Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ

অন্তর আছে—জাগে না কেন?

অন্তর আছেজাগে না কেন?

মোঃ মুজিবুর রহমান

অন্তর আছে, চোখও আছে, কানও আছে ভাই,
সত্য কেন বুঝি না আমরা, সত্য কেন চাই না তাই?
আল্লাহ দিলেন জ্ঞান-বিবেক, দিলেন দেখার আলো,
হকের পথে চলার জন্য করলেন পথ ভালো।

জিন মানুষ সৃষ্টি হলো রবের হুকুম মানতে,
ইবাদতের পথে জীবন দিতে, সত্যের পথে চলতে।
কেউ বা নেয় হিদায়াত, কেউ হারায় তার দিশা,
কেউবা গাফেল হয়ে কাটায় জীবনভুলে পরিণতি-শিক্ষা।

ِجَهَنَّمَ كَثِيرًاআয়াত দেয় সতর্ক বাণী,
নিজের কর্মেই মানুষ গড়ে নিজের শেষের কাহিনি।
জুলুম করে রব নন কখনোন্যায় তাঁর বিধান,
মানুষ নিজের কাজেই পায় সুখ কিংবা অপমান।

হৃদয় আছেতবু কেন সত্য বুঝি না?
চোখ আছেতবু কেন হকের পথে দেখি না?
কান আছেতবু কেন শুনি না নসিহত?
কেন নিজের প্রবৃত্তিকে দিই জীবনের নেতৃত্ব?

হৃদয় শুধু রক্তের পিণ্ড শিক্ষা নয় মূল,
হৃদয় হলো সত্য বোঝার, সৎ হওয়ার ফুল।
যে হৃদয়ে ঈমান জাগে, আল্লাহর স্মরণ রয়,
সে হৃদয়েই নূরের আলো, শান্তির ঝরনা বই।

কুরআনের আয়াত নামে হৃদয়েরই দ্বারে,
জাগ্রত হৃদয় সত্য পায় আল্লাহরই ইশারায়।
যে হৃদয় পাপে ঢেকে যায়, সত্য হয় তার দূর,
অহংকারের ঘন আঁধারে নিভে যায় তার নূর।

চোখ আছেদেখে না কেন সৃষ্টির অপার রূপ?
আকাশজুড়ে নক্ষত্রমালা, সাগর, পাহাড়, ধূপ।
সূর্য ওঠে নিয়ম মেনে, চাঁদও চলে পথে,
কে সাজাল এই বিশ্বজগৎ এমন নিখুঁত রথে?

ফুলের মাঝে রঙের খেলা, সুবাস ভরা বায়ু,
পাখির কণ্ঠে সুরের মেলাকার এমন কারুকার্য?
বীজের মাঝে বৃক্ষ লুকায়, বিন্দুতে সাগর জাগে,
রবের কুদরত দেখেও মানুষ কেন গাফেল থাকে?

চোখ যদি শুধু দেখে রূপ, দেখে না স্রষ্টার নিদর্শন,
তবে সে দৃষ্টি অপূর্ণ থাকে, হারায় সত্যদর্শন।
চোখের কাজ শুধু কি তবে দুনিয়ার রূপ দেখা?
আল্লাহর কুদরত চিনে সত্যের পথে থাকা শেখা।

কান আছেশোনে না কেন কুরআনের আহ্বান?
শোনে কত কথার স্রোত, শোনে দুনিয়ার গান।
শোনে প্রশংসা, শোনে নিন্দা, শোনে কত বাণী,
হকের কথা শুনে কেন ফিরিয়ে রাখে কানি?

যে কানে আজান পৌঁছে, তবু নামাজে যায় না,
যে কানে কুরআন বাজে, তবু অন্তর নরম হয় না,
যে কানে মৃত্যুর সংবাদ, তবু শিক্ষা নেয় না,
গাফেলতার ঘোর অন্ধকার তার অন্তর ছাড়ে না।

শোনা মানে শুধু শব্দ কানে প্রবেশ করা নয়,
হকের কথা গ্রহণ করে জীবন বদলানোই হয়।
কুরআন শুনে চোখে পানি, অন্তরে জাগে ভয়,
আল্লাহর পথে ফিরে আসাই মুমিনের পরিচয়।

أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِকঠিন সতর্কবাণী,
মানুষ হয়েও যেন পশুর মতো না হয় প্রাণী।
পশু তার ক্ষুধা বোঝে, ক্ষতি হলে সরে,
মানুষ কেন হক চিনেও বাতিল পথে ঝরে?

পশু তো শরিয়তের বিধান মানার দায়ে নয়,
মানুষ পেয়েছে বিবেকতাই তার হিসাবও হয়।
পশু জানে খাদ্য কোথায়, পানি কোথায় মেলে,
মানুষ কেন হক-বাতিল চিনে ভুলের পথে চলে?

খাদ্য, পোশাক, ঘরবাড়িএসব জীবনচাহিদা,
কিন্তু শুধু ভোগের মাঝে হারায় না কি ঈমানের দীপশিখা?
অর্থ যদি হয় জীবনের একমাত্র পরিচয়,
ক্ষমতা যদি লক্ষ্য হয়, আখিরাত তবে কোথায় রয়?

দুনিয়া হবে প্রয়োজন, কিন্তু লক্ষ্য নয় ভাই,
দুনিয়াতে থেকেও মুমিন আখিরাতকে চাই।
হালাল পথে উপার্জন করবে, দেবে হকের দান,
সৎ পথে সে গড়বে জীবন, রাখবে রবের মান।

بَلْ هُمْ أَضَلُّ—“বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট”—
কত গভীর সতর্কতা, কত ভয়ংকর স্পষ্ট!
কারণ মানুষ জ্ঞান পেয়েও যখন সত্য হারায়,
নিজের বিবেক পেয়েও যখন অন্যায়কে ধরায়,

তখন তার পতন হয় পশুর চেয়েও নিচে,
হিদায়াতের আলো ছেড়ে অন্ধকারের পিছে।
পশু চলে তার স্বভাবমতো, মানুষ পায় বিধান,
তাই মানুষের দায়িত্ব বেশিবেশি তার পরীক্ষা-জ্ঞান।

أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَশেষ কথাটি ভারী,
গাফেলতার ঘোরে মানুষ হারায় মুক্তির কড়ি।
রবকে ভুলে, মৃত্যু ভুলে, ভুলে আখিরাত,
দুনিয়ার মায়াজালে কাটায় দিন-রাত।

গাফেল সে-যে জানে মৃত্যু, তবু প্রস্তুত নয়,
জানে কবর, তবু আমলে আখিরাত গড়ে না হয়।
জানে হিসাব, জানে মিজান, জানে রবের বিচার,
তবু পাপে ডুবে থাকে কেমন অন্ধকার!

গাফেল সে-যে আজান শুনে নামাজ ফেলে দেয়,
সত্য জেনে স্বার্থের তরে মিথ্যার সাথে যায়।
কুরআন আছে ঘরে তার, হৃদয়ে তার নয়,
সুন্নাহর কথা জানে, কিন্তু মানতে তার ভয়।

গাফেল সে-যে মানুষের হক নষ্ট করে,
অন্যায় করে হাসে আবার বাহ্যিক ধর্ম ধরে।
ইবাদত যদি চরিত্রে না আনে নূর,
তবে নিজের ভুল সংশোধন করাই আগে জরুর।

নামাজ হবে জীবনেরই শুদ্ধতার প্রহরী,
রোজা শেখায় সংযম, তাকওয়ার পথ ধরি।
যাকাত শেখায় সম্পদ শুধু নিজের জন্য নয়,
হজ শেখায় এক উম্মাহসবাই রবের দাস হয়।

কুরআন শুধু তিলাওয়াত নয়জীবনেরই পথ,
তার আলোয় সত্য-মিথ্যার স্পষ্ট হয় সব মত।
হাদিস শেখায় নবীর পথে কেমন জীবন চাই,
সুন্নাহ মেনে চললে হৃদয় পায় সত্যের ঠাঁই।

তাই এসো, অন্তর জাগাই, ঘুচাই মনের কালো,
রবের স্মরণে জীবন ভরি, জ্বালাই ঈমান-আলো।
চোখ দিয়ে দেখি নিদর্শন, কান দিয়ে শুনি হক,
হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করি রবের বিধান-শিক্ষা অমলিন।

অহংকারের দেয়াল ভেঙে সত্যকে করি মান্য,
নিজের ভুলে তাওবা করিএটাই জীবনের ধন্য।
আজ যদি পাপের পথে থাকি, ফিরে আসি আজ,
মৃত্যু এসে দরজায় দাঁড়ালে থাকবে না তো কাজ।

তাওবার দরজা খোলা আছেনিরাশ হও না ভাই,
রহমতের রব ডাকছেন বান্দা, ফিরে এসো তাই।
অশ্রু দিয়ে বলো তাঁকে—“হে রব, ভুল করেছি,”
পাপের পথ ছেড়ে দিয়ে তোমার দিকেই ফিরেছি।

রহমান রব ক্ষমাশীল, দয়ায় ভরা প্রাণ,
অনুতপ্ত বান্দার তাওবা করেন তিনি দান।
তবে তাওবা সত্য হবেছাড়তে হবে পাপ,
অন্যায় ছেড়ে হকের পথে গড়তে হবে জীবন-মাপ।

হে যুবক, হে বৃদ্ধ, হে শিশু, হে প্রাণ,
গাফেলতার ঘুম ভেঙে কর আল্লাহর স্মরণ।
জীবন ক্ষণিক, মৃত্যু নিশ্চিত, সময় বহে যায়,
যে সময় আজ হাতে আছে, কাল তা ফিরে না পায়।

আজ যে চোখে দুনিয়া দেখি, কাল সে চোখ হবে স্তব্ধ,
আজ যে কানে কথা শুনি, কাল সে শ্রবণ হবে রুদ্ধ।
আজ যে হৃদয় সত্য নিতে পারে, নাও সেই সত্য জেনে,
মৃত্যুর পরে আফসোস করে লাভ হবে না কেঁদে।

আজানের ধ্বনি ডাকছে তোমায়—“এসো রবের ঘরে,”
কুরআনের বাণী ডাকছে—“চলো সত্যের তরে।
মায়ের দোয়া, পিতার শিক্ষা, শিক্ষকের নসিহত,
সবই যেন পথ দেখায়জাগো, ছাড়ো গাফেলত।

শিক্ষা শুধু চাকরি নয়, শিক্ষা শুধু ধন নয়,
শিক্ষা হলো সত্য চিনে উত্তম মানুষ হওয়া হয়।
জ্ঞান যদি চরিত্র গড়েসে জ্ঞান মহামূল্য,
জ্ঞান যদি অহংকার বাড়ায়সে জ্ঞান হয়ে যায় শূন্য।

সন্তানদের শেখাও তবে ঈমানেরই পাঠ,
সত্যবাদী হতে শেখাও, ন্যায়ের সাথে থাক।
কুরআনের আদর্শ দাও, সুন্নাহর পরিচয়,
সৎ চরিত্রে গড়ে উঠুক আগামী দিনের হৃদয়।

সমাজ যদি সত্য চায়, জাগুক প্রতিটি প্রাণ,
মিথ্যা, জুলুম, দুর্নীতি ছেড়ে ধরুক ন্যায়ের টান।
অন্যের হক ফিরিয়ে দিক, করুক ক্ষমা-দান,
মানুষে মানুষে ভালোবাসা হোক সমাজের প্রাণ।

হৃদয় হবে কোমল যেন, চোখে থাকবে লজ্জা,
কানে ঢুকুক হকের বাণী, মুখে থাকুক সচ্চা।
হাতে থাকবে সৎকর্ম, মনে থাকবে ভয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে জীবনের পরিচয়।

হে আমার রব, অন্তর আমার করো না পাথর,
হকের বাণী শুনে যেন না হই আমি বধির।
সত্য দেখার দৃষ্টি দাও, চোখ রেখো পবিত্র,
তোমার পথে জীবন দাও, করো অন্তর চরিত্র।

দুনিয়ার মোহে যেন আমি হারিয়ে না যাই,
সম্পদ, খ্যাতি, ক্ষমতার তরে সত্য যেন না হারাই।
হালাল রুজি, সৎ আমল, মানুষেরই হক,
এই পথে যেন জীবন কাটেএই আমার অনুরোধ।

যখন আসবে মৃত্যুদূত, শেষ হবে দুনিয়ার মেলা,
বন্ধ হবে চোখের পাতা, থেমে যাবে জীবনের খেলা।
তখন শুধু আমল থাকবে, থাকবে না ধন-মান,
সৎকর্ম হবে সঙ্গী তখন, ঈমান হবে প্রাণ।

কবর হবে প্রথম ধাপই আখিরাতের পথে,
তাই প্রস্তুত হও হে মানুষ, গাফেল থেকো না সাথে।
হাশরের সেই মহাদিনে হবে কর্মের হিসাব,
কে বা যাবে নূরের পথে, কে পাবে কঠিন শাস্তির জবাব।

মিজানের পাল্লায় উঠবে ছোট-বড় সব আমল,
সেদিন কোনো মিথ্যা কথা করবে না আর সফল।
রবের সামনে দাঁড়াতে হবে একাকী প্রত্যেক প্রাণ,
তাই আজই গড়ে নাও তুমি পরকালের সম্বল-ভাণ্ডার।

আয়াতটি তাই শুধু ভয়ের বাণী নয়,
জাগরণের ডাকও এতেআশার আলো রয়।
অন্তর যদি ঘুমিয়ে থাকে, জাগাও তাকে আজ,
চোখ যদি সত্য না দেখে, বদলাও তার কাজ।

কান যদি হক না শোনে, মন দাও কুরআনে,
জীবন যদি ভুল পথে যায়, ফিরো রবের টানে।
গাফেলতার রাত পেরিয়ে ঈমানের ভোর হোক,
প্রতিটি প্রাণে আল্লাহভীতি, সত্যের আলো জ্বলে উঠুক।

অন্তর আছেজাগুক তবে আল্লাহরই স্মরণে,
চোখ থাকুক সত্যদর্শী সৃষ্টির নিদর্শনে।
কান থাকুক হকের শ্রোতা, কুরআনেরই তরে,
জীবন হোক সৎ আমলে, রবের সন্তুষ্টি করে।

পশুর মতো শুধু নয়মানুষ হয়ে বাঁচি,
রবের দেওয়া দায়িত্ব নিয়ে সত্যের পথে হাঁটি।
গাফেল নয়, জাগ্রত হোক প্রতিটি মুসলিম প্রাণ,
ঈমান, আমল, সৎ চরিত্রহোক জীবনের গান।

হৃদয় জাগুক, চোখ খুলুক, কান শুনুক হক,
আল্লাহর পথে জীবন গড়ুকএটাই হোক লক্ষ্য।
দুনিয়ার পথে যতই থাকি, রবকে যেন না ভুলি,
আখিরাতের সফলতার তরে নেক আমল করি।

হে আল্লাহ, গাফেলতা থেকে রাখো আমাদের দূরে,
ঈমান দাও, আমল দাও, রাখো হিদায়াতের নূরে।
শেষ নিঃশ্বাসে ঈমান রেখো, কবুল করো প্রাণ
জান্নাতের পথে স্থান দিওএই আমাদের আরজু-প্রাণ।

আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ