সহকারী অধ্যাপক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ
উত্তম কথা, হাসিমুখ ও কৃতজ্ঞতা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
উত্তম কথা, হাসিমুখ ও কৃতজ্ঞতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষ শুধু পোশাক নয়, মানুষ শুধু ধন নয়,
শিক্ষা কিংবা মর্যাদাতেই পরিচয়ের ক্ষয় নয়।
মানুষ চেনা যায় তার কথায়, তার আচরণে,
মনুষ্যত্বের দীপ্তি ফুটে হৃদয়েরই চরণে।
মুখের ভাষায় মনের ছবি, ব্যবহারে পরিচয়,
সুন্দর হলে চরিত্র তার সবার মনে রয়।
জ্ঞান যদি থাকে মাথার মাঝে, বিনয় যদি নাই,
সে জ্ঞান তখন আলো নয়, অন্ধকারই ভাই।
ইসলাম শেখায় সুন্দর কথা, সুন্দর ব্যবহার,
মানুষের প্রতি মমতা আর ভালোবাসার দ্বার।
সত্য ভাষণ, কোমল বচন, কৃতজ্ঞ হৃদয়,
এ গুণে মানুষ সত্যিই মহৎ হয়ে রয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন শিক্ষা—ঈমানদারের প্রাণ,
উত্তম কথা বলো সদা, রাখো জিহ্বার মান।
ভালো কথা যদি না থাকে, নীরব থাকো তবে,
কথার মাঝে কল্যাণ রাখো, মন্দ কথা কভু নবে।
“উত্তম কথা বলো”—এই মহান বাণী মনে,
আদব রেখে কথা বলি আপন-পরের সনে।
মিথ্যা, গালি, অশ্লীল কথা দূরে রাখি ভাই,
পরনিন্দা, অপবাদ দিয়ে কারও হৃদয় নাই।
কথা হলো বীজের মতো, বপন করলে পরে,
ফলটি তারই ফিরে আসে জীবনেরই ঘরে।
মধুর কথা ফুলের মতো সুবাস ছড়ায় দূর,
কটু কথা হৃদয় ভাঙে, করে জীবন ম্লান-সুর।
একটি কথা দিতে পারে ভাঙা মনে আশা,
একটি কথা মুছে দিতে পারে মনের হতাশা।
একটি কথা পথ দেখাতে পারে আঁধার রাতে,
একটি কথা শান্তি আনে বিপদগ্রস্ত প্রাণে।
তাই তো আগে ভাবব আমি—কী কথা আজ বলি?
সত্য কি এই? প্রয়োজন কি? কল্যাণ আছে বলি?
কথাটি কি উপকার করবে, নাকি দেবে ক্ষত?
ভেবে তবে মুখ খুলব আমি—এই হোক মুমিন-ব্রত।
যে কথাতে ভালোবাসা, সত্যের হয় জয়,
যে কথাতে জ্ঞান বাড়ে, মানুষের কল্যাণ হয়;
যে কথাতে দুঃখী মানুষ সাহস ফিরে পায়,
যে কথাতে ভুল সংশোধন সত্যপথে যায়—
সেই কথাই উত্তম কথা, সেই কথাই ধন,
সেই কথাতে ফুটে ওঠে মুমিনেরই মন।
কথার মাঝে মধু থাকুক, সত্য থাকুক সাথে,
কল্যাণেরই ডাক থাকুক আমাদের প্রতিটি কথাতে।
কখনো আবার নীরবতাও উত্তম হয়ে যায়,
অকারণে বলা কথায় অশান্তি জন্মায়।
ঝগড়া যদি বাড়ে কথায়, চুপ থাকা শ্রেয়,
সংযমী যে, সে-ই তো সত্য জ্ঞানী হয়।
বলা কথা তীরের মতো—ছুটে গেলে আর ফেরে না,
কটু কথার ক্ষত কখনো সহজে তো সারে না।
তাই জিহ্বাকে পাহারা দিই, রাখি তাকে শুদ্ধ,
সত্য, সৌজন্য, নরম ভাষায় করি জীবন বুদ্ধ।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা শুধু দানে নয়,
একটি হাসিও অনেক বড় মানবিক পরিচয়।
মুখে ফুটুক নির্মল হাসি, হৃদয় থাকুক খাঁটি,
হাসির আলো দূর করুক দুঃখের কালো রাতটি।
রাসুল (সা.) শিক্ষা দিলেন—হাসিও এক দান,
ভাইয়ের দিকে হাসিমুখে তাকানো সদকাসম মান।
অর্থ লাগে না, ধন লাগে না, লাগে না কোনো ভাণ্ডার,
একটি হাসি খুলে দিতে পারে ভালোবাসার দ্বার।
দেখা হলে সালাম দিই, হাসিমুখে কথা বলি,
অভিমান আর দূরত্বগুলো ভালোবাসায় তুলি।
অপরিচিত হলেও যেন আপন করে নিই,
মানবতার মধুর বন্ধন হৃদয়জুড়ে বুনি।
একটি হাসি ক্লান্ত প্রাণে স্বস্তির পরশ আনে,
একটি হাসি বন্ধুত্ব গড়ে অচেনা মানুষের সনে।
একটি হাসি বিষণ্ন মুখে আশার আলো জ্বালে,
একটি হাসি ভালোবাসার সেতু গড়ে কালে কালে।
তবে হাসি যেন উপহাস নয়—মনে রাখি কথা,
কারও দারিদ্র্য, পোশাক, চেহারা—হাসির বিষয় না।
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হাসা কখনো নয়,
মানুষকে সম্মান করাই ইসলামের পরিচয়।
কারও ভুলে বিদ্রূপ নয়, বরং তাকে দিই জ্ঞান,
কোমল ভাষায় পথ দেখাই, বাড়াই তার সম্মান।
হাসি হবে আন্তরিকতার, সৌজন্যেরই ফুল,
হাসির মাঝে থাকবে মায়া, থাকবে না কোনো কূলহীন ভুল।
পরিবারে যদি হাসিমুখে সবাই কথা কয়,
সেই ঘরে শান্তির পাখি আপন মনে রয়।
বাবা-মায়ের স্নেহমাখা কোমল ভাষার টান,
সন্তানের হৃদয় ভরায় ভালোবাসার গান।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে থাকুক শ্রদ্ধা আর মমতা,
ভাই-বোনের বন্ধনে থাকুক ক্ষমারই কথা।
অভিযোগের আগুন নয়, ভালোবাসার আলো,
হাসিমুখে ঘর সাজালে জীবন হবে ভালো।
মানুষ যখন উপকার পায়, মনে রাখে যার,
কৃতজ্ঞতার ফুল ফুটে তার হৃদয়েরই দ্বার।
“ধন্যবাদ”—এই ছোট্ট শব্দ, অথচ কত দাম,
একটি বাক্য আনন্দ আনে, বাড়ায় মানুষের মান।
কৃতজ্ঞতা মানে শুধু মুখে বলা নয়,
উপকারীর উপকার স্মরণ করাও তার পরিচয়।
সুযোগ পেলে পাশে দাঁড়াই, ফিরিয়ে দিই ঋণ,
দুঃসময়ে সহায় হওয়া কৃতজ্ঞতার চিহ্ন।
রাসুল (সা.) বলেছেন—মানুষের উপকার মানো,
মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞতা ত্যাগ করো।
যে মানুষের কৃতজ্ঞ নয়, আল্লাহর শুকরও তার
পূর্ণ হয় না—এই শিক্ষাটি রাখি হৃদয়-দুয়ার।
আল্লাহর কত নেয়ামত ঘিরে রেখেছে প্রাণ,
বাতাস, পানি, আলো, খাদ্য—অগণিত তাঁর দান।
তবু কত মানুষের মাধ্যমে আসে কল্যাণ,
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হও—এও মহৎ জ্ঞান।
বাবা-মা যে লালন করেন, তাঁদের প্রতি মান,
শিক্ষক জ্ঞানের আলো দেন—তাঁদের প্রতি সম্মান।
কৃষক মাঠে ফসল ফলান, শ্রমিক গড়েন ঘর,
চিকিৎসক সেবায় দেন স্বস্তি, বন্ধু থাকে পর।
প্রতিবেশী বিপদে এলে বাড়িয়ে দিই হাত,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াই, মুছে দিই তার রাত।
একটি বই, একটি পরামর্শ, একটি সহায়তা,
সামান্য হলেও মানুষের কাছে বড় তা।
কেউ যদি দেয় ভালো কথা, মনে রাখি তার ঋণ,
কেউ যদি দেয় বিপদে সঙ্গ, ভুলব না সে দিন।
কেউ যদি শেখায় জ্ঞানের কথা, জ্ঞানকে কাজে আনি,
এই তো সত্য কৃতজ্ঞতা—এই তো মহৎ বাণী।
অকৃতজ্ঞ হৃদয় ধীরে ধীরে একা হয়ে যায়,
মানুষ তার ভালোবাসা আর সহজে দিতে চায় না তায়।
যে ভাবে—“সবই আমার প্রাপ্য”—অহংকারে ভরে,
সে নিজেরই অন্ধকারে হারিয়ে যায় পরে।
কৃতজ্ঞ মানুষ ছোট নয়, বরং বড় হয়,
সামান্য উপকারেও তার হৃদয় কৃতজ্ঞ রয়।
“আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন”—
এই দোয়ার মধুর বাণী জুড়ায় কত ঋণ।
পরিবারই প্রথম পাঠশালা, প্রথম শিক্ষার ঘর,
এখান থেকেই শেখে শিশু ভালো-মন্দের পর।
বাবা-মায়ের কথার ভঙ্গি সন্তানের মনে,
জীবনজুড়ে ছাপ রেখে যায় গভীর গোপন কোণে।
তাই তো বাবা বলুক স্নেহে, মা বলুক মায়ায়,
শাসন হোক ভালোবাসাতে, অপমান যেন না হয় কথায়।
ভুল করলে সন্তান যেন সংশোধনের পথ পায়,
কটু কথার আঘাত পেয়ে যেন ভেঙে না যায়।
বাবা-মাকে সম্মান করুক সন্তান প্রতিদিন,
তাঁদের সেবা ও ভালোবাসায় হোক হৃদয় রঙিন।
স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক হয়ে থাকুক,
ক্ষমা, মায়া, কৃতজ্ঞতায় সংসারখানি ঢাকুক।
ভাই-বোনে হিংসা নয়, থাকুক স্নেহের বাঁধন,
দুঃখ এলে পাশে দাঁড়াক, হোক পরস্পর সাধন।
পরিবারে হাসি থাকলে দুঃখ হয় ক্ষীণ,
ভালোবাসার ছায়ায় জীবন হয়ে ওঠে রঙিন।
অভিযোগ আর অপমান যদি প্রতিদিন ঘরে বাজে,
শান্তির পাখি উড়ে যায়, অশান্তি এসে সাজে।
কিন্তু একটি কোমল কথা, একটি মধুর হাসি,
বদলে দিতে পারে ঘরের অশান্তিরই বাসি।
বিদ্যালয় শুধু জ্ঞানের নয়—চরিত্র গড়ার স্থান,
বইয়ের সাথে শিখতে হবে নীতি, শিষ্টাচার, জ্ঞান।
শিক্ষার্থী হবে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী তার প্রাণ,
শিক্ষকের প্রতি থাকবে তার গভীর সম্মান।
সহপাঠীর প্রতি সদয় হবে, দুর্বলকে দেবে হাত,
বন্ধুর দুঃখে পাশে থাকবে, মুছে দেবে রাত।
অন্যের সাফল্যে হিংসা নয়, দেবে তাকে সাধুবাদ,
অন্যের ভালো দেখে খুশি হওয়া মহৎতারই স্বাদ।
শিক্ষক যখন ভুল শুধরাবেন, থাকুক মমতা সাথে,
অপমান নয়, পথ দেখাবেন জ্ঞানের কোমল হাতে।
ভালোবাসায় শেখালে শিশু শেখে সহজে জ্ঞান,
ভয়ের চেয়ে মমতা দেয় শিক্ষায় বড় প্রাণ।
জ্ঞান যদি থাকে বইয়ের পাতায়, আচরণে যদি ক্ষয়,
তবে সেই শিক্ষা পূর্ণ নয়, তাতে মহত্ত্ব নয়।
প্রকৃত শিক্ষিত সেইজন, জ্ঞান যার বিনয়ের সাথে,
সৌজন্য যার আচরণে, কৃতজ্ঞতা যার হাতে।
সমাজজুড়ে নানা মানুষ, নানা মতের ধারা,
ভিন্ন পেশা, ভিন্ন বয়স—তবু সবাই সারা।
মতের মাঝে ভিন্নতা থাক, তাতে ক্ষতি নেই,
শত্রুতা যেন জন্ম না নেয়—এই কামনা চাই।
মতবিরোধ হলে বলি যুক্তি দিয়ে কথা,
গালি দিয়ে জয় নয়, তাতে বাড়ে শুধু ব্যথা।
অপমানের আগুন জ্বেলে শান্তি পাওয়া যায় না,
কোমল ভাষা ছাড়া সত্য সুন্দরভাবে যায় না।
বৃদ্ধ মানুষ, শিশু, নারী, দরিদ্র কিংবা ধনী,
সবার প্রতি সম্মান রাখি—এই হোক জীবনী।
মানুষ আগে, পরিচয় পরে—এই বোধ জাগুক মনে,
মানবতার ফুল ফুটুক প্রতিটি মানুষের বনে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লিখিত কথা, বার্তা,
সেখানেও সংযম চাই, চাই সত্যের বারতা।
কলম দিয়ে আঘাত করাও আঘাত করার মতো,
তাই লেখার আগে ভাবি—কথাটি কি ভালো তো?
অনলাইনে হোক কিংবা হোক মানুষেরই মুখে,
অন্যের হৃদয় ভাঙব না কোনো কথার দুঃখে।
জিহ্বা যেমন সংযত রাখি, কলম রাখি তেমনি,
সত্য, শালীনতা, সৌজন্য—হোক লেখারও ভূমি।
ঈমান শুধু মুখের কথা নয়, জীবনেরই আলো,
ঈমানের প্রভাব থাকলে আচরণ হবে ভালো।
নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, ইবাদত করি যত,
মানুষের হক নষ্ট হলে পূর্ণ হয় না ব্রত।
মুমিন কারও মনে কষ্ট অকারণে দেবে না,
প্রতারণা আর অন্যায় পথে কখনো সে যাবে না।
তার কথাতে সত্য থাকবে, আচরণে মান,
তার ব্যবহারে ফুটে উঠবে ইসলামেরই প্রাণ।
মসজিদের সেই ইবাদত ঘরে-বাইরে ছড়াক,
মানুষের প্রতি মমতা হয়ে হৃদয়জুড়ে জাগুক।
নামাজ যদি চরিত্রে আনে সত্যের নির্মল রং,
তবেই তো তার জীবনে জাগে ঈমানেরই ঢং।
ইবাদতের সৌন্দর্য ফুটুক সুন্দর চরিত্রে,
ঈমানের আলো ঝলমল করুক মানবিক অন্তরে।
আল্লাহর হক আদায় করি, মানুষের হকও মানি,
সত্য, ন্যায় ও ভালোবাসায় জীবনখানি টানি।
কথা বলার আগে একটু ভাবি—এটাই প্রথম সাধন,
মিথ্যা, গালি, অশ্লীলতা ত্যাগ করি এখন।
অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে শান্ত থাকি চুপ,
রাগের সময় সংযম রাখি, মুছে ফেলি ক্রোধের রূপ।
দেখা হলে সালাম দিই, হাসিমুখে কথা বলি,
উপকারীর প্রতি সদা কৃতজ্ঞতার ফুল তুলি।
বাবা-মা ও শিক্ষকের প্রতি রাখি গভীর মান,
ছোটদের দিই স্নেহ-মায়া, বড়দের সম্মান।
দুর্বল মানুষ দেখলে তাকে অবহেলা নয়,
সাধ্যমতো সাহায্য করি—এতেই মানবজয়।
কেউ ভুল করলে অপমান নয়, সুন্দর পথে আনি,
নিজের ভুলও স্বীকার করি—এতে বাড়ে মানি।
সামাজিক মাধ্যমে লিখব আগে ভাবনা করে,
কথার ফল কী হতে পারে—দেখব অন্তর ভরে।
প্রতিদিনই নিজের কাছে রাখব কিছু প্রশ্ন,
আজকে আমার কথায় কি পেয়েছে কেউ স্বস্তি?
কাউকে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি কোনো ক্ষণে,
ক্ষমা চেয়ে নেব দ্রুত, বিনয়েরই সনে।
আল্লাহর সব নেয়ামতের শুকরিয়া করি,
শুকরভরা হৃদয় নিয়ে সত্যের পথে চলি।
হে আল্লাহ, আমার জিহ্বা করো সত্যের সাথি,
মিথ্যা থেকে রক্ষা করো, দূর করো সব ক্ষতি।
কটু কথা যেন না আসে আমার মুখের দ্বারে,
কথার তীরে যেন কেউ না কাঁদে অশ্রুধারে।
আমার হাসি হোক যেন ভালোবাসার ফুল,
উপহাসে যেন না হয় কারও হৃদয় ব্যাকুল।
আমার চোখে ফুটুক মায়া, মুখে মধুর বাণী,
মানুষ যেন কাছে এসে পায় শান্তিরই পানি।
আমার হৃদয় করো তুমি কৃতজ্ঞতায় ভরা,
অহংকারের কালো ছায়া দাও না যেন ধরা।
যে করেছে উপকার আমার, রাখি তার সম্মান,
তার জন্যও দোয়া করি—এই হোক আমার প্রাণ।
বাবা-মায়ের সেবা যেন করতে পারি সদা,
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা যেন থাকে হৃদয়জুড়া।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াই, দুঃখীর চোখ মুছি,
মানুষেরই কল্যাণে যেন জীবনখানি খুঁজি।
একজন যদি উত্তম কথা বলে ভালোবেসে,
তার পরিবার হাসবে তখন আনন্দ নিয়ে হেসে।
একটি ঘর যদি শান্তির আলোয় ভরে যায়,
তারই আলো প্রতিবেশীর ঘরেও পৌঁছে যায়।
একটি শিশু যদি শেখে সুন্দর করে কথা,
আগামী দিনের সমাজ পাবে শান্তিরই ব্যথাহীন গাথা।
একজন শিক্ষক যদি চরিত্র গড়ার ব্রত নেন,
শত শিক্ষার্থী আলোকিত হয়ে সমাজ গড়তে দেন।
একটি মানুষ কৃতজ্ঞ হলে বাড়ে ভালোবাসা,
একটি হাসি মুছে দিতে পারে কত হতাশা।
একটি কোমল বাক্য থামাতে পারে বিরোধ,
একটি ক্ষমা ফিরিয়ে আনে হারিয়ে যাওয়া বোধ।
তাই পরিবর্তনের জন্য অন্যের দিকে নয়,
নিজের হৃদয় শুদ্ধ করাই প্রথম কাজ হয়।
আমি বদলাব—এই শপথে শুরু হোক পথচলা,
নিজের মাঝে জ্বালব আগে সত্যের নির্মল জ্বালা।
উত্তম কথা হোক আমার ভাষার অলংকার,
হাসিমুখে খুলুক সবার হৃদয়ের দ্বার।
কৃতজ্ঞতার ফুল ফুটুক হৃদয়ের বাগানে,
ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক আপন-পরের প্রাণে।
আমার কথায় জাগুক আশা, মুছে যাক ভয়,
আমার হাসি হোক যেন শান্তির পরিচয়।
আমার কাজে ফুটুক সদা মানবতার গান,
আমার হৃদয়ে থাকুক সত্য, দয়া, সম্মান।
জিহ্বা যেন কারও মনে না তোলে ক্ষত,
হাসি যেন না হয় কারও উপহাসের রথ।
হৃদয় যেন অকৃতজ্ঞ হয়ে না যায় কভু,
আল্লাহর শুকরিয়ায় ভরে থাকুক হৃদয় সবই।
উত্তম কথা—প্রথম চাবি, খুলুক মনের দ্বার,
হাসিমুখ—দ্বিতীয় আলো, মুছে দিক অন্ধকার।
কৃতজ্ঞতা—তৃতীয় রতন, চরিত্রেরই মান,
এই তিন গুণে সুন্দর হোক মানুষের জীবনপ্রাণ।
ঘরে ঘরে ফুটুক হাসি, সমাজ হোক মধুর,
মানুষ মানুষের পাশে থাকুক হয়ে আপন-সুর।
বিদ্বেষ, হিংসা, কটু কথা হারিয়ে যাক দূরে,
ভালোবাসার ফুল ফুটুক পৃথিবীজুড়ে।
ঈমান থাকুক অন্তরে আর আমলে তার ছাপ,
সত্য থাকুক মুখের ভাষায়, ন্যায় থাকুক মাপ।
মানুষ হোক মানুষের তরে—এই হোক মহৎ গান,
সৌজন্য, মমতা, কৃতজ্ঞতায় উজ্জ্বল হোক প্রাণ।
উত্তম কথা হোক আমাদের ভাষার অলংকার,
হাসিমুখ হোক আচরণের নির্মল উপহার।
কৃতজ্ঞতা হোক চরিত্রের সবচেয়ে সুন্দর রূপ,
মানবতার এই তিন আলোয় দূর হোক রাতের ধূপ।
সুন্দর কথা, সুন্দর হাসি, কৃতজ্ঞ হৃদয়—
এই তিন গুণে সুন্দর হোক জীবনময় পরিচয়।
ঈমান, মানবতা, ভালোবাসা থাকুক হৃদয়জুড়ে,
শান্তির আলো ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বভুবনজুড়ে।
আল্লাহ আমাদের করুন উত্তম চরিত্রবান,
সত্যভাষী, বিনয়ী, কৃতজ্ঞ ও দয়াবান।
মানুষের হক রক্ষা করে কাটুক জীবনের ক্ষণ—
এই হোক আমাদের প্রার্থনা, এই হোক জীবনধন।
৪
৪ মন্তব্য