Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জীলানী (রহ,)-এর পিতার আপেল খাওয়ার কাহিনী
বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর পিতা হযরত সাইয়্যেদ আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (রহ.)-এর সততা ও তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) একটি বিখ্যাত ও চমৎকার ঘটনা রয়েছে। [1, 2]
পিতার পরিচিতি
নাম: হযরত সাইয়্যেদ আবু সালেহ মুছা জঙ্গি (রহ.)
বংশ: তিনি মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান (রা.)-এর বংশধর ছিলেন।
বৈশিষ্ট্য: তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু, সৎ ও পরহেজগার এক বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। [1, 2]
আপেলের বিস্ময়কর কাহিনী
নদীর ধার: যৌবনকালে একদিন আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (রহ.) একটি নদীর কিনারে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। [1]
ভেসে আসা আপেল: এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন পানির স্রোতে একটি সুন্দর আপেল ভেসে আসছে। [1]
আপেল গ্রহণ: মায়াবী ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি আপেলটি নদী থেকে তুলে নেন এবং তা খেয়ে ফেলেন। [1]
অনুতপ্ত মন: ফল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মনে তীব্র অনুশোচনা জাগে। তিনি ভাবেন, এই আপেলের মালিক তো তিনি নন! বিনা অনুমতিতে অন্যের ফল খাওয়া কি তাঁর ঠিক হলো? [1]
মালিকের সন্ধান: নিজের ভুল সংশোধনের জন্য তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, যেভাবেই হোক এই আপেলের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করবেন এবং তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। [1]
মালিকের নিকট গমন ও ক্ষমা প্রার্থনা
নদীর উৎস ধরে চলা: তিনি আপেলটি যেদিক থেকে ভেসে এসেছিল, সেই নদীর তীর ধরে হাঁটতে শুরু করেন। [1]
বাগান ও মালিক: অনেক দূর হাঁটার পর তিনি নদীর পাড়ে একটি বড় ফলের বাগান দেখতে পান। বাগানের গাছগুলোতে ঝুলছিল অজস্র আপেল। তিনি বুঝতে পারেন আপেলটি এই বাগান থেকেই এসেছে।
মালিকের সাক্ষাৎ: তিনি বাগানের মালিকের সঙ্গে দেখা করেন এবং ঘটে যাওয়া সব কথা খুলে বলেন। তিনি মালিককে অনুরোধ করেন আপেলটির মূল্য নির্ধারণ করে দিতে কিংবা তাকে ক্ষমা করে দিতে। [1]
সততার পুরস্কার ও বিবাহ
পরীক্ষা: যুবকের মুখে এমন পরম সততা ও খোদাভীতির কথা শুনে বাগানের মালিক অবাক হয়ে যান। তিনি তাকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
শর্ত: মালিক বলেন, আমি এক শর্তে ক্ষমা করতে পারি—যদি আপনি আমার একটি অন্ধ, বধূ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও ল্যাংড়া মেয়েকে বিয়ে করেন। মালিকের উদ্দেশ্য ছিল এমন সৎ যুবকের কাছেই মেয়েকে সমর্পণ করা।
কবুল বলা: আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (রহ.) আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল বাঁচানোর নিয়তে সেই বিশেষ শর্ত মেনে নেন এবং মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হন।
বিস্ময়: বিয়ের পর যখন তিনি কনের ঘরে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পান মেয়েটি আসলে অন্ধ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত নয়; বরং সে পূর্ণাঙ্গ রূপসী ও অত্যন্ত পরহেজগার এক নারী।
পিতার বক্তব্য: মেয়ের পিতা তখন তাঁকে জানান, মেয়েটি জন্মগতভাবে অন্ধ, বধূ ও পঞ্জীভূত ত্রুটিযুক্ত ছিল না—সে দুনিয়ার কোনো হারাম জিনিস দেখেনি (তাই রূপক অর্থে অন্ধ বলা হয়েছিল), সে কানে কোনো অশ্লীল কথা শোনেনি (বধূ), এবং সে কোনো খারাপ পথে হেঁটে যায়নি (পক্ষাঘাতহীন)।
শুভ পরিণয়: এই সৎ ও পবিত্র দম্পতির ঘর আলো করেই পরবর্তীতে জন্ম নেন কুতুবে রব্বানী হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)। [1]
মন্তব্য করুন

ব্লগ