প্রভাষক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
কার্যকর চাকরিকাল প্রয়োগ করে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতা দাবি করতে পারবে না
জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পূর্বের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর জ্যেষ্ঠতা দাবি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পূর্বের কার্যকর চাকরিকাল গণনা করা হবে তাঁদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই হিসাব প্রয়োগ করা যাবে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সরকারের করা সিভিল আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয়করণকৃত শিক্ষক বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয়করণের আগে অর্জিত কার্যকর চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনার বিধানটি কেবল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য। এই বিধান ব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চেয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করার সুযোগ নেই।
আদালত আরও বলেন, চাকরিসংক্রান্ত বিচারিক নীতি অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তাঁদের প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ থেকে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারিত হবে জাতীয়করণের অব্যবহিত আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধির অধীনে নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিচে। আদালতের মতে, এ ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক বা স্ববিরোধী নয়।
জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিচে না রাখা এবং তাদের আগের অবস্থান অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক।
২০১১ খ্রিষ্টাব্দে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের বিধিমালার ২(গ) বিধিকে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ৯(১) বিধির একটি অংশ—যেখানে জাতীয়করণের অব্যবহিত আগে নিয়োগবিধির অধীনে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ শিক্ষকের নিচে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল—আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করে সে অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আপিল করে সরকার। আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিচে তাঁদের অবস্থান নির্ধারণসংক্রান্ত বিধানের বৈধতা বহাল রাখেন।
প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করার দাবির বিষয়ে আপিল বিভাগ বলেন, রিট আবেদনকারীদের ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বরের অফিস আদেশের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারা ওই নিয়োগ আদেশ কিংবা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তগুলো চ্যালেঞ্জ করেননি।
এ ছাড়া ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুলাইয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বা এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণের প্রমাণও তারা উপস্থাপন করতে পারেননি। এর মধ্যে মহাপরিচালকের অনুমোদনের মতো শর্তও রয়েছে।
৪
৭ মন্তব্য