সহকারী শিক্ষক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ণ
একজন জীবনসঙ্গীকে বুঝুন,ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, আমানতও!
একজন জীবনসঙ্গীকে বুঝুন,ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, আমানতও!
ইসলামে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, পারস্পরিক অধিকার ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে যায় শুধু অর্থের অভাবে নয়; বরং অবহেলা, অসম্মান, দুর্ব্যবহার, দায়িত্বহীনতা ও একে অপরের অনুভূতি বুঝতে না পারার কারণেও।
আবার শুধু ভালো ব্যবহার দিয়ে জীবনের বাস্তব প্রয়োজনগুলো উপেক্ষা করাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনে প্রয়োজন আর্থিক দায়িত্ববোধ, উত্তম চরিত্র, মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা।
আল্লাহ তাআলা বলেন “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”( সুরা আর-রূম, আয়াত ২১)
🌸 একজন স্ত্রী কী চান?
কেউ চান স্বামীর মিষ্টি কথা, কেউ চান তাঁর মনোযোগ ও যত্ন। কেউ ছোট্ট একটি উপহারেই আনন্দ খুঁজে পান, আবার কেউ চান স্বামী তাঁর কথা মন দিয়ে শুনুন, কষ্টের সময়ে পাশে থাকুন এবং তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।কেউ আর্থিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন, কেউ ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তিকে। অধিকাংশ সম্পর্কেই এসবের সমন্বয় প্রয়োজন, যদিও প্রত্যেক মানুষের চাহিদা এক নয়। তবে মনে রাখতে হবে, ভালোবাসার নামে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা, অপমান করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করা ভালোবাসার পরিচয় নয়।
রাসুলুল্লাহ( সা:)বলেছেন“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।”
( জামে আত-তিরমিযি, ৩৮৯৫)
❤️ স্বামীর দায়িত্ব যেমন, স্ত্রীর দায়িত্বও তেমন
একজন স্বামীর দায়িত্ব শুধু উপার্জন করেই শেষ হয়ে যায় না। স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তম আচরণ, সম্মান ও অধিকার আদায়ের প্রতিও তাঁকে যত্নশীল হতে হয়।
একইভাবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উচিত পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, দায়িত্ব পালন করা, একে অপরের অনুভূতিকে মূল্য দেওয়া এবং ভুল হলে সংশোধনের চেষ্টা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন “আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।”( সুরা আন-নিসা, আয়াত ১৯) একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনে হালাল ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও বৈধ ঘনিষ্ঠতারও গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রশান্তি, পোশাক ও আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন।এরশাদ হয়েছে “তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।”
( সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)
🌱 তাহলে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য কোথায়?
সৌন্দর্য শুধু দামি উপহার, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা মিষ্টি কথায় নয়। সৌন্দর্য হলো ;কষ্টের সময়ে পাশে থাকা, রাগের সময়ও সম্মান বজায় রাখা, প্রয়োজনের সময় দায়িত্ব পালন করা এবং একে অপরের দুর্বলতাকে অপমানের অস্ত্র না বানানো।
মনে রাখবেন, জীবনসঙ্গী কোনো ভোগের বস্তু নন; তিনি একজন মানুষ, যার রয়েছে অনুভূতি, সম্মান, অধিকার ও স্বপ্ন। তাঁকে ভালোবাসুন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাঁর হক আদায় করুন দায়িত্ববোধ থেকে। তাঁর সঙ্গে উত্তম আচরণ করুন নিজের চরিত্রের সৌন্দর্য দিয়ে। আর দাম্পত্য জীবনে সমস্যা দেখা দিলে অহংকার নয়, ন্যায়বিচার, আন্তরিক আলোচনা ও সংশোধনের পথ বেছে নিন।
যে সংসারে আল্লাহভীতি, উত্তম চরিত্র, পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ ও রহমত থাকে সেই সংসারই প্রকৃত প্রশান্তির ঠিকানা হয়ে ওঠার আশা রাখে।
আল্লাহ আমাদের দাম্পত্য জীবনগুলোকে ভালোবাসা, রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।
#ইসলামিক_জীবন #দাম্পত্য_জীবন #স্বামীস্ত্রীর_অধিকার #উত্তম_চরিত্র #পারিবারিক_শান্তি
৪
৭ মন্তব্য