সহকারী অধ্যাপক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
আল্লাহর পবিত্র নিদর্শন
আল্লাহর পবিত্র নিদর্শন
(সাফা-মারওয়া, যমযম ও মাকামে ইবরাহিম)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মক্কার বুকে পবিত্র ধাম, কাবার মহিমান্বিত নাম,
তাওহিদেরই শাশ্বত আলো—জাগায় মুমিনের প্রাণ।
সাফা-মারওয়া, যমযম ধারা, মাকামে ইবরাহিম,
ইতিহাসে আজও জাগরূক—তাওহিদেরই মহিম।
এ শুধু কোনো পাহাড় নয়, নয় তো শুধু স্থান,
ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য, ভরসা—লুকিয়ে যার প্রাণ।
ইবরাহিমের আনুগত্য, হাজেরার সে ত্যাগ,
ইসমাইলের আত্মসমর্পণ—শেখায় ঈমান-রাগ।
আল্লাহ বলেন কুরআনে—শোনো মুমিন প্রাণ,
সাফা-মারওয়া তাঁরই নিদর্শন—মহান ঘোষণা জ্ঞান—
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
সাফা-মারওয়া আল্লাহরই পবিত্র নিদর্শন,
তাঁরই বিধান, তাঁরই স্মৃতি, তাঁরই অনুগ্রহধন।
নিদর্শনকে সম্মান করো, রাখো হৃদয় পবিত্র,
ইবাদতের অধিকারী শুধু আল্লাহ—তিনি এক, অদ্বিতীয়, চিরনিত্য।
কাবার দিকে মুখ করি, কাবা নয় উপাস্য,
কাবার রবই এক আল্লাহ—তাঁরই বিধান শাশ্বত।
সাফা-মারওয়া সম্মানিত, আল্লাহ দিয়েছেন মান,
যমযমও বরকতময়—আল্লাহই দয়ার দান।
ইবরাহিম (আ.)-এর পরীক্ষা
আল্লাহরই নির্দেশ পেয়ে ইবরাহিম একদিন,
নির্জন সেই উপত্যকাতে রাখলেন হাজেরাকে সেদিন।
কোলে ছিল শিশু ইসমাইল, চারদিকে মরুভূমি,
মানবশূন্য সেই প্রান্তরে—নেই তো কোনো ভূমি।
নেই সেখানে জনবসতি, নেই পানির চিহ্ন,
তবু আল্লাহর হুকুমে ছিল বিশ্বাস অটুট, দৃঢ়।
হাজেরা জিজ্ঞেস করলেন—“এ কি রবের আদেশ?”
উত্তর পেলেন, আল্লাহর পথে—এটাই সত্য উপদেশ।
তখন তাঁর অন্তর ভরে উঠল দৃঢ় বিশ্বাসে,
“যিনি আদেশ দিয়েছেন, তিনি রাখবেন আপন আশ্রয়ে।”
মানুষ যখন অসহায় হয়, পথ যখন হয় বন্ধ,
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো—তিনিই পরম বন্ধু।
তাওয়াক্কুল মানে নয় যে বসে থাকা চুপ,
চেষ্টা করে রবের ওপর রাখো ভরসার রূপ।
দায়িত্ব পালন করো আগে, দোয়া করো প্রাণে,
ফলাফলটা সঁপে দাও সেই পরম রহমানের হাতে।
শিশু তখন তৃষ্ণার্ত, কাঁদে মায়ের কোলে,
পানির খোঁজে মা যে ছুটেন মরুর বালুর তলে।
সাফার চূড়ায় উঠে তিনি চারদিকে চান,
মানুষ কিংবা পানির কোনো চিহ্ন যদি পান।
কোথাও নেই পানির দেখা, নেই কোনো সাড়া,
মায়ের হৃদয় কাঁপছে তখন, তবু আশা ছাড়েন না তারা।
সাফা ছেড়ে মারওয়ার পথে ছুটলেন আবার,
মায়ের বুকে সন্তানের তরে ভালোবাসার ভার।
মারওয়াতেও নেই তো পানি, নেই কোনো জন,
আবার ফিরে সাফার পথে—অটুট তাঁর মন।
সাফা থেকে মারওয়া, আবার মারওয়া থেকে সাফা,
চেষ্টাতে নেই কোনো ক্লান্তি, নেই হতাশার ছায়া।
একবার নয়, দুইবার নয়, সাতবার সেই ছুট,
মায়ের ত্যাগে অমর হলো ঈমানেরই রূপ।
আজও হাজি সেই পথ ধরে সাঈ করেন প্রাণে,
হাজেরার সেই সংগ্রামেরই স্মৃতি থাকে টানে।
কী মহান সে মাতৃত্ব—কী অসীম ভালোবাসা,
সন্তানের তরে মায়ের বুকে জেগে থাকে আশা।
একজন মায়ের সেই চেষ্টা পেল এমন মান,
কিয়ামত পর্যন্ত স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম প্রাণ।
যখন চেষ্টা পূর্ণ হলো, এল রবের দান,
শুকনো বুকে ফুটল তখন রহমতেরই প্রাণ।
যমযমের সেই পবিত্র ধারা—আল্লাহর কুদরত,
মরুর বুকে পানির ধারা—রহমতেরই নিদর্শন।
যেখানে ছিল তৃষ্ণা শুধু, এলো পানির ধারা,
যেখানে ছিল নিঃসঙ্গতা, হলো জনপদ সারা।
যেখানে ছিল শূন্য ভূমি, হলো মক্কার ধাম,
আল্লাহর রহমতে জেগে উঠল পবিত্র সেই স্থান।
যমযম শুধু পানি নয়, স্মৃতির এক আলো,
আল্লাহর রহমতের কথা বলে—ভালোবাসায় ভালো।
বান্দা যখন চেষ্টা করে, রবের ওপর ভরসা রাখে,
আল্লাহ তখন রহমতেরই দ্বার খুলে দেন তাকে।
হাজেরা জানতেন না তো—পানি আসবে কোথা,
তবু তিনি চেষ্টা করে গেছেন, হারাননি আশা।
মানুষ দেখে যতটুকু, আল্লাহ জানেন বেশি,
তাঁর রহমত সীমাহীন—তাঁর কুদরত অশেষই।
তাই বিপদে হতাশ হয়ো না, ভেঙো না মন,
রহমতের দরজা খোলা—শোনো মুমিনজন।
আজকে যদি পথ না মেলে, কালকে খুলবে দ্বার,
আল্লাহ চাইলে অসম্ভবও সম্ভব বারবার।
যমযম বলে—আশা রেখো, রবের প্রতি ভরসা,
দুঃখ যতই ঘন হোক না, হারিয়ো না আশা।
সমস্যা যত বড়ই হোক, আল্লাহ তারও বড়,
তাঁর কুদরতে বন্ধ পথও খুলে যেতে পারে ঝরঝর।
চেষ্টা হবে বান্দার কাজ, ফল আল্লাহর হাতে,
দোয়া হবে বান্দার কাজ, কবুল তাঁরই হাতে।
হালাল পথে চেষ্টা করো, হারাম পথে নয়,
আল্লাহভীতি হৃদয়ে রাখো—তবেই মেলে জয়।
রোগে হলে চিকিৎসা নাও, আল্লাহর ওপর ভরসা,
রিজিক পেতে কাজও করো, রাখো রবের আশা।
জ্ঞান পেতে পড়ো ও শেখো, পরিশ্রমে হও ধন্য,
তাওয়াক্কুলের সঙ্গে রাখো দায়িত্ব পালনের পুণ্য।
কাবার পাশে স্মৃতিবাহী মাকাম ইবরাহিম,
তাওহিদের সে ইতিহাসে উজ্জ্বল তার মহিম।
‘মাকাম’ মানে দাঁড়ানোর স্থান—পবিত্র স্মৃতিধাম,
ইবরাহিমের আনুগত্যে মহিমান্বিত নাম।
কাবা যখন নির্মাণ হলো পিতা-পুত্র মিলে,
ইবরাহিম আর ইসমাইল কাজ করলেন হেসে-খেলে।
ইট-পাথরে গড়লেন ঘর, গড়লেন ইবাদতের ধাম,
আল্লাহর ঘর পবিত্র হলো—তাঁরই মহান নাম।
কাজের শেষে গর্ব করেননি আল্লাহর সেই বান্দা,
বরং তাঁরা দোয়া করলেন বিনয়ভরা কণ্ঠে সাদা—
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“হে আমাদের রব, কবুল করো আমাদের এ কাজ,
তুমি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ—তোমারই রাজ।”
নেক কাজ করে অহংকার নয়—এ শিক্ষা কত মহান,
কবুলিয়তের জন্য চাইতে হয় রবেরই দান।
আমল যত বড়ই হোক না, বান্দা থাকবে নত,
আল্লাহর দরবারে বিনয়—মুমিনেরই পথ।
কুরআনেরই ঘোষণা শোনো—মহিমান্বিত বাণী,
মাকামে ইবরাহিমে রয়েছে স্মৃতির পবিত্র কাহিনি—
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
“মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান করো”—
আল্লাহর নির্দেশ মেনে হৃদয়কে পবিত্র করো।
কাবা হলো মুসলিমদের কিবলা মহান,
এক দিকেতে দাঁড়ায় সবাই—এক রবেরই টান।
পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ—যেদিকেই থাকি,
এক আল্লাহর বান্দা আমরা—তাঁরই পথে থাকি।
রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো সব,
আল্লাহর কাছে বান্দা সবাই—একই রবের রব।
ভাষা আলাদা, দেশ আলাদা, আলাদা গায়ের রং,
তাওহিদের বন্ধনে সবাই—একই উম্মাহর সঙ্গ।
শ্রেষ্ঠত্ব নয় ধন-সম্পদে, নয় বংশের মান,
শ্রেষ্ঠ সে-ই, যার হৃদয়ে তাকওয়ার দীপ্তি মহান।
অহংকারের প্রাচীর ভেঙে ভ্রাতৃত্ব গড়ো,
আল্লাহর বান্দা হয়ে সবাই সত্যের পথে চলো।
আল্লাহর পবিত্র নিদর্শন—সম্মান দাও তাই,
কিন্তু কোনো সৃষ্টিকে কখনো উপাস্য কোরো নাই।
ইবাদত শুধু আল্লাহর—এ ঈমানের মূল,
শিরকের সব অন্ধকার থেকে রাখো হৃদয় নির্মল।
কাবা পবিত্র—কাবার রবই উপাসনার যোগ্য,
যমযম বরকতময়—আল্লাহই কল্যাণের ভাণ্ডার।
সাফা-মারওয়া তাঁর নিদর্শন—সম্মান করি তাই,
মাকামও সম্মানিত—কিন্তু উপাসনা তার নয় ভাই।
দোয়া চাইব আল্লাহর কাছে, সাহায্য চাইব তাঁর,
তিনিই মালিক, তিনিই রব, তিনিই অধিকারী সবার।
সৃষ্টির প্রতি সম্মান থাকবে, তাওহিদ থাকবে ঠিক,
এ ভারসাম্যই মুমিন হৃদয় করে সত্যের দিক।
জীবন যখন অন্ধকারে, পথ যখন বন্ধ,
হাজেরার সেই ছুটে চলা করো মনে আনন্দ।
প্রথমবারেই ফল না এলে থেমো না আর ভাই,
আবার চেষ্টা, আবার দোয়া—রহমতের দ্বার চাই।
অভাব এলে ধৈর্য ধরো, কষ্ট এলে সবর,
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হয়ো না নিরাশ পর।
ব্যর্থতা যদি আসে জীবনে, আবার শুরু করো,
বৈধ পথে শ্রম দিয়ে তুমি সামনে এগিয়ে চলো।
সম্পদ হারালে ভেঙো না মন, প্রিয়জন গেলে কেঁদো,
আল্লাহর দিকে ফিরে এসে দু’হাত তুলে দাও।
দুঃখ যদি হৃদয় ভরায়, চোখে নামে জল,
সিজদাতে বলো—“হে আল্লাহ, তুমিই আমার বল।”
যে রব মরুর বুকে পানি আনেন কুদরতে,
তিনি চাইলে দুঃখ মোছেন এক মুহূর্তের রহমতে।
তাই মুমিন কখনো নয় হতাশ, ভগ্নপ্রাণ,
আল্লাহর রহমত সীমাহীন—এই তো তার জ্ঞান।
সাফা-মারওয়ার পথে দেখি কত মানুষের ঢল,
কেউবা আসে দূর আফ্রিকা, কেউ এশিয়ার দল।
কেউ ইউরোপ, কেউ আমেরিকা, কেউবা অন্য দেশ,
এক আল্লাহর নামে সবাই—একই হৃদয়-রেশ।
কারও ভাষা বাংলা, কারও আরবি, কারও অন্য ভাষা,
তবু সবার অন্তরজুড়ে এক আল্লাহর আশা।
কেউ ধনী আর কেউ গরিব, কেউ বা বড় মান,
ইহরামেরই সরল পোশাকে মুছে যায় অভিমান।
মানুষ তখন মানুষ শুধু—রবেরই বান্দা,
তাকওয়ার আলোয় উজ্জ্বল হয় অন্তরেরই কাঁধা।
জাতি-গোত্র, দেশ-ভাষার সব বিভেদ যায় দূর,
তাওহিদেরই বন্ধনে গড়ে ভ্রাতৃত্বের সুর।
হজ মানে শুধু নয় তো আনুষ্ঠানিক কাজ,
এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবন গড়ার সাজ।
ইবরাহিম শেখান—আদেশ এলে করো রবের মান,
হাজেরা শেখান—চেষ্টার সাথে রাখো দৃঢ় প্রাণ।
ইসমাইল শেখান—আল্লাহর পথে আত্মসমর্পণ,
যমযম শেখায়—আল্লাহর দানে জাগে নতুন জীবন।
সাঈ শেখায়—চেষ্টা করো, থেমো না কোনো দিন,
মাকাম শেখায়—বিনয় ধরো, রবের কাছে নত হও মুমিন।
কাবা শেখায়—এক কিবলায় ঐক্য গড়ো সবাই,
তাওহিদেরই পতাকা হাতে সত্যের পথে যাই।
দোয়া শেখায়—নেক আমলের পরও চাও কবুল,
তাকওয়ারই আলোয় রাখো অন্তরটাকে নির্মল।
আজ প্রযুক্তির যুগে মানুষ কত দূর যায়,
তবু কেন অশান্ত হৃদয় শান্তি খুঁজে পায় না হায়?
সম্পদের পেছনে ছুটছে মানুষ, হারাচ্ছে আপন মন,
বস্তুবাদে ঢেকে যাচ্ছে ঈমানেরই ক্ষণ।
সাফা বলে—চেষ্টা করো, কিন্তু রবকে ভুলো না,
মারওয়া বলে—হালাল পথে থেকো, হারাম ছুঁয়ো না।
যমযম বলে—আশা রেখো, দুঃখে ভেঙো না,
মাকাম বলে—সাফল্যে এসে অহংকার কোরো না।
পরিকল্পনা করো, কিন্তু আল্লাহকে ভুলে নয়,
পরিশ্রম করো, কিন্তু ন্যায়ের পথে রয়।
বিপদ এলে সবর ধরো, দোয়া করো প্রাণে,
সফল হলে শুকরিয়া দাও সেই পরম রহমানের দানে।
রিজিক চাইলে কাজ করো, নামাজ রেখো সাথে,
জ্ঞান চাইলে পড়াশোনা করো, দোয়া রেখো হাতে।
সমাজ যদি বদলাতে চাও, নিজেকে আগে গড়ো,
সত্য, ন্যায় ও আমানতের পতাকা হাতে ধরো।
হে আল্লাহ, সাফা-মারওয়ার পবিত্র স্মৃতি দাও প্রাণে,
হাজেরার সেই ত্যাগের শিক্ষা রাখো আমাদের মনে।
ইবরাহিমের আনুগত্য দাও, ইসমাইলের ধৈর্য দাও,
তাওহিদেরই নির্মল পথে অবিচল হৃদয় দাও।
হে আল্লাহ, যমযমের মতো রহমত বর্ষাও,
নিরাশ হৃদয় আশায় ভরাও, অন্ধকারে আলো দাও।
বিপদের মাঝে সবর দাও, কষ্টে দাও শান্তি,
হালাল পথে চলার তাওফিক দাও, দূর করো সব ভ্রান্তি।
হে আল্লাহ, মাকামের মতো বিনয় দাও অন্তরে,
নেক কাজের পর কবুল চাওয়ার শিক্ষা দাও প্রাণভরে।
অহংকার ও রিয়া থেকে রাখো আমাদের দূরে,
শিরক-কুসংস্কার থেকে রক্ষা করো নূরের নূরে।
কাবার প্রতি ভালোবাসা দাও, তাওহিদ রাখো প্রাণে,
সুন্নাহর পথে চলতে দাও জীবনের প্রতিক্ষণে।
মুসলিম উম্মাহর মাঝে দাও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও ভালোবাসার স্পন্দন।
সাফা-মারওয়া যেন শেখায়—চেষ্টা থামাব না,
যমযম যেন বলে—আশা কখনো হারাব না।
মাকাম যেন বলে—বিনয় ছাড়া নয় কোনো মান,
কাবা যেন শেখায়—এক আল্লাহই আমাদের প্রাণ।
ইবরাহিমের পথে যেন সত্যের পথে চলি,
হাজেরার মতো বিপদে যেন দৃঢ় থাকি বলি।
ইসমাইলের আত্মসমর্পণ হৃদয়ে করি ধারণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ সাধন।
পৃথিবীর সব মানুষ যেন ন্যায় ও সত্যে মিলে,
ভ্রাতৃত্বের ফুল ফুটে উঠুক হৃদয়েরই নীলে।
তাকওয়া, সবর, শুকর, দোয়া—হোক জীবনের গান,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হোক আমাদের পরম প্রাণ।
সাফা-মারওয়া সাক্ষী থাক—চেষ্টা ছিল যার,
যমযম বলে—রহমত আসে আল্লাহরই দ্বার।
মাকামে ইবরাহিম জাগাক আনুগত্যের দীপ,
তাওহিদের আলোয় ভরে উঠুক জীবন প্রতিদিন।
শেষে তাই কুরআনেরই ঘোষণা করি স্মরণ—
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ—পবিত্র বাণী অনুক্ষণ।
সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন—এ সত্য থাকুক প্রাণে,
এক আল্লাহর ইবাদত করি—জীবনের প্রতিটি গানে।
হে রব! আমাদের আমল কবুল করো, ঈমান রাখো অটুট,
তাওহিদের পথে রাখো আমাদের—সত্য, সুন্দর ও সুদৃঢ়।
সবর, তাকওয়া, তাওয়াক্কুল দাও—দাও হেদায়াতের আলো,
দুনিয়া ও আখিরাতে করো আমাদের জীবন সফল ও ভালো।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
আল্লাহর পবিত্র নিদর্শন
মক্কার বুকে কাবা ঘর, তাওহিদেরই আলো,
যার দিকে মুখ ফেরালে মন হয়ে যায় ভালো।
সাফা-মারওয়া পবিত্র স্মৃতি, যমযম রহমতধারা,
মাকামে ইবরাহিম জাগায় ঈমানেরই তারা।
এগুলো শুধু স্থান নয়, নয় কেবল নাম,
তাওহিদের ইতিহাসে জ্বলজ্বলে মহিমাধাম।
ত্যাগ, তিতিক্ষা, সবর, দোয়া, আনুগত্যের গান,
এসব স্মৃতি শেখায় মুমিন—আল্লাহই মহান।
কুরআনের সেই বাণী আজও হৃদয়ে তোলে ঢেউ,
সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন—ভুলবে না যেন কেউ—
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
সাফা-মারওয়া আল্লাহরই পবিত্র নিদর্শন,
তাঁরই দেওয়া মর্যাদাতে পেয়েছে সম্মান।
সম্মান করো শাআইরকে, রাখো অন্তর পবিত্র,
ইবাদত শুধু আল্লাহর—তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয়, চিরনিত্য।
কাবা আমাদের কিবলা, কাবা নয় উপাস্য,
কাবার রবই ইলাহ আমাদের—তিনি পরম আশ্রয়।
যমযম বরকতময়, তবু ক্ষমতা তার নয়,
বরকত দেন এক আল্লাহ—তাঁরই অনুগ্রহময়।
রবের আদেশ মাথায় নিয়ে ইবরাহিম একদিন,
নির্জন এক উপত্যকাতে এলেন সেদিন।
সঙ্গে ছিলেন হাজেরা, কোলে শিশু প্রাণ,
ইসমাইল তখন দুধের শিশু—নির্জন মরুস্থান।
নেই কোনো জনবসতি, নেই পানির ধারা,
চারদিকে শুধু বালুরাশি, নিস্তব্ধতা সারা।
মানবচক্ষে কঠিন পরীক্ষা, অশেষ দুঃখভার,
তবু রবের হুকুমে ছিল বিশ্বাস অটুট তাঁর।
হাজেরা জিজ্ঞেস করলেন—“এ কি রবের বিধান?”
ইবরাহিম বললেন—“হ্যাঁ”—দৃঢ় হলো ঈমান।
তখন তিনি বুঝলেন—এ আল্লাহরই হুকুম,
যিনি রব, তিনিই রাখবেন—তাঁরই ওপর ভরসা অটুট।
যে রব আদেশ দেন, তিনি রাখেন বান্দাকে,
যে রব বিপদ দেন, তিনিই উদ্ধার করেন তাকে।
তাই মুমিন বিপদে পড়ে ভেঙে পড়ে না প্রাণ,
আল্লাহর রহমতের ওপর রাখে দৃঢ় বিশ্বাস মহান।
শিশু ইসমাইল তৃষ্ণায় যখন কাঁদে ব্যাকুল হয়ে,
মায়ের হৃদয় কেঁপে ওঠে সন্তানের দুঃখ সয়ে।
পানি কোথায়? চারদিকে শুধু মরুর বালু,
তবু মায়ের আশা তখন নিভল না একটুও।
সাফার চূড়ায় উঠে মা চারদিকে চান,
কোথাও যদি দেখা মেলে মানুষের সন্ধান।
কোথাও পানি নেই, নেই কোনো জনের দেখা,
তবু তাঁর বিশ্বাসে ছিল না হতাশার রেখা।
সাফা থেকে মারওয়ার পথে ছুটলেন তিনি আবার,
সন্তানের তরে মায়ের হৃদয় ব্যাকুল অপার।
মারওয়াতেও পাননি পানি, পাননি কোনো সাড়া,
তবু মায়ের পদ থামেনি, থামেনি আশা-ধারা।
আবার সাফা, আবার মারওয়া—চলল সেই পথ,
মায়ের চোখে সন্তানের তরে অশ্রুভেজা রথ।
একবার নয়, দুইবার নয়—সাতবার সেই দৌড়,
মায়ের ত্যাগে লেখা হলো ঈমানেরই ভোর।
সেই স্মৃতি আজও বুকে ধারণ করে হজের প্রাণ,
সাঈর মাঝে জীবন্ত থাকে হাজেরার সম্মান।
বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষ চলে সেই পথ ধরে,
একজন মায়ের ত্যাগ আজও জাগে অন্তরে।
হাজেরা শুধু বসে থাকেননি—করেছেন আপ্রাণ চেষ্টা,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে করেছেন পথের অনুসন্ধান।
এতেই আছে মুমিন জীবনের চিরন্তন শিক্ষা,
তাওয়াক্কুল মানে নয় অলস থাকা—এটাই সত্য দীক্ষা।
চেষ্টা হবে বান্দার কাজ, ফল রবের হাতে,
দোয়া থাকবে হৃদয়জুড়ে, আশা থাকবে সাথে।
হালাল পথে শ্রম দাও, অন্যায় পথে নয়,
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো—তবেই সত্য জয়।
রিজিক চাইলে কাজ করো, নামাজ রেখো সাথে,
জ্ঞান চাইলে অধ্যয়ন করো, দোয়া রেখো হাতে।
রোগ এলে চিকিৎসা নাও, রবকে রেখো মনে,
চেষ্টার পরে ফলাফল দাও পরম রহমানের সনে।
যখন মায়ের সাধ্য ফুরায়, শেষ হয় চেষ্টা,
তখন এল আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের বারতা।
মরুর বুকে ফুটল ধারা—যমযম পবিত্র জল,
আল্লাহর কুদরতে সেখানে জেগে উঠল অমল।
যেখানে ছিল তৃষ্ণা শুধু, এলো পানির ঢেউ,
যেখানে ছিল জনশূন্যতা, জনপদ হলো সেই।
যেখানে ছিল রুক্ষ মরু, হলো পবিত্র ধাম,
আল্লাহর রহমতে বিশ্বজুড়ে মক্কার হলো নাম।
যমযম বলে—হতাশ হয়ো না, রব আছেন পাশে,
অন্ধকারের শেষ প্রান্তেও আলো থাকে আশে।
তোমার চোখে বন্ধ পথ, তাঁর কাছে খোলা দ্বার,
তোমার সাধ্য যেখানে শেষ, সেখানেই রবের পার।
সমস্যা যত বড়ই হোক, আল্লাহ তারও বড়,
রহমতেরই সাগর তিনি—ক্ষমার দ্বার অবারিত।
তাই মুমিন কষ্টে কাঁদে, তবু আশা হারায় না,
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো মুখ ফিরায় না।
যমযমের পানি পান করি কৃতজ্ঞতার সাথে,
উপকারের মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাস রাখি অন্তরে।
পানি বরকতময়, কিন্তু বরকতদাতা তিনি,
তাওহিদের এই শিক্ষা রাখো হৃদয়ে রত্নখানি।
কাবার পাশে পবিত্র স্মৃতি—মাকামে ইবরাহিম,
ইবরাহিমের আনুগত্যে উজ্জ্বল তার মহিমা।
কাবা গড়ার মহান কাজে পিতা-পুত্র দুইজন,
আল্লাহর ঘর নির্মাণ করে করলেন দোয়া তখন।
ইটের পরে ইট সাজিয়ে উঠল পবিত্র ঘর,
তাওহিদেরই কেন্দ্র হলো আল্লাহরই ঘর।
কাজটি ছিল মহান, তবু অহংকার ছিল না,
কবুল হবে কি না—সেই চিন্তা তাঁরা ছাড়েননি তা।
তাঁদের মুখে উচ্চারিত হলো দোয়ার বাণী মহান—
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“হে আমাদের রব! আমাদের কাজ কবুল করো,
তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ—তোমারই কাছে ধরো।”
নেক আমল করে মুমিন কখনো গর্বে ভাসে না,
কবুলিয়তের ভয়-আশা হৃদয় থেকে যায় না।
যত বড়ই কাজ হোক না, বান্দা থাকে নত,
আল্লাহর দরবারে বিনয়—মুমিনের শ্রেষ্ঠ রত্ন।
কুরআনে তাই এসেছে মহিমান্বিত সেই বাণী—
وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান করো,
আল্লাহর নির্দেশ মেনে জীবনটাকে গড়ো।
পৃথিবীর যত প্রান্তে থাকি, কাবা সবার দিশা,
এক কিবলার দিকে ফিরেই পূর্ণ হয় প্রার্থনা।
আরব-অনারব, ধনী-দরিদ্র, সাদা কিংবা কালো,
আল্লাহর কাছে সবাই বান্দা—তাঁরই বান্দা ভালো।
কারও ভাষা ভিন্ন, কারও দেশ, ভিন্ন সবার রং,
তবু তাওহিদের বন্ধনে এক উম্মাহরই সঙ্গ।
ধন নয় শ্রেষ্ঠত্ব, নয় বংশের গৌরব,
তাকওয়াতেই মর্যাদা—এ কুরআনেরই ভাব।
অহংকারের দেয়াল ভেঙে ভালোবাসা গড়ো,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে রেখে ভ্রাতৃত্বে এগিয়ে চলো।
কাবার শিক্ষা—এক আল্লাহর বান্দা আমরা সবাই,
তাঁরই পথে সত্য ও ন্যায়ের পতাকা হাতে যাই।
আল্লাহর নিদর্শনগুলো সম্মান করি প্রাণে,
কিন্তু ইবাদত শুধু তাঁর—এই বিশ্বাস রাখি মনে।
কাবা পবিত্র, কিন্তু কাবা উপাস্য নয়,
সাফা-মারওয়া সম্মানিত, তাদের ইবাদত নয়।
যমযম বরকতময়—বরকত দেন আল্লাহ,
মাকামে রয়েছে স্মৃতি—ইবাদত নয় সেখানে।
দোয়া চাইব এক আল্লাহর, সাহায্য চাইব তাঁর,
তিনি মালিক, তিনি রব, তিনি সৃষ্টির অধিকারী সবার।
সম্মান থাকবে, সীমালঙ্ঘন কখনো হবে না,
তাওহিদের নির্মল পথ থেকে মুমিন সরে না।
শিরক ও কুসংস্কার থেকে অন্তর রাখো দূর,
আল্লাহরই একত্ববাদে জীবন করো নূর।
জীবন যখন অন্ধকারে, চারদিকে হতাশা,
সাফা-মারওয়া মনে করো—জাগুক নতুন আশা।
প্রথম চেষ্টায় ফল না এলে থেমো না ভাই,
আবার চেষ্টা, আবার দোয়া—রবের রহমত চাই।
অভাব এলে সবর ধরো, কষ্ট এলে ধৈর্য,
আল্লাহর রহমত থেকে হয়ো না কখনো নিরাশ।
ব্যর্থতারই ধুলো মুছে আবার দাঁড়াও তুমি,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলো ভূমি।
যে রব মরুর বুক চিরে যমযমধারা দেন,
তিনি চাইলে বিপদ থেকেও মুক্তির পথ দেন।
তোমার চোখে যত অন্ধকার, তাঁর কাছে সব আলো,
তাঁর ওপর ভরসা রাখলে পথ হবে উজ্জ্বল ভালো।
সাঈর পথে কত মানুষ—কত ভাষা, কত দেশ,
একই রবের নামে সবাই—একই হৃদয়-রেশ।
কেউ এসেছে পূর্বদেশ থেকে, কেউ পশ্চিমের পার,
সবাই আজ আল্লাহর ঘরের আশিক একাকার।
ইহরামের সাদা পোশাকে মুছে যায় বিভেদ,
রাজা-প্রজা পাশাপাশি—নেই অহংকারের ভেদ।
ধনীর পাশে দরিদ্র চলে, শক্তের পাশে দুর্বল,
তাওহিদেরই বন্ধনে আজ বিশ্বভ্রাতৃত্ব নির্মল।
জাতি নয়, বর্ণ নয়, ভাষা নয় সম্মান,
তাকওয়াই মানুষের শ্রেষ্ঠ মর্যাদার মান।
তাই হজ শেখায়—ভাইকে ভালোবাসো,
অন্যায়-অত্যাচার ছেড়ে সত্যের পথে আসো।
প্রযুক্তিতে বিশ্ব এগোয়, বাড়ে জ্ঞানের আলো,
তবু কেন মানুষের মন অশান্তিতে কালো?
সম্পদের পেছনে ছুটে মানুষ হারায় অন্তর,
বস্তুবাদে শুকিয়ে যায় ঈমানেরই ঝরনাধার।
সাফা বলে—চেষ্টা করো, রবকে ভুলো না,
মারওয়া বলে—হালাল ছেড়ে হারাম পথে যেয়ো না।
যমযম বলে—আশা রেখো, দুঃখে ভেঙো না,
মাকাম বলে—সফল হয়ে অহংকার কোরো না।
পরিকল্পনা করো, কিন্তু আল্লাহকে ভুলে নয়,
পরিশ্রম করো, কিন্তু ন্যায়ের পথে রয়।
কষ্ট এলে সবর ধরো, দোয়া করো প্রাণে,
সাফল্য এলে শুকরিয়া দাও আল্লাহরই দানে।
নিজেকে আগে সংশোধন করো, সমাজ হবে সুন্দর,
সত্য-ন্যায়-আমানতে গড়ো জীবন নিরন্তর।
মিথ্যা ছেড়ে সত্য ধরো, জুলুম ছেড়ে ন্যায়,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবনটাকে সাজাই।
হে আল্লাহ! সাফা-মারওয়ার শিক্ষা দাও হৃদয়ে,
হাজেরার সেই তাওয়াক্কুল দাও জীবনের নির্ভয়ে।
ইবরাহিমের আনুগত্য দাও, ইসমাইলের ধৈর্য,
তোমার পথে অবিচল থাকার দাও শক্তি ও সাহস।
হে রব! যমযমের মতো রহমত ঢালো প্রাণে,
নিরাশ হৃদয় আশায় ভরাও তোমার দয়াদানে।
বিপদে দাও সবর, দাও হালাল পথে চলার শক্তি,
তোমার স্মরণে পূর্ণ করো হৃদয়ের প্রতিটি ভক্তি।
মাকামে ইবরাহিম শেখাক বিনয় আর আনুগত্য,
নেক কাজের পর চাওয়ার শিক্ষা দাও—কবুলিয়তের সত্য।
রিয়া, অহংকার, হিংসা থেকে রাখো অন্তর মুক্ত,
তাওহিদের সরল পথে রাখো আমাদের চিত্ত।
কাবার প্রতি ভালোবাসা দাও, কিবলার প্রতি মান,
সুন্নাহর পথে চলার দাও শক্তি ও সম্মান।
মুসলিমদের মাঝে দাও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
দূর করো হিংসা-বিদ্বেষ, জাগাও ভালোবাসার স্পন্দন।
সাফা যেন বলে—“চেষ্টা করো, থেমো না আর,”
মারওয়া যেন শেখায়—“আশা রেখো রবের দ্বার।”
যমযম যেন বলে—“রহমত আসে আল্লাহর কাছ,”
মাকাম যেন বলে—“বিনয়েই মুমিনের সত্য সাজ।”
ইবরাহিমের মতো দাও আনুগত্যের প্রাণ,
হাজেরার মতো দাও ত্যাগের দৃঢ় সম্মান।
ইসমাইলের মতো দাও রবের পথে আত্মসমর্পণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সর্বশেষ সাধন।
সাফা-মারওয়া, যমযম, মাকাম—পবিত্র স্মৃতিধারা,
তাওহিদেরই সাক্ষ্য দেয় যুগের পর যুগ সারা।
এই নিদর্শন মনে রেখে গড়ি জীবনখানি,
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এ হোক অন্তরের বাণী।
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
সাফা-মারওয়া আল্লাহরই নিদর্শন—এ সত্য থাকুক মনে,
তাঁরই ইবাদত করি আমরা জীবনের প্রতিক্ষণে।
তাঁরই ওপর ভরসা রাখি, তাঁরই কাছে চাই,
তাঁরই সন্তুষ্টির পথে জীবনভর চলি ভাই।
হে আল্লাহ! ঈমান রাখো অটুট, আমল করো কবুল,
সত্যের পথে রাখো আমাদের, অন্তর করো নির্মল।
সবর, শুকর, তাকওয়া, তাওয়াক্কুল দাও অন্তরে আলো,
দুনিয়া ও আখিরাতে করো আমাদের জীবন ভালো।
তোমারই দাস, তোমারই বান্দা—তোমারই দরবারে,
তোমার রহমত চাই, হে রব—জীবনের শেষ প্রহরে।
৪
৪ মন্তব্য