সহকারী অধ্যাপক
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
তাকওয়ার পুরস্কার—চিরস্থায়ী জান্নাত - মোঃ মুজিবুর রহমান
তাকওয়ার পুরস্কার—চিরস্থায়ী জান্নাত
(আল্লাহভীতির পথে নেক আমল, নেক আমলের শেষে জান্নাত)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
দুনিয়ার এই জীবন ক্ষণিক, ক্ষণিক তার মেলা,
আজকে হাসি, কালকে কান্না—সময়েরই খেলা।
ধন-দৌলত, মান-সম্মান, ক্ষমতা যতই হোক,
মৃত্যু এসে এক নিমিষে মুছে দেবে সব শোক।
কে বা ধনী, কে বা গরিব, কে-বা রাজা-প্রজা,
মৃত্যুর কাছে সবাই সমান—নেই কোনোই ভেদাভেদ।
দুনিয়ার সব অর্জন শেষে হবে যখন ক্ষয়,
আখিরাতের চিরজীবন—সেটিই সত্য জয়।
জীবন যদি অর্থ খোঁজে, খোঁজো রবের দান,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে জীবনের সম্মান।
সফল সে-ই, যার হৃদয়ে তাকওয়ার আলো জ্বলে,
নেক আমলের ফুল ফুটে যায় তার জীবনের তলে।
তাকওয়া মানে শুধু ভয়ের কাঁপন নয় অন্তরে,
তাকওয়া হলো রবকে মনে রাখা প্রতিক্ষণে।
আদেশ তাঁর পালন করা, নিষেধ থেকে দূর,
আল্লাহ দেখেন—এই বিশ্বাসে জীবন হবে নূর।
মানুষ যদি না-ও দেখে, দেখেন তো মহান,
গোপন কথা জানেন তিনি, জানেন অন্তঃপ্রাণ।
অন্ধকারে একা হলেও অন্যায় থেকে সরে,
তাকওয়াবান বান্দা চলে আল্লাহরই ভয়ে।
দুনিয়ার যত আদালত—ফাঁক থাকে তার দ্বার,
রবের ন্যায়বিচারের থেকে নেই পালাবার আর।
গোপন পাপ, প্রকাশ্য পাপ—সবই তাঁরই জ্ঞান,
তাই তো মুমিন সৎপথ ধরে রাখে ঈমান-প্রাণ।
তাকওয়া হলো অন্তরের এক জাগ্রত প্রহরী,
পাপের পথে টানে না সে, করে জীবন ভরি।
লোভ এলে সে বলে, “থামো, রব তো আছেন পাশে,”
অন্যায় এলে মনকে রাখে সত্যেরই আশে।
হে মুমিন, তুমি চলবে রবের বিধান মেনে,
হালাল পথে জীবন গড়ো পবিত্রতা নিয়ে।
হারাম যত দূরে রাখো, শুদ্ধ করো মন,
তাকওয়ারই ছায়ায় গড়ে সুন্দর জীবন।
যারা রবকে ভয় করে আর সৎপথে চলে,
তাদের নেবে জান্নাতপানে দলে দলে বলে।
কুরআনের সে মহাসংবাদ হৃদয় করে ভর—
তাকওয়ার পথের শেষ ঠিকানা জান্নাতেরই ঘর।
দলে দলে তারা যাবে জান্নাতেরই দ্বারে,
নেক আমলের সুবাস থাকবে তাদের অন্তরে।
কেউ সালাতে, কেউ সিয়ামে, কেউ দানে মহীয়ান,
কেউবা সেবায়, কেউবা জ্ঞানে পেল রবের সম্মান।
কেউ পিতামাতার সেবা করে পেল রবের দয়া,
কেউ অসহায় মানুষের পাশে হয়ে দাঁড়াল ছায়া।
কেউ সত্য কথা বলেছে, রাখেনি মিথ্যার লেশ,
কেউ আমানত রক্ষা করে হয়েছে নীতির বেশ।
কেউ গোপনে দান করেছে—জানেন শুধু রব,
কেউবা নিজের রাগ দমিয়ে জিতেছে আপন রব।
কেউ ক্ষমা করেছে অন্যায়, কেউ করেছে উপকার,
নেক আমলের প্রতিটি কণা হারায় না একবার।
কেউ কুরআন পড়ে কাঁদে রাতে নির্জন ঘরে বসে,
কেউবা রবকে স্মরণ করে ব্যস্ততারই শেষে।
কেউ বিপদে সবর ধরে, ভাঙে না তার মন,
তাদের জন্য অপেক্ষমাণ চিরসুখের বন।
যখন তারা পৌঁছবে গিয়ে জান্নাতের দ্বারে,
খুলবে তখন রহমতেরই দরজা অপরূপ করে।
ফেরেশতারা সালাম দিয়ে বলবে মধুর বাণী—
“তোমাদের প্রতি সালাম; তোমরা ছিলে গুণী।”
“তোমরা ভালো ছিলে”—কী অপূর্ব সে বাণী,
জীবনভর সাধনার যেন মিলল আজ স্বীকৃতি।
দুনিয়াতে মানুষ হয়তো করেনি তার মান,
রবের কাছে অমূল্য ছিল বান্দার সৎকর্ম-প্রাণ।
সত্য পথে চলতে গিয়ে পেয়েছ যদি কষ্ট,
আল্লাহর কাছে হারায়নি তোমার কোনো অশ্রু।
মানুষ যদি অবহেলা করে তোমার ভালো কাজ,
রবের কাছে লেখা থাকে প্রতিটি নেক সাজ।
যে রাতে তুমি কেঁদেছিলে রবের ভয়ে একা,
যে দান তুমি গোপন রেখেছ, কেউ রাখেনি দেখা,
যে পাপ তুমি ছেড়ে দিলে রবকে ভালোবেসে—
সবই তখন ফল দেবে সেই জান্নাতের দেশে।
“স্থায়ীভাবে প্রবেশ করো”—ফেরেশতার বাণী,
নেই সেখানে মৃত্যু কোনো, নেই দুঃখের কাহিনি।
নেই বার্ধক্য, নেই অসুখ, নেই কোনো ভয়,
নেই বিচ্ছেদ, নেই অশ্রুধারা, নেই কোনো ক্ষয়।
দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকেরই, সুখের পরে দুঃখ,
আজকে যার প্রাসাদ আছে, কালকে তার শূন্য বুক।
আজকে যার যৌবন আছে, কালকে আসে বার্ধক্য,
আজকে যার জীবন আছে, কালকে আসে মৃত্যুর ডাক।
কিন্তু জান্নাত চিরস্থায়ী—শেষ হবে না সুখ,
নেই সেখানে ক্লান্তি কোনো, নেই কোনো দুঃখ।
শান্তির সাগর বইবে সেথা, আনন্দ হবে নূর,
চিরদিনই থাকবে সুখ—হবে না কখনো দূর।
দুনিয়ার ঘর ভেঙে যায়, সম্পদ হয় ক্ষয়,
জান্নাতের সেই চিরআবাসে নেই কোনো বিনাশময়।
যে ঘরে মৃত্যু প্রবেশ করে, সে ঘর দুনিয়ার,
জান্নাত হলো অনন্ত ঘর—রহমত অপরিসীম তাঁর।
জান্নাতে গিয়ে মুমিন বলবে—“আলহামদুলিল্লাহ”,
সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য—তিনি দয়াময় মহান।
বলবে না সে, “আমার শক্তি জান্নাত এনে দিল”,
বলবে, “রবের দয়ায় আমার জীবন সফল হলো।”
ঈমান পাওয়া তাঁরই দয়া, আমল করার শক্তি,
পাপ থেকে দূরে থাকার তাওফিক তাঁরই ভক্তি।
সৎপথে যে চলতে পেরেছি, তাঁরই অনুগ্রহ,
তাঁর রহমত ছাড়া কোথায় আমার কোনো যোগ্যতা?
যে রব দিলেন চোখের আলো, দিলেন শ্বাসের দান,
দিলেন খাদ্য, দিলেন পানি, দিলেন জীবন-প্রাণ,
তাঁরই নামে শুরু হোক জীবনের প্রতিটি ক্ষণ,
তাঁরই শোকর আদায় করে পূর্ণ হোক জীবন।
আল্লাহ বলেছেন—তাঁর ওয়াদা কখনো মিথ্যা নয়,
রবের প্রতিশ্রুত সত্য বাণী চিরঅটল রয়।
মানুষ কথা দিয়ে ভুলে যেতে পারে কখনো,
আল্লাহর কথা সত্য—ভুল হয় না তাঁর কোনো।
বিপদ এলে ভেঙো না মন, রেখো রবের আশা,
অন্ধকারের পরেই আসে আলোর মধুর ভাষা।
কষ্ট যতই ঘিরে ধরুক, থেকো তাঁরই সাথে,
আল্লাহর ওয়াদা সত্য—সফল হবে শেষে।
যে হৃদয়ে রবের ওপর থাকে পূর্ণ ভরসা,
ঝড়ের মাঝেও সে তো খোঁজে রহমতেরই আশা।
পথ যদি হয় দুর্গম, তবু থামবে না তার পা,
তাওয়াক্কুলে এগিয়ে যাবে—রবই তার ভরসা।
এই দুনিয়া পরীক্ষাগার—স্থায়ী সুখের ঘর নয়,
এখানে হাসি, এখানে কান্না, সুখের পাশে ভয়।
কখনো আসে দুঃখ-কষ্ট, কখনো আসে সুখ,
কখনো শোকের কালো মেঘে ভারী হয় যে বুক।
কেউ হারায় আপনজনকে, কেউ হারায় ধন,
কেউবা পায় অবহেলা, কেউবা পায় ক্ষণিক মান।
কেউ বিপদের ভারে কাঁদে নিরালায় বসে,
কেউবা দুঃখ বুকে নিয়ে রবের কাছে আসে।
মুমিন তখন বলে—“হে রব, তুমি আছো পাশে,
তোমার হুকুম মেনে নেব সব সুখ-দুঃখ হাসে।”
বিপদে সে সবর করে, নেয় না অন্যায় পথ,
রবের ওপর ভরসা রেখে কাটায় কঠিন ক্ষণ।
যে কষ্ট তাকে রবের কাছে আরও কাছে আনে,
সে কষ্টও রহমত হয়ে ফুটতে পারে প্রাণে।
যে দুঃখে পাপ ছেড়ে সে তওবার পথে ফেরে,
সে দুঃখও সোপান হয় জান্নাতেরই ঘরে।
নেক আমল শুধু নয় যে ইবাদতের নাম,
আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে আছে নেকির ধাম।
সালাত পড়া, রোজা রাখা, কুরআন তিলাওয়াত,
সদকা দেওয়া, জিকির করা—সবই পুণ্যের পথ।
পিতা-মাতার সেবা করাও মহৎ এক আমল,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহরই ফল।
ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে জল,
মানুষের উপকার করা—নেক আমলের ফল।
সত্য বলা, আমানত রাখা, ওয়াদা করা পালন,
অন্যের হক ফিরিয়ে দেওয়া—মুমিনেরই লক্ষণ।
কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, ক্ষমা করা ভুল,
এসব দিয়ে সুন্দর হয় জীবনেরই ফুল।
জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিতরণ—মহৎ কাজের দান,
সত্য জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে জাগাও মানুষের প্রাণ।
শিক্ষক যদি নিষ্ঠা রাখে, ছাত্র যদি শেখে,
জ্ঞান ও আমল পাশাপাশি সমাজকে রাখে দেখে।
ইবাদতের সাথে চাই সুন্দর চরিত্র-মন,
সুন্দর কথা, সুন্দর আচরণ—মুমিনের ভূষণ।
মুখে যদি কুরআন থাকে, কাজে যদি ছল,
তবে কীভাবে ফুটবে বলো ইসলামেরই ফল?
নামাজ পড়ে অন্যকে ঠকানো ভালো নয়,
রোজা রেখে মানুষের হক নষ্ট করা নয়।
দান করে যদি অহংকারে ভরে ওঠে প্রাণ,
তবে সে দানের ভেতর কোথায় থাকবে দান?
মুমিন হবে কোমল হৃদয়, সত্য হবে মুখ,
তার আচরণে শান্তি পাবে দুঃখী মানুষের বুক।
গিবত, মিথ্যা, হিংসা, বিদ্বেষ দূরে রাখবে সে,
ক্ষমা, দয়া, ভালোবাসা ছড়াবে চারপাশে।
আত্মীয়তার বন্ধন রাখে, প্রতিবেশীর হক,
এতিম দেখে মায়া জাগে, মুছে দেয় তার শোক।
অন্যায়ের সামনে সত্য বলার রাখে সাহস,
ন্যায়ের পথে অবিচল সে—এটাই তার বিশ্বাস।
পিতা-মাতা জীবনে যেন রহমতেরই ছায়া,
তাঁদের সেবা করলে মেলে রবের বিশেষ দয়া।
তাঁদের মুখে হাসি ফুটাও, রেখো না আর কষ্ট,
তাঁদের দোয়া জীবনেরই অমূল্য এক সম্পদ।
বৃদ্ধ হলে অবহেলা নয়, দাও সেবার হাত,
তাঁদের প্রতি কোমল থেকো সকাল, দুপুর, রাত।
নিজের সুখের আগে ভাবো তাঁদের প্রয়োজন,
সেবার মাঝে খুঁজে নাও জান্নাতেরই সন্ধান।
মুসলিম ভাইয়ের জান-মাল-সম্মান রেখো মান,
অন্যের অধিকার নষ্ট করে কেমন ঈমান?
প্রতারণা আর জুলুম থেকে নিজেকে রাখো দূর,
মানুষেরই নিরাপত্তায় ফুটুক ইসলামের নূর।
কারও সম্পদ অন্যায় করে কেড়ে নিও না,
কারও সম্মান মাটির সাথে মিশিয়ে দিও না।
কথার আঘাত অনেক সময় তলোয়ারেরই সম,
তাই যবানে সত্য রাখো, রাখো মধুর মরম।
হালাল পথে রুজি খোঁজো, হারাম পথে নয়,
অল্প হলেও হালাল রুজি বরকত বয়ে রয়।
মাপে কম দিও না কখনো, করো না প্রতারণা,
অন্যের ঘাম-ঝরা সম্পদ নিও না কৌশলে।
ব্যবসায়ী যদি তাকওয়াবান, সত্য হবে মাপ,
ক্রেতার সাথে সৎ আচরণ—এটাই নেকির চাপ।
কর্মচারী দায়িত্বশীল, কর্মকর্তা সৎ,
তাকওয়ার আলোয় সমাজ হবে সুন্দর ও উন্নত।
তাকওয়াবান শিক্ষক হলে জ্ঞান হবে নূর,
শিক্ষার্থীর হৃদয় থেকে অজ্ঞতার রাত হবে দূর।
শিক্ষা দিয়ে শুধু নয় যে পরীক্ষার ফল,
চরিত্র গড়ে তুলতে হবে—তবেই শিক্ষা সফল।
শিক্ষক হবেন আদর্শ, ছাত্র শিখবে দেখে,
সত্য, ন্যায় ও শিষ্টাচার রাখবে হৃদয় রেখে।
জ্ঞান যদি আমল না আনে, অসম্পূর্ণ জ্ঞান,
জ্ঞান ও আমল মিললেই সুন্দর হয় প্রাণ।
হে শিক্ষার্থী, জ্ঞান অর্জন করো মনপ্রাণ দিয়ে,
সময়ের মূল্য বুঝে চলো আলোর পথে গিয়ে।
পুস্তকের জ্ঞান হৃদয় দিয়ে জীবনে করো স্থান,
সত্য জ্ঞানই মানুষ গড়ে, বাড়ায় মর্যাদা-মান।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখো, পিতা-মাতার মান,
অহংকারকে দূরে রেখে হও বিনয়ী প্রাণ।
জ্ঞান অর্জন যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে,
সে জ্ঞান একদিন তোমাকে জান্নাতের পথে ধরে।
কিছু আমল এমন রাখো—জানবে শুধু রব,
মানুষ জানুক বা না জানুক, তাতে কী-ই বা সব?
রাতের শেষে দু’হাত তুলে কাঁদো রবের কাছে,
লোকদেখানো নয়, হৃদয়ের ভালোবাসা আছে।
গোপনে যদি দান করো, ডান হাত জানে না,
প্রশংসারই আশায় কোনো সৎকাজ তুমি কোরো না।
রিয়া থেকে বাঁচাও হৃদয়, শুদ্ধ করো মন,
আল্লাহর জন্য কাজ করাই মুমিনের পণ।
মানুষ মাত্রই ভুল করে, পাপ হতে পারে,
তাই বলে কি রবের রহমত বন্ধ হবে দ্বারে?
ভুল বুঝে যে ফিরে আসে অশ্রুসিক্ত নয়নে,
রবের রহমত তাকে টানে ভালোবাসার সনে।
পাপ হলে আর দেরি নয়—তওবা করো আজ,
ভাঙা হৃদয় নিয়ে বলো—“রব, মাফ করো আজ।”
পাপের পথে ফিরব না আর—এই হোক অঙ্গীকার,
তওবার জলে ধুয়ে যাক অন্তরের অন্ধকার।
নিরাশ হয়ে বসে থেকো না, রহমত অসীম তাঁর,
ফিরে এলে বান্দার প্রতি দয়ার শেষ নেই আর।
যে হৃদয় তওবায় নরম, সে হৃদয়ই ধন্য,
রবের পথে ফিরে আসাই জীবনের সেরা পুণ্য।
বিপদে বলো—“সবর করব, রব আছেন আমার,”
সুখে বলো—“শোকর করি, এ দান প্রভুর।”
দুঃখে যদি ধৈর্য ধরো, নেকি হবে তাতে,
সুখে যদি কৃতজ্ঞ হও, বরকত আসবে তাতে।
সবর হলো মুমিনের এক অমূল্য ঢাল,
শোকর হলো নিয়ামতেরই সুন্দর রক্ষাকবচ।
দুই ডানায় ভর করে সে চলে রবের পথে,
আশার আলো জ্বেলে রাখে হৃদয়েরই সাথে।
আজই নিজেকে প্রশ্ন করো—কেমন আমার পথ?
আমার আমল কেমন হলো? পাপের কত ক্ষত?
সালাত কি ঠিক সময়ে হয়? কুরআন কি পড়ি?
রবের বিধান মেনে চলি? পাপ থেকে কি ফিরি?
পিতা-মাতার হক কি দিই? মানুষের হক রাখি?
মিথ্যা, গিবত, হিংসা ছেড়ে সত্যের পথে থাকি?
হারাম থেকে বাঁচি কি আমি? হালাল পথে চলি?
অসহায়ের পাশে গিয়ে দুঃখ কি তার ভুলি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে শুদ্ধ করো প্রাণ,
আজকের ভুল সংশোধনই আগামী দিনের মান।
মৃত্যু আসার আগে আগে প্রস্তুতি নাও ভাই,
মৃত্যুর পরে ফিরে এসে সংশোধনের পথ নাই।
জান্নাত শুধু স্বপ্ন নয়—প্রস্তুতিরই নাম,
নেক আমলের সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছতে হবে ধাম।
আল্লাহর রহমত চাইতে হবে বিনয়ী হয়ে,
সৎপথে চলতে হবে সব প্রলোভন জয় করে।
কেউ যদি বলে—“তোমার কষ্ট বৃথা গেছে সব”,
মুমিন বলবে—“আমার কর্ম দেখেন আমার রব।”
কেউ যদি তার ভালো কাজের না-ই করে মান,
রবের কাছে অমূল্য তার প্রতিটি দান।
তাকওয়াবান শিক্ষক হলে শিক্ষা হবে মহান,
তাকওয়াবান ছাত্র হলে উজ্জ্বল হবে প্রাণ।
তাকওয়াবান ব্যবসায়ী হলে থাকবে না প্রতারণা,
তাকওয়াবান কর্মী হলে থাকবে না অবহেলা।
তাকওয়াবান কর্মকর্তা ঘুষ নেবে না আর,
তাকওয়াবান বিচারক রাখবে ন্যায়েরই ভার।
তাকওয়াবান সন্তান হবে পিতা-মাতার ধন,
তাকওয়াবান প্রতিবেশী হবে সবার আপনজন।
একজনের তাকওয়া গড়ে পরিবারেরই মান,
পরিবারের তাকওয়া গড়ে সমাজের কল্যাণ।
সমাজ যখন তাকওয়ায় ভরে, ন্যায় পায় অধিকার,
সেই সমাজে শান্তি নামে, কমে অন্যায়-অন্ধকার।
দুনিয়ার এই চাকচিক্য দেখে ভুলে যেও না প্রাণ,
এখানে কেউ চিরদিনের নয়—সবাই ক্ষণিক অতিথি।
প্রাসাদ, অট্টালিকা, সম্পদ, খ্যাতির ঢেউ,
মৃত্যুর পরে সঙ্গে যাবে না—কিছুই নেবে না কেউ।
কবর হবে একদিন সবার একাকী ঠিকানা,
সেখানে ধন-সম্পদের কোনো মূল্য থাকবে না।
সঙ্গে যাবে ঈমান শুধু, সঙ্গে যাবে আমল,
সঙ্গে যাবে সত্য জীবন, সৎকর্মেরই ফল।
তাই দুনিয়াকে ব্যবহার করো আখিরাতের তরে,
নফসকে তুমি বাঁধো রবের বিধানেরই ডোরে।
দুনিয়া হবে ক্ষেত্র তোমার, আখিরাত তার ফল,
আজকে বপন করো নেকি—কালকে পাবে ফল।
জান্নাত চাই—তবে আগে রবের সন্তুষ্টি চাই,
তাঁর ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো চাওয়া নাই।
যে রব আমার জীবন দিলেন, দিলেন রিজিক-প্রাণ,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই শ্রেষ্ঠ সম্মান।
জান্নাতের সব নিয়ামত যদি সামনে আসে ঢের,
রবের সন্তুষ্টি ছাড়া মুমিন তবু থাকবে না ফের।
কারণ রবের নৈকট্য হলো হৃদয়ের পরম ধন,
তাঁর সন্তুষ্টিতেই পূর্ণ হয় মুমিনের জীবন।
হে আল্লাহ, আমাদের তুমি তাকওয়া দাও মনে,
নেক আমলের তাওফিক দাও প্রতিটি ক্ষণে।
সত্য পথে অবিচল রাখো, দূর করো সব পাপ,
তোমার ভয়ে নরম করো হৃদয়ের কঠিন চাপ।
সালাতকে করো প্রিয়, কুরআনকে করো সাথি,
তোমার জিকিরে ভরে উঠুক আমাদের দিন-রাতই।
হালাল পথে রুজি দাও, হারাম থেকে বাঁচাও,
অহংকার আর হিংসা-মিথ্যা হৃদয় থেকে মুছে দাও।
পিতা-মাতার খেদমতের শক্তি দাও প্রাণে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দাও দানে।
মানুষের হক আদায় করি, ন্যায়পথে চলি,
সত্য, দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসায় জীবন ভরি।
বিপদে যেন সবর করি, সুখে করি শোকর,
তোমার ওপর ভরসা রেখে পারি জীবনের পথ।
পাপ হলে যেন তওবা করি অশ্রুভেজা নয়নে,
তোমার রহমত চাই যেন প্রতিটি ক্ষণে।
হে দয়াময়, মৃত্যুর আগে ঈমান রেখো অটুট,
শেষ নিঃশ্বাসে যেন থাকে কালিমারই সুর।
কবরের আঁধার দূর করো, দাও নূরের আলো,
হাশরের কঠিন দিনে করো আমাদের ভালো।
মিজানের পাল্লায় ভারী করো নেক আমলের ধন,
সিরাতের পথে সহজ করো আমাদের গমন।
জাহান্নামের আগুন থেকে রাখো আমাদের দূর,
তোমার রহমতের ছায়ায় ভরিয়ে দাও অন্তর-নূর।
যেদিন খুলবে জান্নাতের সেই মহিমাময় দ্বার,
ফেরেশতারা সালাম দেবে—মুছে যাবে সব ভার।
সেদিন যেন শুনি আমরাও সেই মধুর বাণী—
“তোমাদের প্রতি সালাম—তোমরা ছিলে গুণী।”
সেদিন যেন বলতে পারি কৃতজ্ঞ হৃদয় ভরে—
“আলহামদুলিল্লাহ”—এসেছি তোমারই রহমত ধরে।
তোমার ওয়াদা সত্য হলো, পূর্ণ হলো আশা,
শেষ হলো দুঃখ-কষ্ট, শেষ হলো নিরাশা।
চিরস্থায়ী জান্নাত দাও, দাও ফিরদাউসের স্থান,
নেককারদের সঙ্গ দাও, দাও ঈমানের সম্মান।
তোমার সন্তুষ্টি হোক আমাদের জীবনের ধন,
তোমার নৈকট্য হোক আমাদের পরম আপনজন।
তাকওয়া হোক জীবনের ঢাল, ঈমান হোক আলো,
নেক আমলে ফুটুক জীবন, চরিত্র হোক ভালো।
সত্য হোক আমাদের ভাষা, ন্যায় হোক পথের দিশা,
রবের প্রেমে ভরে উঠুক হৃদয়ের প্রতিটি নিশা।
দুনিয়ার মোহ ভুলে গিয়ে আখিরাতকে চাই,
নেক আমলের পথে চলি—অন্য কোনো পথ নাই।
ক্ষণিক দুনিয়া পেরিয়ে শেষে অনন্ত সুখের ধাম—
আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাত—এই হোক জীবনের কাম।
তাকওয়া হোক জীবনের ঢাল, নেক আমল পাথেয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের মহাশ্রেয়।
জান্নাত হোক চূড়ান্ত আশা, রব হোন অন্তরজুড়ে—
চিরস্থায়ী সুখের দেশে মিলন হোক তাঁরই নূরে।
হে আল্লাহ! আমাদের কবুল করো,
তোমার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো,
তাকওয়া দাও, নেক আমল দাও,
তোমার সন্তুষ্টি দাও,
আর জান্নাতুল ফিরদাউসে আমাদের স্থান দাও।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
৪
৪ মন্তব্য