Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ণ

অসীম জ্ঞানের ভাণ্ডারে মানুষ এক শূণ্য পাত্র!

অসীম জ্ঞানের ভান্ডারে মানুষ এক শূণ্য পাত্র!


 এই পৃথিবীটা বিশেষ বড় নয়। আবার খুব ছোটও যে, তা নয়। আর এই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ প্রাণী হলো মানুষ। পৃথিবীর পরিচালনায় মানুষের ভূমিকা অপরিসীম। যদিও অন্যান্য প্রাণীরাও মানুষের নানা কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

যাহোক, এই পৃথিবীতে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকে, এমনটা নয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন মানুষ ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই কিংবা সর্বোচ্চ একশত বছর বেঁচে থাকে। অর্থাৎ, পৃথিবীর অস্তিত্বের সময়কালের তুলনায় মানুষের এই আয়ু খুবই সামান্য। খুবই সামান্য।

এই সামান্য আয়ুষ্কালে পৃথিবীকে জানার সুযোগ মানুষের খুব কমই হয়ে ওঠে। নিজেকে জানা, অন্য মানুষকে চেনা কিংবা চারপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে উপলব্ধি অর্জন—সবকিছুতেই মানুষের জানার পরিধি সীমিত থেকে যায়।

পৃথিবীর জ্ঞানের বিশাল পরিধির তুলনায় একজন মানুষ কতটুকুই বা জানতে পারে? আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, হয়তো তা এক শতাংশেরও কম। কারণ, এই পৃথিবীতে জ্ঞানের যে বিশাল ভান্ডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, তার সামান্য অংশ সম্পর্কেই মানুষ জানতে পারে। যতই জানুক না কেন, মানুষের অজানার পরিধি যেন আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে।

তাই আমি মনে করি, এই পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনের কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ মানুষের নেই। একজন মানুষ তার সীমিত জীবনকালে জ্ঞানের অসীম ভান্ডার থেকে সামান্য কিছুই আহরণ করতে পারে। যত বেশি জানা যায়, ততই উপলব্ধি হয়—কত কিছুই এখনো অজানা রয়ে গেছে!

অবশেষে বলা যায়, পৃথিবীতে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারে, অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারে, অনেক রহস্যের সমাধান করতে পারে। কিন্তু সবকিছু জানা তার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। একদিন তার জীবনাবসান ঘটে, অথচ জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা থেমে থাকে না।

অসীম জ্ঞানের এই ব্যায়ামের ভান্ডারে আমরা প্রত্যেকেই যেন এক ফোঁটা মাত্র। আমাদের অর্জিত জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন, অজানার বিশাল সমুদ্রের তুলনায় মানুষ এক শূণ্য পাত্র!

মন্তব্য করুন

ব্লগ