সহকারী শিক্ষক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
HSC Result 2026 কবে প্রকাশ হবে—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করছেন দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো একদিন ফল প্রকাশ করা হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, মেডিকেল ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণে এই ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে HSC Result 2026 প্রকাশের সম্ভাব্য সময়, ফলাফল দেখার পদ্ধতি এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অক্টোবর মাসেই প্রকাশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যে একটি দিন চূড়ান্ত করে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে।
ফলাফল দেখার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.educationboardresults.gov.bd
তবে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, সম্ভাব্য তারিখ এবং চূড়ান্ত তারিখ এক বিষয় নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি অথবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দিনকে নিশ্চিত ফল প্রকাশের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
HSC Result 2026-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে:
পরীক্ষার নাম: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬
পরীক্ষা শুরু: ২ জুলাই ২০২৬
পরীক্ষা শেষ: সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট ২০২৬
ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়: ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সম্ভাব্য ফল প্রকাশের মাস: অক্টোবর ২০২৬
মোট শিক্ষা বোর্ড: ১১টি
মোট পরীক্ষার্থী: ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন
মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ৯ হাজার ৪৩৯টি
মোট পরীক্ষাকেন্দ্র: ২ হাজার ৬৯৭টি
অনলাইনে ফল দেখার ওয়েবসাইট: educationboardresults.gov.bd এবং eboardresults.com
উল্লেখ্য, ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সংক্রান্ত তথ্য ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হলে ঘোষিত নতুন তারিখই অনুসরণ করতে হবে।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর যাচাই, ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হওয়ার পরই ফল প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
চলতি বছরের পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট শেষ হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এ কারণে ওই বোর্ডের পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসে।
বর্তমানে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব বোর্ডের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হলে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এসব পরীক্ষার্থী দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এই পরীক্ষার আওতায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একসঙ্গে অনলাইনে ফলাফল দেখার চেষ্টা করতে পারে। তাই ফল প্রকাশের দিন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
HSC Result 2026 প্রকাশের আগে কোন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, তা জানা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
নিচে বিভিন্ন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলে ধরা হলো।
শিক্ষা বোর্ড | পরীক্ষার্থীর সংখ্যা |
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড | ৩,০০,৩৯৩ জন |
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড | ১,৪০,৮৩০ জন |
যশোর শিক্ষা বোর্ড | ১,১৭,২১০ জন |
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড | ১,১৩,৪৭৯ জন |
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড | ৯৯,৬৮৮ জন |
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড | ৯৪,৮০২ জন |
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড | ৭৩,০৩৭ জন |
সিলেট শিক্ষা বোর্ড | ৭১,৭১১ জন |
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড | ৫৮,৬৬৪ জন |
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বাধিক ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে রাজশাহী, যশোর ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তালিকা থেকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাধারার শিক্ষার্থীদের জন্যও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পরীক্ষার ফলও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।
ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতিতে HSC Result 2026 বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফলাফল দেখতে পারবেন। ফলাফল দেখার জন্য সাধারণত শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। ফল প্রকাশের দিন ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত।
অনলাইনে এইচএসসি ফলাফল দেখার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
ধাপ ১: প্রথমে শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://educationboardresults.gov.bd
ধাপ ২: ওয়েবসাইটে পরীক্ষার নাম বা Examination অপশন থেকে HSC/Alim/Equivalent নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: পরীক্ষার বছর বা Year অপশন থেকে 2026 নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: আপনার শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করুন। যেমন—Dhaka, Rajshahi, Cumilla, Chattogram, Jashore, Barishal, Sylhet, Dinajpur বা Mymensingh। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ড নির্বাচন করবেন।
ধাপ ৫: নির্ধারিত ঘরে পরীক্ষার রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখুন।
ধাপ ৬: ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত নিরাপত্তা যাচাইকরণ বা ক্যাপচা থাকলে তা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৭: সব তথ্য যাচাই করে Submit বা ফলাফল দেখার বাটনে ক্লিক করুন।
সব তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনে আপনার ফলাফল প্রদর্শিত হবে। ওয়েবসাইটের ফর্মে পরিবর্তন হলে সেখানে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
শিক্ষার্থীরা বিকল্প হিসেবে https://eboardresults.com ওয়েবসাইটেও ফলাফল দেখার চেষ্টা করতে পারেন।
সাধারণত এই পোর্টালে পরীক্ষার ধরন, পরীক্ষার বছর, বোর্ড এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন করে ফলাফল দেখা যায়। পোর্টালে ব্যক্তিগত ফলাফল, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বা অন্যান্য প্রতিবেদন দেখার সুবিধা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অপশন নির্বাচন করতে হবে।
ফল প্রকাশের সময় সার্ভারে চাপ তৈরি হলে একটি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে ধীরগতির হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য সরকারি ফলাফল পোর্টাল ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
কম্পিউটার ছাড়াও স্মার্টফোন ব্যবহার করে HSC Result 2026 দেখা সম্ভব। মোবাইলের ব্রাউজার থেকে শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে একইভাবে পরীক্ষার বছর, বোর্ড, রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।
ফলাফল দেখার সময় ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখা এবং রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে লেখা গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনে ফলাফল দেখার জন্য সাধারণত নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:
১. পরীক্ষার নাম—HSC বা সমমান।
২. পরীক্ষার বছর—২০২৬।
৩. শিক্ষা বোর্ডের নাম।
৪. পরীক্ষার রোল নম্বর।
৫. রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
৬. ওয়েবসাইটে চাওয়া নিরাপত্তা যাচাইকরণ কোড, যদি থাকে।
পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে এসব তথ্য সঠিকভাবে লিখতে হবে। কোনো তথ্য ভুল হলে ফলাফল প্রদর্শিত না-ও হতে পারে।
শুধু GPA জানার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বা গ্রেড জানতে চান। এ জন্য ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত ফলাফল পোর্টালে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখার সুবিধা আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
eboardresults.com-এর মতো পোর্টালে ফলাফল দেখার জন্য প্রাসঙ্গিক অপশন নির্বাচন করা যেতে পারে। তবে সব বোর্ডে একই সময়ে একই ধরনের বিস্তারিত নম্বরপত্র বা মার্কশিট দেখার সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
মনে রাখতে হবে, অনলাইনে প্রদর্শিত ফলাফল এবং শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক মার্কশিট বা একাডেমিক নথি এক বিষয় নয়। আনুষ্ঠানিক মার্কশিট সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ কলেজের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণত প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড এবং সামগ্রিক Grade Point Average বা GPA উল্লেখ থাকে। GPA হলো শিক্ষার্থীর ফলাফলের সামগ্রিক গ্রেড পয়েন্টের একটি পরিমাপ।
বাংলাদেশের প্রচলিত গ্রেডিং পদ্ধতিতে সাধারণত নিচের গ্রেড পয়েন্টগুলো ব্যবহৃত হয়:
নম্বরের পরিসর | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
৮০–১০০ | A+ | ৫.০০ |
৭০–৭৯ | A | ৪.০০ |
৬০–৬৯ | A− | ৩.৫০ |
৫০–৫৯ | B | ৩.০০ |
৪০–৪৯ | C | ২.০০ |
৩৩–৩৯ | D | ১.০০ |
০–৩২ | F | ০.০০ |
এই তালিকা প্রচলিত গ্রেডিং কাঠামোর ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিষয়, ব্যবহারিক পরীক্ষা, চতুর্থ বিষয় এবং প্রযোজ্য শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসারে চূড়ান্ত GPA নির্ধারিত হয়। তাই নিজের ফলাফলের ক্ষেত্রে বোর্ডের প্রকাশিত নীতিমালা ও মার্কশিটের তথ্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণভাবে GPA 5.00 সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে GPA 5.00 অর্জন করলেই সব বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় একই ধরনের সুযোগ নিশ্চিত হয় না। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পৃথক যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে বা ফলাফলে অসংগতি মনে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
ফল প্রকাশের পর সাধারণত উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, আবেদন ফি, বিষয় নির্বাচন এবং আবেদন পদ্ধতি বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।
পুনর্নিরীক্ষণ মানেই সব ক্ষেত্রে খাতা নতুন করে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করা নয়। প্রচলিত বোর্ড-প্রক্রিয়ায় নম্বর গণনা, নম্বরের এন্ট্রি এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চশিক্ষা, ভর্তি আবেদন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে। এ পর্যায়ে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
১. ফলাফল যাচাই করুন: অনলাইনে ফলাফল দেখার পর নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, গ্রেড এবং GPA সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
২. মার্কশিট সংগ্রহ করুন: কলেজের নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক মার্কশিট ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি সংগ্রহ করুন।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নিন: পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় এবং ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে খোঁজ নিন। আবেদন শুরুর ও শেষ তারিখ লিখে রাখুন।
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার তথ্য, রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত নথি, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
৫. পুনর্নিরীক্ষণের বিজ্ঞপ্তি দেখুন: ফলাফলে ভুল বা অপ্রত্যাশিত অসংগতি মনে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার সুযোগ যাচাই করুন।
৬. ভুয়া তথ্য থেকে সতর্ক থাকুন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অননুমোদিত ফলাফল প্রকাশের তারিখ, ভুয়া ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে ফল পরিবর্তনের প্রলোভন এড়িয়ে চলুন।
প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অক্টোবর মাসে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
১২ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সময়সীমাকেই চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে ধরা যাবে না।
ফলাফল প্রকাশের পর https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখার চেষ্টা করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে https://eboardresults.com ব্যবহার করা যেতে পারে।
হ্যাঁ, অনলাইন ফলাফল পোর্টালে সাধারণত পরীক্ষার বছর, বোর্ড ও রোল নম্বর দিতে হয়। তবে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং নিরাপত্তা যাচাইকরণ কোডও প্রয়োজন হতে পারে।
১
০ মন্তব্য