Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সৃষ্টির নিদর্শনে জ্ঞানীর চিন্তা ও মুমিনের প্রার্থনা - মোঃ মুজিবুর রহমান

                    সৃষ্টির নিদর্শনে জ্ঞানীর চিন্তা মুমিনের প্রার্থনা

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মহাবিশ্বের বিশাল বুকে কত যে বিস্ময় রয়,
নক্ষত্রেরা নীল আকাশে জ্বালে আলোর জয়।
সূর্য ওঠে নিয়ম মেনে, চাঁদও চলে পথে,
আল্লাহরই কুদরত লেখা সৃষ্টিজগতের পাতে।

পাহাড় দাঁড়িয়ে অটল হয়ে, নদী চলে গান,
সাগর বুকে ঢেউ তোলে, সবুজ করে প্রাণ।
বৃক্ষলতায় ফুলের হাসি, পাখির মধুর ডাক,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার মহিমাকোথায় তারই ফাঁক?

বাতাস বয়ে প্রাণ জুড়ায়, মেঘে নামে জল,
বৃষ্টিধারা সিক্ত করে মাঠ-ঘাট অবিরল।
রঙিন ফুলে প্রজাপতি, মৌমাছির গুঞ্জন,
সবকিছুরই অন্তরালে মহান রবের সৃজন।

দিনের শেষে রাত যে নামে, রাতের শেষে দিন,
এই নিয়মে চলছে ধরণি, কত যুগের ঋণ।
ক্ষণে ক্ষণে বদলায় দৃশ্য, বদলায় জীবনধারা,
তবু রবের বিধান মেনে চলছে ধরা সারা।

যে চোখ শুধু দেখে, সে তো দেখে বাহির,
যে মন ভেবে দেখে গভীর, সে- জ্ঞানীর পথিক।
সৃষ্টির রূপে থেমে না থেকে খোঁজে স্রষ্টার নাম,
তাঁর কুদরতে মুগ্ধ হয়ে বাড়ায় ঈমান।

আকাশ দেখে বলে জ্ঞানী—“কী অপার বিস্তার!
কে সাজাল এই নক্ষত্রমালা, কে দিল এমন ভার?”
চাঁদের হাসি দেখে বলে—“কে দিল আলো তাকে?
কে রাখে এই বিশ্বজগৎ নিয়মের বাঁধনে?”

পৃথিবীর বুকে জীবন কত, কত রঙের খেলা,
কে দিল প্রাণ ক্ষুদ্র পিপীলিকায়, কে দিল পাখির মেলা?
মানবদেহের বিস্ময় দেখে থমকে যায় মন,
কে গড়েছেন এমন নিখুঁত দেহের আয়োজন?

চোখের পলক, হৃদয়ধ্বনি, শ্বাসের আসা-যাওয়া,
কত রহস্য লুকিয়ে আছেকী করে যায় বোঝা?
যে নিজেকে চিনতে শেখে, চিনে আপন রব,
সৃষ্টির মাঝে খুঁজে পায় তাঁরই মহিমার রূপ।

বিবেকবান মানুষ তারাউলুল আলবাব নাম,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টাকে দেখে, স্মরণ করে রবের নাম।
তথ্য শুধু জানলেই মানুষ জ্ঞানী হয়ে নয়,
জ্ঞান তখনই মূল্যবান, যখন সত্যে হৃদয় রয়।

জ্ঞান যদি অহংকার আনে, সে জ্ঞান কিসের বল?
জ্ঞান যদি মানুষ ভোলায়, সে জ্ঞান বড়ই ছল।
যে জ্ঞান মানুষকে শেখায় বিনয়, সত্য, ন্যায়,
সেই জ্ঞানই আলোর পথে মানুষকে নিয়ে যায়।

যে জানে—“আমার জ্ঞান তো সীমিত, অতি ক্ষুদ্র,”
সে- রবের সামনে হয়ে ওঠে বিনয়ী, শুদ্ধ।
আল্লাহর জ্ঞানের সাগর সীমাহীন, অপার,
মানুষের জ্ঞান তার তুলনায় ক্ষুদ্র অতি ভার।

তাই জ্ঞানী মাথা নত করে মহান রবের দ্বারে,
সত্যের আলো হৃদয় ভরে, ন্যায়কে জীবন ধরে।
সৃষ্টির পাতা খুলে পড়ে কুদরতেরই পাঠ,
জ্ঞানীর চিন্তা তাকে আনে রবের নিকটসাথ।

আল্লাহ বলেন—“আসমান-জমিন সৃষ্টির মাঝে দেখো,
রাত দিনের পরিবর্তনে নিদর্শন খুঁজে রেখো।
বিবেকবান যারা আছে, তারাই বুঝতে পারে,
কুদরত লেখা প্রতিটি দৃশ্য বিশ্বজগতের দ্বারে।

যারা রবকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে বসে,
শুয়ে থেকেও তাঁকে স্মরণ রাখে আপন মনে।
আসমান-জমিন সৃষ্টির কথা চিন্তা করে তারা,
বলে—‘হে রব! অনর্থক নয় তোমার সৃষ্টি সারা।’”

এই তো মুমিনের পরিচয়, এই তার চিন্তাধারা,
জিকিরে তার সজীব হৃদয়, তাফাক্কুরে সাড়া।
মুখে আল্লাহর পবিত্র নাম, মনে তাঁরই ভয়,
তাঁরই পথে জীবন গড়ে, তাঁরই সন্তুষ্টি চায়।

দাঁড়িয়ে যখন কাজ করি, স্মরণ করি তাঁকে,
বসে যখন বিশ্রাম নিই, মনে রাখি তাঁকে।
শয্যায় যখন নিদ্রা নামে, স্মরণ করি রব,
তাঁরই নামে শান্তি নামে, জুড়িয়ে যায় মন।

জিকির শুধু মুখের বুলি কথা সত্য নয়,
জিকির মানে জীবনজুড়ে রবের আনুগত্য হয়।
তাঁর আদেশ পালন করা, নিষেধ থেকে সরা,
নিয়ামতের শুকরিয়া করা, বিপদে ধৈর্য ধরা।

চিন্তা করি সৃষ্টিজগত, ভাবি তাঁরই দান,
জিকির করি অন্তর দিয়ে, জাগে ঈমান-প্রাণ।
জিকির যখন চিন্তার সাথে একসূত্রে বাঁধে,
মানুষ তখন সত্যের পথে আলোর প্রদীপ জ্বালে।

চিন্তা যদি রবকে ভুলে অহংকারে যায়,
জ্ঞান তখন পথ হারিয়ে অন্ধকারে ঠাঁই পায়।
জিকির যদি চিন্তাহীন হয়, গভীরতা হারায়,
দুইটি যখন মিলিত হয়, ঈমান আলো ছড়ায়।

 “হে আমাদের রব! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি,”
এই বিশ্বাসে মুমিন বলে—“তুমি মহান, তুমি ধন্য।
তুমি পবিত্র, তুমি মহান, তোমার সৃষ্টি শুদ্ধ,
তোমার হিকমত অপরিসীম, তোমার জ্ঞান অদ্বিতীয়।

এই পৃথিবী খেলনা নয়, জীবন শুধু নয় মেলা,
এখানে মানুষ পরীক্ষার্থী, কর্মের রয়েছে বেলা।
আজকে যা করি আমরা, কালকে তারই ফল,
কর্মের হিসাব দিতে হবে সত্য অটল।

মানুষ কেন এলো ধরায়? কী তার জীবনের লক্ষ্য?
রবের পথে চলাই তার পরম সার্থকতা।
সত্য বলা, ন্যায় করা, মানুষের উপকার,
আল্লাহর সন্তুষ্টি চাওয়াজীবনের অহংকার।

ধন-দৌলত, নাম-যশ, পদসবই ক্ষণিক ছায়া,
মৃত্যু এলে কোনোটাই আর সঙ্গে যাবে না মায়া।
ঈমান, আমল, সৎকর্ম হবে জীবনের সাথি,
এই সত্যটি মনে রাখে জ্ঞানী পরহেজগারি।

রাত আসে নীরব হয়ে, নামে কালো চাদর,
দিনের শেষে বিশ্রাম দেয় ক্লান্ত পথিক-শরীর।
রাতের বুকে তাহাজ্জুদের অশ্রুসিক্ত ক্ষণ,
নির্জন রাতে রবের কাছে খুলে দাও মন।

দিনের বেলা কর্মব্যস্ত, জীবিকার সন্ধান,
হালাল পথে চেষ্টা করা মুমিনেরই প্রাণ।
রাত শেখায় আত্মশুদ্ধি, দিন শেখায় কর্ম,
দুইয়ের মাঝে গড়ে ওঠে সুন্দর জীবনের ধর্ম।

যে দিন গেল ফিরে কি আর আসবে কোনোদিন?
যে রাত গেল, ফিরে কি আর হবে সেই ক্ষণ?
সময় নদীর স্রোতের মতো বয়ে চলে অবিরাম,
ফিরে আসে না হারানো ক্ষণএটাই জীবনের জ্ঞান।

তাই সময় নষ্ট কোরো না অলসতার ঘোরে,
জ্ঞান অর্জন, সৎকর্ম করো সকাল-সন্ধ্যার ভোরে।
একটি ক্ষণও অমূল্য যেন, জীবন অতি ক্ষণ,
সময়েরই সঠিক ব্যবহার গড়ে সার্থক জীবন।

সৃষ্টির কথা ভাবতে ভাবতে মুমিন বলে কাঁদে
হে আমাদের রব! রেখো না আগুনেরই ফাঁদে।
জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে করো রক্ষা,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু কে দেবে নিরাপত্তা?”

নিজের আমল দেখে সে কখনো গর্বিত নয়,
রবের দয়ার আশায় থাকে, তাঁরই অনুগ্রহ চায়।
ভুল যে হতে পারে মানুষের, জানে মুমিন মন,
তাই তো সে ক্ষমা চেয়ে রবের দিকে যায় তখন।

গুনাহ যত বড় হোক, তাওবার দ্বার খোলা,
রবের রহমত পেলে মুছে যায় গুনাহের কালো।
হতাশ হয়ে বসে থেকো না, ফিরে এসো রবের কাছে,
তাঁর দয়া ক্ষমার আশা মুমিন হৃদয়ে আছে।

 “যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, হবে তার অপমান,
জালিমদের জন্য নেই কোনো সাহায্যদান।
এই বাণী শুনে মুমিন কাঁপে অন্তরভরা,
জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের পথে জীবন নেয় সে ধরা।

অন্যের ওপর অত্যাচারজুলুমেরই নাম,
নিজের ওপর জুলুমও হয় গুনাহে অবিরাম।
হারাম পথে সম্পদ নেওয়া, অধিকার করা ক্ষুণ্ন,
এসব ছেড়ে ন্যায়ের পথে হও হৃদয়ে পুণ্য।

দুর্বল মানুষ, অসহায় জন, সবার অধিকার,
রক্ষা করা মুমিনেরই নৈতিক অঙ্গীকার।
কথায় যেন কষ্ট না দিই, কাজে যেন নয় ক্ষতি,
মানুষের হক রক্ষা করাই সত্য ঈমানের গতি।

 “হে আমাদের রব! শুনেছি আমরা আহ্বান,
ঈমানের পথে ডাকছে যে সত্যেরই আহ্বান।
সে বলেছে—‘তোমরা রবের প্রতি ঈমান আনো,’
আমরা তখন বলেছি—‘হে রব! আমরা ঈমান আনো।’”

সত্যের ডাক এলে তাকে অবহেলা কোরো না,
জেনেও সত্য ছেড়ে মিথ্যার পথে যেও না।
কুরআনের বাণী শুনে জীবন করো শুদ্ধ,
ঈমান শুধু মুখের কথা নয়কর্মে করো দৃঢ়।

নামাজে ঈমান, কথায় ঈমান, চরিত্রে তার ছাপ,
লেনদেনে সত্য, ব্যবহারে ভালোবাসার মাপ।
ঈমান যদি হৃদয়জুড়ে সত্যিই করে বাস,
মানুষ তখন হয়ে ওঠে ন্যায়ের সুন্দর বাতাস।

 “হে আমাদের রব! ক্ষমা করো সকল গুনাহ,
ত্রুটি-বিচ্যুতি মুছে দাও, দাও সরল পথ।
এই দোয়া মুমিন করে নত হয়ে দুই হাত,
ক্ষমার আশায় ভিজে ওঠে চোখের পাতা রাত।

মানুষ ভুল করে, মানুষ কখনো হোঁচট খায়,
কিন্তু জ্ঞানী ভুলের পরে রবের দিকে যায়।
তাওবা মানে ফিরে আসা সত্যের পথে আবার,
ইস্তিগফারে অন্তর ধোয়, মুছে যায় অন্ধকার।

গুনাহ ছেড়ে অনুতাপে ফিরতে হবে মনে,
দৃঢ় প্রতিজ্ঞাফিরব না আর সেই ভুলের ক্ষণে।
রবের কাছে ক্ষমা চেয়ে শুদ্ধ করো প্রাণ,
তাওবার পথে ফিরে পেলে জেগে ওঠে ঈমান।

 “আমাদের মৃত্যু দিও নেককারদের সাথে,”
এই প্রার্থনা জাগুক সবার হৃদয়েরই সাথে।
শুধু সুন্দর জীবন নয়, সুন্দর পরিণাম,
ঈমান নিয়ে শেষ নিঃশ্বাসমুমিনেরই কাম।

নেককারদের সঙ্গ নাও, সৎজনদের ভালোবাসো,
মন্দ সঙ্গ ছেড়ে দিয়ে সত্যের পথে ভাসো।
বন্ধু বেছে সাবধানে, সঙ্গ জীবনে বড়,
ভালো মানুষ ভালো করে, মন্দে জীবন ঝড়।

যে সঙ্গ আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দেয়,
সে সঙ্গ হৃদয়কে নূরের পথে এগিয়ে নেয়।
যে সঙ্গ গুনাহ শেখায়, তাকে করো পরিহার,
নেককারদের পথ ধরাই জীবনের অলংকার।

জ্ঞান অর্জন করো সবাই, জ্ঞান আলোর দিশা,
অজ্ঞতার আঁধার ভেঙে জ্বালো জ্ঞানের শিখা।
তবে জ্ঞান যেন না হয় শুধু গর্বের কারণ,
জ্ঞান হোক মানুষের সেবা, সত্যের অনুশাসন।

বিজ্ঞান শেখো, বিশ্ব দেখো, রহস্য খুঁজে নাও,
সৃষ্টির মাঝে রবের কুদরত হৃদয় দিয়ে চাও।
জীববিজ্ঞান, মহাকাশ, নদী, পাহাড়, প্রাণ
সবখানেই খুঁজে পাবে রবের কুদরত-জ্ঞান।

জ্ঞান যদি মানুষ গড়ে, তবেই জ্ঞানের জয়,
জ্ঞান যদি নৈতিক করে, তবেই তার পরিচয়।
জ্ঞান যদি মানুষকে দেয় সত্য ন্যায়ের বোধ,
সেই জ্ঞানই আলোকিত করে জীবন-সমুদয়।

এই পৃথিবী আল্লাহর দান, নিয়ামতে ভরা দেশ,
অপচয় আর ধ্বংস করে কোরো না সর্বনাশ।
পানি বাঁচাও, বৃক্ষ লাগাও, রক্ষা করো প্রাণ,
পরিবেশের যত্ন নেওয়াও দায়িত্বেরই জ্ঞান।

জীবজন্তু আল্লাহর সৃষ্টি, তাদের প্রতি দয়া,
অকারণে কষ্ট দেওয়া মুমিনের নয় মায়া।
সবুজ বাঁচাও, নদী বাঁচাও, নির্মল রাখো ধরা,
সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে চলো সারা।

নিয়ামতের শুকরিয়া শুধু মুখে বলা নয়,
নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারও কৃতজ্ঞতার পরিচয়।
অপচয় ছেড়ে সংযম ধরো, রাখো পরিচ্ছন্নতা,
সৃষ্টির মাঝে ফুটিয়ে তোলো ইসলামের সৌন্দর্যতা।

হে শিক্ষার্থী! জ্ঞান অর্জন করো মনোযোগ দিয়ে,
সময়কে আর নষ্ট কোরো না অলসতায় গিয়ে।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান, পিতা-মাতার মান,
সত্যবাদিতা, পরিশ্রমহোক তোমার প্রাণ।

সহপাঠীর সঙ্গে থেকো সদাচরণ করে,
দুর্বল বন্ধুর পাশে থেকো ভালোবাসা ভরে।
নকল করে নম্বর পাওয়া জ্ঞানের পরিচয় নয়,
সত্য পথে পরিশ্রম করাই সফলতার জয়।

বইয়ের পাতায় জ্ঞান নাও, প্রকৃতিতেও শেখো,
আকাশ দেখে স্রষ্টাকে আর অন্তর দিয়ে দেখো।
পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র গড়ো ভালো,
জ্ঞান আমল মিললে জীবন হবে আলো।

ভোরের পাখি ডাকে যখন, মুমিন জাগে প্রাণে,
রবের নামে দিনটি শুরু হয় পবিত্র টানে।
সালাত দিয়ে হৃদয় ধোয়, কুরআন পড়ে মন,
হালাল পথে কর্ম করে সে কাটায় সারাদিন।

কথায় সত্য, কাজে ন্যায়, হৃদয়ে মমতা,
মানুষেরই উপকার করা তার জীবনের ব্রত।
বিপদ এলে ধৈর্য ধরে, সুখে নয় অহংকার,
সব অবস্থায় রবের ওপর রাখে আস্থার ভার।

রিজিক এলে শুকরিয়া, কষ্ট এলে সবর,
আল্লাহরই ওপর ভরসাএটাই মুমিনের জোর।
রাত নামিলে আত্মসমীক্ষা—“কেমন গেল দিন?”
ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ঘুমায় শান্তিহীন?
নারবের রহমতের আশায় শান্ত হয় তার প্রাণ,
পরের দিনের জন্য নেয় সংশোধনের জ্ঞান।

দুনিয়াকে তুমি ভালোবাসো, তবে ভুলে যেও না,
জীবনই শেষএমন ধারণা কোরো না।
দুনিয়া হলো পরীক্ষাক্ষেত্র, আখিরাত চূড়ান্ত,
আজকের কর্ম আগামীকালের ফলেরই প্রান্ত।

সম্পদ রাখো হাতে, কিন্তু হৃদয়ে নয় তার স্থান,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, রেখো রবের মান।
সৌন্দর্য, যৌবন, খ্যাতিসবই যাবে ক্ষয়ে,
সৎকর্মের সুবাস শুধু থাকবে মৃত্যুর পরে।

যে জীবন রবের জন্য, সে জীবনই ধন্য,
সৎকর্মে যে জীবন ভরে, সে জীবনই পুণ্য।
মৃত্যুর পরে থাকবে শুধু কর্মের পরিচয়,
তাই তো আজই গড়ে নাও আখিরাতের জয়।

প্রতিদিন নিজেকে জিজ্ঞেস—“আমি কেমন আছি?
রবের পথে চলছি কি? নাকি ভুলেই যাচ্ছি?”
আমার কথা সত্য তো? কাজে আছে ন্যায়?
মানুষ আমার হাতে-জবানে নিরাপদ তো হয়?”

পিতা-মাতার হক কি আমি ঠিকভাবে দিই?
শিক্ষকের সম্মান রাখি? গরিবকে কি চাই?”
হালাল পথে উপার্জন কি আমার জীবনের ধন?
নামাজ, কুরআন, জিকির কি জাগায় আমার মন?”

এই প্রশ্নগুলো হৃদয়জুড়ে প্রতিদিনই জাগাও,
ভুল যেখানে, সেখান থেকে ফিরে এসে দাঁড়াও।
আত্মশুদ্ধির এই পথেই মুমিন হয় মহান,
নিজেকে যে জয় করতে পারে, তারই সত্য জয়গান।

সৃষ্টি দেখে স্রষ্টা চেনা জ্ঞানীর বড় গুণ,
কুদরত দেখে ঈমান বাড়ে, অন্তর হয় নির্মল।
আকাশ দেখে বিস্মিত হয়ে বলে—“হে মহান!
তোমার শক্তির তুলনা নেই, তুমি পরম দয়াবান।

পৃথিবীর বুকে হাঁটতে হাঁটতে মনে রাখে রব,
নিজের ক্ষুদ্রতা বুঝে সে হয় বিনয়ী সব।
জ্ঞান তার অহংকার নয়, জ্ঞান তারই আলো,
নিজে চলে সত্যের পথে, মানুষবাসে ভালো।

যে জ্ঞান মানুষকে শেখায় আল্লাহকে স্মরণ,
যে জ্ঞান মানুষকে শেখায় ন্যায় সৎকর্ম,
যে জ্ঞান মানুষের অশ্রু মুছে, বাড়ায় ভালোবাসা
সেই জ্ঞানই সত্য জ্ঞান, সেই জ্ঞানেই আশা।

হে আমাদের রব, তুমি আসমান-জমিনের মালিক,
তোমার কুদরত অপরিসীম, তুমি পরম করুণাময়।
আমাদের অন্তর করো জিকিরে সদা জাগ্রত,
চিন্তাশীল করো আমাদের, ঈমানে করো দৃঢ়।

হে রব! তোমার সৃষ্টি দেখে যেন তোমাকে চিনতে পারি,
তোমার নিয়ামতের শুকরিয়া যেন হৃদয়ভরে করি।
জ্ঞান দাও, সেই জ্ঞান যেন সত্যের পথে রয়,
জ্ঞান দাও, মানুষের সেবায় যার পূর্ণতা হয়।

গুনাহ হলে ক্ষমা করো, তাওবার তাওফিক দাও,
ভুল পথে গেলে ফিরিয়ে এনে সত্যের পথে নাও।
জুলুম থেকে বাঁচিয়ে রেখো, ন্যায়পরায়ণ করো,
হিংসা, অহংকার, মিথ্যা, বিদ্বেষ দূরে সরাও।

জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের রক্ষা করো,
তোমার রহমতের ছায়াতলে আমাদের স্থান দাও।
শেষ সময়ে ঈমান দিও, সুন্দর করো মরণ,
নেককারদের সঙ্গী করে দিও পরম জীবন।

এসো তবে আকাশ দেখি, স্রষ্টাকে স্মরণ করি,
পৃথিবীর প্রতিটি দৃশ্যে তাঁর মহিমা ধরি।
রাতের নীরবতায় জাগি, দিনের কাজে যাই,
সব অবস্থায় রবের পথে চলার শপথ চাই।

এসো জ্ঞান অর্জন করি, অজ্ঞতার আঁধার ভাঙি,
সত্য, ন্যায়, মানবতার দীপ হৃদয়ে জ্বালি।
জ্ঞান হবে বিনয়ের আলো, জ্ঞান হবে সেবার,
জ্ঞান হবে রবের পথে চলার পবিত্র আহ্বানধার।

এসো আমরা জিকির করি, চিন্তা করি গভীর,
আল্লাহরই কুদরত দেখে হই তাঁরই নিকটস্থ।
অনর্থক নয় সৃষ্টি”—এই বিশ্বাস রাখি মনে,
জীবন গড়ি ঈমান দিয়ে, সৎকর্মেরই বনে।

দিন চলে যায়, রাতও যায়, জীবন ফুরায় ধীরে,
মৃত্যু এসে ডাকবে একদিন অচেনা এক তীরে।
তাই আজই প্রস্তুত হও, সময় যে অতি ক্ষণ,
রবের পথে জীবন গড়াই জীবনের অর্জন।

আকাশ, বাতাস, চাঁদ-সূর্য, নদী, পাহাড়, বন
সবই যেন বলে ওঠে—“স্মরণ করো আপন রব।
জ্ঞানীর চোখে কুদরত, মুমিনের মুখে দোয়া,
এই পথেই জীবনের সব কল্যাণ খুঁজে পাওয়া।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো নূরে ভরা,
তোমার স্মরণে রাখো সদা, দূর করো অন্ধকার।
সৃষ্টির নিদর্শন দেখে যেন বাড়ে ঈমান,
তোমার পথে জীবন দিয়ে অর্জন করি সম্মান।

হে রব! গুনাহ ক্ষমা করো, ত্রুটি করো দূর,
সত্যের পথে রাখো আমাদের, করো হৃদয় নূর।
জাহান্নাম থেকে বাঁচাও, দাও জান্নাতের স্থান,
নেককারদের সঙ্গে দিও শেষ জীবনের সম্মান।

আকাশের বুকে তোমার নিদর্শন, ধরায় তোমার দান,
জ্ঞানীর চিন্তা, মুমিনের দোয়াতোমারই জয়গান।
জিকিরে জাগুক অন্তর আমাদের, চিন্তায় হোক আলো,
ঈমান, আমল, নেক চরিত্রে জীবন হোক ভালো।

দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে যেন স্মরণ করি তোমায়,
তোমার রহমত ছাড়া প্রভু কে- বা আমাদের চায়!
তুমি এসব অনর্থক করোনি”—থাকুক হৃদয়জুড়ে,
নেককারদের সঙ্গে রেখো, রহমতেরই নূরে।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ