Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা নেই ৮৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, শিক্ষার্থীদের ৯৪ শতাংশে

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থাও নেই ৯৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু হয়নি।

শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ প্রতিবেদনের মাধ্যমিক স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত সারণিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা ছিল ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষার্থীদের ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধার বিস্তার সামান্য বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৩ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সায়েন্স ল্যাব রয়েছে। সে হিসাবে ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ল্যাব নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে সায়েন্স ল্যাব ছিল ৬১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে ৪১ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব নেই। আগের বছর কম্পিউটার ল্যাব ছিল ৪০ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে।

শিক্ষাদানের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। ফলে ৩৭ দশমিক ১২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাঠদান করা হয় ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। সে হিসাবে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটভিত্তিক পাঠদান চালু নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইন্টারনেটভিত্তিক পাঠদান চালু ছিলো ৬৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা রয়েছে। বাকি ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা নেই। প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা রয়েছে ৮১ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা নেই।

পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র রয়েছে ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সে হিসাবে ৬৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র নেই।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি ৬৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা নেই। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে সিসি ক্যামেরা ছিল ৩৩ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে।

নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। ফলে ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। এ ছাড়া ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী রয়েছে। সে হিসাবে ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী নেই। 

সীমানাপ্রাচীর রয়েছে ৬৫ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে সীমানাপ্রাচীর নেই। অন্যদিকে, শহীদ মিনার রয়েছে ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এবং র‍্যাম্প রয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, ৩৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই এবং ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে র‍্যাম্প নেই।

২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শহীদ মিনার ছিলো ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ মাধ্যমিক স্কুলে। সে হিসেবে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শহীদ মিনার থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে।

২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ৪২ দশমিক ৮৯ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে হিসাবে ৫৭ দশমিক ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। আইসিটি ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাকি ৬৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ ল্যাব নেই।

এ ছাড়া ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান চালু রয়েছে। অর্থাৎ, ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান চালু নেই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ