সহযোগী অধ্যাপক
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
সহযোগী অধ্যাপক
আরবি: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
বাংলা উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।
বাংলা অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াতে এই বাক্য এসেছে। আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী, মুমিনদের যখন জানানো হয়েছিল যে তাদের বিরুদ্ধে বড় একটি বাহিনী প্রস্তুত হয়েছে, তখন ভয় পাওয়ার পরিবর্তে তাদের ঈমান আরও দৃঢ় হয়েছিল। তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।’
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিলের ফজিলত
এই জিকিরের অন্যতম শিক্ষা হলো আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা পূর্ণ নির্ভরতা। মানুষ যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে, তখন সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও ভয় দূর করে আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা এই দোয়ায় রয়েছে।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।’ এরপর আল্লাহ তাঁর জন্য আগুনকে নিরাপদ করে দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই জিকিরের গুরুত্ব পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, শত্রুর আক্রমণের খবর পাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিরা আল্লাহর ওপর ভরসা প্রকাশ করেছিলেন এই বাক্যের মাধ্যমে।
কখন হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল পড়বেন?
এই জিকির পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারিত নেই। বিপদ, ভয়, দুশ্চিন্তা, শত্রুর আশঙ্কা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করার উদ্দেশ্যে এটি পড়া যায়। তবে শুধু মুখে পাঠ করাই নয়, এর অর্থ বুঝে আল্লাহর ওপর আন্তরিকভাবে নির্ভর করাই মূল বিষয়।
মুমিনের জীবনে নানা ধরনের সংকট আসতে পারে। এমন সময়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্যের ওপর আস্থা রাখা এবং প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল’ সেই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করে।
৩
৪ মন্তব্য