Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:১৮ পূর্বাহ্ণ

মা—নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও জীবনের চিরন্তন আশ্রয় - মোঃ মুজিবুর রহমান

মা—নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও জীবনের চিরন্তন আশ্রয়

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মা—মাত্র একটি শব্দ, অথচ এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক পৃথিবী ভালোবাসা, অসীম মমতা, অকৃত্রিম স্নেহ, নীরব ত্যাগ ও অফুরন্ত আত্মিক প্রশান্তি। পৃথিবীতে সন্তানের কাছে মায়ের মতো আপন, মায়ের মতো নির্ভরতার এবং মায়ের মতো মমতাময় আশ্রয়ের অনুভূতি সত্যিই অতুলনীয়। মা সেই নারী, যিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করেন, প্রসবের অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে তাকে পৃথিবীর আলো দেখান এবং নিজের স্নেহ, যত্ন, ত্যাগ ও ভালোবাসায় ধীরে ধীরে তাকে বড় করে তোলেন। সন্তানের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে যিনি নিজের ক্লান্তি ভুলে যান, সন্তানের কষ্টে যাঁর হৃদয় ব্যথিত হয় এবং সন্তানের কল্যাণে যিনি নিরলসভাবে কাজ করে যান—তিনিই মা। তাঁর ভালোবাসা কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি দায়িত্ব, ত্যাগ, মমতা ও গভীর আত্মিক বন্ধনের এক অনন্য প্রকাশ।

মায়ের পরিচয় ও মাতৃত্বের মহিমা

মাতৃত্ব প্রকৃতির এক অনন্য ব্যবস্থা এবং আল্লাহর সৃষ্টিজগতের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। একজন নারী যখন গর্ভে সন্তান ধারণ করেন, তখন থেকেই তাঁর জীবনে শুরু হয় নতুন এক দায়িত্ব, নতুন এক অনুভূতি এবং গভীর এক আত্মিক বন্ধন। গর্ভাবস্থার শারীরিক কষ্ট, প্রসবের যন্ত্রণা, রাতের পর রাত জেগে সন্তানের যত্ন নেওয়া, অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন হওয়া এবং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিরন্তর চেষ্টা—এসবের মধ্য দিয়ে মাতৃত্বের মহিমা প্রকাশিত হয়।

তবে মায়ের পরিচয় কেবল সন্তান জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যিনি জন্ম না দিয়েও কোনো শিশুকে নিজের স্নেহ, মমতা, দায়িত্ব ও যত্নে লালন-পালন করেন, তাঁর জীবনেও মাতৃত্বের গভীর মানবিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। পালক মা কিংবা দত্তক গ্রহণকারী মা সন্তানের জীবনে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারেন। জৈবিক সম্পর্ক ও সামাজিক-আইনি পরিচয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, স্নেহপূর্ণ লালন-পালন সন্তানের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ইসলামে অবশ্য বংশপরিচয় সংরক্ষণ এবং অভিভাবকত্বের বিধানও যথাযথভাবে মানতে হয়।

মায়ের ভালোবাসা—নিঃস্বার্থ ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত

মায়ের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর সন্তানের প্রতি গভীর মমতা ও কল্যাণকামিতা। সন্তান ছোট থাকলে মা তাকে কোলে তুলে নেন, কান্না থামানোর চেষ্টা করেন, অসুস্থ হলে সেবা করেন এবং বিপদে পড়লে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। সন্তানের ক্ষুধা, ঘুম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা ভাবতে ভাবতে অনেক সময় মা নিজের প্রয়োজনকেও পিছনে রাখেন।

সন্তান বড় হয়ে গেলেও মায়ের দুশ্চিন্তা সহজে শেষ হয় না। সন্তানের সাফল্যে তিনি আনন্দিত হন, ব্যর্থতায় সান্ত্বনা দেন, ভুল করলে সংশোধনের চেষ্টা করেন এবং বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ান। কখনো তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ পায় কোমল কথায়, কখনো নীরব অপেক্ষায়, কখনো শাসনে, আবার কখনো অশ্রুসিক্ত দোয়ায়।

মায়ের সব সিদ্ধান্ত যে নির্ভুল হবে, তা নয়; তিনিও মানুষ, তাঁরও সীমাবদ্ধতা ও ভুল থাকতে পারে। তবু সন্তানের জীবনে তাঁর স্নেহ, শ্রম ও অবদান গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতার দাবিদার। মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ হলো তাঁর অনুভূতি বোঝা, তাঁর প্রয়োজনের খোঁজ নেওয়া এবং সাধ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে থাকা।

ইসলামের দৃষ্টিতে মায়ের মর্যাদা

ইসলাম মায়ের মর্যাদা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ এবং তাঁদের সঙ্গে সুন্দর আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” —সুরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩।

পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদের বিরক্তিসূচক কথা পর্যন্ত না বলতে এবং সম্মানজনকভাবে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩–২৪)

এই নির্দেশনা আমাদের শেখায়, মায়ের প্রতি সদাচরণ কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশিত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। মায়ের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলা, তাঁর কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা এবং তাঁর জন্য দোয়া করা—এসবই উত্তম চরিত্রের পরিচয়।

মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের বিশেষ উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন—

“তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে।” —সুরা লুকমান, আয়াত ১৪-এর অর্থানুগ অংশ।

এই আয়াত মাতৃত্বের কষ্টকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার শিক্ষা দেয়। সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা ঘটে; গর্ভধারণ, প্রসব ও লালন-পালনের দীর্ঘ পথ ধরে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি জানতে চাইলেন, তাঁর উত্তম আচরণ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি বললেন, “তোমার মা।” তৃতীয়বারও তিনি বললেন, “তোমার মা।” এরপর চতুর্থবার বললেন, “তোমার বাবা।”

—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণিত হাদিসের অর্থ।

এই হাদিসে মায়ের প্রতি সদাচরণের বিশেষ গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তবে মায়ের মর্যাদা যতই মহান হোক, ইবাদত ও চূড়ান্ত আনুগত্যের অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কোনো বিষয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে বললে সে নির্দেশ মানা যাবে না; তবু মায়ের সঙ্গে সদাচরণ ও সম্মান বজায় রাখতে হবে।

মা—সন্তানের প্রথম শিক্ষক

একটি শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার, আর সেই শিক্ষার সূচনায় মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের মুখের ভাষা শুনে শিশু কথা বলতে শেখে, তাঁর আচরণ দেখে ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের ধারণা পায় এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ভালো-মন্দের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে।

মা শিশুকে শুধু কথা বলতে শেখান না; তিনি তাকে ভালোবাসতে, অন্যের কষ্ট বুঝতে, সত্য বলতে, দায়িত্ব নিতে এবং মানুষের প্রতি সদয় হতে উৎসাহিত করেন। তাঁর স্নেহপূর্ণ ব্যবহার শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। আবার তাঁর নৈতিক শিক্ষা ও সুন্দর দৃষ্টান্ত সন্তানের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে।

সন্তান যখন বিদ্যালয়ে যায়, তখন তার শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়; কিন্তু পারিবারিক শিক্ষা ও মায়ের প্রভাব দীর্ঘদিন তার জীবনে থেকে যায়। তাই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে মায়ের পাশাপাশি বাবার, পরিবারের অন্য সদস্যদের এবং শিক্ষকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

মা—সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় ও মানসিক শক্তি

জীবনের পথে মানুষ নানা বিপদ, ব্যর্থতা, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়। এমন সময়ে মায়ের সান্ত্বনাময় কথা, আন্তরিক পরামর্শ এবং স্নেহপূর্ণ উপস্থিতি সন্তানের মনে সাহস জোগাতে পারে। সন্তানের সাফল্যের দিনে মা আনন্দিত হন, আবার ব্যর্থতার দিনে তাকে নতুন করে চেষ্টা করার প্রেরণা দেন।

মায়ের কাছে সন্তান শুধু তার অর্জনের জন্য প্রিয় নয়; তার দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার সময়েও সে মমতার দাবিদার। এই অনুভূতি সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি গঠনে সহায়তা করে। তবে প্রত্যেক মা তাঁর ভালোবাসা একইভাবে প্রকাশ করতে পারেন না; কারও স্নেহ প্রকাশ পায় কথায়, কারও কাজে, আবার কারও নীরব দায়িত্ব পালনে।

মায়ের যত্ন ও স্নেহের পাশাপাশি তাঁর নিজেরও প্রয়োজন বিশ্রাম, সম্মান, মানসিক প্রশান্তি এবং পরিবারের সহযোগিতা। মাতৃত্বকে মহিমান্বিত করার অর্থ এই নয় যে মায়ের সব কষ্ট নীরবে সহ্য করতেই হবে; বরং তাঁর শ্রমের মর্যাদা দেওয়া, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং তাঁর সুস্থতা ও স্বস্তির দিকে খেয়াল রাখাও পরিবারের কর্তব্য।

মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব

মায়ের প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি দৈনন্দিন আচরণে প্রকাশ পাওয়ার বিষয়। মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—

·       সম্মানজনক আচরণ: মায়ের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলা এবং তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া।

·       সেবা ও সহযোগিতা: অসুস্থতা, বার্ধক্য কিংবা প্রয়োজনের সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকা।

·       সময় ও মনোযোগ: তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, খোঁজখবর নেওয়া এবং একাকিত্ব কমাতে চেষ্টা করা।

·       দোয়া ও কৃতজ্ঞতা: আল্লাহর কাছে তাঁর কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমত কামনা করা।

·       ন্যায়সংগত আচরণ: মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের অধিকারও রক্ষা করা।

·       জীবিত ও প্রয়াত মায়ের স্মরণ: জীবিত থাকলে সেবা করা; ইন্তেকাল করলে তাঁর জন্য দোয়া করা, তাঁর বৈধ ঋণ ও দায়িত্বের বিষয়ে যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করা।

মায়ের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য সব সময় বড় সম্পদের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি কোমল কথা, একটু সময়, একটি আন্তরিক খোঁজখবর কিংবা প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোও তাঁর মনে গভীর প্রশান্তি এনে দিতে পারে। তবে প্রকৃত দায়িত্ব হলো ভালোবাসার পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োজনের প্রতিও যত্নশীল হওয়া।

মায়ের প্রতি অবহেলা—একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা

জীবনের ব্যস্ততায় কখনো কখনো মানুষ মায়ের ত্যাগের কথা ভুলে যায়। শৈশবে যিনি সন্তানের প্রতিটি প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রেখেছেন, বয়সের ভারে তিনিই হয়তো সন্তানের একটু সময়, স্নেহময় কথা কিংবা সামান্য সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকেন। অথচ সন্তান নিজের কাজ, সংসার ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মধ্যে তাঁর প্রয়োজনকে উপেক্ষা করতে পারে।

এমন অবহেলা মায়ের মনে কষ্ট সৃষ্টি করে এবং পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা কমিয়ে দেয়। তাই মা বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার আগেই তাঁর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তাঁর প্রয়োজন, পছন্দ, শারীরিক সামর্থ্য ও মানসিক অবস্থাকে সম্মান করা উচিত। কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে রাগ, অপমান কিংবা কঠোর ভাষার পরিবর্তে ধৈর্য, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ বেছে নেওয়া শ্রেয়।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সব পরিবার ও সম্পর্কের বাস্তবতা এক নয়। কারও জীবনে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হতে পারে, কারও মা জীবিত নাও থাকতে পারেন, আবার কেউ মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিতও হতে পারেন। তাঁদের অনুভূতির প্রতিও সহমর্মী হওয়া জরুরি। মায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কারও ব্যক্তিগত বেদনা বা বাস্তব সীমাবদ্ধতাকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়।

মা—ভালোবাসার চিরন্তন স্মৃতি

মা জীবনের এমন এক গভীর সম্পর্ক, যার প্রভাব মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল থেকে যায়। মায়ের শেখানো কথা, স্নেহের স্মৃতি, উপদেশ, দোয়া ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত সন্তানকে জীবনের নানা পর্যায়ে পথ দেখাতে পারে। মা পাশে থাকলে তাঁর যত্ন নেওয়া, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁকে সম্মান করা সন্তানের দায়িত্ব। আর মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে তাঁর স্মৃতিকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করা, তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তাঁর শেখানো ভালো গুণগুলো নিজের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা অর্থবহ কর্তব্য।

তবে মায়ের ভালোবাসা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাবার অবদান, পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন কিংবা লালন-পালনকারী মানুষের ত্যাগকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়। একটি শিশুর সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পারিবারিক ভালোবাসা, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা সেই বন্ধনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, যাঁর স্নেহ ও শ্রম অনেক সময় পরিবারের জীবনকে গভীরভাবে সমৃদ্ধ করে।

উপসংহার

মা মানে গর্ভধারণ ও জন্মদানের মহৎ অভিজ্ঞতা, নিঃস্বার্থ স্নেহের গভীরতা, নীরব ত্যাগের সৌন্দর্য এবং সন্তানের কল্যাণে নিরন্তর প্রচেষ্টা। মা মানে জীবনের প্রথম আশ্রয়, মমতার কোমল পরশ, বিপদের সময়ে সাহস জোগানো এক আপন মানুষ এবং সুন্দর চরিত্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। তাঁর অবদান কোনো নির্দিষ্ট দিন বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা, সেবা ও সদাচরণ প্রতিদিনের জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

আসুন, আমরা মায়ের ত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিই, তাঁর প্রয়োজন ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হই, তাঁকে ভালোবাসা ও সম্মানে আগলে রাখি এবং পরিবারের সবার সঙ্গে ন্যায়, দয়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলি। কারণ মায়ের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় নয়, বরং দায়িত্বশীল আচরণ, আন্তরিক সেবা এবং অবিচল কৃতজ্ঞতায় প্রকাশ পায়।

হে মহান আল্লাহ! আমাদের মায়েদের প্রতি সদাচরণ, সেবা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক দিন। যাঁদের মা জীবিত আছেন, তাঁদের মায়ের সেবা ও সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ দিন; আর যাঁদের মা ইন্তেকাল করেছেন, তাঁদের মাকে ক্ষমা করুন, রহমত দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমাদের পরিবারগুলোকে ভালোবাসা, দয়া, ন্যায় ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ