সহকারী অধ্যাপক
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ! - মোঃ মুজিবুর রহমান
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ!
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
অশ্রুসিক্ত চোখের ভাষা তুমি বোঝো, হে আল্লাহ।
নীরব রাতের কান্না যখন আকাশ ছুঁয়ে যায়,
ভাঙা হৃদয় তোমার দ্বারে কাঁদতে কাঁদতে চায়।
হে দয়াময়, হে রহমান, হে পরম করুণাময়,
তোমার রহমত ছাড়া দুনিয়াতে কে আছে আশ্রয়?
মানুষ যখন মুখ ফিরিয়ে বন্ধ করে সব দ্বার,
তখন তুমি খুলে দাও রহমতের অফুরান দ্বার।
যে মানুষটি জুলুম সয়ে নীরবে কাঁদে রাতে,
তার কান্নার প্রতিটি ফোঁটা পৌঁছে যায় তোমার কাছে।
যে হৃদয়ে জমে থাকে শত বেদনার ভার,
তুমি তো জানো তার ব্যথা—তুমিই তার বিচারকার।
অত্যাচারীর শক্তি দেখে ভয় পেয়ো না মন,
আল্লাহর কাছে জুলুম কখনো নয় গোপন।
দুনিয়ার আদালত যদি ন্যায় দিতে হয় ব্যর্থ,
আখিরাতের আদালতে হবে হিসাব নিরর্থক?
না—সেখানে কোনো জুলুম গোপন থাকবে না,
কোনো অন্যায়কারীর হিসাব বাদ যাবে না।
ক্ষমতার অহংকার সেদিন হবে ক্ষয়,
আল্লাহর ন্যায়বিচারে জুলুম পাবে পরাজয়।
আজ যে মানুষ অন্যায় করে হাসে অট্টহাসি,
কাল সে-ই কাঁদবে যখন ফুরাবে তার আয়ু-শ্বাসই।
আজ যে দুর্বলের অধিকার করে নেয় হরণ,
কাল তাকে দিতে হবে প্রতিটি অন্যায়ের গণন।
কাউকে কাঁদিয়ে সুখের প্রাসাদ গড়ো না ভাই,
মজলুমের চোখের পানি বৃথা কখনো যায় না তাই।
দুর্বলের হক নষ্ট করে করো না অহংকার,
আল্লাহর কাছে প্রতিটি হক থাকবে হিসাবের ভার।
যার হাতে ক্ষমতা আজ, সে যেন থাকে সাবধান,
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—এ কথা রাখো জ্ঞান।
পদ, অর্থ, প্রভাব, খ্যাতি—সবই ক্ষণিকের ছায়া,
মৃত্যু এলে সবকিছুই পড়ে থাকে মায়াময় মায়া।
কত রাজা গেছে চলে, কত বাদশাহ ক্ষয়,
কত প্রাসাদ ধুলায় মিশে—কোথায় তাদের জয়?
কত অহংকারী মানুষ ছিল দুনিয়ার সম্রাট,
আজ তাদের নামটুকুও নেই—শেষ হয়েছে প্রভাত।
তাই হে মানুষ, জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের পথে চলো,
অসহায়ের অশ্রু মুছে ভালোবাসার কথা বলো।
কারও অধিকার কেড়ে নিয়ে সুখী হয়ো না তুমি,
মজলুমের হৃদয় ভেঙে পাবে না শান্তি ভূমি।
মজলুম যখন হাত তুলে বলে—‘হে আমার রব!’
তখন কাঁপে জালিমের অন্তর, যদিও থাকে নীরব সব।
তার আর্তনাদ আকাশ পেরিয়ে পৌঁছে যায় দরবারে,
তার অশ্রুর হিসাব থাকে দয়াময় প্রভুর খাতায়।
হে আল্লাহ, তুমি তো দেখো—কে কাঁদে নিরালায়,
কে আপনজন হারিয়ে বসে অন্ধকারের ছায়ায়।
কে প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে হারিয়েছে সম্বল,
কে অন্যায়ের আঘাতে হয়েছে অন্তর-বিক্ষত, দুর্বল।
কে বিশ্বাস করে ঠকেছে আপন মানুষের হাতে,
কে অধিকার হারিয়ে আজ ঘুরে বেড়ায় পথে।
কে ন্যায়ের আশায় গিয়ে পেয়েছে অবহেলা,
কে চোখের জলে লিখেছে জীবনের বিষাদমেলা।
হে আল্লাহ, তুমি জানো—কত কথা বলা হয় না,
কত ব্যথা বুকের মাঝে থাকে, কাউকে বলা যায় না।
কত দীর্ঘশ্বাস রাতে উঠে নিঃশব্দ আকাশে,
কত অশ্রু ঝরে পড়ে সিজদার পবিত্র পাশে।
যে দুঃখ মানুষ বোঝে না, তুমি তা বোঝো ভালো,
তোমার রহমতের ছায়ায় নিভে যায় দুঃখের কালো।
যে দরজা সবাই বন্ধ করে দেয় অভিমানে,
তোমার দরজা খোলা থাকে বান্দার কান্নাখানি টানে।
হে আল্লাহ, মজলুমের তুমি একমাত্র ভরসা,
তোমার রহমত ছাড়া কোথায় মিলবে ভালোবাসা?
তুমি ছাড়া অসহায়ের আর কে আছে আপন?
তুমি ছাড়া বিপদে কে শোনে হৃদয়ের ক্রন্দন?
যখন পৃথিবীর মানুষ বলে—‘আর কোনো পথ নেই’,
তখন মুমিন বলে—‘আমার রব আছেন, ভয় কিসের সেই!’
যখন চারদিক অন্ধকার, বন্ধ হয়ে যায় পথ,
তখন তাওয়াক্কুল জ্বেলে দেয় অন্তরে আশার রথ।
সবর করো, হে মুমিন, রাত যতই হোক দীর্ঘ,
রাতের শেষে সূর্য ওঠে—এটাই রবের বিধি।
দুঃখের পরে সুখ আসে, কষ্টের পরে স্বস্তি,
আল্লাহর রহমত পেলে মুছে যায় সব ক্লান্তি।
কাঁদো যদি, তাঁর কাছেই কাঁদো নির্ভয়ে,
দুঃখ যদি থাকে মনে, বলো তাঁকে সব খুলে।
মানুষের কাছে অপমান নয়—রবের কাছে ফরিয়াদ,
সিজদাতে ঝরে পড়ুক হৃদয়ের সব বিষাদ।
বল—
‘হে আমার রব, তুমি জানো আমার অন্তরের কথা,
তুমি জানো আমার চোখের জলের প্রতিটি ব্যথা।
আমি দুর্বল, তুমি শক্তিশালী; আমি ক্ষুদ্র, তুমি মহান,
তোমারই ওপর ভরসা আমার—তুমিই আমার প্রাণ।’
‘যদি আমার হক কেউ নেয়, তুমি ফিরিয়ে দাও হক,
যদি কেউ করে জুলুম, তুমি দাও ন্যায়ের ফলক।
আমি প্রতিহিংসা চাই না, চাই তোমার ন্যায়বিচার,
তোমার বিধানেই হোক সত্যের চূড়ান্ত জয়ধ্বনি আবার।’
হে আল্লাহ, অন্তর থেকে মুছে দাও প্রতিহিংসার আগুন,
সবর দিয়ে শক্ত করো—দাও ঈমানের আলো অনুক্ষণ।
জালিমের জুলুম থেকে রক্ষা করো সকল প্রাণ,
মজলুমের কষ্ট মোচন করো—হে পরম দয়াবান।
যে জালিম আজ শক্তিশালী, সে যেন না ভাবে—
তার অন্যায় চিরদিন পৃথিবীর বুকে থাকবে।
সময়ের চাকা ঘুরবে, বদলাবে সব দৃশ্য,
আল্লাহর হুকুমে একদিন প্রকাশ পাবে সত্য।
অন্যায় যত গোপন থাক, সত্য গোপন নয়,
আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে কোনো কিছুই নয়।
অন্ধকার যত গভীর হোক, ভোর আসবেই শেষে,
সত্যের দীপ জ্বলে উঠবে মিথ্যার কালো দেশে।
জুলুমের প্রাসাদ যত উঁচু আকাশ ছোঁয়,
ন্যায়ের এক ঝড়ে তার ভিত্তি ভেঙে ক্ষয়।
অন্যায়ের দেয়াল যত শক্ত করে গড়া,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তে হবে তা ধূলায় ঝরা।
তাই জালিম ভাই, ফিরে এসো ন্যায়ের পথে,
মানুষের হক ফিরিয়ে দাও আন্তরিকতার সাথে।
ক্ষমা চাও আল্লাহর কাছে, যার হক নিয়েছ তার কাছে,
তাওবার অশ্রু ঝরুক তোমার অনুতপ্ত চোখের মাঝে।
কারও চোখের পানি দিয়ে সুখের ঘর বানিও না,
কারও অধিকার কেড়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ো না।
মনে রেখো—আজ তুমি ক্ষমতাবান, কাল হতে পারো ক্ষুদ্র,
আজ যে মানুষ দুর্বল, কাল হতে পারে সে-ই সমৃদ্ধ।
দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী—এ কথা ভুলে যেয়ো না,
মৃত্যুর ডাকে কোনো মানুষ পালাতে পারবে না।
কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই যাবে না সাথে,
রাজা-প্রজা সবাই যাবে একই মাটির পথে।
সেদিন থাকবে না পদ, থাকবে না ধন,
থাকবে শুধু আমলনামা, থাকবে বিবেকের গণন।
কার হক মেরেছ তুমি, কার হৃদয় ভেঙেছ,
কত অশ্রু ঝরিয়েছ—সবই সেখানে দেখেছ।
তাই আজই ফিরে এসো, সময় থাকতে ভাই,
অন্যায় ছেড়ে সত্যের পথে চলতে কোনো ভয় নাই।
মজলুমের কাছে ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও অধিকার,
তাহলেই হয়তো মুছে যাবে অপরাধের ভার।
আর হে মজলুম, তোমার জন্যও আছে সান্ত্বনা,
দুঃখের রাতে হারিয়ে ফেলো না ঈমানের ঠিকানা।
মানুষ তোমায় ভুললেও ভুলেননি পরওয়ারদিগার,
তোমার প্রতিটি অশ্রু জানেন তিনি—হে মহান স্রষ্টার।
তুমি ধৈর্য ধরো, রবের ওপর রাখো দৃঢ় বিশ্বাস,
দুঃখের রাত পেরিয়ে আসবে সুখের সুবাতাস।
আজ যদি চোখে পানি, কাল হাসি ফুটতে পারে,
রহমতের দরজা খুলে যাবে অপ্রত্যাশিত দ্বারে।
হয়তো যে ক্ষতি হয়েছে, ফিরবে অন্য রূপে,
হয়তো তোমার জন্য কল্যাণ আছে দুঃখেরই ভূপে।
মুমিন জানে—রবের ফয়সালা সর্বদা কল্যাণময়,
বান্দা যা চায় সব নয়—যা ভালো, তাতেই তাঁর জয়।
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর করো নরম ও পবিত্র,
জুলুম থেকে দূরে রাখো, করো চরিত্র সুন্দর।
অন্যের হক আদায়ের তাওফিক দাও প্রাণে,
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো আমাদের জীবনে।
যেখানে কেউ কাঁদে, সেখানে দাও সান্ত্বনা,
যেখানে কেউ পড়ে, সেখানে দাও সহায়তা।
যেখানে অন্যায় দেখি, সত্য বলার সাহস দাও,
দুর্বলের পাশে দাঁড়াবার শক্তি ও ঈমান দাও।
মজলুমের কান্নাকে যেন আমরা অবহেলা না করি,
অসহায়ের আহ্বানে যেন মুখ ফিরিয়ে না ধরি।
মানুষের হককে যেন মনে করি আমানত,
ন্যায়ের পথে চলাই হোক জীবনের শপথ।
হে আল্লাহ, পৃথিবী থেকে জুলুম দূর করে দাও,
অত্যাচারীর অন্তরে হেদায়াতের আলো জ্বালাও।
যারা নির্যাতিত, তাদের তুমি শক্তি দাও,
যারা বিপন্ন, তাদের তুমি নিরাপদ আশ্রয় দাও।
যে ঘরে আজ কান্না, সেখানে হাসি দাও,
যে হৃদয়ে আজ ক্ষত, সেখানে শান্তি দাও।
যে মানুষ আজ নিঃস্ব, তাকে হালাল রিজিক দাও,
যে মানুষ আজ অসহায়, তাকে তোমার সাহায্য দাও।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
অশ্রুসিক্ত চোখের ভাষা বোঝো, হে আল্লাহ।
জুলুমের আঁধার ভেঙে ন্যায়ের সূর্য ওঠাও,
সত্যের পতাকা দাও উঁচু—মিথ্যাকে দূরে সরাও।
আমাদের অন্তর থেকে অহংকার দূর করে দাও,
হিংসা, বিদ্বেষ, লোভের আগুন নিভিয়ে দাও।
অন্যের দুঃখে যেন আমাদের হৃদয় কেঁদে ওঠে,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যেন গড়ে ওঠে প্রাণের সাথে।
কেউ যেন কারও অশ্রুর কারণ না হয় এ ধরায়,
কেউ যেন অন্যের অধিকার ছিনিয়ে না নেয় মায়ায়।
মানুষ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায় ভালোবেসে,
ন্যায়, দয়া, মমতা ফুটুক প্রতিটি হৃদয়-দেশে।
হে রব, আমাদের দাও সত্যের পথে অবিচল থাকা,
দুঃখের মাঝেও দাও তোমার স্মরণে জেগে থাকা।
বিপদে দাও সবর, সুখে দাও শোকর,
গুনাহে দাও তাওবা, হৃদয়ে দাও নূরের ঝলক।
যদি দুনিয়ার আদালতে ন্যায় না মেলে কোনো দিন,
তবু মুমিন হারায় না আশা—রব আছেন সর্বক্ষণ।
শেষ বিচারের মালিক যিনি, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক,
তাঁর আদালতে সত্য হবে প্রকাশ—ন্যায় হবে প্রতিষ্ঠিত।
সেদিন কোনো জালিম পাবে না অন্যায়ের আড়াল,
সেদিন কোনো মজলুম থাকবে না অশ্রুসিক্ত অবহেলিত কাল।
প্রতিটি হক ফিরবে, প্রতিটি হিসাব হবে পূর্ণ,
আল্লাহর ন্যায়বিচারে সত্য হবে সম্পূর্ণ।
তাই আজকের দুঃখে ভেঙে যেও না, হে মুমিন প্রাণ,
রবের রহমতের ব্যাপারে রেখো অটুট ঈমান।
যে রব ইউনুসের দুঃখ দূর করেছেন অন্ধকারে,
সেই রব তোমারও সাহায্য করবেন সঠিক সময়ে।
যে রব আইয়ুবের ধৈর্য জানেন গভীরভাবে,
সেই রব বিপদগ্রস্ত বান্দার পাশে থাকেন স্নেহভরে।
যে রব মূসাকে পথ দিয়েছেন সাগরের মাঝখানে,
সেই রব পথ খুলে দেবেন তোমার বন্ধ দুয়ারখানে।
তাই বলো—
‘হাসবিয়াল্লাহু’—আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট,
তাঁর ওপর ভরসা রাখি—তিনিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক।
দুনিয়া যদি ছেড়ে যায়, রব তো ছাড়বেন না,
সব দরজা বন্ধ হলেও তাঁর দরজা বন্ধ হবে না।’
হে আল্লাহ, কবুল করো আমাদের এই মিনতি,
মুছে দাও মজলুমের চোখের জলের ক্ষতি।
যারা কষ্ট দিয়েছে, তাদের দাও হেদায়াত,
আর মজলুমকে দাও শান্তি, সম্মান ও ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্তি।
আমাদের জীবন হোক ন্যায় ও সত্যের দীপ,
আমাদের হৃদয় হোক রহমতে সিক্ত ও স্নিগ্ধ।
জুলুম নয়—ন্যায় হোক আমাদের পরিচয়,
ঘৃণা নয়—ভালোবাসায় হোক মানবতার জয়।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ!
দুঃখী মানুষের অশ্রু মুছে দাও, হে আল্লাহ!
অন্যায়ের হাত থামিয়ে দাও, সত্যকে করো জয়,
তোমার রহমতের ছায়াতলে শান্ত হোক বিশ্বময়।
হে পরম দয়ালু, হে আরশের মহান রব,
তোমার রহমত ছাড়া আমরা সবাই বড়ই দুর্বল।
আমাদের ভুল ক্ষমা করো, কবুল করো দোয়া,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ চাওয়া।
যে মজলুম আজ কাঁদছে, তার পাশে তুমি থাকো,
যে জালিম পথভ্রষ্ট, তাকে সঠিক পথে ডাকো।
যে হৃদয় ভেঙেছে, তাকে দাও প্রশান্তি,
যে আশা হারিয়েছে, তাকে দাও ঈমানের শক্তি।
শেষে শুধু এই দোয়া—
হে আল্লাহ, জুলুমের পৃথিবীতে ন্যায়ের আলো দাও,
মজলুমের কান্নার মাঝে রহমতের সাড়া দাও।
অসহায়ের ফরিয়াদ তুমি কবুল করে নাও,
সব নির্যাতিত প্রাণকে নিরাপদ আশ্রয় দাও।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
অশ্রুসিক্ত চোখের ভাষা বোঝো, হে আল্লাহ।
তুমি ন্যায়বিচারের মালিক, তুমি দয়ার সাগর,
তোমার রহমতেই মুছে যাক পৃথিবীর সব অনাচার।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
২
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ!
জুলুমের আঁধার শেষে ন্যায়ের আলো
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
অশ্রুভেজা চোখের ভাষা বুঝে নাও, হে আল্লাহ।
নিভৃত রাতে কাঁদে যারা বুকের ব্যথা নিয়ে,
তাদের কান্না পৌঁছে দাও তোমার রহমতের নীড়ে।
যখন মানুষ মুখ ফিরিয়ে বন্ধ করে দ্বার,
তখন তুমি আশ্রয় দাও, তুমি পরম করুণাধার।
যখন আপনজনও হয় পর, বিপদ আসে ঘিরে,
তখন তুমি হাত বাড়াও দয়ার সাগর হয়ে ফিরে।
হে আল্লাহ, তুমি তো জানো মনের গোপন ব্যথা,
তুমি জানো অশ্রু ঝরার নীরব সব কথা।
কত মানুষ হাসে মুখে, কাঁদে অন্তরজুড়ে,
কত দুঃখ লুকিয়ে রাখে মানুষের ভিড়ের ভেতরে।
কেউ হারিয়েছে আপনজন, কেউ হারিয়েছে ঘর,
কেউ প্রতারণার আঘাতে হয়েছে নিঃস্ব পর।
কেউ বিশ্বাস করে ঠকেছে আপন মানুষের কাছে,
কেউ ন্যায়ের আশায় ঘুরে বেড়ায় দ্বারে দ্বারে।
কেউ তার হক হারিয়েছে অন্যায়ের আঘাতে,
কেউ নিরবে কেঁদে চলে আঁধার রাতের সাথে।
কেউ মুখে কিছু বলে না, চোখে ঝরে জল,
তুমি জানো, হে দয়াময়, তার হৃদয়ের অনল।
হে আল্লাহ! মজলুমের তুমি একমাত্র ভরসা,
তোমার দরজায় মেলে শান্তি, দয়া, ভালোবাসা।
দুনিয়ার সব দ্বার যদি বন্ধ হয়ে যায়,
তোমার রহমতের দ্বার কখনো বন্ধ না হয়।
জালিম যেন মনে না করে—সে চিরদিন জয়ী,
অন্যায় করে কেউ কখনো হতে পারে না ধনী।
ক্ষমতা, অর্থ, পদমর্যাদা—সবই ক্ষণিকের,
মৃত্যু এসে থামিয়ে দেবে অহংকারের নীড়।
আজ যে মানুষ ক্ষমতারই গর্বে মত্ত হয়,
কাল সে-ই তো মৃত্যুর কাছে অসহায় রয়।
আজ যার হাতে অন্যের হক কেড়ে নেওয়ার শক্তি,
কাল তার আমলনামায় লেখা হবে সেই ভক্তি?
না, কোনো অন্যায় হারায় না রবের জ্ঞানের বাইরে,
কোনো অশ্রু বৃথা যায় না তাঁর ন্যায়বিচারের দ্বারে।
গোপন যত অপরাধ, প্রকাশ পাবে একদিন,
সত্যের সূর্য উঠবেই—যদিও রাত হয় দীর্ঘদিন।
জুলুমের প্রাসাদ যত উঁচু আকাশ ছোঁয়,
অন্যায়ের ভিত একদিন ধূলির সাথে ক্ষয়।
মিথ্যার দেয়াল যত শক্ত করে গড়া,
সত্যের এক ঝড় এলে যাবে সবই ঝরা।
হে জালিম, ফিরে এসো—সময় থাকতে আজ,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও, ছেড়ে দাও অন্যায় কাজ।
ক্ষমা চাও তোমার রবের কাছে বিনীত হৃদয়ে,
অধিকার ফিরিয়ে দাও যার কাছ থেকে নিয়েছ ছিনিয়ে।
কারও চোখের জলে গড়ো না সুখের ঘর,
কারও বুক ভেঙে কোরো না নিজের জীবন সুন্দর।
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাসকে হেলায় কোরো না,
দুর্বলের অধিকার কেড়ে নিজেকে বড় ভেবো না।
মনে রেখো—দুনিয়াটা ক্ষণিকের মেলা,
মৃত্যু এসে থামিয়ে দেবে জীবনের সব খেলা।
রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব—সবাই সমান শেষে,
একই মাটির ঘরে যাবে নীরব হয়ে হেসে?
কাফনের কাপড় ছাড়া যাবে না কিছু সাথে,
ধন-সম্পদ পড়ে থাকবে দুনিয়ারই হাতে।
পদ-পদবি, মান-সম্মান, ক্ষমতার অহংকার,
সব ফেলে মানুষ যাবে রবের দরবার।
সেদিন হবে হিসাব—কী করেছি জীবনে,
কার হক মেরেছি কত, কারে কাঁদিয়েছি গোপনে।
কাকে দিয়েছি সান্ত্বনা, কাকে করেছি দান,
কাকে করেছি অপমান, কাকে দিয়েছি সম্মান।
তাই আজই হে মানুষ, নিজেকে শুধরে নাও,
অন্যের হক আদায় করে সত্যের পথে যাও।
জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের পথে জীবন গড়ে নাও,
মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দাও।
আর হে মজলুম, তুমি কেঁদো না নিরাশ হয়ে,
রবের রহমতের আশা রেখো অন্তর ভরে।
মানুষ ভুলে গেলেও আল্লাহ ভুলেন না,
বান্দার চোখের অশ্রু তাঁর অজানা নয় কোনো না।
তুমি যদি অসহায় হও, রব আছেন পাশে,
তুমি যদি একা হও, রব আছেন নিভৃত আশ্বাসে।
তুমি যদি হারাও সব, তাঁকে হারিয়ো না,
সবাই ছেড়ে গেলেও তাঁর দরজা ছাড়িয়ো না।
সিজদাতে মাথা রেখে বলো মনের কথা,
তাঁর কাছেই খুলে বলো অন্তরের সব ব্যথা।
মানুষের কাছে অপমান নয়—রবের কাছে কান্না,
তাঁর রহমতই মুছে দেবে জীবনের সব যন্ত্রণা।
বলো—
‘হে আমার রব, তুমি জানো আমার অবস্থা,
তুমি জানো হৃদয়ের সব অশ্রুভেজা কথা।
আমি দুর্বল, তুমি শক্তিশালী; আমি ক্ষুদ্র, তুমি মহান,
তোমার ওপর ভরসা আমার—তুমিই আমার প্রাণ।’
‘আমার হক যদি কেউ নেয়, তুমি দাও তা ফিরিয়ে,
জুলুমের আঁধার সরাও ন্যায়ের আলো জ্বালিয়ে।
আমি প্রতিশোধ চাই না, চাই তোমার ন্যায়,
তোমার ফয়সালাতেই হোক সত্যের চূড়ান্ত জয়।’
সবর দাও, হে আল্লাহ, বিপদের কঠিন ক্ষণে,
তাওয়াক্কুল দাও অন্তরে, অন্ধকারের বনে।
দুঃখের মাঝে ঈমান দাও, অশ্রুর মাঝে নূর,
তোমার স্মরণে মুছে যাক হৃদয়ের সব সুর।
রাত যতই দীর্ঘ হোক, ভোর আসবেই শেষে,
আশার আলো ফুটবেই একদিন আঁধার দেশে।
দুঃখের পরে স্বস্তি আসে—এ বিশ্বাস রাখো মনে,
রবের রহমত নেমে আসে ধৈর্যশীলের জীবনে।
আজ যদি চোখে পানি, কাল হাসি ফুটবে,
আজ যদি পথ বন্ধ, কাল নতুন পথ খুলবে।
আজ যদি হারাও কিছু, কাল পাবে নতুন দান,
রবের ফয়সালায় থাকে বান্দার কল্যাণ।
তাই বিপদে ভেঙে যেও না, হে মুমিন প্রাণ,
দুঃখের মাঝেও আঁকড়ে ধরো ঈমান।
দুনিয়া যদি ছেড়ে যায়, রব তো ছাড়বেন না,
সব দরজা বন্ধ হলেও তাঁর দরজা বন্ধ হবে না।
হে আল্লাহ, পৃথিবীর যত মজলুম মানুষ,
তাদের তুমি দাও রহমত, দাও আশার স্পর্শ।
যে শিশু আজ কাঁদে, তার চোখে হাসি দাও,
যে মা হারিয়েছে সন্তান, তাকে ধৈর্য দাও।
যে পিতা হারিয়েছে সন্তান, তাকে সবর দাও,
যে পরিবার বিপদে আছে, তাদের তুমি আশ্রয় দাও।
যে মানুষ আজ নিঃস্ব, তাকে হালাল রিজিক দাও,
যে মানুষ আজ অসহায়, তাকে শক্তি দাও।
যে মানুষ অন্যায়ের শিকার, তাকে ন্যায় দাও,
যে মানুষ অপমানিত, তাকে সম্মান দাও।
যে মানুষ পথ হারিয়েছে, তাকে হেদায়াত দাও,
যে মানুষ পাপী হয়েছে, তাকে তাওবার তাওফিক দাও।
হে আল্লাহ, জালিমের অন্তরে হেদায়াত দাও,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে সত্যের পথে ফিরিয়ে নাও।
যদি সে ফিরে আসে, তাকে ক্ষমা করে দাও,
যার হক সে নষ্ট করেছে, তার হক ফিরিয়ে দাও।
আমাদের অন্তর থেকেও জুলুমের বীজ সরাও,
অহংকার, হিংসা, লোভের আগুন নিভিয়ে দাও।
আমরা যেন কারও অশ্রুর কারণ না হই,
মানুষের হক নষ্ট করে অপরাধী না হই।
কেউ বিপদে পড়লে যেন পাশে দাঁড়াই,
কেউ কাঁদলে তার চোখের অশ্রু মুছে দিই ভাই।
অসহায়ের আহ্বানে যেন সাড়া দিতে পারি,
মানবতার পথে যেন জীবনটাকে গড়ি।
সত্য কথা বলার সাহস দাও অন্তরে,
ন্যায়ের পথে রাখো আমাদের প্রতিটি প্রহরে।
অন্যায় দেখলে যেন নীরব না থাকি,
দুর্বলের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার দীপ জ্বালি।
হে আল্লাহ, আমাদের সমাজ করো ন্যায়ভরা,
মুছে দাও জুলুম, হিংসা, বিদ্বেষের ধারা।
মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক ভালোবাসার সেতু,
সত্য, ন্যায়, দয়া হোক জীবনের মূল ঋতু।
ভাই যেন ভাইয়ের ব্যথা নিজের ব্যথা ভাবে,
ধনী যেন দরিদ্রের পাশে দাঁড়ায় ভালোবেসে।
শক্তিমান দুর্বলের হক রক্ষা করে সদা,
মানুষের হৃদয়ে ফুটুক মমতার ফুল-লতা।
জুলুম নয়—ন্যায় চাই,
ঘৃণা নয়—ভালোবাসা চাই।
অন্যায় নয়—সত্য চাই,
অহংকার নয়—তাকওয়া চাই।
হে আল্লাহ, আমাদের দাও সুন্দর চরিত্র,
সত্যবাদী করো, করো অন্তর পবিত্র।
জবান যেন কারও মনে না দেয় আঘাত,
হাত যেন না করে কারও প্রতি অন্যায় আঘাত।
চোখ যেন দেখে মানুষের কল্যাণের পথ,
হাত যেন বাড়ে বিপদগ্রস্তের প্রতি অবিরত।
হৃদয় যেন থাকে দয়া-মায়ায় পূর্ণ,
জীবন যেন হয় তোমার সন্তুষ্টিতে ধন্য।
মজলুমের কান্না যেন আমাদের ঘুম না কাড়ে,
অসহায়ের কষ্ট যেন হৃদয়ের দুয়ারে না হারে।
মানবতার সেবাকে যেন মনে করি ইবাদত,
সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকুক আমাদের আনুগত্য।
যে মজলুম আজ কাঁদে, তার কান্না থামাও,
যে জালিম আজ বাড়াবাড়ি করে, তাকে থামাও।
অন্যায়ের হাত ভেঙে দাও ন্যায়ের শক্তিতে,
সত্যের আলো ছড়িয়ে দাও পৃথিবীর প্রতিটি চিত্তে।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
অশ্রুভেজা চোখের ভাষা বুঝে নাও, হে আল্লাহ।
যে হৃদয় আজ ভাঙা, তাকে শান্তি দাও,
যে প্রাণ আজ অসহায়, তাকে তুমি শক্তি দাও।
যদি কোনো মজলুম আজ সিজদাতে কাঁদে,
তার কান্না তুমি শুনো রাতের নীরব বাঁধে।
যদি সে বলে—‘হে রব, আমি বড় অসহায়’,
তুমি বলো রহমতে—‘ভয় পেয়ো না, আমি আছি সদায়।’
দুনিয়ার মানুষ যদি বলে—‘তোমার কেউ নেই’,
মুমিনের অন্তর বলে—‘আমার রব আছেন, ভয় কিসের সেই!’
পথ যদি বন্ধ হয়, নতুন পথ খুলে দাও,
আশাহীন হৃদয়ে তুমি আশার প্রদীপ জ্বালাও।
যে চোখে আজ অশ্রু, তাতে হাসি ফুটাও,
যে বুকে আজ ব্যথা, তাতে শান্তি দাও।
যে ঘরে আজ কান্না, সেখানে সুখ ফিরাও,
যে জীবন আজ ভাঙা, তা নতুন করে সাজাও।
হে দয়াময়, আমাদের ফরিয়াদ কবুল করো,
গুনাহের কালিমা ধুয়ে অন্তর নির্মল করো।
তোমার স্মরণে রাখো আমাদের সকাল-সন্ধ্যা,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের একমাত্র বন্দনা।
শেষ বিচারের দিনে যখন হবে মহাসমাবেশ,
কেউ থাকবে না গোপন, থাকবে না কোনো আবরণ-শেষ।
সেদিন প্রকাশ পাবে সত্য, মুছে যাবে ছল,
ন্যায়ের পাল্লায় উঠবে জীবনের সকল ফল।
সেদিন মজলুম পাবে তার অধিকার পূর্ণ,
জালিম বুঝবে—অন্যায় ছিল কত ভয়ংকর।
তাই আজই হে মানুষ, ফিরে এসো সত্যপথে,
তাওবা করে জীবন গড়ো আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।
কারও হক মেরো না, কারও হৃদয় ভেঙো না,
অন্যায় করে নিজেকে কখনো সফল ভেবো না।
জীবন ক্ষণিক—মৃত্যু একদিন আসবেই,
রবের আদালতে প্রত্যেককে দাঁড়াতেই হবে।
তাই ন্যায়কে আঁকড়ে ধরো, সত্যকে করো সাথি,
সদাচরণে সাজাও জীবন, দূর করো সব ব্যাধি।
মানুষের কল্যাণে নিজেকে করো নিয়োজিত,
তবেই জীবন হবে সুন্দর, তবেই হবে আলোকিত।
হে আল্লাহ!
মজলুমের অশ্রু তুমি মুছে দাও,
অসহায়ের পাশে রহমতের হাত বাড়াও।
জুলুমের অন্ধকার পৃথিবী থেকে সরাও,
সত্য ও ন্যায়ের দীপ সর্বত্র জ্বালাও।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ,
দুঃখী মানুষের আর্তনাদ শুনো, হে আল্লাহ।
অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তি দাও প্রাণে,
শান্তির সুবাতাস বইয়ে দাও পৃথিবীর প্রতিটি প্রাঙ্গণে।
আমাদের দাও সবর, দাও ঈমানের আলো,
তোমার ভালোবাসায় জীবন করো ভালো।
অন্যের হক রক্ষা করে চলি সত্যের পথে,
তোমার সন্তুষ্টি চাই জীবনের প্রতিটি ক্ষণে।
তুমি ন্যায়বিচারের মালিক, তুমি দয়ার সাগর,
তোমার রহমত ছাড়া আমরা সবাই বড় অসহায়।
মজলুমের কান্না তুমি কবুল করে নাও,
জালিমকে হেদায়াত দাও, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো, হে আল্লাহ!
যতদিন পৃথিবীতে থাকবে মানুষের বসতি,
ততদিন জাগুক সত্য, ন্যায়, দয়া ও প্রীতি।
মানুষ যেন মানুষের জন্য হয়ে ওঠে ঢাল,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক পৃথিবীর প্রতিটি কাল।
জুলুমের বদলে ন্যায়, প্রতিহিংসার বদলে ক্ষমা,
অন্ধকারের বদলে আলো, ঘৃণার বদলে মমতা।
অন্যায়ের বদলে সত্য, অহংকারের বদলে বিনয়,
এই হোক আমাদের জীবনের চিরন্তন পরিচয়।
আর যখন শেষ হবে জীবনের পথচলা,
যখন থেমে যাবে দেহের সকল কথা-বলা,
যখন রবের সামনে দাঁড়াব একাকী,
তখন যেন আমলনামা থাকে নেকিতে ঢাকা।
যেন কেউ না বলে—‘আমি কারও হক মেরেছি’,
যেন কেউ না বলে—‘আমি মজলুমকে কাঁদিয়েছি।’
বরং যেন বলতে পারি রবের দরবারে গিয়ে—
‘সত্যের পথে চলেছি, তোমার বিধান হৃদয়ে নিয়ে।’
হে আল্লাহ, আমাদের কবুল করো,
মজলুমের দোয়া কবুল করো।
অসহায়ের অশ্রু মুছে দাও,
ন্যায়ের পৃথিবী গড়ে দাও।
মজলুমের ফরিয়াদ কবুল করো, হে আল্লাহ!
অশ্রুভেজা চোখের ভাষা বুঝে নাও, হে আল্লাহ!
জুলুমের আঁধার ভেদ করে ন্যায়ের সূর্য ওঠাও,
তোমার রহমতের ছায়াতলে বিশ্বকে শান্ত করো, হে আল্লাহ!
আমীন—ইয়া রব্বাল আলামীন।
৪
৪ মন্তব্য