Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

নুন সাকিন তানবিনের নিয়ম

পবিত্র কুরআন থেকে নুন সাকিন ও তানবিনের ৪টি নিয়মের কিছু সহজ এবং স্পষ্ট বাস্তব উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো, যা আপনার মুখস্থ করতে ও বুঝতে সুবিধা হবে:
১. ইযহার-এর উদাহরণ (স্পষ্ট করে পড়া)
নুন সাকিন বা তানবিনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি অক্ষরের (ء ، هـ ، ع ، ح ، غ ، <b class="highlight">خ</b>) যেকোনো একটি আসলে স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  • নুন সাকিন দিয়ে: مِنْ حَوْلِهِمْ (মিন হাওলিহিম) — এখানে نْ (নুন সাকিন)-এর পর ح এসেছে, তাই গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট পড়তে হবে।
  • তানবিন দিয়ে: عَلِيمٌ حَكِيمٌ (আলীমুন হাকীম) — এখানে مٌ (তানবিন)-এর পর ح এসেছে।
২. ইদগাম-এর উদাহরণ (মিলিয়ে পড়া)
নুন সাকিন বা তানবিনের পর ي ، ر ، م ، ل ، و ، ن আসলে মিলিয়ে পড়তে হয়।
  • ইদগামে বা-গুন্নাহ (গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়া):
    • নুন সাকিন দিয়ে: مَنْ يَعْمَلْ (মাই-ইয়া’মাল) — এখানে نْ-এর পর ي আসায় গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়তে হচ্ছে।
    • তানবিন দিয়ে: لَهَبٍ وَتَبَّ (লাহাবিব-ওয়াতাব্বা) — এখানে তানবিনের পর و এসেছে।
  • ইদগামে বিলা-গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়া):
    • নুন সাকিন দিয়ে: مِنْ رَبِّهِمْ (মির-রব্বিহিম) — এখানে نْ-এর পর ر আসায় কোনো গুন্নাহ ছাড়া সরাসরি মিলিয়ে পড়তে হচ্ছে।
    • তানবিন দিয়ে: غَفُورٌ رَحِيمٌ (গফুরুর-রাহীম) — এখানে তানবিনের পর ر এসেছে।
৩. ইকলাব-এর উদাহরণ (মিম দ্বারা পরিবর্তন করে পড়া)
নুন সাকিন বা তানবিনের পর শুধুমাত্র ب (বা) অক্ষরটি আসলে 'নুন'-এর উচ্চারণকে 'মিম' দিয়ে বদলে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
  • নুন সাকিন দিয়ে: مِنْ بَعْدِ (মিম-বা’দি) — এখানে نْ-এর পর ب আসায় 'মিন' না বলে 'মিম' উচ্চারণ করতে হবে।
  • তানবিন দিয়ে: سَمِيعٌ بَصِيرٌ (সামি’উম-বাছীর) — এখানে তানবিনের পর ب এসেছে।
৪. ইখফা-এর উদাহরণ (গোপন করে গুন্নাহসহ পড়া)
বাকি ১৫টি অক্ষরের কোনো একটি আসলে নাকের বাঁশিতে নিয়ে লুকিয়ে গুন্নাহ করে পড়তে হয়।
  • নুন সাকিন দিয়ে: مِنْ شَرِّ (মিঁশ-শাররি) — এখানে نْ-এর পর ইখফার অক্ষর ش এসেছে।
  • তানবিন দিয়ে: نَارًا تَلَظَّى (নারান-তালাজ্জা — পড়ার সময় 'নারাঁ তালাজ্জা') — এখানে তানবিনের পর ت এসেছে।

এই উদাহরণগুলো কি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়েছে? পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার জন্য আপনি কি এই অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর প্র্যাকটিস করতে চান

প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা (কুরআন ও তাজবিদ অংশ) পরীক্ষার জন্য নুন সাকিন ও তানবিনের নিয়ম থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংক্ষিপ্ত এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তপ্রশ্ন ১: নুন সাকিন ও তানবিন কাকে বলে?
উত্তর: জযমযুক্ত নুনকে (ন‍়্) নুন সাকিন বলে। আর অক্ষরের ওপর বা নিচে দুই যবর (ً), দুই যের (ٍ) বা দুই পেশকে (ٌ) তানবিন বলে।
প্রশ্ন ২: নুন সাকিন ও তানবিন পড়ার নিয়ম বা বিধান কয়টি ও কী কী?
উত্তর: নুন সাকিন ও তানবিন পড়ার নিয়ম মূলত ৪টি। যথা: ১. ইযহার, ২. ইদগাম, ৩. ইকলাব এবং ৪. ইখফা।
প্রশ্ন ৩: ইযহার শব্দের অর্থ কী এবং এর হরফ কয়টি?
উত্তর: ইযহার শব্দের অর্থ স্পষ্ট করে পড়া। ইযহারের হরফ বা অক্ষর মোট ৬টি (ء ، هـ ، ع ، ح ، غ ، خ)।
প্রশ্ন ৪: ইদগাম শব্দের অর্থ কী এবং এর হরফ কয়টি?
উত্তর: ইদগাম শব্দের অর্থ মিলিয়ে পড়া। ইদগামের হরফ মোট ৬টি (ي ، ر ، م ، ل ، و ، ن)।
প্রশ্ন ৫: ইদগাম কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ইদগাম ২ প্রকার। যথা: ১. ইদগামে বা-গুন্নাহ (গুন্নাহসহ) এবং ২. ইদগামে বিলা-গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া)।
প্রশ্ন ৬: ইকলাব শব্দের অর্থ কী এবং এর হরফ কয়টি?
উত্তর: ইকলাব শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে বা বদলে পড়া। ইকলাবের হরফ মাত্র ১টি, তা হলো ‘বা’ (ب)।
প্রশ্ন ৭: ইখফা শব্দের অর্থ কী এবং এর হরফ কয়টি?
উত্তর: ইখফা শব্দের অর্থ গোপন করে বা লুকিয়ে পড়া। ইখফার হরফ মোট ১৫টি (ت ، ث ، ج ، د ، ذ ، ز ، س ، ش ، ص ، ض ، ط ، ظ ، ف ، ق ، ك)।

বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর (কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন)
প্রশ্ন ১: ইদগাম কাকে বলে? এটি কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লিখ।
উত্তর: নুন সাকিন বা তানবিনের পরে ইদগামের কোনো হরফ আসলে, নুন সাকিন বা তানবিনকে তার পরের হরফের সাথে মিলিয়ে পড়াকে ইদগাম বলে।
এটি দুই প্রকার:
  1. ইদগামে বা-গুন্নাহ: গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়া। হরফ ৪টি (ي ، ن ، م ، w)। উদাহরণ: مَنْ يَعْمَلْ (মাই ইয়া'মাল)।
  2. ইদগামে বিলা-গুন্নাহ: গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়া। হরফ ২টি (ل ، ر)। উদাহরণ: مِنْ رَبِّهِمْ (মির রব্বিহিম)।
প্রশ্ন ২: ইকলাব বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে লিখ।
উত্তর: নুন সাকিন কিংবা তানবিনের পরে যদি ইকলাবের একমাত্র হরফ ‘বা’ (ب) আসে, তবে সেই নুন সাকিন বা তানবিনকে একটি ছোট ‘মিম’ (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়। একে ইকলাব বলে।
  • উদাহরণ: مِنْ بَعْدِ — এখানে নুন সাকিনের পর ب আসার কারণে উচ্চারণ ‘মিন বা’দি’ না হয়ে ‘মিম বা’দি’ হবে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ