Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০২ অপরাহ্ণ

যুক্তরাজ্যের দরজা কি বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য?

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তির প্রস্তাব আশঙ্কাজনক হারে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ছয় মাসে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার ১০.৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৩ শতাংশ এবং ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে তা ছিল শূন্যের কাছাকাছি, অর্থাৎ মাত্র ০.৪ শতাংশ।

এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ওপর ব্যাপকভাবে পড়েছে। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ছয় মাসে যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার ছিল ৭.১ শতাংশ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ছয় মাসেই তা লাফিয়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছায়। অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি বেশ আশঙ্কাজনক। এ সময়ে পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাহারের হার ৪০.৯ শতাংশ, নাইজেরিয়ানদের ২২.৭ শতাংশ এবং ভারতীয়দের ৫.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ এক বছর আগেও এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার ছিল যথাক্রমে মাত্র ৩ শতাংশ, ৪.৫ শতাংশ এবং ১.২ শতাংশ।

তবে আবেদন প্রত্যাহার আর ভিসা প্রত্যাখ্যান এক বিষয় নয়। প্রত্যাহারের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তাব বা স্পন্সরশিপ ফিরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের জন্য অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ভর্তিসংক্রান্ত নিশ্চয়তা লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় সেই নিশ্চয়তা প্রত্যাহার করলে ভিসা প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট নথি ছাড়া কোনো আবেদন প্রত্যাহারের কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জুন নতুন শর্তের ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে বলা হয়েছে। আগে এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০ শতাংশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কোর্সে ভর্তি হওয়ার হার অন্তত ৯৫ শতাংশ এবং কোর্স সম্পন্ন করার হার অন্তত ৯০ শতাংশ রাখার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলেই কোনো প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হবে, এমন নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশোধনমূলক পরিকল্পনা, শিক্ষার্থী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা এবং শেষ পর্যন্ত স্পন্সর লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নতুন ট্রাফিক-লাইট মূল্যায়নব্যবস্থা ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের গ্রীষ্ম থেকে চালুর কথাও জানিয়েছে সরকার। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার ঠেকানো এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, কাজ, পড়াশোনা ও পর্যটন ভিসার পথ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছিল। পরবর্তী পদক্ষেপের পর শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ের আবেদন এক বছরে ৩০ শতাংশ কমেছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ