Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:০৯ পূর্বাহ্ণ

বিনয়—মর্যাদা ও মহত্ত্বের সোপান - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                            বিনয়মর্যাদা মহত্ত্বের সোপান

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

রূপের জৌলুশ, ধনের গরব, পদ-মর্যাদার মান,
এসব দিয়ে হয় না মানুষ সত্যিকারের মহান।
চরিত্র দিয়ে মানুষ বড়, আচরণে তার জয়,
বিনয় যার হৃদয়জুড়ে, সে- মহৎ হয়।

অহংকারে মন যে ভরে, সত্য যায় যে হার,
নিজের দোষটি দেখে না সে, অন্যে হয় তুচ্ছ তার।
বিনয় এসে হৃদয়জুড়ে কোমল করে প্রাণ,
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা জাগায়সুন্দর করে জ্ঞান।

নিজেকে যে বড় না ভেবে আল্লাহর বান্দা মানে,
মর্যাদারই ফুল ফুটে তার বিনয়ী প্রাণে।
যে নত হয় রবের কাছে, সত্য রাখে মান,
আল্লাহ তার মর্যাদা দেনবাড়িয়ে দেন সম্মান।

যতই হোক জ্ঞানী মানুষ, যতই থাকুক ধন,
আল্লাহরই দান যে সবজীবন, শক্তি, মন।
জ্ঞান আমাদের, শক্তি আমাদেরসবই তাঁর দান,
তাঁরই দয়া, তাঁরই রহমত, তাঁরই অনুগ্রহ মহান।

জন্ম-মৃত্যু তাঁরই হাতে, রিজিক তাঁর দান,
ক্ষমতা আর প্রতিভাটুকু তাঁরই অনুদান।
তাই তো মুমিন মাথা নত করে তাঁরই দরবারে,
দুঃখে-সুখে তাঁরই স্মরণ রাখে অন্তরে।

রহমানের বান্দা তারাপৃথিবীতে চলে
বিনয়ভরা কোমল মনে, শান্তির কথা বলে।
পথ চলাতে অহংকার নেই, নেই গর্বের ভার,
নম্রতায় সে জয় করে নেয় মানুষেরই দ্বার।

আল্লাহ বলেনপৃথিবীতে যারা বিনয়ে চলে,
তারাই রহমানের বান্দাসত্য তাদের বলে।
পা যেন চলে সংযম ধরে, মন থাকে নত,
রবের কাছে আত্মসমর্পণএটাই শ্রেষ্ঠ পথ।

বিনয় মানে নিজেকে ছোট, অপমানিত করা নয়,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে থাকা নয়।
বিনয় মানে অহংকারহীন সত্যের প্রতি নত,
অন্যকে সম্মান করাচরিত্রে থাকা সতত।

নিজের গুণের জ্ঞান থাকবে, তবু থাকবে না গর্ব,
নিজের ভালো জানবে মানুষ, করবে না আত্মঅহংকার।
যোগ্যতা তার আল্লাহর দানএই কথাটি মানে,
নিজের কৃতিত্ব নয়, শুকরিয়া থাকে প্রাণে।

বিনয়ী সে দুর্বল নয় শিক্ষা রাখো মনে,
সত্যিকারের শক্তি থাকে নম্র আচরণে।
রূঢ় কথায় শক্তি নেই, অহংকারে জয় নয়,
সংযমী যে, সত্যবাদীতারই প্রকৃত জয়।

মানুষ ভাবে নিজেকে বড় দেখালেই সম্মান,
অর্থ-বিত্ত আর ক্ষমতাতেই বুঝি বাড়ে মান।
ইসলাম বলেসে ধারণা সত্য নয় মোটে,
মর্যাদা যে আসে বিনয়ে, উত্তম চরিত্রে।

যে নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবতে চায়,
তার হৃদয়ে ভালোবাসা দীর্ঘদিন না রয়।
যে মানুষকে মানুষ ভাবে, সম্মান দিতে জানে,
আল্লাহ তার মর্যাদা দেন দুনিয়া-আখিরাতে।

রাসুলের সেই বাণী যেন হৃদয়ে করি স্থির
আল্লাহর জন্য যে নত হয়”—সে হয় মহামহীর।
মানুষের কাছে বড় হতে অহংকার নয় চাই,
রবের কাছে নত হলে সম্মান কমে নাই।

অহংকার এক বিষের মতো হৃদয় করে কালো,
চোখের সামনে সত্য থাকলেও মনে লাগে ভালো
নিজের মিথ্যা, নিজের গর্ব, নিজের বড়াই শুধু,
সত্য কথাও শুনতে চায় নাঅহংকারে বধির কানে।

ইবলিস ছিল জ্ঞানী, ছিল সাধনারই দাবি,
অহংকারে হারাল সে তার মর্যাদার চাবি।
আদমকে সে মানল না, করল অবাধ্যতা,
নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার ফলে এলো তার অধঃপতনতা।

তাই অহংকার করো না ভাই, গর্বে হয় না জয়,
গর্বের শেষে লজ্জা আসে, অন্তরে বিষময়।
আজ যে মানুষ শক্তিমান, কাল সে দুর্বল হয়,
আজ যে মাথায় মুকুট পরে, কাল সে মাটির ক্ষয়।

সত্য জ্ঞানী অহংকারী নয়জ্ঞান তাকে নত করে,
বিশাল সৃষ্টির রহস্য দেখে রবকে স্মরণ করে।
যত শেখে, ততই বোঝেজ্ঞান সীমাহীন,
মানুষের জ্ঞান অতি সামান্যস্রষ্টার জ্ঞান অমলিন।

আমি জানি”—এই কথাতে জ্ঞানীর শেষ নয়,
জানি না”—বলতে পারাও জ্ঞানের পরিচয়।
অন্যের কাছে শেখার মাঝে নেই কোনো লজ্জা,
ভুল স্বীকারে কমে না মানবাড়ে জ্ঞানের মর্যাদা।

শিক্ষার্থী তাই শিক্ষককে দেবে যথা মান,
মনোযোগে শুনবে কথা, করবে জ্ঞান অর্জন।
না জানিলে প্রশ্ন করবে, ভুল হলে নেবে শোধরায়,
বিনয়ী মন জ্ঞানের পথে সহজেই এগিয়ে যায়।

বাবা-মায়ের সঙ্গে বলো কোমল মধুর ভাষা,
তাদের সেবা করো মনে রেখে ভালোবাসা।
মায়ের স্নেহ, বাবার ত্যাগভুলে যেয়ো না কভু,
তাদের প্রতি বিনয় রাখো, হৃদয় করো শুভ।

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের কথা শুনবে মন দিয়ে,
ভালোবাসার সেতু গড়বে ক্ষমা আর সম্মান দিয়ে।
ভুল হলে যে ক্ষমা করো বলতে পারে হাসিমুখে,
তারই ঘরে শান্তি নামে, সুখ থাকে সুখে।

বড় ভাইটি ছোটকে ভালোবাসবে আপন করে,
ছোটজনও সম্মান দেবে বড় ভাইয়ের তরে।
বড় বোন আর ছোট বোনে থাকুক মায়ার টান,
বিনয়ভরা পরিবারেই সুখের হয় বসতভূমি মহান।

সন্তান যদি নম্র হয় আর মা-বাবার মানে,
শান্তি নামে সেই পরিবারে, ভালোবাসা টানে।
ঘরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান দিলে ভাই,
সেই ঘরে সুখের আলো নিভে যেতে চায় না তাই।

কেউ কৃষক, কেউ শ্রমিক, কেউ শিক্ষক মহান,
কেউ ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, কেউ করেন প্রশাসন।
পেশা ভিন্ন, কাজও ভিন্ন, ভিন্ন সবার স্থান,
মানুষ হিসেবে সবারই আছে মর্যাদা-সম্মান।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শ্রমিক, কৃষক কিংবা দিনমজুর,
কাউকে যেন তুচ্ছ না ভাবিহৃদয় রাখি সুরভিত নূর।
ধনীর যেমন মর্যাদা আছে, গরিবেরও মান,
মানুষের মর্যাদা থাকেমানবতার সম্মান।

অর্থ দিয়ে শ্রেষ্ঠ নয় কেউ, পদেও নয় বড়,
আচরণে যে মহৎ মানুষ, সেই তো সত্যি বড়।
বিনয় যদি সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আজ,
দূর হবে হিংসা-বিদ্বেষ, সুন্দর হবে সমাজ।

মানুষ তখন মানুষকে আর ছোট করবে না,
অন্যের দুঃখ দেখলে কেউ মুখ ফিরিয়ে নেবে না।
সহযোগিতা বাড়বে সবার, কমবে মনের দূর,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে তখন সমাজ হবে ভরপুর।

নেতৃত্ব মানে শুধু নয়আদেশ দেওয়া ভাই,
নেতৃত্ব মানে মানুষেরই সেবায় নিজেকে চাই।
যে নেতা মানুষের কথা মন দিয়ে শোনে,
জনতারই কল্যাণ চায় নিজের কাজের ক্ষণে

সে নেতা পায় মানুষের ভালোবাসার স্থান,
তার নেতৃত্বে জাগে আস্থা, বাড়ে সবার মান।
ক্ষমতা যে আমানতএই কথাটি জানে,
ন্যায়বিচারের পথেই চলে আল্লাহর ভয় মানে।

ক্ষমতা পেয়ে গর্ব নয়, চাই দায়িত্ববোধ,
দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোই নেতৃত্বের বোধ।
মানুষ যদি নিরাপদ হয় নেতার আচরণে,
সেই নেতৃত্ব স্মরণীয় হয় মানুষের মনে।

মানুষের চরিত্র ফুটে কথারই ভুবনে,
কথার মাঝে পরিচয় মেলে মানুষের জীবনে।
কোমল ভাষা হৃদয় জেতে, কঠিন কথা ক্ষত,
একটি কথা জীবন গড়ে, একটি কথা করে ক্ষত।

উচ্চস্বরে কথা বলে মানুষ বড় হয় না,
অপমানের তীর ছুড়িলে সম্মান ফেরে না।
সত্য হলেও সুন্দর করে বলতে হয় সে কথা,
সুন্দর ভাষায় সত্য বলাই উত্তম পথের ব্যথা।

কণ্ঠস্বর রাখো সংযত, ভাষা রাখো মধুর,
কটূক্তি আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য করো না প্রচুর।
যে কথাতে অন্যের হৃদয় ভেঙে যায় ভাই,
সে কথা বলার আগে একটু ভেবে নেওয়া চাই।

ভুল করলে বলো সহজে—“ভুল হয়েছে ভাই,
ক্ষমা চাওয়ায় সম্মান কমেএমন কথা নাই।
ভুল স্বীকারে মানুষ ছোট নয়, বড় হয় বরং,
নিজেকে যে সংশোধন করে, সে- সত্যি মহৎ অঙ্গ।

অন্য কেউ যদি ভুল করে, ক্ষমা করতে শেখো,
প্রতিশোধের আগুন ছেড়ে শান্তির পথে থেকো।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে বৈধ বলা নয়,
ক্ষমা মানে হৃদয় থেকে বিদ্বেষ করা ক্ষয়।

যার হাতে ছিল প্রতিশোধ, ক্ষমা করল সে,
তার হৃদয়ের মহত্ত্ব তখন প্রকাশ পেল হেসে।
বিনয়ী মন প্রতিহিংসায় জ্বলে না সারাক্ষণ,
ক্ষমার জলে ধুয়ে ফেলে কষ্টের সব ক্ষণ।

ধন-সম্পদ আল্লাহর দানভুলো না কথা,
সম্পদ পেয়ে গরিব মানুষ করো না অবহেলা।
আজ যে ধন তোমার হাতে, কাল তা নাও থাকতে পারে,
জীবন শেষে কেউই তো ধন সঙ্গে নিতে পারে না ঘাড়ে।

সচ্ছল হলে দরিদ্রের পাশে দাঁড়াও ভালোবেসে,
অসহায়ের মুখে হাসি ফুটাও আন্তরিক হেসে।
আত্মীয়ের হক আদায় করো, দাও অভাবীকে দান,
সম্পদ তখন বরকত পায়, সুন্দর হয় প্রাণ।

বাড়ি যদি বড়ও হয়, মন যেন হয় বড়,
পোশাক যদি সুন্দর হয়, হৃদয় রাখো মধুর।
সাজসজ্জা, সৌন্দর্য, ধনসবই হতে পারে,
অহংকারে ব্যবহার করলে বিপদ নামে ঘরে।

বিনয় মানে অন্যায় দেখে নীরব থাকা নয়,
জুলুমকে প্রশ্রয় দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
অন্যকে সম্মান করব, সত্য কথা বলব,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় সাহসে চলব।

নম্র হব, কিন্তু সত্য থেকে সরব না কখনো,
ক্ষমাশীল হব, কিন্তু জুলুম মানব না কোনো।
নিজের অধিকার রক্ষা করব ন্যায়সঙ্গতভাবে,
আত্মমর্যাদা রাখব অটুট ইসলামী আদর্শে।

বিনয় হলো সত্যের কাছে নিজের অহং নত,
অন্যায়ের কাছে নয়এই শিক্ষা অতি পবিত্র।
হৃদয়ে থাকবে নম্রতা, কাজে থাকবে ন্যায়,
এমন মানুষ গড়তে হবেএটাই আমাদের চায়।

প্রথমে মনে রাখব সদাআল্লাহ আমাদের রব,
তাঁরই দানে জীবন পেলাম, তাঁরই রহমত সব।
নিজের শক্তি, জ্ঞান, সম্পদসবই তাঁর দান,
তাঁর শুকরিয়ায় ভরে উঠুক আমাদের প্রাণ।

নিজের ভুলটি খুঁজব আগে, অন্যের ভুল নয়,
নিজেকে সংশোধন করাই উন্নতিরই জয়।
অন্যের ভালো গুণ দেখিলে প্রশংসা করব তাই,
ভালো মানুষ দেখে মনে ঈর্ষা রাখব নাই।

দরিদ্রকে ছোট করব না, দুর্বলকে নয় তুচ্ছ,
সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হৃদয় করব পবিত্র।
শিক্ষক, মা-বাবা, বয়োজ্যেষ্ঠদেব যথাযোগ্য মান,
ছোটদেরও স্নেহ দেবএই হোক জীবনগান।

কথায় হবে শালীনতা, কাজে হবে ন্যায়,
সাফল্যে হবে শুকরিয়া, ব্যর্থতায় হবে ধৈর্যধারায়।
প্রতিদিনই নিজেকে জিজ্ঞেস করব অন্তরে
অহংকার কি ঢুকছে তবে আমার মনের ঘরে?”

জ্ঞান বেড়েছে, প্রযুক্তি বেড়েছে, বেড়েছে সভ্যতার রূপ,
তবু কেন মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষের ধূপ?
মতভেদ হলেই কেন কটু কথার ঝড়,
সামান্যতেই কেন মানুষ করে সম্পর্ক ক্ষয়?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথার বিষ না ছড়াই,
অন্যের সম্মান নষ্ট করে নিজের সম্মান হারাই না ভাই।
মত আলাদা হতে পারেমানুষ শত্রু নয়,
ভিন্ন মতকে সম্মান করাই সভ্যতার পরিচয়।

নিজের কথাই একমাত্র সত্যএমন ভাবনা ছাড়ি,
শুনতে শিখি অন্যের কথা, হৃদয় করি ভারী
সহনশীলতা, সৌজন্য আর বিনয়েরই আলোয়,
মানুষ মানুষকে আপন করুক ভালোবাসার ছায়ায়।

শিক্ষক হবেন স্নেহময়, শিক্ষার্থী হবে নম্র,
জ্ঞানচর্চার পরিবেশ হবে শান্ত, সুন্দর, পবিত্র।
শিক্ষক যদি প্রশ্ন শোনেন মনোযোগে নির্ভয়,
তাতে তাঁর মর্যাদা কমে নাবরং বাড়ে জয়।

শিক্ষার্থী যদি বিনয়ে বলে—“স্যার, বুঝিনি আমি,”
সেই প্রশ্নেই জ্ঞানের পথে খুলে যেতে পারে ভূমি।
ভুল করলে সংশোধন হবে, সত্য হবে মান্য,
বিনয়ী শিক্ষার্থীর জ্ঞান হবে গভীর ধন্য।

কর্মচারী, কর্মকর্তা, অভিভাবক সবাই,
পারস্পরিক সম্মানের পথ ভুলে গেলে চলবে নাই।
শিক্ষাঙ্গন শুধু জ্ঞানের নয়চরিত্র গড়ার স্থান,
বিনয় সেখানে হয়ে উঠুক জীবনেরই প্রাণ।

রাসুলুল্লাহ ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো,
তাঁর জীবনে বিনয়ের শিক্ষা দীপ্ত নির্মল ভালো।
আল্লাহর রাসুল হয়েও সাধারণের মাঝে থাকতেন,
দরিদ্র-অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট শুনতেন।

অসুস্থদের দেখতে যেতেন, দুঃখীর পাশে দাঁড়াতেন,
মানুষের প্রতি দয়া-মমতা অন্তরে ধারণ করতেন।
ক্ষমতা ছিল, মর্যাদা ছিল, তবু গর্ব ছিল না,
মানুষকে তিনি ভালোবাসতেনভেদাভেদ রাখতেন না।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়মহত্ত্ব মানে কী,
ক্ষমতা নয়, বিনয় দিয়েই হৃদয় জয় হয় যে।
তাঁর আদর্শ অনুসরণে জীবন হবে ধন্য,
বিনয়েরই পথে চললে চরিত্র হবে পুণ্যময়।

বিনয় হলো হৃদয়জুড়ে শান্তির নির্মল আলো,
বিনয় হলো চরিত্রজুড়ে সত্যের অনুপম ভালো।
বিনয় হলো জ্ঞানের সাথে আত্মসংযমের সাথি,
বিনয় হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসার বাতি।

বিনয় হলো নরম ভাষা, সুন্দর ব্যবহারে,
বিনয় হলো ক্ষমা করে দেওয়া উপযুক্ত সময়ে।
বিনয় হলো দরিদ্রেরও সম্মান রক্ষা করা,
বিনয় হলো অন্যের দুঃখ নিজের মনে ধরা।

বিনয় হলো সত্যের কাছে অহংকারকে ক্ষয়,
বিনয় হলো ন্যায়ের পথে অবিচলিত জয়।
বিনয় হলো আল্লাহর কাছে মাথা নত করা,
বিনয় হলো তাঁর সন্তুষ্টির পথে জীবন গড়া।

হে আল্লাহ, অহংকার থেকে রাখো আমাদের দূরে,
বিনয়ের ফুল ফুটিয়ে দাও হৃদয়েরই নীড়ে।
জ্ঞান দাও, কিন্তু জ্ঞানের গর্ব যেন না আসে,
ধন দাও, কিন্তু ধনের অহংকার যেন না ভাসে।

ক্ষমতা দাও, ন্যায়বোধ দাও, সত্যের পথে রাখো,
অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা দিয়ে আমাদের হৃদয় ঢাকো।
মা-বাবার প্রতি দাও মমতা, শিক্ষকের প্রতি মান,
ছোট-বড় সবার প্রতি দাও ভালোবাসার দান।

কথায় দাও কোমলতা, কাজে দাও ন্যায়,
ভুল হলে তা স্বীকার করার সাহস যেন পাই।
অন্যায়ের কাছে নত নয়, সত্যে থাকি স্থির,
তোমার সন্তুষ্টির পথেই কাটুক জীবন ধীর।

হে রব, আমাদের এমন মানুষ হওয়ার তাওফিক দাও
যার হৃদয়ে তোমার ভয়, মুখে সত্যের আলো।
আচরণে যার নম্রতা, অন্তরে ভালোবাসা,
ন্যায়ের পথে অটল থেকে সবার জন্য আশা।

মানুষ যেন মানুষকে আর তুচ্ছ না করে কভু,
ভ্রাতৃত্ব, মমতা, সৌহার্দ্যে ভরে উঠুক সবই।
অহংকারের অন্ধকার যাক পৃথিবী থেকে দূর,
বিনয়ের আলোয় জেগে উঠুক মানবতার নূর।

মনে রাখি জীবনের এই অমর সত্যবাণী
বিনয়ী মানুষই সত্যিকার অর্থে মহামানী।
নিজেকে বড় করার চেয়ে নত হওয়া শ্রেয়,
আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেনতার চেয়ে বড় কে হয়?

যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অহংকার ত্যাগ করে,
আল্লাহ তার সম্মান বাড়ান দুনিয়া-আখিরাতে।
তাই এসো, বিনয়ের পথে গড়ি জীবনখানি,
সুন্দর হোক চরিত্র আমাদের, পবিত্র হোক প্রাণই।

বিনয় হোক অলংকার, সত্য হোক প্রাণ,
মানবতার সেবায় কাটুক আমাদের জীবন-প্রাণ।
রবের কাছে নত হয়ে হোক জীবনের জয়
বিনয়ী হৃদয়েই তবে মহত্ত্বের পরিচয়।

আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ