প্রভাষক
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
এক লাখ ১৫ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য, ব্যাহত পাঠদান
দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। অনেক প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত ক্লাসের চাপে শিক্ষকদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের শিখন ঘাটতির মুখে পড়ছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ প্রায় ২০ হাজার। যদিও সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক যোগ দিয়েছেন, তার পরও প্রায় ৪৩ হাজার পদ খালি রয়ে গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৬৯৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৩টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের তিন হাজার ৪০৯টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে। সম্প্রতি প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রায় দুই হাজার পদ পূরণে পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হলেও দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে এই সংকট দ্রুত কাটছে না।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র আরও বেশি উদ্বেগজনক। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সপ্তম বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৮ হাজার ৩৯৯টি। শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় মাত্র ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা সম্ভব হয়। ফলে ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য থেকে যায়। বর্তমানে এটি বেড়ে কমপক্ষে ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দৃশ্যমান। দেশে ৬৫৩টি পুরনো ও জাতীয়করণ করা সরকারি কলেজে পৌনে চার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছে।
অন্যদিকে, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষায় অনুমোদিত ১৫ হাজার ৮৪৪টি পদের মধ্যে আট হাজার ৪৮৬টিই খালি—যা মোট পদের অর্ধেকেরও বেশি। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংকট দূর করতে পিএসসিতে নিয়মিত চাহিদা পাঠানো ও আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তির কথা বললেও বাস্তবে তার গতি ধীর।
৪
৭ মন্তব্য