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হলো বাস্তবায়নের ধন।
বিলম্ব মানেই হার নয়, থেমো না পথচলায়,
ধৈর্য, চেষ্টা, প্রার্থনা রাখো জীবনেরই ছায়ায়।

তবে নিজের স্বপ্নকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি ভেবো না,
অদৃশ্যের খবর জানার দাবি কখনো কোরো না।
কল্যাণ চেয়ে চেষ্টা করো, আল্লাহর ওপর ভরসা,
তাঁরই কাছে প্রার্থনা হোক জীবনের প্রত্যাশা।

হিদায়াতের সত্য বাণী পৌঁছে দাও সবার দ্বারে,
প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও সুন্দর ভাষা থাকুক কথার ধারে।
জোর নয়, সদাচরণে সত্যের পরিচয়,
উত্তম ব্যবহারে মানুষের মনে কল্যাণেরই জয়।

ধর্মের নামে বিদ্বেষ নয়, ন্যায়ের হোক বিস্তার,
সত্য ও দয়ায় আলোকিত হোক জীবন-সংসার।
নিজের কাজে ইসলামের সৌন্দর্য করো প্রকাশ,
সৎ চরিত্রে জেগে উঠুক ঈমানের বিশ্বাস।

রাসুলের সাথি সাহাবিগণ ঈমানেরই আলো,
পরস্পরের প্রতি দয়ায় তাঁদের জীবন ভালো।
রুকু-সিজদায় আল্লাহর কাছে করতেন প্রার্থনা,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ছিল জীবনের সাধনা।

চারাগাছ যেমন ধীরে ধীরে শক্ত কাণ্ডে দাঁড়ায়,
ঈমানি জীবন সৎকর্মে তেমনি উন্নতি পায়।
নিষ্ঠা, ত্যাগ ও ভালোবাসা গড়ুক চরিত্রখানি,
সৎকর্মে হোক জীবনের পথ আলোকিত ও জানি।

পরিবারের বন্ধন গড়ো ভালোবাসার টানে,
পারস্পরিক শ্রদ্ধা রাখো প্রতিটি আচরণে।
দোষারোপ নয়, আলোচনায় খুঁজে নাও সমাধান,
ক্ষমা, সহমর্মিতা বাড়াক হৃদয়ের সম্মান।

সমাজজুড়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুর্বলের অধিকার,
সততা আর সহযোগিতায় খুলুক উন্নয়নদ্বার।
শিক্ষা, সেবা, আমানতদারি হোক জীবনের ব্রত,
সত্যের পথে ঐক্য গড়ে সমাজ হোক উন্নত।

বিজয় মানে শুধু নয় ক্ষমতা কিংবা ধন,
বিজয় মানে সত্যের পথে অবিচলিত মন।
বিজয় মানে অন্যায় ছেড়ে ন্যায়ের পথে চলা,
বিজয় মানে মানুষেরই দুঃখ-কষ্ট ভোলা।

বিজয় মানে বিপদে ধৈর্য, সুখে কৃতজ্ঞতা,
বিজয় মানে অন্তরজুড়ে ঈমানের পবিত্রতা।
বিজয় মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা,
জান্নাতের প্রত্যাশায় করা সৎকর্মের সাধনা।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকেরই, ফিরতে হবে শেষে,
কর্মের হিসাব দিতে হবে রবের সামনে এসে।
তাই তো জীবন সাজাও তুমি কুরআনেরই আলোয়,
সুন্নাহর পথ অনুসরণ করো দৃঢ় বিশ্বাসে।

অন্যায় ছেড়ে ন্যায়কে ধরো, মিথ্যা থেকে ফেরো,
মানুষের হক আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চাও।
ঈমান, আমল, তাকওয়া নিয়ে কাটুক জীবনকাল,
আখিরাতের সফলতাই হোক সাধনার সম্বল।

হে আল্লাহ, অন্তরজুড়ে ঈমানের আলো দাও,
সত্যকে চিনে সত্যের পথে চলার তাওফিক দাও।
বিপদে ধৈর্য, সুখে কৃতজ্ঞতা, দাও উত্তম চরিত্র,
অহংকার ও কপটতা থেকে রাখো অন্তর পবিত্র।

পরিবারে শান্তি দাও, সমাজে ন্যায়ের জয়,
মানুষের হক রক্ষায় যেন অবহেলা না হয়।
কুরআন-সুন্নাহর পথে চলি, এ প্রার্থনা কবুল করো,
দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার রহমত দান করো।

সূরা আল-ফাতহের শিক্ষা জাগুক প্রতিটি প্রাণে,
ঈমান, শান্তি, ন্যায় ও প্রেম ফুটুক জীবনের গানে।
সত্যের পথে অবিচল থেকে হোক জীবন সার্থক,
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেই হোক পরিণাম সফল ও অর্থবহ।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ