Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জীবনের গল্প, সুখ-দুঃখের অনুভূতি

আমার জীবনের গল্প

হার না মানা এক নারীর আত্মকথা

আমার গল্পটা কোনো রূপকথার গল্প নয়।
এখানে রাজপ্রাসাদ নেই, নেই মসৃণ কোনো পথ।
আছে হারিকেনের আলো, ভোরের অন্ধকার, কোলের সন্তান, দীর্ঘ পথ, ক্লান্ত শরীর, চোখের পানি—আর আছে বারবার ভেঙে পড়েও আবার উঠে দাঁড়ানোর এক অদম্য সাহস।

আমি ময়মনসিংহের মেয়ে, টাঙ্গাইলের বধূ। পেশায় একজন শিক্ষক। আজ যখন পেছন ফিরে আমার জীবনটাকে দেখি, তখন মনে হয়—আমি আসলে শুধু পথ পেরিয়ে আসিনি, আমি একেকটি দিন একেকটি যুদ্ধ করে পার করেছি।

ছোটবেলা থেকেই আমি একটু অন্যরকম ছিলাম। সাহসী ছিলাম, খেলাধুলায় বেশ পারদর্শী ছিলাম। মনটা ছিল দুরন্ত। ছোটবেলায় খুব শখ ছিল গান শিখব। গুনগুন করে নিজের মনে গান গাইতাম। তখন তো জানতাম না, জীবনের সুর একদিন এত কঠিন হয়ে উঠবে!

আমি ছিলাম বাবার খুব আদরের মেয়ে। বাবার ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি ছিলেন কঠোর। আদর করতেন, আবার প্রয়োজন হলে শাসনও করতেন।

সন্ধ্যা হলেই হারিকেনের আলো জ্বলে উঠত। সেই মৃদু আলোয় বই নিয়ে বসতাম। পাশে থাকতেন আম্মা—আমার গাইড, আমার সাহস, আমার প্রথম শিক্ষক।

তখন বুঝিনি, সেই হারিকেনের আলো শুধু আমার বইয়ের পাতাই আলোকিত করেনি; আমার ভবিষ্যতের পথটাও একটু একটু করে আলোকিত করেছিল।

তারপর একদিন শৈশব পেরিয়ে জীবনে এলো সংসার।

বিয়ে হলো। নতুন পরিবার, নতুন সম্পর্ক, নতুন দায়িত্ব। আর কিছুদিন পর মাতৃত্ব।

বড় ছেলে যখন চার-পাঁচ বছরের, তখন শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিলাম। আর যখন ছোট ছেলে পৃথিবীতে এলো, তখন মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল খুবই অল্প।

মায়ের মন তো আর ছুটির কাগজ বোঝে না!

কতদিন যে ছোট্ট সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস করেছি, তার হিসাব নেই। কখনো সন্তানকে কাছে রেখে ক্লাস নিয়েছি, কখনো বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে সরে দাঁড়াতে পারিনি।একদিকে সন্তান, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা।

একদিকে সংসার, অন্যদিকে চাকরি।
আর মাঝখানে আমি—একজন নারী, যে নিজেকে প্রতিদিন কয়েক টুকরো করে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছিল।

আমার গল্প কোনো রূপকথা নয়।
এখানে রাজপ্রাসাদ নেই, নেই মসৃণ কোনো পথ।
আছে হারিকেনের আলো, ভোরের অন্ধকার, কোলে সন্তান, দীর্ঘ পথ, ক্লান্ত শরীর, চোখের পানি—আর আছে বারবার ভেঙে পড়েও পুনরায় উঠে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস।

আমি ময়মনসিংহের মেয়ে, টাঙ্গাইলের বধূ এবং পেশায় একজন শিক্ষক। আজ যখন পেছনে ফিরে আমার জীবনকে দেখি, তখন মনে হয়—আমি শুধু পথ অতিক্রম করিনি; প্রতিটি দিন সংগ্রাম করে পার করেছি।

ছোটবেলা থেকেই আমি কিছুটা ভিন্নধর্মী ছিলাম। সাহসী ছিলাম এবং খেলাধুলায়ও বেশ পারদর্শী ছিলাম। মন ছিল দুরন্ত। ছোটবেলায় গান শেখার খুব ইচ্ছা ছিল। গুনগুন করে নিজের মনে গান গাইতাম। তখন জানতাম না, জীবনের সুর একদিন এত কঠিন হয়ে উঠবে।

আমি ছিলাম বাবার অত্যন্ত আদরের মেয়ে। বাবার ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না। তবে পড়াশোনার বিষয়ে তিনি ছিলেন কঠোর। তিনি যেমন স্নেহ করতেন, তেমনি প্রয়োজন হলে শাসনও করতেন।

সন্ধ্যা হলেই হারিকেনের আলো জ্বলে উঠত। সেই মৃদু আলোয় বই নিয়ে বসতাম। পাশে থাকতেন আম্মা—আমার পথপ্রদর্শক, আমার সাহস এবং আমার প্রথম শিক্ষক।

তখন বুঝিনি, সেই হারিকেনের আলো শুধু বইয়ের পাতাই আলোকিত করেনি; আমার ভবিষ্যতের পথও ধীরে ধীরে আলোকিত করেছে।

এরপর একদিন শৈশব পেরিয়ে জীবনে এলো সংসার।

বিয়ে হলো। এলো নতুন পরিবার, নতুন সম্পর্ক এবং নতুন দায়িত্ব। কিছুদিন পর মাতৃত্বের দায়িত্বও যুক্ত হলো।

বড় ছেলে যখন চার-পাঁচ বছরের, তখন শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিলাম। আর যখন ছোট ছেলে পৃথিবীতে এলো, তখন মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়কাল ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

মায়ের মন তো আর ছুটির কাগজ বোঝে না।

কতদিন যে ছোট্ট সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস করেছি, তার হিসাব নেই। কখনো সন্তানকে কাছে রেখে ক্লাস নিয়েছি, কখনো বুকের ভেতরটা কষ্টে ভরে উঠলেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারিনি।একদিকে সন্তান, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা।একদিকে সংসার, অন্যদিকে চাকরি।আর মাঝখানে আমি—একজন নারী, যিনি নিজেকে প্রতিদিন কয়েক ভাগে ভাগ করে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছিলেন।এরপর ময়মনসিংহ সদরে বাসা নিলাম।

সেখান থেকেই শুরু হলো আমার জীবনের আরেক যুদ্ধ।

প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। রান্না করতে হতো, সংসার গুছাতে হতো, সন্তানদের প্রয়োজনীয় সবকিছু দেখতে হতো। তারপর ছুটতে হতো স্কুলের পথে।

সেই পথ ছিল না সহজ।অটো, সিএনজি, বাস—যে বাহন পাওয়া যেত, সেটাই ভরসা। কখনো বসার জায়গা পেয়েছি, কখনো দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে গিয়েছি। কখনো যানবাহনের অপেক্ষায় সময় কেটেছে, কখনো একটার পর একটা বাহন বদলাতে হয়েছে।

কখনো স্কুলে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।

কতদিন সিএনজি চালক মাঝপথে নামিয়ে দিয়েছেন!
কতদিন কষ্টে, রাগে, অপমানে চোখের পানি ফেলেছি!

কতদিন চালকদের অনুরোধ করেছি, কখনো একটু তেল মেরেছি—শুধু যেন নির্দিষ্ট জায়গায় নামিয়ে দেন।

তবে সব মানুষ এক রকম নয়।

কেউ মাঝপথে নামিয়ে দিয়েছে, আবার কেউ আমার কষ্টটা বুঝে একা একজন নারী হয়েও আমাকে গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।

সেখান থেকেই শুরু হলো জীবনের আরেক অধ্যায়—আরেক সংগ্রাম।

প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। রান্না করতে হতো, সংসার গুছাতে হতো এবং সন্তানদের প্রয়োজনীয় সবকিছু নিশ্চিত করতে হতো। এরপর ছুটতে হতো স্কুলের পথে।সেই পথ সহজ ছিল না।

অটো, সিএনজি, বাস—যে বাহন পাওয়া যেত, সেটিই ছিল ভরসা। কখনো বসার জায়গা পেয়েছি, কখনো দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে অতিক্রম করেছি। কখনো যানবাহনের অপেক্ষায় সময় কেটেছে, কখনো একের পর এক বাহন পরিবর্তন করতে হয়েছে।

কখনো স্কুলে যাওয়ার পথেই সন্ধ্যা নেমে এসেছে।

কতদিন সিএনজি চালক মাঝপথে নামিয়ে দিয়েছেন!
কতদিন কষ্টে, রাগে ও অপমানে চোখের পানি ফেলেছি!

কতদিন চালকদের অনুরোধ করেছি, কখনো অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছি—শুধু যেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেন।তবে সব মানুষ এক রকম নন।

কেউ মাঝপথে নামিয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ আমার কষ্ট বুঝে, একা একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও আমাকে গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

আজও সেই মানুষগুলোর কথা মনে পড়লে হৃদয় থেকে দোয়া আসে—আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই যাওয়া-আসা ছিল আমার প্রতিদিনের যুদ্ধ।

কেউ হয়তো শুধু দেখেছে—“একজন নারী চাকরি করতে যাচ্ছে।”

কিন্তু কেউ দেখেনি—সে নারী ভোরে ঘুম থেকে উঠে কত কাজ শেষ করে বের হয়েছে।
কেউ দেখেনি তার সন্তানের মুখ।কেউ দেখেনি তার ক্লান্ত শরীর।
কেউ দেখেনি পথের কষ্ট।কেউ দেখেনি, কতবার চোখের পানি মুছে সে আবার হাসিমুখে ক্লাসে ঢুকেছে।ময়মনসিংহে যাতায়াত নিয়ে অনেকের কাছ থেকে অনেক কথা শুনেছি।

কেউ প্রশ্ন করেছে, কেউ সমালোচনা করেছে, কেউ হয়তো মনে করেছে—এত কষ্ট করে কাজ করার কী দরকার?কিন্তু মানুষের কথায় আমি কখনো খুব একটা থামিনি।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই যাতায়াতই ছিল আমার প্রতিদিনের সংগ্রাম।

কেউ হয়তো শুধু দেখেছেন—“একজন নারী চাকরি করতে যাচ্ছেন।”

কিন্তু কেউ দেখেননি—তিনি ভোরে ঘুম থেকে উঠে কত কাজ শেষ করে বের হয়েছেন।
কেউ দেখেননি তাঁর সন্তানের মুখ।
কেউ দেখেননি তাঁর ক্লান্ত শরীর।
কেউ দেখেননি পথের কষ্ট।
কেউ দেখেননি, কতবার চোখের পানি মুছে তিনি আবার হাসিমুখে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেছেন।

ময়মনসিংহে যাতায়াত নিয়ে অনেকের কাছ থেকে নানা কথা শুনেছি।

কেউ প্রশ্ন করেছেন, কেউ সমালোচনা করেছেন, কেউ হয়তো মনে করেছেন—এত কষ্ট করে কাজ করার প্রয়োজন কী?

কিন্তু মানুষের কথায় আমি কখনো থেমে যাইনি।

কারণ আমি বুঝে গিয়েছিলাম—

মানুষের কাজ কথা বলা।
আর নিজের জীবনটা বয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নিজেরই।

তাই মানুষ কী বলল, সেটা না ভেবে আমি শুধু নিজের দায়িত্বটা পালন করে গেছি।

তবে এই গল্পের সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা ছিল আমার সন্তানরা।

আজ যখন অতীতের দিনগুলোর দিকে তাকাই, তখন বুকের ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস জমে যায়।

মানুষের কাজ কথা বলা।
আর নিজের জীবন বহন করার দায়িত্ব নিজেরই।

তাই মানুষ কী বলল, তা না ভেবে আমি নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছি।

তবে এই গল্পের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল আমার সন্তানরা।

আজ যখন অতীতের দিনগুলোর দিকে তাকাই, তখন বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস জমে যায়।

কত কিছুই তো করতে পারিনি!

সন্তানের স্কুলের ব্যাগ গুছিয়ে দিতে পারিনি।
সবসময় তাদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারিনি।
নিজ হাতে প্লেটে ভাত বেড়ে দিতে পারিনি।
তাদের প্রতিটি ছোট্ট আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকতে পারিনি।

সন্তানের স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দিতে পারিনি।
সবসময় তাদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারিনি।
নিজ হাতে প্লেটে ভাত বেড়ে দিতে পারিনি।
তাদের প্রতিটি ছোট্ট আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকতে পারিনি।

ওরা নিজেরাই পড়েছে।নিজেরাই খেয়েছে।
নিজেরাই অনেক কিছু শিখেছে।

আমি হয়তো একজন মা হিসেবে সবটুকু দিতে পারিনি।

এই অপূর্ণতাটা আজও আমার মনের এক কোণে নীরবে কাঁদে।

এই অপূর্ণতা আজও আমার মনের এক কোণে নীরবে কাঁদে।

কিন্তু আমার সন্তানরা কখনো আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি।

বরং ওরা আমার জীবনযুদ্ধের নীরব সহযোদ্ধা হয়ে থেকেছে।

আমার সুখে ওরা হেসেছে, আমার কষ্টে ওরা কষ্ট পেয়েছে। আমার ব্যস্ততা, আমার ক্লান্তি, আমার অনুপস্থিতি—সবকিছুর সঙ্গেই ওরা বড় হয়েছে।

বরং তারা আমার জীবনসংগ্রামের নীরব সহযোদ্ধা হয়ে থেকেছে।

আমার সুখে তারা হেসেছে, আমার কষ্টে তারা কষ্ট পেয়েছে। আমার ব্যস্ততা, ক্লান্তি ও অনুপস্থিতির সঙ্গেই তারা বড় হয়েছে।

আজ মনে হয়, আমি একা যুদ্ধ করিনি।

আমার সন্তানরাও আমার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

হয়তো ওরা তখন বুঝতে পারেনি, মায়ের প্রতিদিনের ছুটে চলার পেছনে কতটা ক্লান্তি ছিল। কিন্তু আজ আমি জানি—আমার জীবনের গল্পে ওদের ত্যাগের অধ্যায়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আমরা যারা কর্মজীবী নারী, আমাদের গল্পগুলো আসলে খুব অদ্ভুত।

আমরা একই সঙ্গে মা, স্ত্রী, কন্যা, বধূ, শিক্ষক, সহকর্মী—অসংখ্য পরিচয় বহন করি।

হয়তো তখন তারা বুঝতে পারেনি, মায়ের প্রতিদিনের ছুটে চলার পেছনে কতটা ক্লান্তি ছিল। কিন্তু আজ আমি জানি—আমার জীবনের গল্পে তাদের ত্যাগের অধ্যায়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা যারা কর্মজীবী নারী, আমাদের গল্পগুলো সত্যিই অনন্য।

আমরা একই সঙ্গে মা, স্ত্রী, কন্যা, বধূ, শিক্ষক ও সহকর্মী—অসংখ্য পরিচয় বহন করি।

সবার জন্য সময় বের করি, কিন্তু নিজের জন্য সময় থাকে না।

সবার কষ্ট বুঝি, অথচ নিজের কষ্টটা অনেক সময় নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখি।

সবার কষ্ট বুঝি, অথচ নিজের কষ্ট অনেক সময় নিজের কাছেই গোপন রাখি।

হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করি, অথচ কখনো কখনো ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ি।

আমাদের জীবনের গল্পগুলো তাই নিছক গল্প নয়।

কিছু গল্প এতটাই গভীর হয় যে, সেগুলো কোনো উপন্যাসের পাতায় লিখলে মানুষ হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না।

কিছু গল্প এতটাই গভীর যে, সেগুলো কোনো উপন্যাসের পাতায় লিখলে মানুষ হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না।

আজ এত বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে আমার কষ্টগুলোকে আর শুধু কষ্ট মনে হয় না।

মনে হয়—
এসবই আমাকে তৈরি করেছে।

হারিকেনের আলো আমাকে শিখিয়েছে পরিশ্রম।
বাবার শাসন আমাকে শিখিয়েছে দায়িত্ব।
আম্মার পাশে থাকা আমাকে শিখিয়েছে সাহস।
সংসার আমাকে শিখিয়েছে ধৈর্য।
সন্তানরা আমাকে শিখিয়েছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আর জীবনের প্রতিটি কঠিন পথ আমাকে শিখিয়েছে—
হাল ছেড়ে দিলে পথ শেষ হয়, কিন্তু সাহস রাখলে পথ তৈরি হয়।

মনে হয়—
এসবই আমাকে গড়ে তুলেছে।

হারিকেনের আলো আমাকে শিখিয়েছে পরিশ্রম।
বাবার শাসন আমাকে শিখিয়েছে দায়িত্ববোধ।
আম্মার পাশে থাকা আমাকে শিখিয়েছে সাহস।
সংসার আমাকে শিখিয়েছে ধৈর্য।
সন্তানরা আমাকে শিখিয়েছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আর জীবনের প্রতিটি কঠিন পথ আমাকে শিখিয়েছে—
হাল ছেড়ে দিলে পথ শেষ হয়, কিন্তু সাহস রাখলে পথ তৈরি হয়।

আমি আজও নিজেকে খুব সাহসী মানুষ মনে করি না।

আমি শুধু জানি—যখন দায়িত্ব সামনে দাঁড়িয়েছে, তখন ভয়কে পেছনে রেখে এগিয়ে গেছি।

কেঁদেছি, কিন্তু থামিনি।কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু হাল ছাড়িনি।
ভেঙে পড়েছি, কিন্তু আবার নিজেকেই তুলে দাঁড় করিয়েছি।

এটাই হয়তো একজন নারীর শক্তি।

নারী সবসময় পাথরের মতো শক্ত নয়।
নারীও কাঁদে, নারীরও কষ্ট হয়, নারীরও একদিন ক্লান্ত লাগে।
তবুও পরিবার, সন্তান আর দায়িত্বের কথা মনে করে সে চোখের পানি মুছে আবার পথ হাঁটে।
নারী সবসময় পাথরের মতো কঠিন নন।নারীও কাঁদেন, নারীরও কষ্ট হয়, নারীরও একদিন ক্লান্তি আসে।তবুও পরিবার, সন্তান ও দায়িত্বের কথা মনে করে তিনি চোখের পানি মুছে আবার পথ চলেন।আমার জীবনও সেই পথচলারই গল্প।

আজ জীবনের এই জায়গায় এসে আমার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়।

আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমার চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়।

আমি শুধু চাই—আমার সন্তানরা ভালো থাকুক। আমার পরিবার ভালো থাকুক। যাদের ভালোবাসা পেয়েছি, তারা ভালো থাকুক।

আর মহান আল্লাহর কাছে আমার একটাই প্রার্থনা—

হে আল্লাহ, আমার জীবনের শেষ সময়টুকু সুন্দর করে দিন। আমাকে সুস্থ রাখুন, শান্তিতে রাখুন, ঈমানের সঙ্গে রাখুন। আমার অতীতের সব কষ্ট, ত্যাগ আর অশ্রু কবুল করুন। আমার সন্তানদের জন্য আমাকে রহমত ও কল্যাণের কারণ করে রাখুন।

জীবনের যতটুকু পথ বাকি আছে, সেটুকু যেন অভিযোগে নয়—শান্তিতে কাটাতে পারি।

হে আল্লাহ, আমার জীবনের শেষ সময়টুকু সুন্দর করে দিন। আমাকে সুস্থ রাখুন, শান্তিতে রাখুন এবং ঈমানের সঙ্গে রাখুন। আমার অতীতের সব কষ্ট, ত্যাগ ও অশ্রু কবুল করুন। আমার সন্তানদের জন্য আমাকে রহমত ও কল্যাণের কারণ করে রাখুন।

জীবনের যতটুকু পথ বাকি আছে, সেটুকু যেন অভিযোগে নয়, শান্তিতে কাটাতে পারি।

আর যখন একদিন এই পৃথিবীর পথচলা থেমে যাবে, তখন যেন পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলতে পারি—

“আমি আমার দায়িত্ব থেকে পালাইনি।
আমি চেষ্টা করেছি।
আমি ভালোবেসেছি।
আমি কেঁদেছি, আবার হেসেছি।
আমি হেরেছি, আবার জিতেছি।
সবচেয়ে বড় কথা—
আমি হাল ছাড়িনি।”

আর একজন নারীর গল্প,
যে হাজার কষ্টের মাঝেও জীবনকে ভালোবেসে
আজও মাথা উঁচু করে পথ চলছে।

যিনি হাজার কষ্টের মাঝেও জীবনকে ভালোবেসে
আজও মাথা উঁচু করে পথ চলছেন।

🤲 আমার জন্য দোয়া করবেন।

আল্লাহ যেন আমার শেষটুকু সুন্দর করেন।
আমিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ