Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০০ পূর্বাহ্ণ

তাকওয়াবান মানুষের গুণাবলি

তাকওয়াবান মানুষের গুণাবলি

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক রূপে নয়; তার সৌন্দর্য প্রকাশ পায় চরিত্র, আচরণ, সংযম, দয়া, ক্ষমাশীলতা মানবিকতায়। অর্থ-সম্পদ, জ্ঞান, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষকে বড় করতে পারে; কিন্তু উত্তম চরিত্র ছাড়া এসব অর্জন অনেক সময় মানুষের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই ইসলাম মানুষের বাহ্যিক উন্নতির পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধি চরিত্র গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

মহান আল্লাহ কুরআনুল কারিমে মুত্তাকিদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন

الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الۡكٰظِمِیۡنَ الۡغَیۡظَ وَ الۡعَافِیۡنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

অর্থাৎ, “যারা স্বচ্ছল অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।সূরা আলে ইমরান, :১৩৪

এই ছোট্ট আয়াতের মধ্যে একজন মুমিনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক সামাজিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি মহৎ গুণের শিক্ষা রয়েছে। প্রথমতসচ্ছলতা অভাব উভয় অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা; দ্বিতীয়তক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করা; তৃতীয়তঅন্যায়-অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা; এবং চতুর্থতইহসান বা সর্বোত্তম পন্থায় কল্যাণকর কাজ করা। এসব গুণ অর্জন করতে পারলে ব্যক্তি যেমন আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করতে পারে, তেমনি পরিবার সমাজেও শান্তি, সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

আয়াতের মূল শিক্ষা

আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের কয়েকটি অসাধারণ গুণ তুলে ধরেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসব গুণ শুধু ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, অর্থনৈতিক আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

আয়াতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো

. সচ্ছলতা অসচ্ছলতায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা।
. ক্রোধ সংবরণ করা।
. মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া।
. ইহসান তথা উত্তমভাবে কল্যাণকর কাজ করা।

চারটি গুণ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দানশীলতা মানুষকে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে, ক্রোধ সংবরণ মানুষকে আত্মসংযমী করে, ক্ষমা মানুষকে উদার করে এবং ইহসান মানুষকে পরিপূর্ণ কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।

. সচ্ছলতা অসচ্ছলতায় আল্লাহর পথে ব্যয়

আয়াতের শুরুতেই বলা হয়েছে

الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ

অর্থাৎ, “যারা স্বচ্ছলতা অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে।

এখানে প্রকৃত মুত্তাকির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। সে শুধু অর্থবান অবস্থায় দান করে না; বরং অভাবের সময়ও তার সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে ব্যয় করার অভ্যাস বজায় রাখে।

দান করার জন্য অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া অপরিহার্য নয়। যার যতটুকু সামর্থ্য, সে ততটুকুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করবে। একজন ধনী ব্যক্তি বেশি দান করতে পারেন, একজন মধ্যবিত্ত তার সামর্থ্য অনুযায়ী দান করতে পারেন, এমনকি একজন দরিদ্র মানুষও সামান্য কিছু দিয়ে অন্যের উপকার করতে পারেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে দানের মূল্য শুধু পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং নিয়ত, সামর্থ্য ত্যাগের মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করার শিক্ষা

মানুষ যখন সম্পদের মালিক হয়, তখন অনেক সময় সে নিজের আরাম-আয়েশ, বিলাসিতা ভোগ-বিলাসে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে আল্লাহর দেওয়া সম্পদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যায়। অথচ সম্পদ আল্লাহর একটি আমানত। এর মধ্যে অভাবী, অসহায় অধিকারীদেরও হক রয়েছে।

তাই সম্পদ অর্জন করে শুধু নিজের জন্য ভোগ না করে

  • অভাবীকে সাহায্য করতে হবে;

  • এতিমের পাশে দাঁড়াতে হবে;

  • দরিদ্র শিক্ষার্থীর সহযোগিতা করতে হবে;

  • অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করতে হবে;

  • মসজিদ, মাদরাসা কল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করতে হবে;

  • আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীর প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসতে হবে।

এভাবে সম্পদ মানুষের অহংকারের কারণ না হয়ে কল্যাণের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয়ের শিক্ষা

আয়াতের বিশেষ সৌন্দর্য হলোশুধু স্বচ্ছল অবস্থার কথা বলা হয়নি; বরং অসচ্ছল অবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

কারণ অভাবের সময় মানুষের মন সাধারণত নিজের প্রয়োজন নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তখন অন্যের প্রয়োজনের কথা ভাবা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু একজন মুমিন নিজের কষ্টের মধ্যেও অন্যের কষ্ট অনুভব করে।

অবশ্য ইসলাম কাউকে নিজের মৌলিক প্রয়োজন উপেক্ষা করে দান করতে বাধ্য করেনি। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করার শিক্ষা দিয়েছে। তাই দরিদ্র ব্যক্তির জন্য দানের অর্থ হতে পারে সামান্য অর্থ, একমুঠো খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, একটি ভালো কথা, কারও কাজে সহযোগিতা কিংবা বিপদে পাশে দাঁড়ানো।

দানশীলতার প্রকৃত উদ্দেশ্য

দান-সদকা যেন লোক দেখানো, খ্যাতি অর্জন বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার মাধ্যম না হয়। দানের মূল উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন

গোপনে দান করা, দরিদ্রের সম্মান রক্ষা করা এবং দানের পর খোঁটা না দেওয়া ইসলামী নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

. ক্রোধ সংবরণপ্রকৃত শক্তির পরিচয়

এরপর আল্লাহ বলেন

وَ الۡكٰظِمِیۡنَ الۡغَیۡظَ

অর্থাৎ, “যারা ক্রোধ সংবরণ করে।

ক্রোধ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির একটি অংশ। অন্যায় হলে, অপমানিত হলে, অধিকার নষ্ট হলে কিংবা কেউ কষ্ট দিলে মানুষের মধ্যে রাগ সৃষ্টি হতে পারে। ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতিকে অস্বীকার করেনি; বরং ক্রোধকে অন্যায় কাজে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দিয়েছে।

ক্রোধ আসা অপরাধ নয়; কিন্তু ক্রোধের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কথা বলা, গালি দেওয়া, মারধর করা, জুলুম করা, সম্পর্ক নষ্ট করা কিংবা সীমালঙ্ঘন করা অবশ্যই নিন্দনীয়।

প্রকৃত বীর কে?

রাসুলুল্লাহ বলেছেন

শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

এই হাদিস মানুষের শক্তির সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিয়েছে।

আমরা সাধারণত শক্তিশালী বলতে তাকে বুঝি, যে অন্যকে পরাজিত করতে পারে। কিন্তু ইসলাম বলেঅন্যকে পরাজিত করা বড় কথা নয়; নিজের প্রবৃত্তিকে পরাজিত করাই প্রকৃত বীরত্ব।

কারও ওপর রাগ করে তাকে আঘাত করা সহজ; কিন্তু রাগের মুহূর্তে নিজেকে থামানো কঠিন। তাই ক্রোধের সময় আত্মসংযমই প্রকৃত শক্তির পরিচয়।

. রাগ করো না’—একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর শিক্ষা

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ -এর কাছে এসে উপদেশ চাইলেন। তিনি বললেন

রাগ করো না।

লোকটি বারবার উপদেশ চাইলে রাসুলুল্লাহ বারবার বললেন

রাগ করো না।
সহিহ বুখারি

এই সংক্ষিপ্ত উপদেশের মধ্যে গভীর জীবনদর্শন রয়েছে।

কারণ রাগের মুহূর্তে মানুষের বিবেক দুর্বল হয়ে যায়। তখন সে এমন কথা বলে ফেলতে পারে, যা পরে আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। এমন কাজ করে ফেলতে পারে, যার ক্ষত সারতে বহু বছর লেগে যায়।

এক মুহূর্তের রাগ

  • একটি সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে;

  • পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে;

  • বন্ধুত্ব ভেঙে দিতে পারে;

  • প্রতিবেশীর সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করতে পারে;

  • সন্তানের মনে গভীর আঘাত দিতে পারে;

  • কর্মক্ষেত্রে সম্মান নষ্ট করতে পারে;

  • এমনকি বড় ধরনের অপরাধের কারণও হতে পারে।

তাই রাগের সময় নীরব থাকা, নিজেকে সামলে নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর কথা বলা বুদ্ধিমানের কাজ।

. ক্রোধ সংবরণের বাস্তব উপায়

ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা শুধু উপদেশ শুনলেই সম্ভব হয় না; এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন।

রাগের সময় একজন মুমিন

প্রথমত, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার চেষ্টা করবে।

দ্বিতীয়ত, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ নীরব থাকবে।

তৃতীয়ত, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেদাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়া কিংবা প্রয়োজনে স্থান পরিবর্তন করা উপকারী হতে পারে।

চতুর্থত, অশালীন ভাষা গালাগালি থেকে নিজেকে রক্ষা করবে।

পঞ্চমত, মনে রাখবেআল্লাহ সবকিছু দেখছেন এবং আত্মসংযমের জন্য তাঁর কাছে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।

ষষ্ঠত, মনে করবে যে, অন্যকে ক্ষমা করার ক্ষমতা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি বড় মাধ্যম।

. মানুষকে ক্ষমা করামহৎ হৃদয়ের পরিচয়

আয়াতের তৃতীয় গুণ

وَ الۡعَافِیۡنَ عَنِ النَّاسِ

অর্থাৎ, “যারা মানুষকে ক্ষমা করে।

ক্ষমা মানে অন্যায়ের প্রতি সমর্থন দেওয়া নয়। ক্ষমা মানে দুর্বল হয়ে যাওয়া নয়। বরং অনেক সময় ক্ষমা করা প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে বড় সাহসের পরিচয়।

যে ব্যক্তি অন্যায় করার পরও প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে দেয়, সে নিজের নফসের ওপর বিজয়ী হয়।

ক্ষমা মানুষের মর্যাদা বাড়ায়

মানুষ সাধারণত মনে করেপ্রতিশোধ নিলে সম্মান রক্ষা হবে। কিন্তু ইসলাম শেখায়, সব ক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেওয়া মহত্ত্বের পরিচয় নয়। কখনো কখনো ক্ষমা করাই অধিক মর্যাদার কাজ।

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন

মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ; তবে যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে।

অর্থাৎ ক্ষমা শুধু ব্যক্তিগত মহত্ত্ব নয়; এটি আল্লাহর কাছে পুরস্কারের কারণও হতে পারে।

. ক্ষমা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া নয়

ইসলামে ক্ষমাশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থ এই নয় যে অপরাধীকে সবসময় ছেড়ে দিতে হবে এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে হবে।

যেখানে ব্যক্তিগত ক্ষতি বা অপমানের বিষয় এবং ক্ষমা করলে সংশোধনের সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ক্ষমা অত্যন্ত মহৎ কাজ।

কিন্তু এমন ক্ষেত্রে যেখানে ক্ষমা করলে অপরাধ আরও বেড়ে যায়, মানুষের অধিকার নষ্ট হয় বা সমাজে বড় ক্ষতি হয়, সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

অতএব ইসলামের শিক্ষা হলোব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, ন্যায় কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ক্ষমা হতে হবে প্রজ্ঞাপূর্ণ; প্রতিশোধও হতে হবে ন্যায়সঙ্গত। কোনো অবস্থাতেই সীমালঙ্ঘন করা যাবে না।

. ক্ষমার সামাজিক সুফল

একজন মানুষ যদি প্রতিটি ভুলের প্রতিশোধ নিতে থাকে, তাহলে সমাজে শত্রুতা বাড়তে থাকে। একজনের প্রতিশোধের জবাবে আরেকজন প্রতিশোধ নেয়; এভাবে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

কিন্তু কেউ যদি ক্ষমার মাধ্যমে সেই বিরোধের ধারাটি থামিয়ে দেয়, তাহলে শান্তির পথ খুলে যায়।

ক্ষমা

  • পরিবারে ভালোবাসা বাড়ায়;

  • স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সুন্দর করে;

  • ভাই-বোনের বিরোধ কমায়;

  • বন্ধুত্ব রক্ষা করে;

  • প্রতিবেশীর সম্পর্ক উন্নত করে;

  • সামাজিক সংঘাত কমায়;

  • মানুষের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে।

তাই ক্ষমাশীল মানুষ শুধু নিজের জীবনকেই সুন্দর করে না; সে সমাজেও শান্তির বীজ বপন করে।

. আল্লাহর জন্য ক্ষমাসর্বোচ্চ মহত্ত্ব

মানুষকে ক্ষমা করার সবচেয়ে সুন্দর কারণ হলোআল্লাহর সন্তুষ্টি।

কেউ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, অপমান করেছে, আমার অধিকার নষ্ট করেছেতবু আমি যদি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে ক্ষমা করি, তাহলে আমার এই ক্ষমা ইবাদতে পরিণত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ বলেছেন

আল্লাহ কোনো বান্দার ক্ষমার কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই বাড়ান না।
সহিহ মুসলিম

অর্থাৎ ক্ষমা করলে মানুষ ছোট হয় না; বরং আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

. ইহসানআয়াতের সর্বোচ্চ শিক্ষা

আয়াতের শেষে মহান আল্লাহ বলেন

وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

অর্থাৎ, “আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।

এখানে মুহসিন বলতে এমন মানুষকে বোঝায়, যে সুন্দরভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে কল্যাণকর কাজ করে। সে শুধু অন্যায় থেকে বিরত থাকে না; বরং সক্রিয়ভাবে ভালো কাজ করে।

দান করা ভালো কাজ।
ক্রোধ সংবরণ করা ভালো কাজ।
ক্ষমা করা ভালো কাজ।
আর মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা, উপকার করা, ন্যায়বিচার করা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উত্তম কাজ করাএসবই ইহসানের অন্তর্ভুক্ত।

ইহসানের বিস্তৃত অর্থ

ইহসান হতে পারে

  • আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে করা;

  • মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ করা;

  • পিতা-মাতার সেবা করা;

  • আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা;

  • প্রতিবেশীর হক আদায় করা;

  • দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো;

  • অসুস্থকে দেখতে যাওয়া;

  • ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া;

  • এতিমের যত্ন নেওয়া;

  • শিক্ষার্থীর সহযোগিতা করা;

  • অন্যের ভুল সংশোধনে কোমল হওয়া;

  • কর্মচারী অধীনস্থদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করা;

  • প্রাণী পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়া।

ইহসান মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কল্যাণের দ্বার খুলে দেয়।

১০. আয়াতটির চারটি গুণের পারস্পরিক সম্পর্ক

আয়াতের গুণগুলোকে আলাদা আলাদা মনে হলেও এগুলো আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ চরিত্র গঠন করে।

দানশীলতা মানুষকে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে।

ক্রোধ সংবরণ মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রিত করে।

ক্ষমাশীলতা মানুষকে উদার হৃদয়ের অধিকারী করে।

ইহসান মানুষকে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের পথে নিয়ে যায়।

অর্থাৎ একজন আদর্শ মুমিন শুধু নামাজ-রোজা পালনকারী নয়; তার চরিত্রেও আল্লাহর বিধানের প্রতিফলন থাকতে হবে।

১১. পারিবারিক জীবনে আয়াতটির শিক্ষা

পরিবার হলো মানুষের প্রথম শিক্ষালয়। সেখানে এই আয়াতের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবারে শান্তি ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হতে পারে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। ভাই-বোনের মধ্যে মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ভুলকে কেন্দ্র করে রাগ, অপমান প্রতিশোধের পথ বেছে নিলে পরিবারে শান্তি থাকবে না।

তাই পরিবারে প্রয়োজন

রাগের সময় সংযম,
ভুল হলে ক্ষমা,
সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা,
এবং সবার সঙ্গে ইহসান।

বিশেষ করে সন্তানদের সঙ্গে আচরণে কোমলতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ শিশুরা শুধু উপদেশ শুনে শেখে না; তারা বড়দের আচরণ দেখেও শেখে। বাবা-মা যদি রাগের সময় সংযম দেখান এবং ভুল হলে ক্ষমা করতে শেখান, তাহলে সন্তানও ধীরে ধীরে সেই চরিত্র অর্জন করবে।

১২. শিক্ষক শিক্ষার্থীর জীবনে আয়াতটির শিক্ষা

শিক্ষাঙ্গনেও এই আয়াতের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন শিক্ষককে জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি উত্তম চরিত্রের আদর্শও হতে হয়। শিক্ষার্থীর ভুলে অযথা ক্রুদ্ধ না হয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীর মর্যাদা রক্ষা করা শিক্ষকের দায়িত্বের অংশ।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীকেও শিক্ষকের প্রতি সম্মান, সহপাঠীর প্রতি সহমর্মিতা এবং ভুল হলে ক্ষমা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি

জ্ঞান থাকে, কিন্তু চরিত্র না থাকে,
শৃঙ্খলা থাকে, কিন্তু দয়া না থাকে,
প্রতিযোগিতা থাকে, কিন্তু সহযোগিতা না থাকে

তাহলে শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে না।

১৩. কর্মক্ষেত্রে আয়াতটির শিক্ষা

কর্মক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মতভেদ, প্রতিযোগিতা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। একজন দায়িত্বশীল মানুষ অন্যের ভুল দেখলে উত্তেজিত না হয়ে সুন্দরভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে।

অধীনস্থ কর্মচারীর ভুল হলে তাকে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া, সহকর্মীর প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং দায়িত্ব পালনে সততা নিষ্ঠা প্রদর্শন করা ইহসানের অংশ।

একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার পেছনে শুধু দক্ষতা নয়; বিশ্বাস, ন্যায়, সহযোগিতা, সংযম পারস্পরিক সম্মানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৪. সমাজজীবনে আয়াতটির শিক্ষা

একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে শুধু আইন-কানুন দিয়ে নয়; মানুষের অন্তরে নৈতিকতা আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

যদি সমাজের মানুষ

  • অভাবীকে সাহায্য করে;

  • অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবজ্ঞা না করে;

  • রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে;

  • ব্যক্তিগত বিরোধ ক্ষমা করে;

  • অন্যের অধিকার রক্ষা করে;

  • দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ায়;

  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে;

  • মানুষের উপকারে এগিয়ে আসে

তাহলে সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ সংঘাত কমে যাবে।

মানুষে মানুষে দূরত্ব কমবে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

১৫. আধুনিক সমাজে এই শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের হাতে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম এসেছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ক্ষমাশীলতা সবসময় একইভাবে বাড়েনি। সামান্য মতভেদ থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক, অপমান, বিদ্বেষ সম্পর্কচ্ছেদ তৈরি হতে দেখা যায়।

অবস্থায় সূরা আলে ইমরানের এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

কেউ কিছু বললেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়া নয়; আগে ভাবতে হবে।

কেউ ভুল করলেই তাকে অপমান করা নয়; সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

নিজের সামর্থ্য থাকলে শুধু নিজের জন্য নয়; অসহায় মানুষের জন্যও ব্যয় করতে হবে।

অন্যের দুর্বলতা নিয়ে হাসাহাসি নয়; বরং তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

অর্থাৎ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের উন্নতিও প্রয়োজন।

১৬. ক্রোধের ক্ষতি এবং সংযমের সুফল

অসংযত ক্রোধ মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে দেয়। ক্রোধের মুহূর্তে মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার পরিণতি তাকে দীর্ঘদিন বহন করতে হয়।

অন্যদিকে ক্রোধ সংবরণ করলে

  • চিন্তা পরিষ্কার থাকে;

  • ভুল সিদ্ধান্ত কমে;

  • সম্পর্ক রক্ষা হয়;

  • সম্মান বজায় থাকে;

  • পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়;

  • অপরাধের সম্ভাবনা কমে;

  • আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়;

  • আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করা যায়।

তাই ক্রোধকে দুর্বলতা মনে না করে তাকে নিয়ন্ত্রণ করাই শক্তির পরিচয়।

১৭. দানশীলতা আত্মশুদ্ধি

দান শুধু দরিদ্রের উপকার করে না; দাতার হৃদয়কেও পরিশুদ্ধ করে।

সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দিতে পারে। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করলে মানুষের অন্তরে কৃতজ্ঞতা, সহমর্মিতা ত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়।

সে বুঝতে শেখে

আমি যা পেয়েছি, সবই আল্লাহর দান।

তখন সম্পদ তার অহংকারের কারণ না হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

১৮. ক্ষমা আত্মমর্যাদার সম্পর্ক

অনেকে মনে করেন, ক্ষমা করলে মানুষ দুর্বল মনে করবে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমা দুর্বলতার পরিচয় নয়।

যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হয়েও আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে, তার আত্মসংযম মানসিক শক্তিই প্রকাশ পায়।

তবে ক্ষমা করার পাশাপাশি নিজের বৈধ অধিকার রক্ষার বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন। ইসলাম জুলুমকে সমর্থন করে না। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা পরিহার করতে হবে, কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হলে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা বৈধ।

১৯. একজন আদর্শ মুমিনের চরিত্র কেমন হবে?

সূরা আলে ইমরানের এই আয়াতের আলোকে একজন আদর্শ মুমিন

সচ্ছল হলে কৃতজ্ঞ,
অসচ্ছল হলে ধৈর্যশীল;
সুযোগ পেলে দানশীল,
রাগ এলে সংযমী;
অন্যায় পেলে ন্যায়পরায়ণ,
ক্ষমতার সময় ক্ষমাশীল;
নিজের জন্য নয়,
অন্যের কল্যাণেও চিন্তাশীল।

সে শুধু মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ভালো কাজ করে না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

২০. আল্লাহর ভালোবাসা লাভের পথ

আয়াতের শেষ বাক্যটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক

وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।

একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় মর্যাদা আর কী হতে পারে যে, সে মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করতে পারে!

মানুষের ভালোবাসা পরিবর্তনশীল। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি ভালোবাসাই মুমিনের চূড়ান্ত সাফল্য।

তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত

আমি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করছি?
আমি কি রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি?
আমি কি অন্যের ভুল ক্ষমা করতে পারছি?
আমি কি মানুষের সঙ্গে ইহসান করছি?

এই আত্মজিজ্ঞাসাই মানুষকে চরিত্রবান আল্লাহভীরু হতে সাহায্য করবে।

২১. আয়াতটির আলোকে আমাদের করণীয়

সূরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে আমাদের কিছু দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন

. সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান-সদকা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

. অভাবের সময়ও সম্পূর্ণ স্বার্থপর হয়ে না গিয়ে সাধ্য অনুযায়ী অন্যের উপকার করতে হবে।

. রাগের সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

. গালি, অশালীন কথা অপমানজনক আচরণ পরিহার করতে হবে।

. ব্যক্তিগত ভুল অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমাশীলতার চর্চা করতে হবে।

. ক্ষমাকে দুর্বলতা নয়, আত্মসংযম মহত্ত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

. অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে ন্যায় কল্যাণের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

. মানুষের উপকারে এগিয়ে আসতে হবে।

. দান ভালো কাজের ক্ষেত্রে লোকদেখানো থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

১০. প্রতিদিন নিজের চরিত্র আচরণের হিসাব নিতে হবে।

উপসংহার

সূরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতটি একজন মুত্তাকি আদর্শ মানুষের চরিত্রের একটি চমৎকার নকশা উপস্থাপন করেছে। এখানে শুধু নামাজ, রোজা কিংবা আনুষ্ঠানিক ইবাদতের কথা বলা হয়নি; বরং মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সম্পর্ক এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে তাকওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সচ্ছলতায় দান,
অসচ্ছলতায়ও সাধ্যানুযায়ী ব্যয়;
ক্রোধের সময় সংযম,
অন্যায়ের পর ক্ষমা;
আর প্রতিটি ক্ষেত্রে ইহসান

এই হলো আয়াতটির অন্যতম প্রধান জীবনদর্শন।

একজন মানুষ তখনই সত্যিকার অর্থে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়, যখন সে নিজের সুখের সময় অন্যের কথা ভাবে, নিজের দুঃখের সময়ও মানবিকতা হারায় না; রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে; প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমার পথ বেছে নেয় এবং প্রতিটি ভালো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার চেষ্টা করে।

আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র সমাজজীবনে যদি এই চারটি গুণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, সংঘাত অশান্তি অনেকটাই কমে আসবে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হবে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা, সহযোগিতা শান্তি।

তাই আসুন, আমরা কুরআনের এই মহান নির্দেশকে শুধু তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। সচ্ছলতায় আল্লাহর পথে ব্যয় করি, অসচ্ছলতায়ও সাধ্যানুযায়ী কল্যাণ করি; ক্রোধকে সংবরণ করি; মানুষকে ক্ষমা করি; এবং সর্বদা ইহসানের পথে চলি।

কারণ আয়াতের শেষ ঘোষণাটি আমাদের জন্য এক মহাসুসংবাদ

وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে দানশীলতা, ধৈর্য, সংযম, ক্ষমাশীলতা ইহসানের গুণে সমৃদ্ধ করুন। আমাদেরকে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার, অন্যের ভুল ক্ষমা করার, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য উত্তম কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমাদের ব্যক্তি সামাজিক জীবনকে কুরআন-সুন্নাহর আলোয় সুন্দর করে দিন। আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ