Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃত প্রাচুর্য - মোঃ মুজিবুর রহমান

প্রকৃত প্রাচুর্য

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

ধন-দৌলত যতই থাকুক, মন যদি না ভরে,
শূন্য হৃদয় কাঁদতে থাকে প্রাসাদঘেরা ঘরে।
সোনা-রূপা, অট্টালিকা, যতই থাকুক পাশে,
শান্তি যদি না থাকে মনেসুখ কি তাতে আসে?

প্রকৃত ধনী সে- মানুষ, তৃপ্ত যার প্রাণ,
অল্প পেয়ে শুকরিয়া তার, আল্লাহরই দান।
মনের মাঝে লোভ না রেখে সন্তুষ্টির আলো,
এই তো ধন, এই তো সুখ, এই তো জীবন ভালো।

মনের প্রাচুর্য আসল ধনহাদিস দেয় যে বাণী,
তৃপ্ত হৃদয় সত্যিকারের সম্পদে মহারানি।
ধন নয় শুধু সিন্দুকভরা, ধন নয় শুধু ঘর,
আল্লাহভীরু তৃপ্ত হৃদয়ধনভাণ্ডারের পর।

আল্লাহ যেটুকু দিয়েছেন, শুকরিয়া দাও তাই,
অন্যের সুখ দেখে যেন হিংসায় জ্বলে যেও না ভাই।
কার ভাগ্যে কী রেখেছেন, তিনিই ভালো জানেন,
তাঁর হুকুমে জীবন চলে, জ্ঞানী তা- মানে।

চেষ্টা করবে হালাল পথে, পরিশ্রমে রবে,
ফল না এলে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়বে কবে?
রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, রবের ওপর ভরসা,
তাঁর দেওয়া প্রতিটি দানে খুঁজে নাও ভালোবাসা।

যে সন্তুষ্ট রবের দানে, সেই তো সত্য ধনী,
অল্প তার ঘর হলেও সে অন্তরে মহারথী।
বিলাসিতার পাহাড় গড়েও লোভ যদি না যায়,
সে কি ধনী? অন্তর তার দারিদ্র্যেরই ছায়া পায়।

নিজের ঘরে রান্না হলো সুস্বাদু কত খাবার,
পাশের ঘরে ক্ষুধার কান্নাশুনবে না কি এবার?
নিজে যদি পেট ভরে খাও, প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত,
কেমন করে মুমিন বলো? কোথায় ঈমানের অর্থ?

সে মুমিন নয়”—সতর্কবাণী হৃদয়ে রেখো ভাই,
নিজে খেয়ে পাশের মানুষ না খেয়ে যেন না রয়।
ভালোবাসা, সহমর্মিতা ঈমানেরই দান,
ক্ষুধার্তের মুখে হাসি ফোটানো মহৎ মানবিক গান।

প্রতিবেশী শুধু পাশের ঘর কথা নয় মোটে,
মানুষ থাকে চারপাশ জুড়ে নানা রকম জোটে।
বৃদ্ধ, শিশু, দরিদ্র, অসহায়যে- থাকুক পাশে,
মানবতার হাত বাড়িয়ে দাও ভালোবাসার আশে।

কারও ঘরে নেই যে চাল, কারও ঘরে নেই যে ভাত,
কারও শিশুর চোখে জাগে ক্ষুধার দীর্ঘ রাত।
তুমি যদি সামান্য দাও, মুছে তারই ক্ষুধা,
সেই দানের মাঝে ফুটবে রহমতেরই সুদা।

তোমার হাতে অল্প যদিতবু দাও কিছু ভাগ,
ভালোবাসার সামান্য দান দূর করে কত দাগ।
একটি রুটি, এক গ্লাস পানি, একটুখানি হাসি,
মানুষেরই দুঃখ মোচন তো ঈমানেরই খুশি।

সোনা দিয়ে কেনা যায় কি অন্তরের প্রশান্তি?
রাজপ্রাসাদ দিতে পারে কি দুঃখহীন শান্তি?
বিপুল ধনের মালিক হয়েও যদি থাকে ভয়,
তবে তার সে প্রাচুর্যেরই বা কী পরিচয়?

মনের মাঝে যদি থাকে আল্লাহরই স্মরণ,
তবে অল্পেও ফুটে ওঠে শান্তির নন্দন।
শুকরিয়ারই ফুল ফুটে যায় মুমিনের অন্তরে,
তৃপ্তির মধু ঝরে তখন জীবনভরা ঘরে।

লোভের আগুন নিভিয়ে দাও, সংযমের পথ ধরো,
অন্যের ধন দেখে কেন নিজের মনটা ভরো?
আল্লাহ তোমার জন্য যা রেখেছেন, তা- যথেষ্ট,
তাঁর ওপর ভরসা রাখলে হৃদয় হবে প্রশস্ত।

অন্যের সুখে খুশি হও আর দুঃখে হও ব্যথিত,
এভাবেই তো মানুষ হয় সত্যিকার অর্থে মহৎ
নিজের সুখের অংশ দিয়ে দাও অসহায়ের তরে,
তখন দেখবে সুখের নদী বইছে অন্তরে।

দুনিয়ার এই জীবন যেন ক্ষণিকেরই মেলা,
আজকে সকাল, কালকে সন্ধ্যাশেষ হয়ে যায় খেলা।
যে যৌবন আজ শক্তিতে ভরা, কাল সে হবে ক্ষীণ,
যে দেহ আজ সুস্থ-সবল, একদিন হবে বিলীন।

অট্টালিকা, ধন-সম্পদ, জমি কিংবা ঘর,
সবই রয়ে যাবে পিছেযেতে হবে পর।
কবরের সেই নীরব রাতে সঙ্গে যাবে কী?
ঈমান আর নেক আমলআর তো কিছুই নেই।

যার লক্ষ্য হয় পরকাল, রব দেন অন্তর-ধন,
দুনিয়ার মোহ কমে গিয়ে শান্ত হয় তার মন।
আখিরাতের আশায় সে যে নেক আমলে রয়,
আল্লাহরই রহমতে তার অন্তর ধনী হয়।

সকাল থেকে রাত অবধি শুধু দুনিয়ার চিন্তা,
কোথায় টাকা, কোথায় বাড়িশেষ হয় না দুশ্চিন্তা।
একবার ভেবে দেখো মানুষ, জীবন যাবে শেষ,
পরকালের পথের জন্য কী নিয়েছ অবশেষ?

হালাল পথে উপার্জন করো, দাও গরিবের হক,
সত্য কথা বলো সদা, মুছে ফেলো মিথ্যার দাগ।
পিতা-মাতার সেবা করো, আত্মীয়কে ভালোবাসো,
প্রতিবেশীর দুঃখ দেখে সাহায্যের হাত বাড়াও।

জান্নাত যেন শান্তির বাগান, অনন্ত সুখের ঘর,
নেই সেখানে দুঃখ-কষ্ট, নেই কোনো ভয়-জ্বর।
নেই সেখানে মৃত্যু এসে কেড়ে নেবে প্রাণ,
চিরস্থায়ী শান্তি সেথারহমতেরই দান।

জান্নাতের সেই সুন্দর স্বপ্ন জাগুক মুমিন প্রাণে,
নেক আমলের দীপ জ্বালো প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে।
সালাত হোক জীবনের সাথি, কুরআন হোক আলো,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলো, জীবন হবে ভালো।

জান্নাত পেতে চাইলে শুধু মুখে বললে হবে?
নেক আমলের পথে তোমায় দৃঢ় হয়ে তো রবে।
লোভ-হিংসা, মিথ্যা-প্রতারণা দূরে সরিয়ে দাও,
আল্লাহরই সন্তুষ্টির পথে জীবনটাকে সাজাও।

রাতের নীরব আকাশ তলে যখন সবাই ঘুমায়,
মুমিন তখন রবের কাছে অশ্রু নিয়ে যায়।
হে আল্লাহ, দাও জান্নাত”—প্রার্থনা তার প্রাণে,
জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো”—কাঁদে নির্জনখানে।

জাহান্নামের ভয়াবহতা কল্পনাতেও কঠিন,
তার শাস্তির কথা স্মরণে কাঁপে মুমিনের দিন।
যে আগুনের কথা শুনে অন্তর হয় ভীত,
সেই ভয় যেন রাখে মানুষ পাপ থেকে বিরত।

দুনিয়ার ক্ষণিক আনন্দ পেতে পাপের পথে যেও না,
হারাম সুখের মোহে পড়ে নিজের সর্বনাশ কোরো না।
আজকে যে গুনাহ মধুর, কাল তা হবে ভার,
আখিরাতে প্রতিটি কাজ হবে হিসাবের পার।

জান্নাতের আশা রাখো মনে, জাহান্নামকে ভয়,
এই দুইয়ের ভারসাম্যেই মুমিন জীবনময়।
রহমতের আশায় নেক কাজ, শাস্তির ভয়ে বিরত,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে ঈমানি চরিত্র।

চোখের গুনাহ থেকে বাঁচো, জিহ্বাকে রাখো শুদ্ধ,
অন্যের প্রতি অন্যায় কোরো নাহৃদয় রাখো বিশুদ্ধ।
কারও হক নষ্ট কোরো না, কোরো না কারও ক্ষতি,
ন্যায়ের পথে জীবন গড়োএতেই মুমিনের গতি।

ধর্ম শেখায় মানুষ হতে, ভালোবাসতে প্রাণ,
অসহায়ের মুখে হাসিএটাই মহৎ দান।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, তৃষ্ণার্তকে পানি,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে হও মানবতার বাণী।

যে হাত কেবল নিজের জন্য সম্পদ ধরে রাখে,
সে হাত যেন মানুষেরই দুঃখ ভুলে না থাকে।
একটু দয়া, একটু মায়া, একটু সহানুভূতি,
এই তো গড়ে সুন্দর সমাজ, আনে হৃদয়জুড়ি।

জাতি-ধর্মের ভেদ ভুলে নয়নিজ নিজ ধর্ম মেনে,
মানবতারই সেতু গড়ো ভালোবাসা দিয়ে।
অন্যের অধিকার মানো, সম্মান করো সবাই,
ন্যায় সত্যের পথেই যেন জীবন চলে ভাই।

ঘৃণার দেয়াল ভেঙে দাও, হিংসা করো ক্ষয়,
ভালোবাসার আলো জ্বেলে মানবতার জয়।
একজন যদি আরেকজনের দুঃখ বুঝে নেয়,
তবে পৃথিবী শান্ত হবে, অশ্রু শুকিয়ে যায়।

আল্লাহ যদি সম্পদ দেন, করো না অহংকার,
সম্পদ হলো আমানতমনে রেখো বারবার।
নিজের প্রয়োজন পূরণ করো, পরিবারকে দাও,
অসহায়ের অধিকারটুকু ভুলে যেও না ভাই।

সম্পদ যদি হয় তোমার, গরিবেরও হক আছে,
যাকাত-সদকার শিক্ষা তাই ইসলামের মাঝে।
যে সম্পদে অন্যের মুখে হাসির আলো ফোটে,
সে সম্পদই বরকত হয়ে ফিরে আসে ঘরে।

ধন জমিয়ে লাভ কী বলো, যদি মন হয় শূন্য?
দান করলে কমে না ধনবরং জীবন হয় পূর্ণ।
অভাবীর চোখের জল মুছে যে মানুষ দেয় হাত,
তার জন্যই আল্লাহ রাখেন রহমতের প্রভাত।

যা পেয়েছ, তার জন্য বলো—“আলহামদুলিল্লাহ,
যা পাওনি, তার জন্যও রাখো রবের ওপর ভরসা।
মানুষ সবকিছু পাবেএমন তো কথা নয়,
কিছু পাওয়া, কিছু না পাওয়াজীবনেরই পরিচয়।

আজকে যদি কষ্ট আসে, কালকে আসতে পারে সুখ,
রবের ওপর ভরসা রাখো, মুছে যাবে সব দুঃখ।
পরীক্ষা আসে মানুষেরই ঈমান যাচাই করতে,
সবর ধরো, সালাত ধরো, রবকে ডাকো অন্তরেতে।

তাকদিরেরই ফয়সালাতে সন্তুষ্ট যে প্রাণ,
তার হৃদয়ে জেগে থাকে প্রশান্তিরই গান।
দুনিয়ার ঝড় এলেও সে ভেঙে পড়ে না আর,
রবের ওপর ভরসা রেখে পাড়ি দেয় সংসার।

ধন চাই, তবে হালাল ধন; মন চাই, তবে পবিত্র,
জীবন চাই আল্লাহমুখী, চরিত্র চাই সুন্দর।
প্রতিবেশীর দুঃখ বুঝি, ক্ষুধার্তকে দিই ভাত,
অসহায়ের অশ্রু মুছে গড়ি ভালোবাসার রাত।

মনের ধনে ধনী হব, লোভের ধনে নয়,
সন্তুষ্টির দীপ জ্বালিয়ে দূর করব ভয়।
পরকালকে লক্ষ্য করে চলব নেক আমলে,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি চাই জীবনের প্রতিটি ফলে।

জান্নাত হবে আশা আমার, জাহান্নাম হবে ভয়,
এই দুইয়ের মাঝখানে হোক ঈমানেরই জয়।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক পথে সত্যের প্রদীপ জ্বালি,
রবের প্রেমে জীবন গড়িএই হোক সাধনখানি।

যেদিন হবে শেষ সফর, থেমে যাবে প্রাণ,
সঙ্গে যাবে না ধনরত্ন, যাবে শুধু আমল-দান।
সেদিন যেন রবের কাছে বলতে পারি হাসি
হে আমার রব, তোমার পথে জীবন করেছি খাঁটি।

হে আল্লাহ, দাও অন্তরে সত্যিকারের ধন,
দাও তৃপ্তি, দাও তাকওয়া, পবিত্র করো মন।
ক্ষুধার্তের পাশে দাঁড়াবার শক্তি দাও আমায়,
প্রতিবেশীর হক আদায়ের তাওফিক দাও সদায়।

দুনিয়ার মোহ থেকে হে রব, আমাদের রাখো দূরে,
জান্নাতেরই পথ দেখাও আলো দিয়ে ভুবনে।
জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো প্রাণ,
তোমার রহমতে পূর্ণ হোক মুমিনের জীবন-গান।

প্রকৃত ধন তৃপ্ত হৃদয়, প্রকৃত সুখ ঈমান,
মানবসেবায় ফুটুক জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।
জান্নাত হোক শেষ ঠিকানা, রবের সন্তুষ্টি ধন
এই হোক মুমিন জীবনের চূড়ান্ত অর্জন।

***

প্রকৃত প্রাচুর্য পরকালের সফলতা

 

ধন-দৌলত, বাড়ি-গাড়ি, সোনার অঢেল ভার,

এসব দিয়ে হয় না মানুষ সত্যিকারের ধনীর পার।

প্রাসাদ জুড়ে সুখের ছবি, ভাণ্ডার ভরা ধন,

তৃপ্তি যদি না থাকে মনেশূন্য থাকে মন।

 

প্রকৃত ধনী সে- মানুষ, তৃপ্ত যার প্রাণ,

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতে খুঁজে পায় সম্মান।

অল্প পেয়ে শুকরিয়া যে আদায় করে সদা,

তার হৃদয়ে শান্তির সুর, দূর হয় মনের ক্ষুধা।

প্রাচুর্য মানে শুধু নয় যে অর্থ-বিত্তের ঢল,

মনের মাঝে তৃপ্তি থাকাই প্রাচুর্যের মূল।

যার অন্তরে ঈমান জাগে, আল্লাহ যার ধ্যান,

সত্য পথে চলে যে মানুষ, সুন্দর তার প্রাণ।

পরের দুঃখ নিজের ভেবে বাড়ায় মমতার হাত,

তার জীবনেই ফুটে ওঠে রহমতের প্রভাত।

নিজে খাবে পেটটি ভরে, পাশের ঘরে ক্ষুধা,

কেমন করে মুমিন হবে কেমন সুখের সুধা?

প্রতিবেশীর চোখের জলে যদি না ভিজে মন,

ইবাদতের বাহ্যিক রূপে কোথায় পূর্ণ জীবন?

সে মুমিন নয়”—বাণী শোনায় মানবতার গান,

প্রতিবেশীর ক্ষুধা মেটানো ঈমানেরই মান।

নিজের থালায় খাবার যখন, একবার ভেবে দেখো

পাশের ঘরে ক্ষুধার কান্না শুনতে কি পাও একো?

বৃদ্ধ আছে, বিধবা আছে, এতিম আছে পাশে,

অসহায় কেউ সাহায্য চায় নীরব দীর্ঘশ্বাসে।

তোমার ঘরে অল্প যদি, অল্প দাও তবু,

আন্তরিকতার সেই দানই মূল্যবান প্রভু।

মুসলিম হোক, অমুসলিম হোকমানুষ সবার প্রাণ,

সদাচরণ, সহমর্মিতা ইসলামেরই গান।

কষ্ট দিয়ে নয় কাউকে, দাও ভালোবাসা,

মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দাও দয়ার নির্মল আশা।

 

ধনীর ঘরে ধন থাকলেও মন যদি হয় শূন্য,

লোভের আগুন জ্বলে অন্তরজীবন হয়ে পুণ্য?

না, সে জীবন শান্তিহীন, চাহিদা শুধু বাড়ে,

একটি পেলে আরেকটিরই আকাঙ্ক্ষা জাগে।

আজকে আছে অঢেল সম্পদ, কালকে কোথায় যাবে?

মৃত্যু এসে দ্বারে দাঁড়ালে কে তাকে রুখে দেবে?

সোনা-রূপা, জমি-বাড়ি, থাকবে পড়ে ঘরে,

মানুষ শুধু যাবে একা রবেরই দরবারে।

প্রাচুর্য মনের প্রাচুর্য”—নবীর বাণী কয়,

তৃপ্ত হৃদয় সত্যিকারের ধনী হয়ে রয়।

যার অন্তরে কানাআত আছে, অল্পতেই সুখ,

লোভের বোঝা বহন করে না তার অন্তর-মুখ।

আল্লাহ যেটুকু দিয়েছেন, বলোআলহামদুলিল্লাহ,

দুঃখ এলেও ভরসা রেখো, তিনিই পরম দাতা।

চেষ্টা করবে হালাল পথে, পরিশ্রমে দিন,

ফলাফলের ভারটি দেবে রবের হাতে ঋণ।

সাফল্য এলে অহংকার নয়, শুকরিয়া দাও ভাই,

ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়ো নারবের ওপর ঠাঁই।

মানুষ জানে সামান্য কিছু, আল্লাহ জানেন সব,

কোনটিতে যে কল্যাণ আছেতিনি জানেন রব।

কখনো সুখ, কখনো দুঃখ, জীবন নদীর ঢেউ,

কখনো হাসি, কখনো চোখে অশ্রু নামে ঢেউ।

মুমিন তবু স্থির থাকে, হারায় না সে আশা,

রবের প্রতি আস্থা রেখে পায় হৃদয়ের ভাষা।

ভাগ্যে যা দিয়েছেন আল্লাহ, তাতেই হও সন্তুষ্ট,

তৃপ্ত হৃদয়েই লুকিয়ে থাকে সম্পদের আসল দৃষ্ট।

চাওয়া যদি সীমাহীন হয়, শান্তি কোথায় পাবে?

যতই পাবে ততই আবার আরও কিছু চাবে।

লোভের আগুন নিভবে না তো দুনিয়ার কোনো ধনে,

তৃপ্তির সুধা ঝরবে কেবল আল্লাহর স্মরণে।

শুকরিয়া যার মুখের ভাষা, কাজে যার প্রকাশ,

নিয়ামতেরই ছায়াতলে তার জীবন হয় উচ্ছ্বাস।

স্বাস্থ্য, জ্ঞান, পরিবার, ঈমান, নিরাপদ নিশ্বাস,

সবই তো তাঁর দানতাঁরই অসীম সুবাস।

আলহামদুলিল্লাহ”—বলে যে হৃদয় ভরে যায়,

শুকরিয়ারই বরকতে তার নিয়ামত আরও বাড়ে যায়।

দুনিয়ার এই রঙিন মেলা থাকবে না তো চির,

একদিন সব থেমে যাবে, স্তব্ধ হবে নীড়।

পদ-পদবি, অর্থ-সম্পদ, থাকবে দুনিয়ার ঘরে,

মানুষ যাবে কর্ম নিয়ে একা কবরের পরে।

সঙ্গে যাবে না ধনরত্ন, যাবে না কোনো গাড়ি,

সঙ্গে যাবে ঈমান-আমলসেটিই আসল ভারী।

সত্য কথা, সৎকর্ম, দয়া, মানুষের অধিকার,

এসব হবে পরকালের জীবনের সম্বলসার।

দুনিয়া যদি হাতে থাকে, হৃদয়ে নয় যেন,

আখিরাতের সফলতাই থাকুক জীবনের ধ্যান।

হালাল পথে উপার্জন কর, হারাম থেকে দূরে,

অন্যের হক নষ্ট কোরো না স্বার্থের অন্ধ সুরে।

প্রতারণা আর মিথ্যা ছেড়ে সত্য পথে চলো,

অহংকারের অন্ধকারে হৃদয় যেন না ঢলো।

পরকালের লক্ষ্য যার, জীবন তার বদলায়,

পাপের পথে পা বাড়ালে বিবেক তাকে বাধায়।

অন্যের অধিকার রক্ষা করে, সত্য কথা কয়,

আল্লাহর সন্তুষ্টি তখন জীবনেরই জয়।

পরকালকে লক্ষ্য করলে দুনিয়া হয় সুন্দর,

দায়িত্ব থেকে পালায় না সেহয় আরও দায়িত্ববান।

পরিবারকে ভালোবাসে, সমাজ গড়ে ন্যায়,

মানবতার কল্যাণে সে নিজের শক্তি দেয়।

জান্নাত হলো মুমিনের সেই চূড়ান্ত ঠিকানা,

দুঃখহীন, ভয়হীন সে অনন্ত সুখের খানা।

নেই সেখানে মৃত্যু কোনো, নেই বিচ্ছেদের ক্ষণ,

রবের রহমত ঘিরে রাখে মুমিনেরই মন।

জান্নাত যদি সত্যিই চাও, আমল দিয়ে দেখো,

সালাত কায়েম, সত্য বলো, অন্যায় থেকে রেখো।

পিতা-মাতার সেবা করো, আত্মীয়তার মান,

প্রতিবেশীর হক আদায় করোএটাই মুমিন প্রাণ।

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থের সেবা,

এতিমের মাথায় রাখো মমতার কোমল ছোঁয়া।

দুঃখীর পাশে দাঁড়াও গিয়ে, বিপদে দাও হাত,

এভাবেই তো নেক আমলে সুন্দর হয় দিন-রাত।

জান্নাতেরই আকাঙ্ক্ষা যদি হৃদয় জুড়ে রয়,

গুনাহের পথে পা বাড়াতে বিবেক তখন ভয়।

নামাজ হবে প্রাণের আলো, কুরআন হবে সাথি,

আল্লাহর প্রেমে ভরে উঠবে জীবনের সব রাতি।

তবে শুধু জান্নাত চাওয়া যথেষ্ট নয় ভাই,

জান্নাত পাওয়ার পথের কাজও করতে চাই।

আশা রাখো রবের দয়া, আমল করো সাথে,

নেককার হয়ে এগিয়ে চলো জান্নাতেরই পথে।

জাহান্নামের ভয়ও রাখো হৃদয়ের অন্তরালে,

পাপের আগুন থামিয়ে দেবে এই ভয়ই কালে কালে।

মিথ্যা বলার আগে ভাবোহিসাব হবে একদিন,

অন্যের হক নিলে ভাবোফিরতে হবে সেদিন।

জুলুম করে, ধোঁকা দিয়ে ধন যদি হয় ঢের,

পরকালে সেই সম্পদই হতে পারে বিষের ঢের।

দুনিয়ার মানুষ এড়িয়ে গেলেও এড়ানো যাবে না,

আল্লাহর ন্যায়বিচার থেকে পালানোর পথ নেই না।

আশা আর ভয়দুই ডানা মুমিনেরই প্রাণে,

একটি রাখে রহমতের আশায়, একটি রাখে টানে।

শুধু ভয় নয়, শুধু আশা নয়ভারসাম্য চাই,

রবের রহমত চেয়ে চেয়ে পাপ থেকে দূরে যাই।

দুনিয়ার ধন ক্ষণিকেরই, আখিরাতের ধন চির,

দুনিয়ার সুখ ফুরিয়ে যাবে, জান্নাত হবে স্থির।

আজকে যে ধন তোমার হাতে, কালকে অন্য কার,

মৃত্যু এলে বুঝবে মানুষকী ছিল আসল ভার।

তাই সম্পদ রাখো হাতে, হৃদয়ে রেখো রব,

ধনের দাস হয়ো না তুমিমালিক আছেন সব।

নিজের প্রয়োজন পূরণ করো, পরিবারেরও হক,

অসহায়ের মুখে হাসি ফোটাওএটাই মহৎ লোক।

এক মুঠো দান সামান্য হলেও যদি হয় খাঁটি,

আল্লাহর কাছে মূল্য পাবে আন্তরিকতার মাটি।

দান কখনো ছোট নয় গো, নিয়ত যদি ভালো,

একটি হাসি, একটি কথাতাতেও জ্বলে আলো।

নিজে খেয়ে তৃপ্ত হলে পাশের জনকে দেখো,

তার ঘরে আজ চুলা জ্বলে কি নাএকবার ভেবে রেখো।

তোমার শিশুর হাসির পাশে অন্য শিশুর কান্না,

মানবতারই ডাক শুনে দাও ভালোবাসার বন্যা।

ঘর থেকে শুরু হোক তবে মানবতার পাঠ,

সন্তান শিখুকপরের দুঃখ নিজের মতোই ভাব।

নিজের সুখের পাশাপাশি অন্যের সুখ চাই,

এমন মানুষ গড়তে পারলে সমাজ সুন্দর হয় ভাই।

প্রতিবেশী থেকে সমাজ হবে, সমাজ থেকে দেশ,

মানবতারই সেতু গড়ে দূর হবে সব ক্লেশ।

একজন যদি একজনের দুঃখ লাঘব করে,

শান্তির ফুল ফুটবে তবে মানুষেরই ঘরে।

মুমিন সে-, যার হৃদয়ে দয়ার আলো জ্বলে,

অন্যের কষ্ট দেখলে যার চোখে অশ্রু চলে।

শুধু নিজের জন্য বাঁচে জীবন নয় মহৎ,

পরের কল্যাণে জীবন দিলে জীবন হয় সার্থক।

উপার্জন করহালাল পথে, নিষ্ঠা রেখো কাজে,

অপচয় কোরো না কিছু, মিতব্যয়ী সাজে।

খাবে তুমিকিন্তু অন্যের ক্ষুধার কথাও ভাবো,

সম্পদ পাবেঅহংকার নয়, আল্লাহকে স্মরণ রাখো।

সম্পদ তোমার পরীক্ষা মাত্র কথা রেখো মনে,

কত পেয়েছ নয়, কী করেছহিসাব হবে ক্ষণে।

ধন থাকিলে দান করো, জ্ঞান থাকিলে শেখাও,

ক্ষমতা যদি হাতে থাকে, দুর্বলকে আগলাও।

সময় যদি বেশি থাকে, অসহায়ের পাশে,

ভালোবাসার একটি কথা দাও তার নিঃশ্বাসে।

প্রকৃত ধনী সে নয়, যার ভাণ্ডার ভরা ধন,

প্রকৃত ধনী সে-, যার সমৃদ্ধ মানবমন।

যার মুখে সত্য, হৃদয়ে দয়া, কাজে ন্যায় থাকে,

যার জীবনে আল্লাহভীতি প্রতিটি পথে জাগে।

প্রাচুর্য যদি চাও তবে অন্তর করো ধনী,

লোভ-হিংসা দূরে সরিয়ে হও আলোরই যাত্রী।

শুকরিয়া আর কানাআতে সাজাও জীবনের রূপ,

আল্লাহর স্মরণে কাটাও সুখ-দুঃখের সব ক্ষণ।

দুনিয়ার মোহ ক্ষণিকের, আখিরাতই চির,

আজকের এই জীবন শেষে খুলবে নতুন দ্বার।

যে প্রস্তুতি নেয় আজ থেকেই, সফল হবে সে,

রবের দয়া পেলে শেষে জান্নাত পাবে যে।

হে আল্লাহ, আমাদের দাও তৃপ্ত হৃদয়খানি,

নিয়ামতের শুকরিয়া দাও, দূর করো অহমিকা-গ্লানি।

প্রতিবেশীর হক আদায়ের তাওফিক দাও প্রভু,

ক্ষুধার্তের মুখে তুলে দিতে দাও খাবারের শুভ।

অসহায়ের পাশে যেন দাঁড়াতে পারি সদা,

দুঃখীর চোখের অশ্রু মুছে দিতে পারি কদা।

হারাম পথে যেন না যাই, সত্য পথে চলি,

তোমার ভয়ে পাপ ছেড়ে নেক আমলে মন ভরি।

জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা দাও, জাহান্নামের ভয়,

তোমার প্রেমে জীবন হোক সুন্দরতম জয়।

দুনিয়া থাকুক হাতে শুধু, হৃদয়ে থেকো তুমি,

তোমার সন্তুষ্টির পথেই কাটুক জীবনভূমি।

যেদিন হবে শেষ হিসাব, শেষ হবে পথ,

ঈমান-আমল সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াব সেই রথ।

সেদিন যেন লজ্জিত হয়ে না ফিরি খালি হাতে,

তোমার রহমত চাই, হে রবজীবন-মৃত্যুর সাথে।

প্রকৃত প্রাচুর্য দাও হে রব, ধন নয় শুধু ধন,

শুকরিয়া, তৃপ্তি, দয়া দাও, দাও পবিত্র মন।

মানুষ যেন মানুষেরই সুখের কারণ হয়,

অন্যের দুঃখ লাঘব করে পায় তোমারই জয়।

ধন নয়, মন হোক ধনীঈমানের আলোয় ভরা,

দয়া-মায়া, সত্য-ন্যায়ে জীবন হোক গড়া।

দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতে সফলতারই দ্বার

জান্নাতুল ফিরদাউস হোক আমাদের চূড়ান্ত উপহার।

এই হোক আজ জীবনের শপথ, এই হোক অঙ্গীকার

আল্লাহর পথে চলব সবাই, করব না অধিকার-হার।

নিজে বাঁচব, অন্যকে বাঁচাব, ছড়াব শান্তির বাণী,

প্রকৃত প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ হোক প্রতিটি মুমিন প্রাণী।

প্রকৃত ধন অন্তরে থাকে, ধনভাণ্ডারে নয়,

আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের শ্রেষ্ঠতম জয়।

দুনিয়ার শেষে আখিরাতে সফল হবে প্রাণ

ঈমান, আমল, মানবতায় গড়ি জীবনের মান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ