সহকারী অধ্যাপক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মা—নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও জীবনের চিরন্তন আশ্রয়- মোঃ মুজিবুর রহমান সহকারী অধ্যাপক
|
|
মা—নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও জীবনের চিরন্তন আশ্রয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মা—একটি ছোট্ট শব্দ, ভালোবাসার সাগর,
মায়ের স্নেহে জীবন পায় আশার নতুন নাগর।
মায়ের আঁচল শান্তিনিকেতন, মমতারই ছায়া,
মায়ের বুকে দুঃখ ভুলে মন খুঁজে পায় মায়া।
মা মানে এক বুক মমতা, মা মানে আশ্রয়,
মায়ের দোয়ায় আঁধার ভেঙে জাগে আলোর জয়।
মা মানে সেই নীরব ত্যাগ, অশ্রু লুকানো হাসি,
সন্তানেরই সুখের তরে নিজের সুখ উদাসী।
মায়ের মুখে স্নেহের বাণী, চোখে আশার আলো,
মায়ের স্পর্শ হৃদয়জুড়ে জাগায় অনুভব ভালো।
মায়ের ডাকে প্রাণের মাঝে মধুর সুরের ধারা,
মায়ের স্নেহে আপন লাগে পৃথিবীটা সারা।
মা যে শুধু একটি নাম নয়, জীবন গড়ার গান,
মায়ের স্নেহে বিকশিত হয় সন্তানের প্রাণ।
মায়ের ঋণ কি শোধ করা যায় সম্পদ দিয়ে আর?
মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকুক জীবনভর।
গর্ভের মাঝে ধারণ করে আপন প্রাণের ধন
কত কষ্ট সহ্য করে মা রাখেন তাঁকে আপন।
দিনের বেলায় ক্লান্ত দেহ, রাতের জাগরণ,
সন্তানেরই মঙ্গল ভেবে কাটে সারাক্ষণ।
প্রসববেলার কঠিন ব্যথা সহ্য করে মা,
নতুন প্রাণের মুখটি দেখে ভুলে যান সব ব্যথা।
শিশুর কান্না শুনলে মায়ের ব্যাকুল হয় প্রাণ,
বুকের কাছে টেনে নিয়ে দেন স্নেহের দান।
ক্ষুধার মুখে অন্ন জোগান, শীতে দেন যে গরম,
সন্তানেরই সুস্থতারই ভাবনা থাকে চরম।
নিজের যত প্রয়োজন, রাখেন অনেক পিছে,
সন্তানেরই সুখের স্বপ্ন বুনেন চোখের নিচে।
কত আশা, কত সাধনা, কত নীরব ক্ষয়,
মাতৃত্বেরই গভীরতায় ত্যাগের পরিচয়।
তবু মা তো মানুষই, তাঁর সীমাবদ্ধতা আছে,
তাঁরও বিশ্রাম, স্নেহ, সম্মান প্রয়োজন জীবনের মাঝে।
মাতৃত্ব মানে শুধু কষ্ট একা বয়ে যাওয়া নয়,
পরিবারের সহযোগিতায় সুখের পথও হয়।
মায়ের শ্রমের যথার্থ মর্যাদা দিতে হবে,
ভালোবাসার দায়িত্বটুকু ভাগ করে নিতে হবে।
সন্তান যখন ছোট্ট শিশু, হাঁটতে শেখে ধীরে,
মা তখনই হাত বাড়িয়ে রাখেন তাকে ঘিরে।
পড়ে গেলে কোলে তোলেন, মোছেন চোখের জল,
স্নেহ দিয়ে সাহস জোগান, করেন মন সবল।
প্রথম বুলি, প্রথম হাসি, প্রথম চলার দিন,
মায়ের বুকে স্মৃতি হয়ে থাকে অমলিন।
শিশুর মুখে হাসি ফুটলে হাসেন মাও হেসে,
সন্তানেরই ব্যথায় কাঁদেন নীরব চোখের শেষে।
সন্তান যখন অসুস্থ হয়, মায়ের ঘুম হারায়,
কখন জ্বরটা কমবে তার—ভাবনা ঘিরে যায়।
নিজের ক্লান্তি ভুলে গিয়ে সেবা করেন মা,
সন্তানেরই মুখের হাসি তাঁর প্রার্থনা।
সন্তান যখন বড় হয়, বদলায় জীবনের পথ,
মায়ের মনে তবু থাকে সন্তানেরই রথ।
সাফল্যে তাঁর আনন্দ জাগে, ব্যর্থতায় সান্ত্বনা,
ভুলের মাঝে সঠিক পথের দেন যে প্রেরণা।
কখনো শাসন, কখনো বারণ, কখনো কোমল বাণী,
সন্তানেরই কল্যাণ ভেবে বলেন কতখানি।
তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিখুঁততা না-ও রয়,
তবু তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা চাই।
আল্লাহরই পবিত্র বাণী জানায় স্পষ্ট করে,
পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করো অন্তরে।
এক আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁরই বিধান মানো,
পিতা-মাতার অধিকারও যথাযথ জানো।
সূরা ইসরার বাণী শোনো, শিক্ষা অতি দামি,
বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবাকে বলো না কথা তিক্তস্বরে তুমি।
‘উফ’ শব্দটিও বলো না তাঁদের ব্যথা দিয়ে,
সম্মানভরে কথা বলো, ভালোবাসা নিয়ে।
মায়ের গর্ভের কষ্টের কথা কোরআন দেয় জানি,
কষ্টের পর কষ্ট সয়ে মা যে রাখেন প্রাণী।
তাই কৃতজ্ঞ হও মানুষের, মা-বাবার অধিকার,
সদাচরণে সুন্দর হোক জীবনের অঙ্গীকার।
এক সাহাবি জানতে চাইলেন নবীজির কাছে,
“সদাচরণের হকদার কে সবার আগে আছে?”
রাসুল বললেন, “তোমার মা”—প্রথমবারের বাণী,
দ্বিতীয়বারও “তোমার মা”—শোনো কথাখানি।
তৃতীয়বারও “তোমার মা”—মায়ের মর্যাদা,
চতুর্থবারে “তোমার বাবা”—হকেরই ইশারা।
সহিহ বুখারি, মুসলিমে হাদিসটি বর্ণিত,
মায়ের প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত।
তবু আল্লাহ সবার ঊর্ধ্বে, ইবাদত তাঁরই প্রাপ্য,
তাঁর বিধানের বিপরীতে কারও আদেশ অগ্রাহ্য।
অবাধ্যতায় সায় না দিয়েও সম্মান রেখো ধরে,
সদাচরণের পথটি রেখো জীবনেরই পরে।
মায়ের মুখে প্রথম ভাষা, প্রথম সুরের টান,
মায়ের কাছেই শিশু শেখে কথার সম্মান।
সত্য কথা, সুন্দর আচরণ, দয়ার মধুর পাঠ,
মায়ের দৃষ্টান্ত খুলে দেয় নৈতিকতার ঘাট।
অন্যের দুঃখ বুঝতে শেখে মায়ের কোমল মনে,
ভালোবাসার অর্থ শেখে তাঁরই আচরণে।
সত্য পথে চলার সাহস, অন্যায়ের প্রতিবাদ,
মায়ের শিক্ষা জাগিয়ে তোলে নৈতিকতার স্বাদ।
ভুল করলে শুধরে দেন, দেন নতুন করে শেখা,
ভালো কাজের প্রশংসাতে সাহস ওঠে দেখা।
মায়ের সঙ্গে বাবার শিক্ষা, শিক্ষকের অবদান,
সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে শিশুর চরিত্রখান।
পরিবারের সুন্দর পরিবেশ, স্নেহের পরশধারা,
সন্তানেরই ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে সারা।
শুধু মুখের উপদেশ নয়, চাই আচরণের আলো,
বড়দেরই সুন্দর দৃষ্টান্ত শিশুর লাগে ভালো।
জীবনপথে ঝড় উঠিলে, ভেঙে গেলে আশা
, মায়ের কাছে খুলে বলি হৃদয়েরই ভাষা।
ব্যর্থতারই ভারে যখন নুয়ে পড়ে মন,
মায়ের স্নেহ সাহস জোগায়, জাগায় নতুন ক্ষণ।
পৃথিবী যখন প্রশ্ন তোলে, কে বুঝবে অন্তর,
মায়ের স্নেহ সান্ত্বনা দেয়, মুছে দেয় আঁধার।
সন্তানেরই সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতার দিন,
মায়ের কাছে স্নেহের টানে থাকে সে আপনজন।
মায়ের বুকে শান্তি মেলে, মনে জাগে বল,
আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, কাটে আঁধারতল।
মায়ের দোয়া চাই যে আমরা জীবনেরই পথে,
আল্লাহরই রহমত কামনা রাখি হৃদয়েতে।
তবু মায়ের নিজেরও তো ক্লান্তি আসে ঘিরে,
তাঁরও প্রয়োজন শান্তি, স্নেহ, আপনজনের নীড়ে।
শুধু সবার সেবা করে নিজেকে ভোলা নয়,
মায়ের সুখ ও সুস্থতাতেও পরিবারের দায়িত্ব রয়।
মা যদি থাকেন পাশে, সময় দাও তাঁকে,
মনের কথা মন দিয়ে শোনো, রেখো হৃদয় ঢেকে।
কোমল ভাষায় কথা বলো, রেখো তাঁর সম্মান,
তাঁর প্রয়োজন বুঝে নেওয়াই ভালোবাসার প্রমাণ।
অসুখ হলে সেবা করো, ওষুধ দাও সময়,
বার্ধক্যে তাঁর হাতটি ধরে থেকো নির্ভয়।
চলার পথে কষ্ট হলে পাশে গিয়ে দাঁড়াও,
একাকিত্বের মেঘ সরিয়ে স্নেহের আলো ছড়াও।
সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজন মেটাও,
নিজের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও সময় দাও।
বড় উপহার সব সময়েই ভালোবাসা নয়,
একটু সময়, একটি কথা হৃদয় জিতে রয়।
মায়ের সঙ্গে মতের অমিল হলে ধৈর্য ধরো,
রাগের বশে কঠিন কথা মুখে তুলে না বলো।
শ্রদ্ধা রেখে যুক্তি বলো, বোঝাপড়ার পথ,
ভালোবাসায় মিটুক বিরোধ, কমুক মনের ক্ষত।
মায়ের হক আদায় করতে সম্পদ লাগে না,
আন্তরিকতার ছোট্ট কাজও বৃথা কখনো না।
দোয়া করো, খোঁজখবর নাও, রাখো তাঁর খেয়াল,
মায়ের প্রতি দায়িত্ব হোক প্রতিদিনেরই চাল।
শৈশবে যিনি রাত জেগেছেন সন্তানেরই তরে,
বার্ধক্যে সেই মা-ই বসেন পথের দিকে চেয়ে।
কখন ছেলে সময় দেবে, কখন মেয়ে আসবে,
একটু কথা, একটু স্নেহ হৃদয়জুড়ে ভাসবে।
ব্যস্ততারই অজুহাতে সময় যদি না দাও,
মায়ের মনের নীরব কষ্ট বুঝতে কি আর চাও?
যে হাত ধরে হাঁটতে শিখেছ, ধরো সে হাতখানি,
জীবনজুড়ে ভুলে যেয়ো না মায়ের ত্যাগের বাণী।
অর্থ দিয়ে সব হয় না যে, চাই হৃদয়ের টান,
স্নেহহীন প্রাচুর্যেও থাকে শূন্যতারই গান।
মায়ের মুখে হাসি ফোটাও, দুঃখ বুঝে নাও,
কথার আঘাত নয়, তাঁকে ভালোবাসা দাও।
তবে সবার জীবন এক নয়, ভিন্ন বাস্তবতা,
কারও মনে জমে থাকতে পারে পুরোনো ব্যথা।
সম্পর্ক যদি জটিল হয়, প্রয়োজন সংলাপ, ন্যায়,
নিরাপত্তা, সম্মানেই কমুক মনের তাপ।
মায়ের মর্যাদা রক্ষা করে অন্যের হক মানো,
সবার প্রতি ন্যায় ও দয়ার সুন্দর পথটি জানো।
ইসলামেরই শিক্ষা হলো ভারসাম্যের সত্য বাণী,
ন্যায় ও সদাচরণে জীবন হবে মানি।
মায়ের কত স্বপ্ন ছিল, কত সাধের ঘর,
সন্তানেরই ভবিষ্যতের ভাবনায় বিভোর।
নিজের শখের অনেক কিছু রাখেন সরিয়ে,
সন্তানেরই সুখের ছবি রাখেন হৃদয় ভরে।
কখনো নিজের নতুন শাড়ি কেনা হয় না আর,
সন্তানেরই বই-খাতাতে খরচ হয় যে বারবার।
কখনো নিজের বিশ্রামটুকু সন্তানেরই তরে,
কখনো নিজের কষ্ট ঢাকেন মিথ্যে হাসির পরে।
তবে ত্যাগের মহিমা মানে নিজেকে হারানো নয়,
মায়েরও তো অধিকার আছে সম্মান ও সুখময়।
পরিবারের সব সদস্য দায়িত্ব ভাগ করে,
মায়ের জীবন হোক প্রশান্তি, ভালোবাসার ঘরে।
বাবার শ্রমও সম্মান পাবে, অন্যের ত্যাগও মান,
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাই মানবতার প্রাণ।
মা যে পরিবারের এক অনন্য স্নেহের ধারা,
পারস্পরিক সহযোগিতায় সুখের জীবন গড়া।
জীবিকারই প্রয়োজনে কেউ দূর দেশে যায়,
মায়ের মুখের স্মৃতি তখন হৃদয়জুড়ে রয়।
মুঠোফোনে কুশল জিজ্ঞাসা, স্নেহের কথামালা,
দূরত্ব সত্ত্বেও হৃদয় রাখে ভালোবাসার জ্বালা।
সন্তান যখন সংসার গড়ে, নতুন দায়িত্ব পায়,
মায়ের প্রতি কর্তব্য যেন তাতে হারিয়ে না যায়।
স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা—সবার অধিকার,
ন্যায় ও মমতায় রক্ষা করো সম্পর্কেরই ভার।
মায়ের সঙ্গে সময় কাটাও, রাখো তাঁরই খোঁজ,
তাঁর অভাবের পাশে দাঁড়াও, বোঝো মনের বোঝ।
দূরে থেকেও ভালোবাসা যায় যে কাছে রাখা,
আন্তরিকতার সেতু গড়ে দূরত্বটুকু ঢাকা।
মায়ের মুখের মধুর বুলি স্মৃতির পাতায় রয়,
শৈশবজুড়ে তাঁরই স্নেহ জীবনের পরিচয়।
বয়স বাড়ে, সময় চলে, বদলায় দিনের রং,
মায়ের প্রতি ভালোবাসা থাকুক আজীবন।
কোনো ঘরে মায়ের ছবি, স্মৃতির প্রদীপ জ্বলে,
কোনো চোখে অশ্রু নামে নীরব রাতের তলে।
মায়ের কণ্ঠ শোনা যায় না, নেই সে স্নেহছায়া,
তবু স্মৃতির বাগানজুড়ে ফুটে থাকে মায়া।
যে হাতে মাথা বুলিয়েছেন, সে হাত আজ নেই,
তবু তাঁরই শেখানো পথে চলার শপথ নিই।
যে কণ্ঠ দোয়া করত সদা সন্তানেরই তরে,
সেই স্মৃতি আজও ভালোবাসার আলো ছড়ায় ঘরে।
মা ইন্তেকাল করলে তাঁর জন্য দোয়া করো,
আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করো।
বৈধ ঋণ ও দায় থাকিলে যথাসাধ্য শোধ,
সৎকাজে তাঁর শিক্ষা রাখো, হৃদয় করো শুদ্ধ।
আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ রেখো,
মায়ের শেখানো ভালো গুণ জীবনে ধারণ করো।
মৃত্যুতে শেষ হয় না স্মৃতি, থাকে শিক্ষা-দান,
মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা হৃদয়েরই গান।
যাঁরা মাতৃস্নেহ হারিয়েছেন, তাঁদের দুঃখ বুঝি,
স্নেহের শূন্যতা যে কত, ভাষায় কি তা খুঁজি!
এতিম শিশু, অসহায় প্রাণ পাক নিরাপদ ঠাঁই,
মানবতার স্নেহের ছায়া সবার জন্য চাই।
জন্মদাত্রী মায়ের মতো লালনকারী মা,
স্নেহ দিয়ে আগলে রাখেন, ভালোবাসেন যাঁরা।
রক্তের বাঁধন না থাকলেও মমতা হয় গভীর,
যত্নে গড়ে ওঠে সম্পর্ক, ভালোবাসা হয় স্থির।
পালক মায়ের স্নেহেও শিশু পেতে পারে ঠাঁই,
নিরাপত্তা, শিক্ষা, যত্ন—তারও প্রয়োজন তাই।
বংশপরিচয় সংরক্ষণে ইসলামের বিধান,
সেই বিধান মেনে চলাই দায়িত্বের সম্মান।
যে শিশু আজ অসহায়, যার নেই আপনজন,
তার পাশে দাঁড়ানোও তো মানবতারই ধন।
স্নেহের হাতে গড়ে উঠুক নিরাপদ ভবিষ্যৎ,
দয়া, ন্যায় ও দায়িত্বে হোক জীবন সমৃদ্ধ।
মায়ের মর্যাদা মানে শুধু নিজের মাকে নয়,
মাতৃত্বেরই শ্রম ও স্নেহ সম্মানের যোগ্য হয়।
নারীর প্রতি সম্মান রেখে, সবার অধিকার,
মানবতার পথেই গড়ি সুন্দর সংসার।
মায়ের দোয়া চাই যে আমরা, চাই রবের দয়া,
তাঁরই রহমত জীবনপথে হোক আশার ছায়া।
চেষ্টা করি সৎকাজে, রাখি ঈমান দৃঢ়,
আল্লাহরই নির্দেশনায় হোক চরিত্র পবিত্র।
মায়ের মুখে হাসি ফুটুক, ঘুচুক দুঃখ-ভার,
পরিবারে ভালোবাসা হোক চিরদিন অটুট ধার।
সন্তান যেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ হয়,
মায়ের শিক্ষা জীবনে তার কল্যাণ বয়ে রয়।
দোয়ার সঙ্গে কর্মও থাকুক, দায়িত্ব হোক পূর্ণ,
মায়ের সেবায় জীবন হোক স্নেহে পরিপূর্ণ।
অন্যায়ের পথ পরিহার করে সত্যকে করি মান,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হোক জীবনের প্রধান।
মা, তোমারই ত্যাগের কথা রাখব হৃদয়জুড়ে
তোমার স্নেহের স্মৃতিগুলো থাকবে জীবনজুড়ে।
তোমার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলব মধুর বাণী,
তোমার সুখের খোঁজ রাখাটাই দায়িত্ব বলে জানি।
তুমি যখন ক্লান্ত হবে, পাশে থাকব এসে,
তোমার মনের কথা শুনব গভীর ভালোবেসে।
তোমার চোখে অশ্রু এলে বুঝব তারই ভাষা,
তোমার মুখে হাসি ফোটানো হোক জীবনের আশা।
তোমার মতের ভিন্নতায় রাখব সম্মান,
ন্যায় ও সত্যের পথেই হবে কথার আদান-প্রদান।
তোমার প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়,
কাজের মাঝে প্রকাশ পেলেই তার সার্থকতা হয়।
মা, তোমারই অবদানকে রাখব স্মরণ করে,
তোমার শেখা ভালো গুণ নেব জীবন ভরে।
তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকুক প্রতিদিন,
স্নেহের বন্ধন অটুট থাকুক জীবনভর অমলিন।
মা মানে এক স্নেহসাগর, মমতারই ঢেউ,
মায়ের মতো আপন করে ভালোবাসে কে আর কেউ!
মা মানে এক শান্তির নীড়, দুঃখ ভুলের ঠাঁই,
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জীবন গড়তে চাই।
মা মানে সেই ত্যাগের ছবি, নীরব কর্মধারা,
সন্তানেরই কল্যাণে যাঁর জীবন নিবেদিত সারা।
মা মানে প্রথম শিক্ষক, চরিত্র গড়ার আলো,
মায়ের স্নেহে জীবনজুড়ে ফুটুক ফুলের ভালো।
মা বেঁচে থাকলে সেবা করো, দাও সম্মান,
মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাই হোক জীবনের গান।
মা বিদায় নিলে দোয়া করো, রেখো স্মৃতির মান,
তাঁর শেখানো সৎপথে হোক জীবনের অভিযান।
মায়ের প্রতি ভালোবাসা এক দিনের নয়,
প্রতিটি দিনের আচরণে তার পরিচয় রয়।
মায়ের সঙ্গে বাবার প্রতিও রেখো শ্রদ্ধা-মান,
সবার হক রক্ষা করাই ইসলামের বিধান।
চলো তবে শপথ করি, হৃদয় করি খোলা,
মায়ের মুখে হাসি ফোটাই, মুছে দিই সব জ্বালা।
দয়া, ন্যায় ও সহযোগিতায় গড়ি আপন ঘর,
ভালোবাসার আলোয় ভরে উঠুক জীবনভর।
হে মহান আল্লাহ! মায়ের হক আদায়ের তাওফিক দাও,
সেবা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতায় জীবন সুন্দর বানাও।
জীবিত মায়ের পাশে থাকার সুযোগ দাও
প্রতিদিন, মৃত মায়েদের ক্ষমা করে রহমত করো অফুরান।
তাঁদের কবর প্রশস্ত করো, দাও রহমতের ছায়া,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও—এই আমাদের চাওয়া।
পরিবারে শান্তি দাও, ভালোবাসা দাও প্রাণে,
ঈমান, ন্যায় ও সদাচরণ রাখো সবার জীবনে।
মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে করো আমাদের সহায়,
তোমার সন্তুষ্টি লাভের পথে রেখো সদা সদায়।
তোমার রহমত, তোমার ক্ষমা হোক জীবনের ধন—
আমিন, আমিন, হে দয়াময়, কবুল করো প্রার্থনাখন।
মা—তুমি মমতার ভাষা, ত্যাগের অমরগাথা;
তোমার প্রতি শ্রদ্ধা, সেবা ও কৃতজ্ঞতায় সুন্দর হোক সন্তানের জীবনপথের প্রতিটি কথা।
৪
৭ মন্তব্য