দাখিল ১০ম শ্রেণির আকাইদ ও ফিকহ বইয়ের ১০ম পাঠ (দোয়া ও মোনাজাত)-এর আলোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
উদ্দীপক:
রাসেল একজন ধর্মপ্রাণ তরুণ। সে নিয়মিত নামাজ আদায় করে। তবে তার ধারণা, আল্লাহ তো মানুষের মনের সব খবরই জানেন এবং কার ভাগ্যে কী আছে তা আগে থেকেই লিখে রেখেছেন। তাই আলাদা করে আল্লাহর কাছে হাত তুলে কোনো কিছু চাওয়ার বা দোয়া করার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে তার বড় ভাই তারেক তাকে বুঝিয়ে বললেন, "দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক গভীর হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দোয়াই হলো ইবাদত।"
প্রশ্নসমূহ:
ক. 'দোয়া' শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
খ. "দোয়া ইবাদতের মগজ"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. রাসেলের ধারণার সাথে আপনার পাঠ্যবইয়ের অমিলটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে তারেকের বক্তব্যের যথার্থতা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর:
ক. 'ক' নং প্রশ্নের উত্তর:
'দোয়া' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো আহ্বান করা, ডাকা, প্রার্থনা করা বা কোনো কিছু চাওয়া।
খ. 'খ' নং প্রশ্নের উত্তর:
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা সারবস্তু।" কারণ, মানুষ যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তখন সে নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতা স্বীকার করে এবং আল্লাহর মহানত্ব ও সর্বময় ক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়। দোয়ার মাধ্যমে বান্দার অহংকার দূর হয় এবং আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্য ও তাওয়াক্কুল (ভরসা) প্রকাশ পায়। ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই যেহেতু আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করা, তাই দোয়াকে ইবাদতের মূল অংশ বা মগজ বলা হয়েছে।
গ. 'গ' নং প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকের রাসেলের ধারণার সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের দোয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার স্পষ্ট অমিল রয়েছে।
রাসেল মনে করে, আল্লাহ সব জানেন এবং ভাগ্য নির্ধারিত, তাই আলাদা করে দোয়া করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, "তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" (সূরা গাফির: ৬০)।
মানুষের ভাগ্য আল্লাহর হাতে ঠিকই, তবে হাদিস শরিফে এসেছে— দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে। তাছাড়া, আল্লাহর কাছে না চাইলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। রাসেল আল্লাহর সর্বজ্ঞাত হওয়ার বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দোয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে উপেক্ষা করছে, যা শরিয়তসম্মত নয়। তাই তার এই ধারণাটি পাঠ্যবইয়ের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ঘ. 'ঘ' নং প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকে তারেকের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত।
তারেক তার ভাইকে বলেছেন যে, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক গভীর হয় এবং দোয়াই হলো ইবাদত। এই বক্তব্যটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই দোয়াই হলো ইবাদত।" (তিরমিজি)।
ইসলামী আকাইদ অনুযায়ী, দোয়া শুধু কোনো কিছু চাওয়ার মাধ্যম নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। বান্দা যখন বিপদে বা প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে হাত তোলে, তখন সে প্রমাণ করে যে আল্লাহ ছাড়া তার কোনো উদ্ধারকর্তা নেই। এর ফলে বান্দার অন্তরে তাকওয়া বা খোদাভীতি বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সাথে আত্মিক সম্পর্ক মজবুত হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং সুখের সময়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া।
অতএব, তারেকের এই উপদেশটি পাঠ্যবইয়ের ১০ম পাঠের মূল বাণীকে প্রতিধ্বনিত করে। মানুষের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বেশি বেশি দোয়া ও মোনাজাত করা।
৩
৩ মন্তব্য