সহকারী শিক্ষক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
চতুর্থ শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
Class 4 (চতুর্থ শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় )
Ghagotia Chala Junior Model School
পরিক্ষার খাতায় লিখার সময় অবশ্যই প্রশ্ন সহ উত্তর লিখতে হবে এবং প্রতিটা উত্তর শেষ করে ফাঁকা রাখতে হবে।
উদাহরণ : ১। তোমার নাম কি? ২। তোমার বয়স কতো?
☞১। উত্তর : আমার নাম মুহাম্মদ তালহা। ↑↓
←↑↓→ ২। আমার বয়স ১৪ বছর।
[While writing in the examination booklet, the answers must be written along with the questions and blank should be left at the end of each answer.
Example: 1. what is your name 2. how old are you
☞1. Answer: My name is Muhammad Talha. ↑↓
←↓↑→2. I am 14 years old.]
★ এসাইনমেন্ট ভিত্তিক (পড়াশোনা)
অধ্যায় -১৪ (আমাদের ইতিহাস)
অল্প কথায় উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. বাংলার প্রাচীন যুগের একজন রাজার নাম লেখো।
উত্তর: বাংলার প্রাচীন যুগের একজন রাজা হলেন শশাংক।
প্রশ্ন-২. কোন শতাব্দীতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়? উত্তর: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন-৩, বাংলার মধ্যযুগের একজন শাসকের নাম লেখো।
উত্তর: বাংলার মধ্যযুগের একজন শাসক হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ্।
প্রশ্ন-৪. কোন শতাব্দী থেকে বাংলার সাহিত্যচর্চা বিকশিত হয়?
উত্তর: চতুর্দশ শতাব্দী থেকে বাংলার সাহিত্যচর্চা বিকশিত হয়।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
১. সপ্তম শতকে বাংলা রাজত্ব করেন- রাজা শশাংক।
২. বাংলার স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রেখেছিলেন- রাজা শশাংক।
৩. রাজা শশাংকের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ।
৪. রাজা গোপাল বাংলার সিংহাসনে বসেন- অষ্টম শতকে।
৫. পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা- রাজা গোপাল।
৬. পাল রাজবংশ বাংলায় রাজত্ব করেছে- প্রায় ৪০০ বছর।
৭. দ্বাদশ শতকে বাংলায় রাজত্ব করেন- রাজা লক্ষণ সেন।
৮. রাজা লক্ষণ সেন ছিলেন- সেন রাজবংশের চতুর্থ রাজা।
৯. বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী
Page 2
১০. প্রাচীন বাংলায় মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত- নাপিত, কামার, কুমার, ধোপা, মুচি ইত্যাদি সনাতন পেশার মাধ্যমে।
১১. প্রাচীন বাংলায় প্রধান ধর্ম ছিল- হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম।
১২. প্রাচীন বাংলায় প্রধান যানবাহন ছিল- নৌকা, গরুর গাড়ি, পালকি ইত্যাদি।
১৩. প্রাচীন বাংলায় বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল- ভাত।
১৪. প্রাচীন বাংলার মানুষের প্রধান পেশা ছিল- কৃষিকাজ।
১৫. প্রাচীন বাংলায় প্রধান ফসল ছিল- ধান ও আখ।
১৬. ইলিয়াস শাহী বংশের শাসনের সূচনা করেন- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
১৭. বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন- ঈসা খাঁ।
১৮. ঈসা খাঁ ছিলেন- সোনারগাঁও-এর জমিদার।
১৯.বাংলার স্বাধীনতার জন্য মোগল সম্রাট আকবরের সাথে যুদ্ধ করেন- ঈসা খাঁ।.
২০. শায়েস্তা খানের আমলে পাওয়া যেত- টাকায় আট মণ চাল।
২১. মধ্যযুগের মুসলমান শাসকদের আনুকূল্যে বিকশিত হয়- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২২. সুতার তৈরি মসলিন ও রেশমের কাপড় খুব বিখ্যাত ছিল- মধ্যযুগের বাংলায়।
২৩. মধ্যযুগে বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত ছিল- চট্টগ্রাম।
২৪. মধ্যযুগে জমিদাররা বাংলার স্বাধীনতার জন্য মোগলদের সাথে লড়াই করেছিলেন। এদেরকে কী বলা হতো?
উত্তর: মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা জমিদারদের 'বারো ভূঁইয়া' বলা হতো।
প্রশ্ন-২৫. বিদ্যালয়ের বার্ষিক শিক্ষা সফরে আনিস ও তার বন্ধুরা সোনারগাঁও বেড়াতে গেল। মধ্যযুগে এ জায়গার জমিদার ছিলেন কে?
উত্তর : ঈসা খাঁ।
প্রশ্ন-২৬।শায়েস্তা খানের দুটি কৃতিত্ব উল্লেখ করো।
উত্তর:শায়েস্তা খানের দুটি কৃতিত্ব হলো- জিনিসপত্রের দাম কম রাখা ও বাংলা অঞ্চল থেকে মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করা।
প্রশ্ন-২৭।. লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
[মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।]
উত্তর: লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বখতিয়ার খিলজী বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
প্রশ্ন-২৮।. প্রাচীন যুগের অনেক রাজা এই বাংলা শাসন করেন। প্রাচীন যুগের দুই জন রাজার নাম লেখো।
উত্তর: প্রাচীন যুগের দুই জন রাজা হলেন- রাজা শশাংক ও রাজা গোপাল।
প্রশ্ন-২৯।. প্রাচীন যুগে বিনোদনের প্রধান উপাদান কী কী ছিল?
[পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর।]
উত্তর: প্রাচীন যুগে বিনোদনের প্রধান উপাদান ছিল নাচ, 'গান, পাশা, দাবা ও কুস্তি খেলা।
বিভিন্ন রাজার সাথে তাদের শাসনকালের মিল করো।
উত্তর: সপ্তম শতক- শশাংক
অষ্টম শতক- গোপাল
দ্বাদশ শতক - লক্ষণ সেন
প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. মধ্যযুগে বাংলার ধর্মীয় আচার-আচরণের বিবরণ দাও।
উত্তর: মধ্যযুগে বাংলায় মুসলিমরা মসজিদে নামাজ আদায় করা, রোজা রাখা, ঈদ, শব-এ-বরাত পালনসহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করতেন। অন্যদিকে হিন্দুরা নানা রকম পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধপূর্ণিমা, মাঘীপূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতেন। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষরাও তাদের ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান পালন করতেন।
Page 3
বিস্তারিত : মধ্যযুগে বাংলার সমাজব্যবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান এই দুইটি ধর্মের প্রভাব বিদ্যমান ছিল । বস্তুত এই দুই ধর্মকে কেন্দ্র করেই মধ্যযুগে বাংলার সামাজিক রীতি-নীতি গড়ে উঠেছিল ।
মুসলমান সমাজ ও সংস্কৃতি:
মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান শাসনকালে সুলতান ছিলেন সমাজ জীবনে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ।মুসলমান সমাজ জীবনে সুলতানকে কতকগুলো বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হতো। জুমা এবং ঈদের নামাজে খুতবা পাঠ মুসলমান শাসকের একটি বিশেষ কর্তব্য ছিল। তাঁকে মুসলমান সমাজের নেতা হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হতো । মুসলমানদের ঐক্য ও ধর্মীয় চেতনা প্রসারের জন্য শাসক নিজ নিজ রাজ্যে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ্ ইত্যাদি নির্মাণ করতেন। মুসলমান শাসকরা জমকালো প্রাসাদে বাস করতেন। তাঁদের রাজধানীও নানারকম মনোমুগ্ধকর অট্টালিকায় সুসজ্জিত থাকত । ঐশ্বর্য ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও রাজদরবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের সমাবেশ । শাসকগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতির উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান সমাজ ব্যবস্থায় উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন – এই তিনটি পৃথক শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল। সৈয়দ, -- উলেমা প্রমুখ শ্রেণি সমাজে যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিল । ধর্মপরায়ণ ও শিক্ষিত ব্যক্তিগণকে জনগণ যথেষ্ট শ্রদ্ধা করত। মুসলমান শাসকগণও তাঁদের বিশেষ শ্রদ্ধা করতেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে ভাতা এবং জমি বরাদ্দ করা হতো। উলেমাগণ ইসলামি শিক্ষায় অভিজ্ঞ হতেন । তাঁদের মধ্য থেকে কাজি, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ধর্মবিষয়ক অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করা হতো । শেখগণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে জনগণকে শিক্ষা দিতেন। মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান সমাজের অগ্রগতির ক্ষেত্রে তাঁদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
মধ্যযুগে বাংলার মুসলমান সমাজে একটি অভিজাত সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল । যোগ্যতা, প্রতিভা ও জ্ঞানের দ্বারা তারা নিজেদের সাধারণ মানুষের তুলনায় একটি আলাদা শ্রেণি হিসেবে গড়ে তুলেছিল । যেকোনো ব্যক্তি তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দ্বারা রাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ পদে বসতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ও সুবাদার মুর্শিদ কুলি খানের দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য । অবশ্য পরবর্তী সময়ে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে। উত্তরাধিকার সূত্রে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি পদ লাভের নীতি প্রচলিত হয় । এ যুগে সামরিক ও বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়ে সরকারি অভিজাত শ্রেণি গড়ে উঠেছিল। নিম্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সৃষ্টি হয় । কৃষক, তাঁতি এবং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণি নিয়ে তৃতীয় শ্রেণি গঠিত ছিল। কৃষকদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু । কতকগুলো পেশা মুসলমানদের জন্য একচেটিয়া ছিল ।
মুসলমান সমাজে কতকগুলো সামাজিক উৎসব পালন করা হতো। এগুলো এখনও মুসলমানরা পালন করে । মুসলমানরা নবজাত শিশুর নামকরণকে কেন্দ্র করে ‘আকিকা' নামক বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করে। ‘খতনা’ মুসলমান সমাজের একটি অতি পরিচিত সামাজিক প্রথা ছিল । বিয়ে মুসলমান সমাজের একটি বিশেষ উৎসবমুখর অনুষ্ঠান । মৌলবিরা মুসলমান রীতি-নীতি অনুযায়ী বিবাহকার্য সম্পন্ন করে থাকেন। মৃতদেহ সৎকার এবং মৃতের উদ্দেশে বিভিন্ন সময়ে মুসলমানরা কতকগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি-নীতি পালন করে। তারা মৃতদেহকে কবর দেয় এবং তার আত্মার শান্তির জন্য কোরআন পাঠ করে এবং মিলাদ পড়ায় । ধর্মীয় উৎসবাদি এবং বিয়ে-শাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে মৌলবিদের উপস্থিতি অপরিহার্য । মুসলমান সমাজে সুফি ও দরবেশ নামে পরিচিত পির বা ফকির সম্প্রদায়ের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য সাধারণ মানুষ তাদের দেয়া তাবিজ-কবজ ব্যবহার করত । বাংলার বিশাল সংখ্যক হিন্দু ও বৌদ্ধ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা অনেকেই তাদের পূর্ববর্তী ধর্মের কোনো কোনো বিশ্বাস ও সংস্কার ত্যাগ করতে পারেনি। এভাবে হিন্দু সমাজের ‘গুরুবাদ’ মুসলমান সমাজে প্রবেশ করে । পিরের দরগায় সন্ধ্যায় আলো জ্বালানো এবং শিরনি প্রদান অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা ছিল ।
অভিজাত মুসলমানরা ছিল ভোজনবিলাসী।তাদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন মাছ-মাংসের সঙ্গে আচারের নামও পাওয়া যায় । এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয় ।
Page 4
ভাত,মাছ, শাক-সবজি বাঙালি মুসলমানদের প্রতিদিনের খাদ্য ছিল। খাদ্য হিসেবে রুটির ব্যবহারের কথাও জানা যায়। খিচুড়ি তখনকার সমাজে একটি প্রিয় খাদ্য ছিল । অভিজাত মুসলমানরা পায়জামা ও গোল গলাবন্ধসহ জামা পরত। তাদের মাথায় থাকত
পাগড়ি, পায়ে থাকত রেশম ও সোনার সুতার কাজ করা চামড়ার জুতা । তারা তাদের আঙ্গুলে অনেক মণি-মুক্তা বসানো আংটি ব্যবহার করত । মোল্লা ও মৌলবিরাও পায়জামা, জামা এবং টুপি ব্যবহার করত। গরিব বা নিম্ন শ্রেণির মুসলমানরা লুঙ্গি ও টুপি পরত। অভিজাত মহিলারা কামিজ ও সালোয়ার ব্যবহার করত । তারা প্রসাধনী ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিল না । তারা বাহু ও কব্জিতে সোনার অলঙ্কার এবং আঙ্গুলে সোনার আংটি পরত ।
এ যুগের প্রথম দিকে চারিত্রিক গুণাবলি ও সততার জন্য মুসলমানরা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল । পরবর্তী সময়ে তারা ধর্মীয় আচরণের ক্ষেত্রে কঠোর ও নৈতিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে মুসলমান সমাজে দুর্নীতি ও অনৈসলামিক কার্যাবলির অনুপ্রবেশ ঘটে। সামাজিক জীবনে মুসলমানদের নৈতিক অধঃপতন শাসন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করেছিল । বাংলার নবাবি শাসনের অবসানের পেছনে শাসকবর্গের নৈতিক অবনতি যথেষ্ট দায়ী ছিল।
হিন্দু সমাজ ও সংস্কৃতি:
মধ্যযুগে বাংলার মুসলমানদের প্রভাব, রীতিনীতি ও ভাবধারা হিন্দু সমাজে অনুপ্রবেশ করেছিল । তথাপি হিন্দু সমাজের মূল নীতিগুলো এবং সাধারণ সমাজ ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ যুগেও হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত ছিল । বিভিন্ন পেশাকে ভিত্তি করেই এ প্রথার সৃষ্টি। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র সমাজে এ চারটি উল্লেখযোগ্য বর্ণ ছিল । এ চার বর্ণের মানুষের মধ্যে সামাজিক মেলামেশা ছিল না। বর্ণপ্রথা কঠোরভাবে পালিত হতো । ফলে এক বর্ণের সঙ্গে অন্য বর্ণের বিয়ে বা আদান-প্রদান নিষিদ্ধ ছিল । ধর্মকর্মের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের একক কর্তৃত্ব ছিল।
মধ্যযুগের বাংলায় জন্ম, বিয়ে ও মৃত্যু উপলক্ষে হিন্দুরা বিভিন্ন সামাজিক রীতি-নীতি পালন করতো । তখনকার যুগের প্রচলিত অনুষ্ঠানগুলো বর্তমানকালেও রক্ষণশীল হিন্দু সমাজে লক্ষ্য করা যায়। সন্তান জন্মের পর তাকে গঙ্গাজল দিয়ে ধৌত করা হতো । ষষ্ঠ দিনে ষষ্ঠী পূজার আয়োজন করা হতো। ব্রাহ্মণ শিশুর কোষ্ঠী গণনা করতেন । এক মাস পর বালক উত্থান পর্ব পালন করা হতো। ছয় মাসের সময় করা হতো অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা । অধিকাংশ হিন্দু রমণী নিয়মিত উপবাস ও একাদশী পালন করতো।
হিন্দু সমাজে বিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক অনুষ্ঠান। বাংলায় হিন্দু সমাজে একান্নবর্তী পরিবারই ছিল অধিক । পিতার মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠ পুত্রই সংসারের দায়িত্ব গ্রহণ করত। স্বামীভক্তি হিন্দু সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল।
এ সময়ে বাংলার হিন্দু সমাজে নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না। স্বামী স্ত্রীকে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করত। কন্যা মাতা-পিতার ওপর, স্ত্রী স্বামীর ওপর, বিধবারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পত্তির ওপর স্ত্রীদের কোনো অধিকার ছিল না। সমাজে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল । তবে বাংলায় সর্বত্র এ প্রথা বাধ্যতামূলক ছিল না । তথাপি এ যুগে অনেক নারী নিজ যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিজেদের স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত করতে সমর্থ হয়েছিল । সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এ যুগের নারীদের কৃতিত্ব কম ছিল না । বিত্তশালী পরিবারে নিয়মিত শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা হতো । বীণা, তানপুরা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে এ যুগের নারীরা পারদর্শী ছিল ।
পোশাক ও অলঙ্কার হিসেবে মেয়েরা পাট ও তুলার কাপড়, আংটি, হার, নাকপাশা, দুল, সোনার ব্রেসলেট, সোনার শাঁখা, কানবালা, নথ, অনন্ত, বাজু প্রভৃতি ব্যবহার করতো। বিত্তবান নারীরা অলঙ্কার ব্যবহার করতো। এ সকল অলঙ্কার সোনা, রুপা, হাতির দাঁত দ্বারা নির্মিত হতো এবং মণিমাণিক্য খচিত থাকতো । বিবাহিত স্ত্রীলোকেরা প্রসাধনী হিসেবে সিঁদুর, কাজল, চন্দন মিশ্রিত কস্তুরী প্রভৃতি ব্যবহার করতো। অনেকে পায়ে নূপুর পরতো। কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে এ সকল অলঙ্কার ও প্রসাধনী ব্যবহার করা হতো। সাধারণ মেয়েরা নিজেদের গৃহে সাধারণ বেশভূষায় সজ্জিত থাকতো। শাড়ি তাদের নিত্যদিনের পোশাক ছিল। পুরুষদের সাধারণ পোশাক ছিল ধুতি । অভিজাত এবং শিক্ষিত
Page 5
ব্যক্তিরা চাদর ও পাগড়ি ব্যবহার করতো। ধনী ব্যক্তিরা বিশেষত ব্যবসায়ীরা গলায় হার, কানে দুল এবং আঙ্গুলে আংটি পরতো।
মধ্যযুগের বাংলার হিন্দু সমাজের খাদ্যের সঙ্গে বর্তমান হিন্দু সমাজের খাদ্যের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই ।
ভাত ছিল প্রধান খাদ্য। এছাড়া খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। চাল থেকে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠাও জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। বাঙালি ব্রাহ্মণরা আমিষ খেত । তখন সকল প্রকার মাছ পাওয়া যেত । পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল । তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, কচু উৎপন্ন
হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, নারকেল, ইক্ষু পাওয়া যেত। উল্লেখ্য, তখনকার সময়ে হিন্দু-মুসলমানদের খাদ্য তালিকার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য ছিল না। তবে গরুর মাংস খাওয়া হিন্দুদের নিকট চরম অধর্ম হিসেবে বিবেচিত হতো ।
হিন্দু সমাজে কৌলীন্য প্রথা প্রচলিত ছিল । ফলে সমাজে নানা অনাচার অনুপ্রবেশ করেছিল । ব্রাহ্মণ, বৈদ্য ও কায়স্থদের মধ্যে এ প্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল । কৌলীন্য প্রথার ফলে সমাজে বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত হয় । মধ্যযুগে বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান সমাজ জীবনে কতকগুলো সামাজিক বিশ্বাস জন্মলাভ করেছিল । জ্যোতিষী পাঁজি-পুঁথি ঘেঁটে শুভক্ষণ নির্ধারণ করত। এ সময় জনগণ ইন্দ্রজাল এবং জাদুবিদ্যায় বিশ্বাস করতো।
প্রশ্ন-২. মধ্যযুগে বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের বিবরণ দাও। উত্তর: মধ্যযুগের বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষিভিত্তিক। ধানসহ অনেক ফসল উৎপন্ন হতো। এছাড়া তখন অতি সূক্ষ্ম সুতার তৈরি মসলিন এবং রেশমের কাপড় খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। হাতির দাঁতের শিল্প ও কাঠের কাজে বাংলার শিল্পীরা পারদর্শী ছিলেন। মধ্যযুগে আমদানি থেকে রপ্তানি বাণিজ্য বেশি হতো। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি হতো চাল, চিনি, আদা, হলুদ, মসলিন এবং অন্যান্য নানা ধরনের কাপড়। বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম সুপরিচিত ছিল।
বিস্তারিত : মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ড. অতুল সুর তার “বাংলায় ও বাঙালীর বিবর্তন” বইয়ে লিখেছেন :- আর্থিক ঋদ্ধির জন্য বাংলায়কে ‘সোনার বাংলায়’ বলা হত। মধ্যযুগের বৈদেশিক পর্যটকরা বাংলায়দেশকে ভূস্বর্গ বলে অভিহিত করে গেছেন। সমসাময়িক বাংলা সাহিত্য থেকেও আমরা বাংলায়র বিপুল ঐশ্বর্যের কথা জানতে পারি। বাংলায়র আর্থিক সম্পদ প্রতিষ্ঠিত ছিল তার ক্বষি ও শিল্পের ওপর। নদীমাতৃক বঙ্গভূমি উৎপন্ন করত প্রচুর পরিমাণ কৃষিজাত পণ্য। এই সকল কৃষিজাত পণ্য বাংলায়র নিজস্ব চাহিদা মিটিয়েও বিক্রীত হত দেশদেশান্তরের হাটে। কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে প্রধান ছিল চাউল।
সেন রাজবংশ
অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে ছিল তুলা, ইক্ষু, তৈল বীজ, সুপারি, আদা, লঙ্কা ও নানাবিধ ফল। পরে পাট ও নীলের চাষও প্রভূত পরিমাণে হত। উৎপন্ন পণ্যের পাঁচ শতাংশ রাজস্ব হিসাবে রাজকোষে জমা দিতে হত। শতকরা ৯০ জন লোক কৃষিকর্মে নিযুক্ত থাকত। কৃষিকে হীনকর্ম বলে কেউ মনে করত না। এমনকি ব্রাহ্মণরাও কৃষিকর্ম করতে লজ্জাবোধ করত না। চণ্ডীমঙ্গলের রচয়িতা কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম লিখে গিয়েছেন যে, তাঁর সাত . পুরুষ কৃষিকর্মে নিযুক্ত ছিলেন।
বাংলায়য় মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থা
[ মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থা ]
শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে প্রধান ছিল কার্পাস ও রেশমজাত বন্ধ। শূক্ষ্ম ৰস্তু প্রস্তুতের জন্য বাংলায়র প্রসিদ্ধি ছিল যুগ যুগ ধরে।গাজীপুরের কাপাসিয়া প্রাচীন এ জনপদের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। বাঙালির হারানো ঐতিহ্য মসলিন কাপড়ের জন্য মিহি আঁশের কার্পাস তুলার উৎপাদন ও বিক্রির অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল এটি।দেশ-বিদেশে বাংলায়র ‘মসলিনে’র চাহিদা ছিল। এই জাতীয় বস্তু এত সূক্ষ্ম হত যে একটি ছোট ন্যাধারের মধ্যে বিশ গজ কাপড় ভরতি করা যেত। বাংলায়র শর্করার প্রসিদ্ধি ও সর্বত্র ছিল। এ ছাড়া বাংলায়য় প্রস্তুত হত শঙ্খজাত নানারূপ পদার্থ, লৌহ, কাগজ, লাক্ষা, বারুদ ও বরফ। বীরভূমের নানা স্থানে ছিল লৌহপিণ্ডের আকর। তা থেকে লৌহ ও ইস্পাত তৈরি হত।
Page 6
বীরভূমের যে সকল স্থানে লৌহ ও ইস্পাতের কারখানা ছিল, সেগুলি হচ্ছে দামরা, ময়সারা, দেওচা ও মহম্মদনগর। এই সকল লোহা দিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পাদ পর্যন্ত কলকাতা ও কাশিম বাজারে কামান তৈরি হত। বলা বাহুল্য, এই লোহা ও ইস্পাত প্রস্তুতের জন্য বীরভূমের কারিকরগণ নিজস্ব
প্রণালী অবলম্বন করত। বরফ তৈরির জন্য ও বাংলায়র নিজস্ব প্রণালী ছিল। শীতকালে মাটিতে গর্ত করে, তার মধ্যে গরম জল ভরতি করে সমস্ত রাত্রি রাখা হত। প্রভাতে তা বরফে পরিণত হত।
এ ছাড়া চিনি তৈরির জন্যও বাংলায়র নিজস্ব পদ্ধতি ছিল। এই পদ্ধতি অনুযায়ী যে চিনি তৈরি হত তা ধবধবে সাদা হত। এই চিনি দেশের চাহিদ। মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হত। ( এই পদ্ধতি সম্বন্ধে যারা সম্যক অবগত হতে চান, তাঁরা বর্তমান লেখকের ‘ফোক এলিমেন্টস ইন বেঙ্গলি লাইফ’ পুস্তক দেখুন)।
বখতিয়ারের মূল বাহিনীর আক্রমণে রাজা লক্ষণ সেনের বাহিনীর চূড়ান্ত পতন ঘটে
বাংলায়র লোকদের বিশেষরূপে পারদর্শিতা ছিল নৌকা নির্মাণে। বাংলায়র নানাস্থানে নৌকা-নির্মাণের কেন্দ্র ছিল, বিশেষ করে ঢাকায়। কবিকঙ্কণ মুকুন্দ রাম তাঁর চণ্ডীমঙ্গলে বলেছেন যে কখনও কখনও নৌকাগুলি ৩০০ গজ লম্বা ও ২০০ গজ চওড়া হত। দ্বিজ বংশীদাস তাঁর মনসামঙ্গলে ১০০০ গজ লম্বা নৌকার কথাও বলেছেন, তবে সেটা অতিরঞ্জন বলেই মনে হয়। বাংলায়র নিজস্ব তৈরি এরূপ বৃহদাকার নৌকা করেই মনসা ও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যদ্বয়ের নায়করা, যথা— চাঁদ সদাগর, ধনপতি সদাগর ও শ্রীমন্ত সদাগর দূরদূরান্তরে বাণিজ্য করতে যেতেন। মনে রাখতে হবে যে, সে যুগের নাবিকদের দিগ্বদর্শন যন্ত্র ছিল না।
বংশীদাসের মনসামঙ্গল কাব্য থেকে আমরা জানতে পারি যে, সে যুগের নাবিকরা মাত্র সূর্য ও নক্ষত্রসমূহের অবস্থান লক্ষ্য করেই সাতসমুদ্র তের নদী পাড়ি দিত। তাদের দক্ষতা সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তাদের যে অনেক ঝুঁকি নিতে হত, সেটা বলা বাহুল্য মাত্র। তারা প্রায়ই দস্থ্য দ্বারা আক্রান্ত হত। বিশেষ করে আরবদস্যু দ্বারা আক্রমণের ফলেই তারা পশ্চিমের দেশসমূহের সঙ্গে বাণিজ্য বর্জন করে সিংহল, যবদ্বীপ, মালয় প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে আরম্ভ করেছিল। কিন্তু এই পটভূমিকা ও ষোড়শ শতাব্দী থেকে পরিবর্তিত হয় পর্তুগীজ ও মগ দস্যুদের আক্রমণের ফলে।
বস্তুত ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে বাঙালী বণিকরা আর বাণিজ্য করতে বিদেশ যেতেন না। মোট কথা, বৈদেশিক বাণিজ্যক্ষেত্র থেকে তাঁরা ক্রমশ হটে গিয়েছিলেন। হটে যাবার প্রধান কারণ ছিল মগ ও পর্তুগীজ দস্যু দ্বারা বন্দুক ও কামানের ব্যবহার। বাঙালী বণিকদের তা ছিল না। সুতরাং বাঙালীরা আর এই সকল বৈদেশিক দস্যুদের সঙ্গে পেরে উঠলেন না। তাঁরা বিদেশ যাত্রার ঝুকি পরিহার করে বাণিজ্যক্ষেত্রে মধ্যগের কাজ করা শুরু করে দিলেন। নবাগত বিদেশী বণিকদেরই তাঁরা মাল বেচতেন। এর ফলে দেশের মধ্যে গড়ে উঠল কতকগুলি নতুন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সেসব কথা বিশদভাবে আমরা পরে বলব।
মধ্যযুগের পরিব্রাজক ইবন বতুতা [ Ibn Battuta, Scholar and Explorer ]
বস্তুত কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য— এই তিনটির ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল বাঙালীর সমৃদ্ধি। বিশেষ করে লক্ষণীয় ছিল বণিকসমাজের ধনাঢ্যতা। তাদের ধনাঢ্যতার পরিচয় আমরা পাই মনসা ও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যসমূহে। তাদের স্থান ছিল সমাজের শীর্ষদেশে। তাদের আবাস-কেন্দ্র ছিল সপ্তগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে। পরে আমরা দেখব যে এই বণিকসমাজই উত্তরকালে কলকাতা নগরীর পত্তন করেছিল। সপ্তগ্রাম ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে আরও অনেক বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। তাদের অন্যতম হচ্ছে গৌড়, সোনারগাঁ, হুগলী ও চট্টগ্রাম। এ সকল বাণিজ্যিক কেন্দ্রের নাম আমরা সমসাময়িক বৈদেশিক পর্যটকদের লেখনী মারফত জানতে পারি।
ষোড়শ শতাব্দীর পর্যটক বারথেমা, ‘বেঙ্গল’ নামে এক নগরী ও বন্দরের উল্লেখ করেছেন। ষোড়শ শতাব্দীর আর একজন পর্যটক যোয়াও দ্য ব্যারোস গৌড়কে প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখে গিয়েছেন। যে গৌড় নগর নয় মাইল লম্বা ও বিশ লক্ষ লোক দ্বারা অধ্যুষিত ছিল। তিনি আরও বলেছেন যে, গৌড়ের পণ্যসমৃদ্ধির জন্য সেখানে এত লোকের সমাগম হত যে ভিড়
Page 7
ঠেলে নগরের রাস্তা দিয়ে হাঁটা দুষ্কর ছিল। এ ছাড়া তিনি সোনারগাঁ, হুগলী, চট্টগ্রাম, সপ্তগ্রাম, প্রভৃতি বাণিজ্যকেন্দ্রেরও উল্লেখ করেছেন।
ষোড় শতাব্দীর শেষভাগের পর্যটক সীজার ফ্রেডরিক সপ্তগ্রামকেই সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধিশালী বন্দর বলে বর্ণনা করেছেন। এর বিশ বছর পরে র্যালফ, ফীচ সপ্ত গ্রাম এবং চট্টগ্রাম উভয়কেই বাংলায়দেশের বড় বন্দর (Porte Grande) বলে অভিহিত করেছেন। সপ্তদশ শতাব্দীর পর্যটক হ্যামিলটন হুগলী ও
চট্টগ্রামকেই প্রধান বন্দর বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সপ্তগ্রামের কোনও উল্লেখ করেননি। অধিকন্তু তিনি তাণ্ডার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে তাত্তা হুতা ও স্মৃতিবস্ত্রের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।
ইবনে বতুতার চোখে বাংলাদেশ
এককালে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলার যে অসাধারণ প্রতাপ ছিল, তা হারাবার পর বাংলা অভ্যন্তরীণ হাটে পরিণত হয়েছিল। কেবল নবাগত বিদেশীরাই যে বাংলার হাটে মাল কিনত, তা নয়। ভারতের নানাস্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বাংলায়র হাটে মাল কিনতে আসত। যারা বাংলার হাটে কেনাবেচা করতে আসত, তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী, মূলতানী, আফগান, পাঠান, শেখ, পগেয়া (যাদের নাম থেকে বড়বাজারের পগেয়াপটির নাম হয়েছে ), ভুটিয়া ও সন্ন্যাসী।
সন্ন্যাসীরা যে কারা, তা আমরা সঠিক জানি না। মনে হয় তারা হিমালয়ের সাহুদেশ থেকে চন্দনকাঠ, মালার গুটি (beads) ও ভেষজ গাছগাছড়া বাংলায়য় বেচতে আসত। তার বিনিময়ে তারা বাংলা থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যেত। হলওয়েলের এক বিবরণী থেকে আমরা জানতে পারি যে, দিল্লী ও আগরা থেকে পগেয়ারা বর্ধমানে এসে প্রচুর পরিমাণ বস্ত্র, সীসা, তামা, টিন ও লঙ্কা কিনে নিয়ে যেত। আর তার পরিবর্তে তারা বাংলাদেশে বেঁচে যেত আফিম ও ঘোড়া। অনুরূপভাবে কাশ্মীরের লোকরা বাংলা থেকে কিনে নিয়ে যেত লবণ, চামড়া, নীল, তামাক, চিনি, মালদার সাটিন কাপড় ও বহুমূল্য রত্নসমূহ। এগুলি তারা বেচত নেপাল ও তিব্বতের লোকদের কাছে।
বাংলা বাহিরের ব্যবসায়ীরা যেমন বাংলায় আসত,বাংলার ব্যবসায়ীরাও তেমনই বাংলার বাহিরে যেত। ১৭৭৩ খ্রীস্টাব্দে জয়নারায়ণ কর্তৃক রচিত “হরিলীলা’ নামক এক বাংলা বই থেকে আমরা জানতে পারি যে বাংলায়র একজন বণিক ব্যবসা উপলক্ষে হস্তিনাপুর, কর্ণাট, কলিঙ্গ, গুজর, বারাণসী, মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর, ভোজ, পঞ্চাল, কম্বোজ, মগধ, জয়ন্তী, দ্রাবিড়, নেপাল, কাঞ্চী, অযোধ্যা, অবস্তী, মথুরা, কাম্পিলা, মায়াপুরী, দ্বারাবতী, চীন, মহাচীন ও কামরূপ প্রভৃতি দেশে গিয়েছিলেন।
নালন্দা বিহার
যারা বাণিজ্যে লিপ্ত থাকত, তারা বেশ দুপয়সা রোজগার করে বড়লোক হত। বস্তুত তাদের ধনদৌলত প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছিল। তার পরিচয় আমরা পাই বাংলা সাহিত্যে ও বৈদেশিক পর্যটকদের বিবরণীতে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে একদল চৈনিক দ্রুত বাংলায়দেশে এসেছিলেন। তাঁদের বিবরণী থেকে আমরা তৎকালীন বাংলাদেশের ধনাঢ্যতার এক বিশেষ পরিচয় পাই। খুব জাঁকজমক করে তাদের এক বিশেষ চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় আহার্যের ভোজে আপ্যায়িত করা হয়েছিল।
ভোচ্ছান্তে তাঁদের প্রত্যেককে উপহার দেওয়া হয়েছিল এক একটি স্বর্ণনির্মিত বাটি, পিকদানী, সুরাপাত্র ও কটিবদ্ধ। তাদের সহচরদের দেওয়া হয়েছিল রৌপ্যনির্মিত উক্ত সামগ্রীসমূহ এবং ওঁদের সঙ্গে যে সকল সৈন্যসামন্ত এসেছিল, তাদের দেওয়া হয়েছিল বহু রৌপ্যমুদ্রা। তাঁরা লিখে গেছেন যে বাংলায় কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী দেশ। আর্থিক সম্পদের এই তিন উৎস থেকে বাংলায় প্রচুর অর্থ অর্জন করত।
লোকদের পোশাক-আশাক ও অলঙ্কার দেখে তাঁরা আশ্চর্যান্বিত হয়ে গিয়েছিলেন। গৌড় ও পূর্ব বাংলায়র ধনীসমাজের ঐশ্বর্যের কথা ‘তারিখ-ই-ফিরিস্তা’ ও ‘রিয়াজ-উস সালাতিন’-এও উল্লেখিত হয়েছে। এই দুই গ্রন্থে বলা হয়েছে যে গৌড় ও পূর্ব বাংলায়র ধনী লোকরা সোনার থালা বাটিতে আহার করে। ষোড়শ শতাব্দীতে গৌড় যখন লুণ্ঠিত হয়েছিল, তখন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ লুণ্ঠনকারীদের কাছ থেকে ১৩০০ সোনার থালা ও প্রচুর অর্থ ও অলঙ্কার উদ্ধার করেছিলেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে ফিরিস্তাও মন্তব্য করেছেন যে কোনও বড়লোকের ঘরে কত সংখ্যক সোনার থালা-বাসন আছে সেটাই ছিল তার ধনাঢ্যতার মাপকাঠি। সমাজে তার মর্যাদা নির্ভর করত তার ওপর।
বিশ্বের সেরা পরিব্রাজক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে বতুতার নাম
Page 8
মধ্যযুগে বাংলাদেশের লোকদের জীবনযাত্রা-প্রণালী যে সচ্ছল ছিল, তা সে যুগের জিনিষপত্রের দাম লক্ষ্য করলে বুঝতে পারা যাবে। চতুর্দশ শতাব্দীতে আফ্রিকা-দেশ থেকে ইবন বতুতা নামে একজন পর্যটক বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি তখনকার পণ্যমূল্যের যে তালিকা দিয়ে গিয়েছেন। হচ্ছে ( বর্তমানের নয়াপয়সায় দাম ) – চাউল এক মণ ১২ পয়সা, ঘি এক মণ ১৪৫ পয়সা, চিনি এক মণ ১৪৫
পয়সা, তিল তৈল এক মণ ৭৩ পয়সা, সূক্ষ্ম কাপড় ১৫ গঙ্গ ২০০ পয়সা, দুগ্ধবতী গাভী একটি ৩০০ পয়সা, হৃষ্টপুষ্ট মুরগী ১২টি ২০ পয়সা, ও ভেড়া একটি ২৫ পয়সা।
ইবন বতুতা একজন বাঙালী মুসলমানের কাছ থেকে শুনেছিলেন যে, তার সংসারের (নিজের, স্ত্রীর ও একজন ভৃত্যের ) বাৎসরিক থাই-খরচ ছিল মাত্র সাত টাকা ।
ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত কবিকঙ্কণ-চণ্ডীতেও জিনিসপত্রের অনুরূপ স্থলভতার কথা উল্লেখিত হয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে বার্নিয়ারও বলেছেন যে বাংলায়দেশের চাউল, ঘি, তরিতরকারি ইত্যাদির দাম নামমাত্র। ১৭২৯ খ্রীস্টাব্দের এক মূল্যতালিকায় আমরা মুর্শিদাবাদে প্রচলিত যে দাম পাই, তা থেকে জানতে পারি যে প্রতি টাকায় মুর্শিদাবাদে পাওয়া যেত সরু চাউল ১ মণ ১০ সের থেকে ১ মণ ৩৫ সের পর্যন্ত, দেশী চাউল ৪ মণ পঁচিশ সের থেকে ৭ মণ ২০ সের, গম ৩ মণ থেকে ৩ মণ ৩০ সের, তেল ২১ সের থেকে ২৪ সের, ঘি ১০ সের ৮ ঘটাক থেকে ১১ সের ৪ ছটাক ও তুলা ২ মণ থেকে ২ মণ ৩০ সের। ১৯৭৮ খ্রীস্টাব্দে সাহেবদের খাদ্যসামগ্রীর দাম ছিল
একটা গোটা ভেড়া দু’টাকা, একটা বাচ্চা ভেড়া এক টাকা, ছয়টা ভাল মুরগী বা হাঁস এক টাকা, এক পাউণ্ড মাথন আট আনা, ১২ পাউও রুটি এক টাকা, ১২ বোতল ক্লারেট মদ ৬০ টাকা ইত্যাদি। কিন্তু এই প্রতুলতার মধ্যেও ছিল নিম্নকোটির লোকদের দারিদ্র্য। দারিদ্র্যের কারণ ছিল সরকারী কর্মচারীদের অত্যাচার ও জুলুম। কবিকঙ্কণ-চণ্ডীর রচয়িতা মুকুন্দরাম বলেছেন যে যদিও ছয়-সাত পুরুষ ধরে তাঁরা দামু্যা গ্রামে বাস করে এসেছিলেন, তথাপি ডিহিদার মাহমুদের অত্যাচারে তাঁরা ভিটাচ্যুত হয়ে ভিক্ষা বৃত্তি অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অনুরূপ দুর্দশার বর্ণনা ক্ষেমানন্দ কেতকা দাসও দিয়ে গিয়েছেন। একজন সমসাময়িক বৈদেশিক পর্যটক (মানরিক) লিখে গিয়েছেন যে, রাজস্ব দিতে না পারলে, যে কোনও হিন্দুর স্ত্রী ও ছেলেপুলেদের নীলাম করে বেচা হত।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি
এ ছাড়া, সরকারী কর্মচারীরা যখন-তখন কৃষক রমণীদের ধর্ষণ করত। এর কোনও প্রতিকার ছিল না। তার ওপর ছিল যুদ্ধ বিগ্রহের সময় সৈন্যগণের অত্যাচার ও বাংলায়র দক্ষিণ অংশের উপকূলভাগে মগ ও পর্তুগীজ দস্যুদের উপদ্রব। তারা যে মাত্র লুটপাট করত ও গ্রামকে গ্রাম পুড়িয়ে দিত তা নয়, মেয়েদের ধর্ষণ করত ও অসংখ্য নরনারী ও শিশুদের ধরে নিয়ে গিয়ে বিদেশের দাসদাসীর হাটে বেচে দিত। এ ছাড়া, দুঃসময়ে ও দুর্ভিক্ষের সময় তারা তাদের স্ত্রী ও পুত্র-কন্যা হাটে বেচে দিত।
দাসদাসী-কেনাবেচা মধ্যযুগে বিশেষভাবে প্রচলিত ছিল। সোনার থালা-বাসনের মতো দাসদাসীর সংখ্যাও ছিল সামাজিক মর্যাদার একটা মাপকাঠি। এসব দাসদাসীর ওপর গৃহপতিরই মালিকানা স্বত্ত্ব থাকত। গৃহপত্তির অধীনে থেকে তারা গৃহপতির ভূমিকর্ষণ ও গৃহস্থালির কাজকর্ম করত। কখনও কখনও মালিকরা তাদের দাসীগণকে উপপত্নী হিসাবেও ব্যবহার করত। নবাব, সুলতান ও বাদশাহদের হারেমে এরকম হাজার হাজার দাসী থাকত। সাধারণত এ সকল দাসীদের হাট থেকে কেনা হত। অনেক সময় দামদস্বর করে মুখের কথাতেই তাদের কেনা হত, তবে ক্ষেত্রবিশেষে দলিলপত্রও তৈরি করে নেওয়া হত। এরূপ দলিলপত্রকে গৌড়ীয়-শাতিকা-পত্র, বহীখাতা অকরার পত্র ইত্যাদি বলা হত।
দাসদাসী রাখা ঋগ্বেদের আমল থেকেই ভারতে প্রচলিত ছিল। তবে মধ্য যুগে এই প্রথা বিশেষ প্রসার লাভ করেছিল। হিন্দুসমাজে দাসদাসী কেনা ও রাখা যে অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যেই নিবদ্ধ ছিল, তা নয়। চাষাভূষার ঘরেও দাসদাসী থাকত। সাধারণত লোক দাসীদের সঙ্গে মেয়ের মতো আচরণ করত। অনেকে আবার নিজের ছেলের সঙ্গেও কোন দাসীর বিয়ে দিয়ে তাকে পুত্রবধূ করে নিত। তখন সে দাসত্ব থেকে মুক্ত হত। অনেকে আবার যৌনলিপ্সা চরিতার্থ করবার জন্য দাসীদের ব্যবহার করত। এরূপ দাসীদের গর্ভজাত সন্তানদের উত্তরাধিকার সম্পর্কে স্মৃতিতেও নির্দেশ আছে।
Page 9
সেন রাজবংশ
সমসাময়িক দলিলপত্র থেকে আমরা দাসদাসীর মূল্য সম্বন্ধে একটা ধারণা করতে পারি।
Note : দুই হাজার বছরের প্রাচীনতম জনপদ কাপাসিয়া যেখানে খ্রিস্টপূর্ব যুগ হতে কার্পাস তুলার ব্যাপক চাষাবাদ ছিল। মসলিন উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য একটি বৃহৎবাণিজ্য কেন্দ্র। বাণিজ্য ব্যবস্থা গ্রীক প্রাশ্চাত্যের দেশ সমূহে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছিল। নৌপথে সুদূর আরবের সাথে কাপাসিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল বলে। কার্পাস ও রেশমী বস্ত্র প্রাচীন বাংলার অর্থনীতিকে করেছিলো শক্তিশালী।
কাপাসিয়ার ভূমি ও আবহাওয়া তুলা উৎপন্ন হওয়ার বেশ উপযোগী ছিল। পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্পাস তুলা উৎপন্ন হওয়ায় এই অঞ্চলের নাম-ই হয়েছে কাপাসিয়া।
১৬১০ খ্রীস্টাব্দে বাংলার সুবেদার ইসলাম খান মুর্শিদাবাদের রাজমহল হতে বাংলার রাজধানী স্থানান্তরের উদ্দেশে কাপাসিয়ার আসেন। স্থানটি উচু-নীচু বলে তিনি রাজধানী স্থাপন না করে চলে গিয়ে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। কাপাসিয়া অঞ্চল সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ও বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী ছিলো। কাপাসিয়া বাংলাদেশের প্রাচীন এলাকা সমূহের মধ্যে একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এলাকা, যার রয়েছে সুদীর্ঘ প্রাচীন ইতিহাস।
প্রশ্ন-৩, কখন বাংলায় এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত? সে যুগে কোন ধরনের কাপড় অনেক প্রসিদ্ধ ছিল? চারটি বাক্যে উক্ত যুগের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও। [ওয়েল্ফশন ইসলামিয়া একাডেমি]
১+১+৪=৬
উত্তর: মধ্যযুগে মোগল সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
মধ্যযুগে সুতার তৈরি মসলিন এবং রেশমের কাপড় অনেক প্রসিদ্ধ ছিল।
মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে চারটি বাক্য হলো-
১. মধ্যযুগের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক।
২. এ যুগে হাতির দাঁতের শিল্প ও কাঠের কাজে বাংলার শিল্পীরা পারদর্শী ছিলেন।
৩. সে সময় আমদানি থেকে রপ্তানি বাণিজ্য বেশি ছিল।
৪. মধ্যযুগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি হতো চাল, আদা, হলুদ, মসলিন এবং অন্যান্য ধরনের কাপড়।
Note : সুবেদার শায়েস্তা খাঁ
সুবেদার শায়েস্তা খানকে চিনে না বাংলাদেশে এমন লোক খুব কমই আছে। আর শায়েস্তা খানের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় চট করে যে কথাটি চলে আসে সেটা হল 1টাকায় আট মণ চাল। শায়েস্তা খান ছিলেন সম্রাট আলমগীরের মামা। তিনি দুই মেয়াদে বাংলার সুবেদারির দায়িত্ব পালন করেন।
Page 10
প্রথমবার ১৬৬৪ থেকে ১৬৬৭৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। আর দ্বিতীয়বার ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার কৃষি উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। ফলে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পেলে ১ টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। আর একথাটি এখন কোন জিনিসের সস্তায় বিক্রির অবস্থা বুঝানোর জন্য একটা প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অনেক অনলাইন শপ, কোম্পানিও তাদের সর্বোচ্চ ছাড়ের অফারকে প্রচারের সময় ‘শায়েস্তা খাঁর অফার’ এমন টাইটেল ব্যবহার করে থাকে। শায়েস্তা খানের সুদীর্ঘ শাসনকালে বাংলার লোকেরা সুখ-শান্তিতে ছিল। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হয়েছিল। সমসাময়িক ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ারের বিবরণী থেকে শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার প্রাচুর্য, ঐশ্বর্য ও দ্রব্যমূল্যের সুলভতা সম্বন্ধে জানা যায়। এই সময়ে এক টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যেত। এই ঘটনা স্মরণীয় করার জন্য শায়েস্তা খান ঢাকা থেকে চলে যাওয়ার পূর্বে দুর্গের পশ্চিম তোরণ-দ্বার বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ দেন এবং সেখানে লিখিত হয় যে, ভবিষ্যতে যে সুবাদারের আমলে টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যাবে, তিনি ব্যতীত আর কেউ যেন এই তোরণ দ্বার না খোলেন। এর ফলে এই তোরণ-দ্বার বহু বৎসর বন্ধ থাকে। নবাব সুজাউদ্দিন খানের সময়ে আবার টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যায়। তখন মহাসমারোহে দুর্গের পশ্চিম তোরণ-দ্বার খোলা হয়।
নবাব সুজাউদ্দিন খান : শায়েস্তা খানের আমলে টাকায় ৮ মণ চালের ইতিহাস আমরা প্রায় সকলেই জানি।তবে বাংলার ইতিহাসে আরেকজন শাসক ছিলেন যার আমলেও ১ টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত। তিনি হলেন নবাব সুজাউদ্দিন খান (১৭২৭-৩৯খ্রিঃ)।তিনি নবাব মুর্শিদ কুলী খানের জামাতা ছিলেন। সমসাময়িক ইতিহাস-লেখকরা নবাব সুজাউদ্দীনের শাসন-দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। সুজাউদ্দীন নিজে শাসনকার্যের সব কিছু তত্ত্বাবধান করতেন এবং প্রজাদের কল্যাণের জন্য চেষ্টা করতেন। তিনি সদাশয় ও উদার ছিলেন। তিনি পুরাতন বন্ধু-বান্ধব ও কর্মচারীদের প্রতি প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন এবং তাঁদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতেন। নবাব সুজাউদ্দীন ছোট-বড় সকলকে সমান চোখে দেখতেন এবং সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করতেন। গোলাম হোসেন তাবাতাবাই লিখেছেন যে, নবাব সুজাউদ্দীন নিরপেক্ষ বিচারে দরিদ্রতম প্রজা ও নিজের পুত্রের মধ্যে তারতম্য করতেন না। ভয়ার্ত প্রজা নির্বিঘ্নে তাঁর নিকট আশ্রয় নিতে পারত। প্রজারা মনে করত যে, তারা ন্যায়পরায়ণ নওশেরোয়ার রাজত্বে বাস করছে। সুজাউদ্দীনের সুশাসনে প্রজারা সুখ শান্তিতে ছিল। তাঁর শাসনকালে জিনিসপত্র খুব সুলভ ছিল; এক টাকায় ৮ মণ চাউল পাওয়া যেতো। শায়েস্তা খানের আমলে ঢাকার দুর্গের পশ্চিম তোরণ-দ্বার বন্ধ করা হয়েছিল। সুজাউদ্দীনের সময়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়।
সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো:
১. শাহেদদের অঞ্চলের প্রধান যানবাহন হলো গরুর গাড়ি ও পালকি। তাদের অঞ্চলের সাথে কোন সময়ের মিল রয়েছে?
✅ প্রাচীন যুগ
Page 11
২. কৃষিকাজ প্রাচীন বাংলার মানুষের প্রধান পেশা হলেও বাংলার বণিকেরা বিদেশের সাথে একটি পথ দিয়ে বাণিজ্য করতেন। এখানে কোন পথের কথা বলা হয়েছে?
✅সমুদ্র পথ
৩. তাঁর শাসনামলে দেশীয় ভাষা, সাহিত্য, পণ্ডিত ও কবিদের সমাদর বাড়ে। তিনি চতুর্দশ শতকের একটি বংশের শাসনের সূচনা করেন। বংশটির নাম কী ছিল?
✅ ইলিয়াস শাহী বংশ
৪. কোন যুগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ সাধিত হয়?
✅মধ্যযুগে
৫. সুতার তৈরি মসলিন এবং রেশমের কাপড়, হাতির দাঁতের শিল্প ও কাঠের কাজে বাংলার শিল্পীরা একটি যুগে পারদর্শী ছিল। এখানে কোন যুগের কথা বলা হয়েছে?
✅মধ্যযুগ
৬. বাংলার স্বাধীনতার জন্য ষোড়শ শতকের কোন জমিদার সম্রাট আকবরের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন?
✅ঈসা খাঁ
৭. কোন রাজার মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর ধরে বাংলায় ভীষণ অস্থির অবস্থা বিরাজ করছিল?
✅শশংক
৮. শশাংকের রাজধানী কোথায় ছিল?
✅কর্ণসুবর্ণে
৯. পাল বংশ কত বছর বাংলায় রাজত্ব করেছিল?
✅ঘ প্রায় ৪০০ বছর
১০. সেন বংশের চতুর্থ রাজা কে?
✅লক্ষণ সেন
১১. কে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন?
✅বখতিয়ার খিলজী
২. সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ:
১ . ক. বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খাঁ।
খ. কর্ণসুবর্ণ রাজধানী ছিল রাজা শশাংকের।
গ. ইলিয়াস শাহী বংশের সূচনা করেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
ঘ. এক টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত শায়েস্তা খানের সময়।
ঙ. গোপাল ছিলেন পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
২।
ক. শশাংকের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
খ. সম্রাট আকবরের সাথে যুদ্ধ করেন ঈসা খাঁ।
গ. পাল রাজবংশ বাংলায় ৪০০ বছর রাজত্ব করেছিল।
[ওয়েলফশন আল ইসলামিয়া দারুল কোরআন ক্যাডেট একাডেমি]
ঘ. বাংলা থেকে জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
[মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ঙ. রাজা লক্ষণ সেন ছিলেন সেন রাজবংশের চতুর্থ রাজা।
আরও কিছু পড়াশোনা :
প্রশ্ন : কোন শতাব্দীতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর : তেরশ শতাব্দীতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন : বাংলার মধ্যযুগের একজন শাসকের নাম লেখ।
উত্তর : বাংলার মধ্যযুগের একজন শাসক হলেন ঈসা খাঁ।
প্রশ্ন : কোন শতাব্দী থেকে বাংলার সাহিত্যচর্চা বিকশিত হয়?
উত্তর : পনেরো শতাব্দী থেকে বাংলার সাহিত্যচর্চা বিকশিত হয়।
Page 12
প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
প্রশ্ন : মধ্যযুগে বাংলার ধর্মীয় আচার-আচরণের বিবরণ দাও।
উত্তর : ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বখতিয়ার খিলজীর বাংলায় মুসলিম শাসনের মাধ্যমে মধ্যযুগের সূচনা হয়। এ যুগে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। সমাজে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাস করত। ফলে বাংলার একটা মিলিত সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন : মধ্যযুগে বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের বিবরণ দাও।
উত্তর : মধ্যযুগে অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক হলেও এ যুগে ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিশেষ উন্নতি ঘটে। রপ্তানি বাণিজ্য এ সময় বেশি ছিল। বাংলার বণিকেরা রেশম, বিলাস সাগ্রী, তুলা ও নানাবিধ মূল্যবান পাথর আমদানি করতেন। আর বাংলা থেকে রপ্তানি হতো চাল, চিনি, আদা, হলুদ, মসলিন ও অন্যান্য ধরনের কাপড়। বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম এ সময় সুপরিচিত ছিল।
বাম অংশের সাথে ডান অংশ মিলকরণ
উত্তর :
ক) অষ্টম শতকে বাংলার সিংহাসনে বসেন - রাজা গোপাল।
খ) সেন রাজবংশের চতুর্থ রাজা ছিলেন - রাজা লক্ষ্ণণ সেন।
গ) সপ্তম শতকে বাংলার প্রভাবশালী রাজা ছিলেন - শশাংক।
ঘ) বারো ভূঁইয়াদের নেতা - ছিলেন ঈসা খাঁ।
ঙ) ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবেদার ছিলেন - শায়েস্তা খান।
শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয় কর :
ক) মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতি ছিল শিল্পনির্ভর।
খ) বাংলার তুলা খুবই বিখ্যাত ছিল।
গ) প্রাচীনকালে বাংলার বণিকরা সড়ক পথে বিদেশিদের সাথে বাণিজ্য করত।
ঘ) মলস্নযুদ্ধ ও কুস্তি খেলা এক প্রকার বিনোদনের নাম।
ঙ) লক্ষ্ণণ সেন ছিলেন একজন সুপন্ডিত ও কবি।
উত্তর : ক) 'অশুদ্ধ' খ) 'শুদ্ধ' গ) 'অশুদ্ধ' ঘ) 'শুদ্ধ' ঙ) 'শুদ্ধ'।
শূন্যস্থান পূরণ কর
ক) রাজা গোপাল___ প্রতিষ্ঠাতা।
খ) রাজা লক্ষ্ণণ সেন ____বাংলার রাজত্ব করেন।
গ) কৃষি কাজই ছিল প্রাচীন____ মানুষের প্রধান পেশা।
ঘ) শায়েস্তা খান এ অঞ্চল থেকে_____ বিতাড়িত করেন।
ঙ) মধ্যযুগে বাংলায় গড়ে উঠেছিল__ ঐতিহ্যবাহী।
উত্তর : ক) পাল রাজবংশের; খ) দ্বাদশ শতকে; গ) বাংলার; ঘ) জলসু্যদের; ঙ) কুটিরশিল্প।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর
১. সেন বংশের শেষ উলেস্নখযোগ্য রাজা কে?
ক. গোপাল খ. লক্ষ্ণণ সেন
গ. শশাংক ঘ. কেদার রায়
উত্তর : খ. লক্ষ্ণণ সেন
২. প্রাচীন যুগের শাসক কে?
ক. বখতিয়ার খিলজী খ. ঈসা খাঁ
গ. ইলিয়াস শাহ্ ঘ. গোপাল
উত্তর : ঘ. গোপাল
৩. পাল রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?
Page 13
ক. মহীপাল খ. ধর্মপাল
গ. দেবপাল ঘ. রাজপাল
উত্তর : খ. ধর্মপাল
৪. বখতিয়ার খিলজী কত সালে বাংলার সিংহাসন দখল করেন?
ক. ১২০১ খ. ১২০২
গ. ১২০৩ ঘ. ১২০৪
উত্তর : ঘ. ১২০৪
৫. শশাংকের রাজধানী কোথায় ছিল?
ক. উত্তর ভারতে খ. হরিয়ানায়
গ. দিলিস্নতে ঘ. কর্ণসুবর্ণে
উত্তর : ঘ. কর্ণসুবর্ণে
৬. পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
\ক. গোপাল খ. ধর্মপাল
গ. দেবপাল ঘ. ভূপাল
উত্তর : ক. গোপাল
৭. পাল বংশ প্রায় কত বছর বাংলায় রাজত্ব করেছিল?
ক. ২০০ খ. ৩০০
গ. ৪০০ ঘ. ৫০০
উত্তর : গ. ৪০০
৮. প্রাচীন বাংলার শেষ রাজা কে ছিলেন?
ক. শশাংক খ. গোপাল
গ. লক্ষ্ণণ সেন ঘ. বিজয় সেন
উত্তর : গ. লক্ষ্ণণ সেন
৯. কোন রাজবংশের শাসনামলে সর্বপ্রথম পুরো বাংলা জুড়ে একক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. পাল রাজবংশ খ. সেন রাজবংশ
গ. বারো ভূঁইয়ার শাসনামল ঘ. মুসলিম শাসনামল
উত্তর : খ. সেন রাজবংশ
১০. প্রাচীনকালে বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল কোনটি?
ক. ভাত খ. মাছ
গ. রুটি ঘ. সবজি
উত্তর : ক. ভাত
১১. প্রাচীনকাল থেকেই কোন বন্দর বিখ্যাত ছিল?
ক. মংলা খ. নারায়ণগঞ্জ
গ. চট্টগ্রাম ঘ. ভৈরব
উত্তর : গ. চট্টগ্রাম
১২. তুমি কেন পাল বংশকে প্রাচীন যুগের শ্রেষ্ঠ রাজবংশ বলে মনে কর?
ক. বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারতার কারণে
খ. বাংলার স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার কারণে
গ. বাংলার প্রায় ৪০০ বছর রাজত্ব করার কারণে
ঘ. সকল ধর্মাবলম্বী প্রজার প্রতি সমান পৃষ্ঠপোষকতার কারণে
উত্তর : গ. বাংলার প্রায় ৪০০ বছর রাজত্ব করার কারণে
১৩. বারো ভূঁইয়ারা কোন যুগের?
ক. মধ্যযুগ খ. প্রাচীন যুগ
গ. আধুনিক যুগ ঘ. সমসাময়িক যুগের
উত্তর : ক. মধ্যযুগ
Page 14
১৪. মধ্যযুগে কোন ধর্মের বিস্তার ঘটে?
ক. হিন্দু খ. ইসলাম
গ. বৌদ্ধ ঘ. খ্রিষ্টান
উত্তর : খ. ইসলাম
১৫. বখতিয়ার খিলজী প্রথমে কী ছিলেন?
ক. রাজা খ. সেনাপতি
গ. উজির ঘ. সৈনিক
উত্তর : ঘ. সৈনিক
১৬. কোন সম্রাটের শাসনামলে বাংলায় মোগল শাসনের সূচনা হয়?
ক. বাবর খ. শাহজাহান
গ. আকবর ঘ. জাহাঙ্গীর
উত্তর : গ. আকবর
অধ্যায় -১৫ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
অল্প কথায় উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. ভাষা আন্দোলন কখন হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
প্রশ্ন-২. ছয় দফা দাবি কখন উত্থাপন করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল।
প্রশ্ন-৩. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় কখন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রশ্ন-৪. বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধ কয় মাস স্থায়ী হয়েছিল?
উত্তর: বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রায় নয় মাস স্থায়ী হয়েছিল।
সংক্ষেপে উত্তর উত্তরপত্রে লেখা
প্রশ্ন-১. ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের কাছ থেকে কোন দুটি এ
দেশ স্বাধীনতা লাভ করে?
উত্তর: ভারত ও পাকিস্তান।
প্রশ্ন-২. তৎকালীন পাকিস্তান পূর্ব ও পশ্চিম দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
কোন অংশে পাকিস্তানের রাজধানী ছিল?
উত্তর: পশ্চিম অংশে পাকিস্তানের রাজধানী ছিল।
প্রশ্ন-৩. লুবাবা তার মায়ের সাথে ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয়
শহিদমিনারে ফুল দিতে গিয়েছে। কাদের স্মরণে এটি তৈরি করা হয়?
উত্তর: ভাষা শহিদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহিদমিনার তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন-৪. ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। কোথায় তিনি এ ভাষণ প্রদান
করেন?
উত্তর: ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।
প্রশ্ন-৫. মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু অসৎ লোক পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। যারা পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিল তারা কী নামে পরিচিত?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিল তারা
রাজাকার, আলবদর ও আল শামস নামে পরিচিত।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. ১৯৭০ সালের নির্বাচন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়লাভ করে। কিন্তু ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে দেননি। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে | প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সারাদেশে
Page 15
বিক্ষোভ, হরতাল ও অবরোধ শুরু হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। সুতরাং বলা যায়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা লাভের পেছনে ১৯৭০-এর নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্ন-২. বঙ্গবন্ধুকে কেন কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল?
উত্তর: বঙ্গবন্ধুকে তাঁর আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য জীবনে বহুবার কারাবন্দী করা হয়। ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি তোলার পর পাকিস্তান সরকার তাকে 'আগরতলা মামলা' দিয়ে কারাবন্দী করে। কারণ, ছয় দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করেছিলেন। '৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের জেরে স্বৈরশাসকরা তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার আহ্বান জানান। এতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা বর্বর গণহত্যা শুরু করে। বাঙালিদের আন্দোলন থামিয়ে দিতে তখন আবারও বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২. সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ:
উত্তর
ক. ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় যুক্তফ্রন্ট।
খ. প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি।
গ. ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে। [বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া।]
ঘ. গণঅভ্যুত্থানের ফলে পদত্যাগে বাধ্য হন আইয়ুব খান।
ঙ. পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন বঙ্গবন্ধু।
অধ্যায় -১৬
অল্প কথায় উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর: বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদান হচ্ছে- বাংলা ভাষা ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
প্রশ্ন-২. উৎসবে আমরা কোন ধরনের মিষ্টি খাই?
উত্তর: উৎসবে আমরা সাধারণত দুধের তৈরি সেমাই, দই, পায়েস, রসগোল্লা, চমচম, ক্ষীর ইত্যাদি মিষ্টি খাই।
প্রশ্ন-৩. লোকসংগীতের দুইটি ধারার নাম লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের লোকসংগীতের দুইটি ধারা হলো- জারি-সারি গান ও বাউল গান।
প্রশ্ন-৪. আমাদের সংস্কৃতির জন্য কী কী হুমকি আছে?
উত্তর: আমাদের সংস্কৃতির জন্য সংরক্ষণের অভাব ও বিদেশি
সংস্কৃতির প্রভাব হুমকিস্বরূপ।
প্রশ্ন-১. সংস্কৃতি কী?
উত্তর: সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন।
প্রশ্ন-২. কৌশিক বাড়িতে ও অফিসে ভিন্ন ধরনের পোশাক পরেন। তিনি অফিসে সাধারণত কোন ধরনের পোশাক পরেন?
উত্তর: কৌশিক অফিসে শার্ট ও প্যান্ট পরেন।
প্রশ্ন-৩. সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এ উপলক্ষে আবিরদের বাসায় একটি বিশেষ খাবার রান্না হয়েছে। খাবারটির নাম কী? উত্তর: খাবারটির নাম খিচুড়ি।
প্রশ্ন-৪. লোকসংগীতের দুটি ধারার নাম লেখো। উত্তর: লোকসংগীতের দুটি ধারা হলো- ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া।
প্রশ্ন-৫. ৭ বছর আগের আজকের দিনে শিমুল জন্মগ্রহণ করেছে। এজন্য আজ তার বাবা-মা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানটির নাম কী?
উত্তর: জন্মদিনের অনুষ্ঠান।
Page 16
প্রশ্ন-৬. গ্রাম-গঞ্জের জনপ্রিয় গান জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ইত্যাদি। এগুলোকে কী সংগীত বলা হয়? উত্তর: লোকসংগীত।
প্রশ্ন-৭. গরমের দিনে কৃষক পরিবারে বেড়াতে গেলে তুমি তাদের
কী খেতে দেখবে? বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা।
উত্তর: গরমের দিনে কৃষক পরিবারে বেড়াতে গেলে আমি তাদের নানারকম ভর্তা, ভাজি ও কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তাভাত খেতে দেখব।
প্রশ্ন-৮. আমাদের সংস্কৃতি কেন তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে? [ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।
উত্তর: বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে এবং দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের অভাবে আমাদের সংস্কৃতি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
প্রশ্ন-৯. মিতু তার শিক্ষককে সংস্কৃতির সংজ্ঞা বলেছে। সে কী বলেছে?
উত্তর: মিতু বলেছে, সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন।
প্রশ্ন-১০. অমির শিক্ষক দুটি কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, আমাদের সংস্কৃতি আজ বিপন্ন। তিনি কোন দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন? উত্তর: আমাদের সংস্কৃতি বিপন্ন হওয়ার কারণ হিসেবে অমির শিক্ষক যে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে- দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের অভাব' এবং বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব।
প্রশ্ন-১১. শিউলি কয়েকটি লোকসংগীতের কথা বলেছে। সে কোন গানের কথা বলেছে?
উত্তর: শিউলি লোকসংগীত হিসেবে জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি,ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি গানের কথা বলেছে।
প্রশ্ন-১২. বিশেষ অনুষ্ঠানে আমরা সাধারণত কী কী খাই?
উত্তর: বিশেষ অনুষ্ঠানে আমরা সাধারণত পোলাও-মাংস, বিরিয়ানি এবং খিচুড়ি খাই।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১. বাঙালি সংস্কৃতির কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে পছন্দের?
কেন?
উত্তর: বাঙালি সংস্কৃতির খাবার আমার খুব পছন্দের। কারণ এতে আছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। মাছ আমার খুব প্রিয়। আবার বিশেষ অনুষ্ঠানে সাধারণত পোলাও-মাংস, বিরিয়ানি এবং খিচুড়ি খাই।আবার উৎসব
অনুষ্ঠানে দই, পায়েস, রসগোল্লা, চমচম, ক্ষীর ইত্যাদি মিষ্টি খেতে ভালোবাসি। ঈদের দিনে সেমাই, শবেবরাতে হালুয়া তৈরি করা হয়। বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে হিন্দুরা পায়েস, নাড়ু, মোয়া এবং মুড়কি তৈরি করেন। বড়দিনে খ্রিষ্টানরা কেক ও নানা রকম পিঠা তৈরি করেন। এত বৈচিত্র্যময় খাদ্যের সমাহারের জন্য বাঙালির খাবার আমার খুবই প্রিয়।
বিস্তারিত : বাংলার সংস্কৃতি বা বাঙালি সংস্কৃতি ধারণ করে আছে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাঙালিরা, যার মধ্যে বাংলাদেশ, যেখানে বাংলা একমাত্র জাতীয় ও রাষ্ট্রভাষা এবং ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম, যেখানে বাংলা প্রধান এবং দাপ্তরিক ভাষা। বাঙালিদের রয়েছে ৪ হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি।দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলা অঞ্চলের রয়েছে স্বকীয় ঐতিহ্য এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। বাংলা ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে ধনী অঞ্চল।বাংলা অঞ্চল ছিল তৎকালীন সময়ের উপমহাদেশীয় রাজনীতির এবং সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। এখনো বাংলা দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাঙালি সংস্কৃতির উৎসবগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।বাঙালি সংস্কৃতি ধর্মীয় ও জাতীয় দিক দিয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।
বাঙালি দর্শন হলো বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত একটি দার্শনিক ধারা। এটি মূলত মরমি চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত, যাতে জগৎ ও জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়। বাঙালি দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
মরমি চেতনা: বাঙালি দর্শন মরমি চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত। মরমি চেতনা হলো এমন একটি চেতনা যা জগৎ ও জীবনের ঐক্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। বাঙালি দর্শনে বিশ্বাস করা হয় যে, জগতের সবকিছুই এক মহাশক্তির প্রকাশ।
সরলতা ও প্রাকৃতিকতা: বাঙালি দর্শন সরলতা ও প্রাকৃতিকতায় বিশ্বাস করে। তারা জটিল তত্ত্ব ও যুক্তির উপর জোর দেয় না, বরং জগৎ ও জীবনের বাস্তবতাকে সরল ও প্রাকৃতিকভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করে।
Page 17
প্রেম ও দয়া: বাঙালি দর্শন প্রেম ও দয়ার উপর জোর দেয়। তারা বিশ্বাস করে যে, প্রেম ও দয়া হলো মানব জীবনের সর্বোচ্চ আদর্শ।
বাঙালি দর্শনের ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। প্রাচীনকালে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের দর্শনই ছিল বাঙালি দর্শনের প্রধান ধারা। মধ্যযুগে ইসলামের আগমনের সাথে সাথে সুফী দর্শন বাঙালি দর্শনে প্রভাব ফেলে। সুফী দর্শন হলো ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক ধারা যা মরমি চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত।
বাঙালি দর্শনের উল্লেখযোগ্য দার্শনিকদের মধ্যে রয়েছেন:
সুফী দার্শনিক: শাহ জালাল, বড়পীর, সৈয়দ আহমদ শেরওয়ানি
হিন্দু দার্শনিক: রামকৃষ্ণ পরমহংস, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বৌদ্ধ দার্শনিক: শান্তদেব, মহাবীর, শ্রীধর ভট্ট
বাঙালি দর্শন বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বাংলার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শনকে গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সুফী দর্শন
সুফী দর্শন হলো ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক ধারা যা মরমি চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুফীরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনই হলো মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। তারা এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন আধ্যাত্মিক অনুশীলন ও সাধনা করেন।
বাংলায় সুফী দর্শনের প্রসার ঘটে মধ্যযুগে। এসময় বাংলায় বেশ কয়েকজন বিখ্যাত সুফী দার্শনিক ও সাধক আবির্ভূত হন। তাদের মধ্যে শাহ জালাল, বড়পীর, সৈয়দ আহমদ শেরওয়ানি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
বাংলায় সুফী দর্শনের প্রভাব
বাংলায় সুফী দর্শনের প্রভাব ব্যাপক। সুফী দর্শনের প্রভাবে বাংলার সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সুফী সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পে সুফী দর্শনের চিহ্ন সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
বাঙালি দর্শন ও সুফী দর্শনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল হলো মরমি চেতনার উপর জোর দেওয়া। সুফী দর্শনও বিশ্বাস করে যে, জগতের সবকিছুই এক মহাশক্তির প্রকাশ। এই ধারণা বাঙালি দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলায় সুফী দর্শনের প্রভাব এখনও বিদ্যমান। সুফী দরগাহ ও মাজারগুলি বাংলার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
প্রশ্ন-২. তোমার মতে আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: বাংলাদেশ যেহেতু নানা ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের দেশ; তাই এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি রয়েছে। সব মিলিয়েই বাংলাদেশের সংস্কৃতি।
আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
i. ভাষা- বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।
ii. পোশাক- এদেশের মানুষ সাধারণত শাড়ি, লুঙ্গি, পায়জামা,
পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট ইত্যাদি পরে।
iii. আচার-অনুষ্ঠান- নববর্ষ, গায়ে হলুদ, বিয়ে, মুখেভাত, হাতেখড়ি
ইত্যাদি অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
iv. সংগীত- জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীর আমাদের প্রধান লোকসংগীত। এছাড়া গ্রামের মেলা আ অনুষ্ঠানগুলোতে যাত্রা, পালাগান, কীর্তন আর মুর্শিদি গানে আসর বসে।
বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১: বাঙালি মেয়েরা অনুষ্ঠানে সাধারণত কোন ধরনের পোশাক পরে? মেয়েদের ২টি করে পোশাক ও অলংকারের নাম লেখো।
- উত্তর: অনুষ্ঠানে বাঙালি মেয়েরা সাধারণত শাড়ি পরে। বাঙালি মেয়েদের দুটি পোশাকের নাম হলো-
১. সালোয়ার কামিজ, ২. শাড়ি।
মেয়েদের দুটি অলংকার হলো- ১. নাকফুল, ২. কানের দুল।
প্রশ্ন-২: গম্ভীরা কোন ধরনের সংগীত? এদেশের চারটি লোকসংগীতের
নাম লেখো।
উত্তর: গম্ভীরা লোকসংগীত। এদেশের চারটি লোকসংগীতের নাম হলো- ১. ভাটিয়ালি, ২. ভাওয়াইয়া, ৩. জারি, ৪. বাউল।
Page 18
প্রশ্ন-৩. বিভা পাশের বাড়ির রাফিদকে একটি অনুষ্ঠানে কেক কাটতে দেখে। কেক কাটার এ অনুষ্ঠানকে কী বলে? এ অনুষ্ঠানটির মতো আমাদের দেশের পাঁচটি সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম লেখো।
১+৫=৬
উত্তর: কেক কাটার এ অনুষ্ঠান হলো জন্মদিন।
আমাদের দেশের পাঁচটি সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান হলো-
১. হালখাতা, ২. মুখেভাত, ৩. গায়ে হলুদ, ৪. বিবাহ ও ৫. নবান্ন।
প্রশ্ন-৪. তুমি কখন মিষ্টি খেতে ভালোবাস? তোমরা মিষ্টি খাবারগুলো সাধারণত কী দিয়ে তৈরি কর? এমন চারটি উৎসবের নাম লেখো যে উৎসবে তোমরা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি কর। [জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।]
১+১+৪=৬
উত্তর: আমি উৎসব অনুষ্ঠানে মিষ্টি খেতে ভালোবাসি। আমরা মিষ্টি খাবারগুলো সাধারণত দুধ দিয়ে তৈরি করি। আমরা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করি এমন চারটি উৎসব হলো-
১. ঈদ, ২. শবেবরাত, ৩. পূজা ৪. বড়দিন।
উত্তর
ক. আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন হচ্ছে সংস্কৃতি।
খ. বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া বাঙালিদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।
গ. আমাদের মিষ্টি খাবারগুলো সাধারণত দুধের তৈরি। [পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া।]
ঘ. লোকসংগীত বাংলাদেশের প্রাণ। [পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।]
ঙ. ভাষা ও পোশাক হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি। [গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী।
আরও কিছু পড়াশোনা :
প্রশ্ন : উৎসবে আমর কোন ধরনের মিষ্টি খাই?
উত্তর : উৎসবে আমরা দুধের তৈরি সেমাই, হালুয়া, পায়েস, নাড়ু, মোয়া কিংবা পিঠাজাতীয় মিষ্টি খাবার খাই।
প্রশ্ন : বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর : বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদানের নাম হলো ভাষা ও পোশাক।
প্রশ্ন : লোকসংগীতের দুইটি ধারার নাম লেখ।
উত্তর : লোকসংগীতের দুইটি ধারা হলো ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া।
প্রশ্ন : আমাদের সংস্কৃতির জন্য কী কী হুমকি আছে?
উত্তর : আমাদের সংস্কৃতির জন্য বিদেশি সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির হুমকি আছে।
প্রশ্ন : বাঙালি সংস্কৃতির কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে পছন্দের? কেন?
উত্তর : সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের ভাষা, পোশাক, খাদ্য, আচার-অনুষ্ঠান, গানবাজনাসহ আরও অনেক কিছু। বাঙালি সংস্কৃতির এসব বিষয়ের মধ্যে ভাষা আমার সবচেয়ে পছন্দের। ভাষার মাধ্যমে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা রয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এদেশের মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবাই বাংলা ভাষার মাধ্যমে একসূত্রে গাঁথা।
প্রশ্ন : তোমার মতে আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর : আমরা যা করি, যেভাবে করি তাই আমাদের সংস্কৃতি। আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে উলেস্নখ করা হলো-
১. শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এ দেশের মেয়েদের প্রধান পোশাক। আর লুঙ্গি, পায়জামা, পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্ট এদেশের ছেলেদের প্রধান পোশাক।
২. ভাত-মাছ-ডাল ও নানা প্রকার মিষ্টি আমাদের প্রধান দেশীয় খাদ্য।
৩. আকিকা, মুখেভাত, জন্মদিন ইত্যাদি আমাদের কয়েকটি সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান।
৪. বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, কবিগান, পালাগান ইত্যাদি আমাদের লোকসংগীতের অংশ।
Page 19
৫. বাংলা ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা, এই ভাষায় আমরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি।
অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর
বাম অংশের সাথে ডান অংশ মিলকরণ :
বাম | ডান |
ক) আমরা | পিঠা তৈরি করেন। |
খ) আমরা উৎসব অনুষ্ঠানে | জীবনযাপনের ধরন। |
গ) বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানরা অনেক রকম | মাছে-ভাতে বাঙালি। |
ঘ) সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের | পাঞ্জাবি - পায়জামা পরেন। |
ঙ) অনেকে বিশেষ অনুষ্ঠানে | মিষ্টি খেতে ভালোবাসি। |
উত্তর :
ক) আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি।
খ) আমরা উৎসব অনুষ্ঠানে মিষ্টি খেতে ভালোবাসি।
গ) বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানরা অনেক রকম পিঠা তৈরি করেন।
ঘ) সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন।
ঙ) অনেকে বিশেষ অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেন।
শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয় কর :
ক) ভাষার মাধ্যমে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি।
খ) সালোয়ার-কামিজ বাংলাদেশের মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
গ) বয়স্ক হিন্দু পুরুষেরা আগে লুঙ্গি পরতেন।
ঘ) ঈদের দিনে সেমাই এবং শবেবরাতে হালুয়া তৈরি হয়।
ঙ) সংরক্ষণের অভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর : ক) 'শুদ্ধ' খ) 'অশুদ্ধ' গ) 'অশুদ্ধ' ঘ) 'শুদ্ধ'
ঙ) 'শুদ্ধ'।
শূন্যস্থান পূরণ কর :
ক) নৌকা বাইতে বাইতে___ গান গায়।
খ) বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের____ সংস্কৃতি আজ বিপন্ন।
গ) দিনে খিচুড়ি খাওয়া বাঙালিদের সংস্কৃতিতে____ পরিণত হয়েছে।
ঘ) পুরুষ মুসলমানগণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে____ পায়জামা-পাঞ্জাবি ও পরতে পছন্দ করে।
ঙ) কম বয়সী মেয়েরা_____ পরেন।
উত্তর : ক) মাঝি, খ) দেশের, গ) বৃষ্টির, ঘ) টুপি,
ঙ) সালোয়ার-কামিজ।
বহুনির্বাচনি
প্রশ্ন ও উত্তর
১. কোনটি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির বহির্ভূত অংশ?
ক. রসগোলস্না খ. সালোয়ার-কামিজ
গ. ভাটিয়ালি গান ঘ. হ্যাট
উত্তর : ঘ. হ্যাট
২. বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েরা কী পরে?
ক. সালোয়ার-কামিজ খ. ফতুয়া
Page 20
গ. শার্ট-জিন্স প্যান্ট ঘ. শাড়ি
উত্তর : ঘ. শাড়ি
৩. সংস্কৃতি কী?
ক. আমরা যা ছিলাম তাই খ. আমরা যা থাকব তাই
গ. আমরা যা থাকতে চাই ঘ. আমরা যা তাই
উত্তর : ঘ. আমরা যা তাই
৪. অফিসের কাজে ছেলেরা কী পরে?
ক. লুঙ্গি-গেঞ্জি খ. পায়জামা-পাঞ্জাবি
গ. প্যান্ট-শার্ট ঘ. ধুতি-পাঞ্জাবি
উত্তর : গ. প্যান্ট-শার্ট
৫. বয়স্ক হিন্দু পুরুষরা একসময় কী পরত?
ক. প্যান্ট খ. ধুতি
গ. পায়জামা ঘ. লুঙ্গি
উত্তর : খ. ধুতি
৬. তোমার সহপাঠী কোন ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে?
ক. ইংরেজি খ. হিন্দি
গ. বাংলা ঘ. উর্দু
উত্তর : গ. বাংলা
৭. তোমার বড় আপার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বাবা কোন পোশাক পরেন?
ক. শার্ট-প্যান্ট খ. পাঞ্জাবি-পায়জামা
গ. ফতুয়া-পায়জামা ঘ. পাঞ্জাবি-ধুতি
উত্তর : খ. পাঞ্জাবি-পায়জামা
৮. কোনটি আমাদের দেশীয় খাবার?
ক. পাউরুটি খ. নুডলস
গ. বার্গার ঘ. খিচুড়ি
উত্তর : ঘ. খিচুড়ি
৯. বাঙালিদের প্রধান খাদ্য কী?
ক. ভাত খ. মাছ
গ. রুটি ঘ. সবজি
উত্তর : ক. ভাত
১০. কোনটি বিশেষ অনুষ্ঠানের খাবার?
ক. প্রতিদিনের খাবার খ. বিয়ের খাবার
গ. শীতকালের খাবার ঘ. গ্রীষ্মকালের খাবার
উত্তর : খ. বিয়ের খাবার
হ পরবর্তী অংশ আগামী সংখ্যায়
সঠিক উত্তর -
★. আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় কোন তারিখ থেকে?
ক)৭ই মার্চ খ)১৬ই মার্চ
গ)২৫শে মার্চ ঘ) ২৬শে মার্চ
উত্তর : (ঘ)
★ . মৃন্ময়ীর বাবা একটি অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারটি কবে গঠিত হয়েছিল?
ক)২১শে মার্চ খ)১০ই এপ্রিল
গ)২৬শে মার্চ ঘ)১৪ই এপ্রিল
উত্তর :( খ)
Page 21
★. মোমেনা বেগম জীবনে একটি ভয়াবহ বছর পার করেছেন। সে বছর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিনি ভারতে চলে গিয়েছিলেন। কোন বছর তিনি ভারত গিয়েছিলেন?
ক)১৯৫২ খ)১৯৬৬
গ)১৯৬৯ ঘ)১৯৭১
উত্তর : ঘ
সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো:
১. কোন সালে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
ক)১৯৪৭ সালে খ)১৯৫২ সালে✅
গ) ১৯৫০ সালে (ঘ) ১৯৫৪ সালে
২. কোন তারিখটি বাংলাদেশের ইতিহাসে 'কালরাত' হিসেবে পরিচিত?
ক) ২১শে মার্চ খ) ২৫শে মার্চ✅
গ) ১৫ আগস্ট ঘ)২৬শে মার্চ
৩. ৬ দফা দাবি পেশ করার কারণে বঙ্গবন্ধুসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে কোন মামলা দেওয়া হয়েছিল?
ক)জেল হত্যা মামলা খ)গণহত্যা মামলা
গ) রাজনৈতিক মামলা ঘ) আগরতলা মামলা✅
৫. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল কোন দল?
ক) ইয়াহিয়া খান খ) আওয়ামী লীগ✅
গ) গন্যাপ ঘ) মুসলিম লীগ
৬. কয় মাস ধরে মুক্তিযুদ্ধ চলে?
ক)৬ মাস খ)৯ মাস✅
গ) ১০ মাস ঘ) ১২ মাস
৭.৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সে ভাষণে তিনি কীসের ডাক দেন?
ক) ভাষা আন্দোলনের খ) ছয় দফা আন্দোলনের
গ) স্বাধীনতার ✅ ঘ) চার দফা আন্দোলন
৮. কত সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন?
ক)১৯৫৪ খ)১৯৬৬✅
গ)১৯৬৯ ঘ)১৯৭০
* বাক্যটি সত্য না মিথ্যা লেখো:
ক. সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য। খ. মাছ, ভাত বাঙালির প্রধান খাবার।
গ। জন্মদিন একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘ।গরমের দিনে কৃষক পরিবার বিরিয়ানি খায়।
ঙ। আমাদের লোক সংকৃতির একটি বড় অংশ হারাতে বসেছে।
উত্তর : ক. সত্য; খ. সত্য; গ. মিথ্যা; ঘ. মিথ্যা; ঙ. সত্য।
সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ:
ক. বাঙালি মেয়েদের প্রধান__শাড়ি___ পোশাক।
খ. বয়স্ক হিন্দু পুরুষরা আগে__ধুতি__ পরতেন।
গ. কথায় আছে মাছে ভাতে__ বাঙালি___।
ঘ. আমাদের রান্নার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও স্বাদ দিয়েছে ___ পাঁচফোঁড়ন– ব্যবহার।
ঙ. বিশেষ উৎসব অনুষ্ঠানে ছেলেরা __পায়জামা-পাঞ্জাবি __পরে থাকে।
৩. ডান-বাম মিলকরণ:
Page22
ডান | বাম |
ক. আমরা সবাই একসূত্রে গাঁথা | লোকসংগীত। |
খ। আমাদের প্রধান খাদ্য | বাংলা ভাষার মাধ্যমে। |
গ।জারি, সারি, বাউল গান | ভাত। |
ঘ। বাঙালিরা বৃষ্টির দিনে খায় | সংস্কৃতি। |
ঙ। পোশাক, খাদ্য, উৎসব হলো | খিচুডি়। |
উত্তর :
ক। আমরা সবাই একসূত্রে গাঁথা বাংলা ভাষার মাধ্যমে।
খ। আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত।
গ।জারি, সারি, বাউল গান লোকসংগীত।
ঘ। বাঙালিরা বৃষ্টির দিনে খায় খিচুডি়।
ঙ। পোশাক, খাদ্য, উৎসব হলো সংস্কৃতি।
প্রশ্ন-১: বাঙালিদের ৫টি বিশেষ খাবারের একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তর: বাঙালিদের ৫টি বিশেষ খাবারের তালিকা: ১. বিরিয়ানি, ২. খিচুড়ি, ৩. পায়েস, ৪. রসগোল্লা, ৫. সেমাই।
প্রশ্ন-২: বাঙালিদের ৫টি আচার অনুষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তর: বাঙালিদের ৫টি আচার অনুষ্ঠানের তালিকা: ১. জন্মদিন, ২. মুখেভাত, ৩. বিবাহ, ৪. গায়ে হলুদ, ৫. পহেলা বৈশা
বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দাও:
প্রশ্ন-১: গম্ভীরা কোন ধরনের সংগীত? এদেশের চারটি লোকসংগীতের নাম লেখো।
উত্তর: গম্ভীরা লোকসংগীত। এদেশের চারটি লোকসংগীতের নাম হলো- ১. ভাটিয়ালি, ২. ভাওয়াইয়া, ৩. জারি, ৪. বাউল।৫. জারি, শাড়ি
প্রশ্ন-২: বাঙালি মেয়েরা অনুষ্ঠানে সাধারণত কোন ধরনের পোশাক পরে?
মেয়েদের ২টি করে পোশাক ও অলংকারের নাম লেখো।
উত্তর: অনুষ্ঠানে বাঙালি মেয়েরা সাধারণত শাড়ি পরে। বাঙালি মেয়েদের দুটি পোশাকের নাম হলো- ১. সালোয়ার কামিজ, ২. শাড়ি।
মেয়েদের দুটি অলংকার হলো- ১. নাকফুল, ২. কানের দুল।
বিস্তারিত :
আবহমান বাংলার ইতিহাসে শাড়ির স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালের বিবর্তনে বদলেছে শাড়ির পাড়-আঁচল, বুনন এবং পরিধান কৌশল।ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাধারণত শাড়িকে সবচেয়ে উপযোগী পোশাক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী সেনারা শাড়ি পরলে কোমরে শার্ট বেঁধে রাখেন। শাড়ি বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এই পোশাকের রয়েছে সৌন্দর্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শাড়িকে নারীদের মূল পোশাক হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।
শাড়ি বাংলাদেশ, ভারতসহ ভারতীয় উপমহাদেশের নারীদের ঐতিহ্যবাহী ও নিত্যনৈমিত্তিক পরিধেয় বস্ত্র।শাড়ি লম্বা ও সেলাইবিহীন কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত একটি শাড়ি ১৮ ফুট (৫.৫ মি) থেকে ২১ ফুট (৬.৪ মি)[৩] দীর্ঘ এবং ৬০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার (২ থেকে ৪ ফুট) চওড়া কাপড়ে তৈরি হয়, যা বিভিন্নভাবে ভাঁজ করে পরা হয়ে থাকে।
Page 23
শাড়ি উৎপত্তির ইতিহাস খুব একটা স্পষ্ট নয়।শাড়ি ধারণাটির উৎপত্তি সেলাইবিহীন বস্ত্রখণ্ড থেকে। নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, আদিতে পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে সেলাই করা কাপড় পরিধানের
প্রচলন ছিল না। সেলাইবিহীন প্রচলিত কাপড় পুরুষদের ক্ষেত্রে ধুতি এবং নারীদের ক্ষেত্রে শাড়ি নামে অভিহিত হতো। মূলত বয়নশিল্পের প্রচলন ঘটার পরই শাড়ির প্রচলন ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। শাড়ির মতো পোশাকের ইতিহাস পাওয়া যায় সিন্ধু সভ্যতায়, যার প্রতিষ্ঠা ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০-১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বে বেড়ে ওঠে। খ্রিস্টাব্দ ৫ম সহস্রাব্দের কাছাকাছি সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে তুলার প্রথম চাষ ও বোনা হয়েছিল। সেই সময়ের মধ্যে ব্যবহৃত রঞ্জকগুলি এখনও ব্যবহৃত হয়, বিশেষত নীল, লক্ষ, রুবিয়া কর্ডিফোলিয়া এবং হলুদ।রেশম বোনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৪৫০ থেকে ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে রচিত চর্যাপদে সরাসরি শাড়ি শব্দের উল্লেখ না থাকলেও অনুরূপ পোশাকের আভাস পাওয়া যায়। চৌদ্দ শতকের কল্পকাহিনী, গল্প-গাঁথা ও গীতিকবিতায় শাড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়। সে সময়কার কবি চণ্ডীদাস (১৩৭০-১৪৩০) লিখেছেন:
নীল শাড়ি মোহন করি
উচ্ছলিতে দেখি পাশ।
কি আর পরানে সপিনু চরণে
দাস করি মনে আঁশ।
— চণ্ডীদাস,
'শাড়ি' শব্দটি জৈন ও বৌদ্ধ সাহিত্যে মহিলাদের পোশাক হিসাবে উল্লিখিত 'সাত্তিক' থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।
শাড়ি বাংলাদেশী নারীদের জাতীয় পোশাক। বিবাহিত অধিকাংশ নারী তাদের নিত্য পোশাক হিসাবে এবং অবিবাহিত মেয়েরা প্রায়শই শাড়ি পরে থাকেন। নৈমিত্তিক এবং আনুষ্ঠানিকতায় শাড়ি বাংলাদেশের নারীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক। যদিও ঢাকাই জামদানি (হাতে বোনা শাড়ি) বিশ্বব্যাপী পরিচিত এবং শাড়ি পরেন এমন সমস্ত নারীর কাছে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি রয়েছে। রেশম এবং সুতি উভয় ক্ষেত্রে শাড়ির আঞ্চলিক বৈচিত্র্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তাঁতের রেশম শাড়ি ও তাঁতের সুতি শাড়ি, ঢাকাই বেনারসি, রাজশাহী রেশম, টাঙ্গাইল, পাবনা, তসর রেশম, মণিপুরী এবং কাতান শাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাড়ি । শাড়ি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানবালাদের পোশাক। এছাড়াও দেশের নারী রাজনীতিবিদেরা সাধারণত শাড়ি পড়ে থাকেন।
আরও কিছু প্রস্তুতি :
প্রশ্ন : বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর : বাঙালি সংস্কৃতির দুইটি উপাদানের নাম হলো ভাষা ও পোশাক।
প্রশ্ন : উৎসবে আমর কোন ধরনের মিষ্টি খাই?উত্তর : লোকসংগীতের দুইটি ধারা হলো ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া।
প্রশ্ন : আমাদের সংস্কৃতির জন্য কী কী হুমকি আছে?
উত্তর : আমাদের সংস্কৃতির জন্য বিদেশি সংস্কৃতি ও অপসংস্কৃতির হুমকি আছে।
প্রশ্ন : বাঙালি সংস্কৃতির কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে পছন্দের? কেন?
উত্তর : সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের ভাষা, পোশাক, খাদ্য, আচার-অনুষ্ঠান, গানবাজনাসহ আরও অনেক কিছু। বাঙালি সংস্কৃতির এসব বিষয়ের মধ্যে ভাষা আমার সবচেয়ে পছন্দের। ভাষার মাধ্যমে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা রয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এদেশের মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবাই বাংলা ভাষার মাধ্যমে একসূত্রে গাঁথা।
প্রশ্ন : তোমার মতে আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর : আমরা যা করি, যেভাবে করি তাই আমাদের সংস্কৃতি। আমাদের সংস্কৃতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে উলেস্নখ করা হলো-
১. শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এ দেশের মেয়েদের প্রধান পোশাক। আর লুঙ্গি, পায়জামা, পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্ট এদেশের ছেলেদের প্রধান পোশাক।
Page 24
২. ভাত-মাছ-ডাল ও নানা প্রকার মিষ্টি আমাদের প্রধান দেশীয় খাদ্য।
৩. আকিকা, মুখেভাত, জন্মদিন ইত্যাদি আমাদের কয়েকটি সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান।
৪. বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, কবিগান, পালাগান ইত্যাদি আমাদের লোকসংগীতের অংশ।
৫. বাংলা ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা, এই ভাষায় আমরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি।
অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর
বাম অংশের সাথে ডান অংশ মিলকরণ :
বাম | ডান |
ক) আমরা মাছে | মিষ্টি খেতে ভালোবাসি |
খ) আমরা উৎসব অনুষ্ঠানে | জীবনযাপনের ধরন। |
গ) বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানরা অনেক রকম | পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেন। |
ঘ) সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের | পিঠা তৈরি করেন। |
ঙ) অনেকে বিশেষ অনুষ্ঠানে | ভাতে বাঙালি। |
উত্তর :
ক) আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি।
খ) আমরা উৎসব অনুষ্ঠানে মিষ্টি খেতে ভালোবাসি।
গ) বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানরা অনেক রকম পিঠা তৈরি করেন।
ঘ) সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরন।
ঙ) অনেকে বিশেষ অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেন।
শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয় কর :
ক) ভাষার মাধ্যমে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি।
খ) সালোয়ার-কামিজ বাংলাদেশের মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
গ) বয়স্ক হিন্দু পুরুষেরা আগে লুঙ্গি পরতেন।
ঘ) ঈদের দিনে সেমাই এবং শবেবরাতে হালুয়া তৈরি হয়।
ঙ) সংরক্ষণের অভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।
উত্তর : ক) 'শুদ্ধ' খ) 'অশুদ্ধ' গ) 'অশুদ্ধ' ঘ) 'শুদ্ধ'
ঙ) 'শুদ্ধ'।
শূন্যস্থান পূরণ কর :
ক)------- নৌকা বাইতে বাইতে গান গায়।
খ) বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের —-------সংস্কৃতি আজ বিপন্ন।
গ)---------- দিনে খিচুড়ি খাওয়া বাঙালিদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
ঘ) পুরুষ মুসলমানগণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পায়জামা-পাঞ্জাবি ও ----------- পরতে পছন্দ করে।
ঙ) ---------- কম বয়সী মেয়েরা পরেন।
উত্তর : ক) মাঝি, খ) দেশের, গ) বৃষ্টির, ঘ) টুপি,
ঙ) সালোয়ার-কামিজ।
বহুনির্বাচনি
প্রশ্ন ও উত্তর
১. কোনটি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির বহির্ভূত অংশ?
ক. রসগোলস্না খ. সালোয়ার-কামিজ
গ. ভাটিয়ালি গান ঘ. হ্যাট
Page 25
উত্তর : ঘ. হ্যাট
২. বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েরা কী পরে?
ক. সালোয়ার-কামিজ খ. ফতুয়া
গ. শার্ট-জিন্স প্যান্ট ঘ. শাড়ি
উত্তর : ঘ. শাড়ি
৩. সংস্কৃতি কী?
ক. আমরা যা ছিলাম তাই খ. আমরা যা থাকব তাই
গ. আমরা যা থাকতে চাই ঘ. আমরা যা তাই
উত্তর : ঘ. আমরা যা তাই
৪. অফিসের কাজে ছেলেরা কী পরে?
ক. লুঙ্গি-গেঞ্জি খ. পায়জামা-পাঞ্জাবি
গ. প্যান্ট-শার্ট ঘ. ধুতি-পাঞ্জাবি
উত্তর : গ. প্যান্ট-শার্ট
৫. বয়স্ক হিন্দু পুরুষরা একসময় কী পরত?
ক. প্যান্ট খ. ধুতি
গ. পায়জামা ঘ. লুঙ্গি
উত্তর : খ. ধুতি
৬. তোমার সহপাঠী কোন ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে?
ক. ইংরেজি খ. হিন্দি
গ. বাংলা ঘ. উর্দু
উত্তর : গ. বাংলা
৭. তোমার বড় আপার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বাবা কোন পোশাক পরেন?
ক. শার্ট-প্যান্ট খ. পাঞ্জাবি-পায়জামা
গ. ফতুয়া-পায়জামা ঘ. পাঞ্জাবি-ধুতি
উত্তর : খ. পাঞ্জাবি-পায়জামা
৮. কোনটি আমাদের দেশীয় খাবার?
ক. পাউরুটি খ. নুডলস
গ. বার্গার ঘ. খিচুড়ি
উত্তর : ঘ. খিচুড়ি
৯. বাঙালিদের প্রধান খাদ্য কী?
ক. ভাত খ. মাছ
গ. রুটি ঘ. সবজি
উত্তর : ক. ভাত
১০. কোনটি বিশেষ অনুষ্ঠানের খাবার?
ক. প্রতিদিনের খাবার খ. বিয়ের খাবার
গ. শীতকালের খাবার ঘ. গ্রীষ্মকালের খাবার
উত্তর : খ. বিয়ের খাবার
১। এলাকায় দেশীয় সংস্কৃতির যর্থাথ দিক সবাইকে অবগত করব।
২। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি-উপস্থাপন করব।
৩। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এলাকায় বৈশাখী মেলার আয়োজন করব।
৪। জাতীয় উৎসবগুলোতে লোকগানের আয়োজন করব।
৫। এলাকার ছোটবড় সবাইকে দেশীয় সংস্কৃতি- ধারণ করতে উৎসাহিত করব।
Page 26
১. আমরা প্রধানত কী কী খাই? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আমরা প্রধানত যা যা খাই সেগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা ১) প্রতিদিনের খাবার : প্রতিদিন আমরা ভাত, ডাল, শাকসবজি, মাংস এবং ঋতুভেদে আলু, কপি, পাতাকপি, শিম, টমেটো, বরবটি, ঝিঙা, পুঁইশাক, পটোল ইত্যাদি খাবার খেয়ে থাকি।
২) বিশেষ খাবার : বিশেষ অনুষ্ঠানে আমরা পোলাও-মাংস, বিরিয়ানি বা খিচুড়ি খেয়ে থাকি। তবে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া কিংবা পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার চল পুরো বাঙালি জাতিকে এক অভিন্ন সংস্কৃতিতে আবদ্ধ করেছে।
৩) মিষ্টিজাতীয় খাবার : যেকোনো আনন্দ সংবাদ, উৎসব, অনুষ্ঠান আমরা রকমারি মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য দিয়ে উদ্যাপন করে থাকি। দই, পায়েস, রসগোল্লা, চমচম, রসমালাই, ক্ষীর ইত্যাদি আমাদের উল্লেখযোগ্য মিষ্টিজাত খাবার।
২. বাংলাদেশের লোকসংগীতের বর্ণনা দাও।
উত্তর : আবহমানকাল ধরে বাংলার গ্রাম-গঞ্জ মুখর হয়েছে নানা জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদির সুরে। এগুলোই আমাদের প্রধান লোকগান। মাঠে-প্রান্তরে কৃষক হাল বাইতে বাইতে, নদী ও খালে মাঝি, গ্রাম থেকে গ্রামে বাউল ঘুরতে ঘুরতে গলা ছেড়ে এসব গানের সুর তুলেছেন। গ্রামের মেলায়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব লোকসংগীতের মধ্যে যাত্রাগান, পালাগান, কবিগান, কীর্তনগান, মুর্শিদি গানের আসর বসে।
৩. এ দেশের মেয়েদের পোশাকের বর্ণনা দাও।
উত্তর : বাঙালি মেয়েদের প্রধান পোশাক শাড়ি। দৈনন্দিন জীবনে, উৎসব-অনুষ্ঠানে মেয়েরা শাড়ি পরে থাকে। তবে সময়ের সাথে সাথে সালোয়ার-কামিজও মেয়েদের দৈনন্দিন পোশাকে পরিণত হয়েছে। কম বয়সী মেয়েরাই সালোয়ার-কামিজ বেশি পরে থাকে। তবে উৎসব-অনুষ্ঠানে সব বয়সী মেয়েরাই সাধারণত শাড়ি পরে থাকে। ছোট মেয়েরা ফ্রক, স্কার্ট ইত্যাদি পরে এবং মাঝে মাঝে শখ করে বিশেষ অনুষ্ঠানে কামিজ-সালোয়ার ও শাড়ি পরে থাকে।
৪. এ দেশের ছেলেদের পোশাকের বর্ণনা দাও।
উত্তর : স্থানভেদে এদেশের ছেলেদের পোশাক ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যেমন- গ্রামে ও ঘরে এদেশের পুরুষরা প্রধানত লুঙ্গি পরে থাকে। বাইরের আনুষ্ঠানিক কাজে, অফিসে, স্কুলে, কলেজে যাওয়ার সময় ছেলেরা প্যান্ট-শার্ট পরে। তবে বিশেষ উৎসব অনুষ্ঠানে ছেলেরা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে থাকে। একসময় বয়স্ক হিন্দু পুরুষরা ধুতি পরত। মুসলমান ছেলেরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে টুপি পরে থাকে। ছোট ছেলেরা হাফ প্যান্ট পরে থাকে।
৫. সংস্কৃতি কী? আমাদের সংস্কৃতির চারটি বিশেষ দিক উল্লেখ কর।
উত্তর : আমরা যা কিছু করি তাই সংস্কৃতি। আমাদের সংস্কৃতির চারটি বিশেষ দিক নিচে উল্লেখ করা হলো :
১। বাঙালি মেয়েদের প্রধান পোশাক শাড়ি আর ছেলেদের লুঙ্গি।
২। আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত।
৩। আমরা যেকোনো আনন্দ অনুষ্ঠান মিষ্টি দিয়ে উদ্যাপন করে থাকি।
৪। জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া হলো আমাদের প্রধান লোকগান।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৬. তোমার এলাকায় আজ দেশীয় সংস্কৃতি হুমকির সম্মুখীন। এ সংস্কৃতি রক্ষায় তোমার ৫টি করণীয় উল্লেখ কর।
বাঙালি বা বাঙালী হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি ইন্দো-আর্য জাতিগোষ্ঠী, যারা বঙ্গ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা এবং বর্তমানে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, বরাক উপত্যকা, নিম্ন আসাম এবং মণিপুরের কিছু অংশে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে। বাঙালিরা মূলত ইন্দো-আর্য পরিবারের বাংলা ভাষায় কথা বলে।
২
২ মন্তব্য