সহকারী অধ্যাপক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
উত্তম কথা, হাসিমুখ ও কৃতজ্ঞতা—সুন্দর জীবনের তিন চাবিকাঠি - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
উত্তম কথা, হাসিমুখ ও কৃতজ্ঞতা—সুন্দর জীবনের তিন চাবিকাঠি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষের পরিচয় শুধু তার পোশাক, সম্পদ, শিক্ষা কিংবা সামাজিক মর্যাদায় প্রকাশ পায় না; বরং তার কথা, আচরণ, ব্যবহার ও মনুষ্যত্বের মধ্য দিয়েই তার প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। একজন মানুষ কতটা ভালো, বিনয়ী ও মহৎ—তা বোঝা যায় সে অন্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলে, কীভাবে আচরণ করে এবং অন্যের উপকারের মূল্য কতটা উপলব্ধি করে তার মাধ্যমে। ইসলাম মানুষের বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি সুন্দর চরিত্র, উত্তম ব্যবহার ও মানবিক গুণাবলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা, হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।”—সহিহ বুখারি। অন্য একটি হাদিসে তিনি বলেছেন, “তোমার ভাইয়ের দিকে হাসিমুখে তাকানোও তোমার জন্য সদকা।”—জামে তিরমিজি। আবার তিনি বলেছেন, “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।”—সুনান আবু দাউদ।
এই তিনটি শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার অসাধারণ পথনির্দেশনা দেয়।
উত্তম কথা বলা ঈমানের পরিচয়
মানুষের মুখের কথা তার অন্তরের পরিচয় বহন করে। একটি সুন্দর কথা মানুষের মনে আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে, আবার একটি কটু কথা মুহূর্তেই কারও হৃদয় ভেঙে দিতে পারে। তাই কথা বলা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।”—সহিহ বুখারি।
এই হাদিস আমাদের শেখায়—মুমিনের জিহ্বা হবে সংযত ও কল্যাণময়। সে মিথ্যা, গালি, অশ্লীলতা, অপবাদ, পরনিন্দা, কুৎসা, বিদ্রূপ ও মানুষের মনে কষ্ট দেয়—এমন কথা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। কথা বলার আগে ভাববে—আমার এই কথা কি সত্য? এটি কি প্রয়োজনীয়? এতে কি কারও উপকার হবে? নাকি কারও হৃদয়ে আঘাত লাগবে?
যে কথা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, সত্য প্রতিষ্ঠা করে, বিপদগ্রস্তকে সাহস দেয়, জ্ঞান বাড়ায়, ভুল সংশোধনে সাহায্য করে এবং কল্যাণের পথে আহ্বান জানায়—সেটিই উত্তম কথা।
কখনো কখনো নীরবতাও উত্তম কথা। যখন কোনো কথা বলা প্রয়োজন নেই, অথবা কথা বললে ঝগড়া, বিরোধ ও অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন নীরব থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বলা কথা ফিরিয়ে নেওয়া যায় না; কিন্তু না বলা কথা নিয়ে পরে অনুতপ্ত হতে হয় না।
কথার সৌন্দর্য মানুষের হৃদয় জয় করে
সুন্দর কথা একটি অমূল্য সম্পদ। এর জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয় না, অথচ এর মূল্য অনেক বেশি। একটি আন্তরিক “কেমন আছেন?”, একটি উৎসাহের বাক্য, একটি সান্ত্বনার কথা কিংবা একটি ভালো পরামর্শ কারও জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।
একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দিয়ে বলতে পারেন, “তুমি চেষ্টা করলে অবশ্যই ভালো করতে পারবে।” একজন বাবা সন্তানের ভুল সংশোধনের সময় ভালোবাসার ভাষা ব্যবহার করতে পারেন। একজন বন্ধু বিপদের সময় বন্ধুকে সাহস দিতে পারে। একজন প্রতিবেশী অসুস্থ মানুষের খোঁজ নিতে পারে। এভাবেই উত্তম কথা মানুষের মধ্যে ভালোবাসার সেতু নির্মাণ করে।
অন্যদিকে কটু কথা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও অপমান মানুষের আত্মসম্মানকে আহত করে। অনেক সময় একটি কঠিন বাক্যের ক্ষত দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যায়। তাই আমাদের কথা হতে হবে কোমল, সত্য, মার্জিত ও কল্যাণকর।
হাসিমুখে তাকানোও সদকা
মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণের জন্য সবসময় অর্থের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় সামান্য একটি হাসিই মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমার ভাইয়ের দিকে হাসিমুখে তাকানোও তোমার জন্য সদকা।”—জামে তিরমিজি।
হাসি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করে। পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাসি বিনিময় করলে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসে। একজন বিষণ্ন মানুষও একটি আন্তরিক হাসিতে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
তবে হাসির অর্থ কাউকে উপহাস করা নয়। কারও দুর্বলতা, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, পোশাক, দারিদ্র্য কিংবা ভুল নিয়ে হাসাহাসি করা ইসলামের সুন্দর আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃত হাসি হলো ভালোবাসা, সৌজন্য, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ।
হাসিমুখে আচরণের সামাজিক গুরুত্ব
একটি পরিবারে সবাই যদি পরস্পরের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে, তাহলে সেই পরিবারে ভালোবাসা ও শান্তি বৃদ্ধি পায়। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ শিক্ষার পরিবেশকে আনন্দময় করে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা সহযোগিতা বাড়ায়। সমাজে মানুষ যদি পরস্পরের সঙ্গে বিনয়ী ও হাসিমুখে আচরণ করে, তাহলে হিংসা, বিদ্বেষ ও দূরত্ব অনেকটাই কমে যায়।
একটি সুন্দর হাসি যেন নীরব ভাষায় বলে—
“আমি তোমাকে সম্মান করি,
তোমার প্রতি আমার শুভকামনা আছে,
তুমি আমার কাছে মূল্যবান।”
এই সামান্য অনুভূতিই মানুষের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে পারে।
কৃতজ্ঞতা মানুষের মহৎ গুণ
কৃতজ্ঞতা হলো অন্যের উপকার স্বীকার করা এবং তার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানানো। কৃতজ্ঞ মানুষ অহংকারী হয় না। সে বুঝতে পারে, জীবনে সে একা সফল হয়নি; পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু, প্রতিবেশী এবং অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
ইসলাম মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।”—সুনান আবু দাউদ।
এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি মানুষের উপকারও স্বীকার করতে হবে। কেউ আমাদের উপকার করলে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া, তার জন্য দোয়া করা এবং সুযোগ হলে তার উপকারে এগিয়ে আসা উত্তম চরিত্রের পরিচয়।
মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অংশ
আমরা আল্লাহর অগণিত নেয়ামত ভোগ করি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অনেক সময় মানুষের মাধ্যমে আমাদের কাছে সাহায্য ও কল্যাণ পৌঁছে দেন। বাবা-মা আমাদের লালন-পালন করেন, শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দেন, চিকিৎসক চিকিৎসা করেন, কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, শ্রমিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন, বন্ধু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়।
তাই কারও উপকারকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। একটি বই উপহার, একটি ভালো পরামর্শ, বিপদের সময় সহযোগিতা, অসুস্থতার সময় খোঁজ নেওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো—সবই মূল্যবান মানবিক আচরণ।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানুষকে ছোট করে না; বরং তার মর্যাদা বাড়ায়। “ধন্যবাদ”, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন”—এ ধরনের আন্তরিক বাক্য মানুষের হৃদয়ে আনন্দ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে।
অকৃতজ্ঞতা হৃদয়ের একটি বড় দুর্বলতা
যে মানুষ অন্যের উপকার পেয়ে তা অস্বীকার করে, সে ধীরে ধীরে মানুষের ভালোবাসা হারায়। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে, অন্যরা তার জন্য যা করেছে তা তাদের কর্তব্য ছিল। ফলে তার মধ্যে অহংকার জন্ম নেয়।
অন্যদিকে কৃতজ্ঞ মানুষ সামান্য উপকারও স্মরণ রাখে। সে উপকারীর প্রতি সম্মান দেখায় এবং তার জন্য কল্যাণের দোয়া করে। এতে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের “ধন্যবাদ” নয়; বরং আচরণের মাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়। কেউ আমাদের বিপদে সাহায্য করলে তার বিপদে পাশে দাঁড়ানো, কেউ আমাদের জ্ঞান দিলে সেই জ্ঞানকে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা—এসবও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
পরিবারে উত্তম কথা, হাসি ও কৃতজ্ঞতা
সুন্দর সমাজের ভিত্তি হলো সুন্দর পরিবার। পরিবারের সদস্যরা যদি পরস্পরের সঙ্গে উত্তম কথা বলে, হাসিমুখে আচরণ করে এবং একে অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে, তাহলে পরিবারে শান্তি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের ভাষা হবে স্নেহপূর্ণ। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের আচরণ হবে সম্মানজনক। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে থাকবে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও কৃতজ্ঞতা। ভাই-বোন পরস্পরের ভুল ক্ষমা করবে এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াবে।
পরিবারে যদি প্রতিদিন অভিযোগ, অপমান ও কটু কথা চলতে থাকে, তাহলে ভালোবাসার পরিবেশ নষ্ট হয়। কিন্তু সামান্য হাসি, সুন্দর কথা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সেই পরিবেশকে বদলে দিতে পারে।
বিদ্যালয় ও শিক্ষাঙ্গনে এই শিক্ষার প্রয়োগ
শিক্ষাঙ্গন শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি চরিত্র গঠনেরও জায়গা। একজন শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি উত্তম কথা বলা, অন্যকে সম্মান করা, হাসিমুখে আচরণ করা এবং কৃতজ্ঞ হতে শেখানো প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের প্রতি সম্মান দেখাবে, সহপাঠীর সঙ্গে সদাচরণ করবে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করবে। শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধনের সময় অপমান না করে ভালোবাসা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে তাদের পথ দেখাবেন।
একজন প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের মুখে জ্ঞান থাকবে, কিন্তু তার কথায় থাকবে বিনয়; তার আচরণে থাকবে সৌজন্য; তার হৃদয়ে থাকবে কৃতজ্ঞতা।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুন্দর আচরণ
সমাজে নানা মত, পেশা, বয়স ও শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। মতের পার্থক্য থাকবেই; কিন্তু মতের পার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজন সুন্দর ভাষা ও সংযত আচরণ।
কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে গালি বা অপমানের পরিবর্তে যুক্তি ও সৌজন্যের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই নীতি অনুসরণ করা জরুরি। অনলাইনে লেখা একটি মন্তব্যও মানুষের হৃদয়ে আঘাত করতে পারে। তাই ভার্চুয়াল জগতেও আমাদের জিহ্বা ও কলমকে সংযত রাখতে হবে।
শুধু মুখের ভাষা নয়—লিখিত ভাষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য, বার্তা ও প্রকাশিত বক্তব্য—সব ক্ষেত্রেই উত্তম আচরণ বজায় রাখা প্রয়োজন।
উত্তম কথা ও সুন্দর আচরণ ঈমানের সৌন্দর্য প্রকাশ করে
ঈমান মানুষের অন্তরে থাকলেও তার প্রভাব মানুষের আচরণে প্রকাশ পাওয়ার কথা। একজন মুমিন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে না, অন্যায়ভাবে অপমান করবে না, অকারণে কষ্ট দেবে না। তার কথায় সত্য, আচরণে বিনয় এবং ব্যবহারে মানবিকতা থাকবে।
ইসলাম কেবল মসজিদে ইবাদতের শিক্ষা দেয় না; বরং মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, সেটিও শেখায়। নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষা, সুন্দর চরিত্র ও উত্তম ব্যবহারও ইসলামী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই আমাদের মনে রাখতে হবে—ইবাদতের সৌন্দর্য চরিত্রে প্রকাশ পায়, আর ঈমানের সৌন্দর্য আচরণে ফুটে ওঠে।
নিজেকে পরিবর্তনের কিছু বাস্তব অনুশীলন
উত্তম কথা, হাসিমুখ ও কৃতজ্ঞতার গুণ অর্জনের জন্য প্রতিদিন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যায়—
১. কথা বলার আগে কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করা।
২. মিথ্যা, গালি, অশ্লীলতা ও অপমানজনক কথা পরিহার করা।
৩. অপ্রয়োজনীয় তর্ক থেকে দূরে থাকা।
৪. দেখা হলে সালাম দেওয়া ও হাসিমুখে কথা বলা।
৫. মানুষের উপকারের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানানো।
৬. বাবা-মা, শিক্ষক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা।
৭. ছোটদের স্নেহ করা এবং দুর্বলদের সহযোগিতা করা।
৮. কারও ভুল হলে তাকে অপমান না করে সুন্দরভাবে সংশোধন করা।
৯. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার আগে তার পরিণতি বিবেচনা করা।
১০. প্রতিদিন নিজের কথা ও আচরণের হিসাব নেওয়া।
১১. কারও মনে কষ্ট দিলে দ্রুত ক্ষমা চাওয়া।
১২. আল্লাহর নেয়ামতের জন্য নিয়মিত শুকরিয়া আদায় করা।
এই ছোট ছোট অভ্যাস একসময় মানুষের চরিত্রকে সুন্দর ও পরিশীলিত করে তুলতে পারে।
উত্তম সমাজ গঠনে আমাদের দায়িত্ব
আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের আচরণ সংশোধন করি, তাহলে সমাজও পরিবর্তিত হবে। সমাজের পরিবর্তন শুধু আইন-কানুন বা বড় বড় বক্তৃতার মাধ্যমে আসে না; মানুষের দৈনন্দিন আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমেও আসে।
একজন মানুষ উত্তম কথা বললে তার পরিবার উপকৃত হয়। একটি পরিবার সুন্দর আচরণ করলে প্রতিবেশীরা উপকৃত হয়। একটি বিদ্যালয় সুন্দর চরিত্রের মানুষ তৈরি করলে সমাজ উপকৃত হয়। আর একটি সমাজ যদি কৃতজ্ঞতা, সৌজন্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর দাঁড়ায়, তাহলে সেখানে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই অন্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে আমাদের প্রত্যেকের নিজের থেকেই শুরু করা উচিত।
উপসংহার
উত্তম কথা, হাসিমুখ এবং কৃতজ্ঞতা—এই তিনটি গুণ মানুষের জীবনকে সুন্দর করে এবং সমাজে ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসগুলো আমাদের শেখায়—মুমিনের কথা হবে উত্তম, তার মুখে থাকবে সৌজন্যের হাসি এবং তার হৃদয়ে থাকবে কৃতজ্ঞতা।
আমরা যেন এমন কথা বলি, যা মানুষের হৃদয় জয় করে; এমন আচরণ করি, যা মানুষের মুখে হাসি ফোটায়; আর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যা উপকারীর হৃদয়কে আনন্দিত করে। একই সঙ্গে আল্লাহর অগণিত নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করি।
আমাদের জিহ্বা যেন কারও হৃদয় না ভাঙে, আমাদের হাসি যেন কাউকে উপহাস না করে এবং আমাদের হৃদয় যেন কখনো অকৃতজ্ঞ না হয়।
উত্তম কথা হোক আমাদের ভাষার অলংকার,
হাসিমুখ হোক আমাদের আচরণের পরিচয়,
আর কৃতজ্ঞতা হোক আমাদের চরিত্রের সৌন্দর্য।
এভাবেই আমরা গড়ে তুলতে পারি এমন একটি সুন্দর জীবন, সুন্দর পরিবার ও সুন্দর সমাজ—যেখানে থাকবে ঈমান, মানবিকতা, ভালোবাসা, সৌজন্য, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তির আলো।
৪
৪ মন্তব্য