সহকারী অধ্যাপক
১১ জুন, ২০২৬ ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
কিতাব ও সুন্নাহর অটল বন্ধন - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
কিতাব ও সুন্নাহর অটল বন্ধন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরু করি রবের নামে, পরম দয়াময় মহান,
যাঁর কৃপাতে জাগে অন্তর, আলোকিত হয় প্রাণ।
যুগে যুগে পাঠিয়েছেন তিনি হিদায়াতের বাণী,
মানবজাতির মুক্তির তরে সত্যপথের দিশারী।
দুনিয়াটা ক্ষণিকের মেলা, ভাঙবে একদিন সব,
ক্ষমতা, ধন, সম্মান, গৌরব থাকবে না কোনো রব।
যা থাকবে তা আমল শুধু, থাকবে ঈমানের আলো,
রবের পথে যে চলেছিল সত্যকে বুকে ঢালো।
মানব যখন পথ হারিয়ে অন্ধকারে হয় বিভোর,
নফসের টানে ছুটে বেড়ায় ভুলের পথে নিরন্তর,
করুণাময় আল্লাহ তখন দান করেছেন মহাগ্রন্থ,
কুরআনের সেই নূরানী পথ করেছে জীবন ধন্য।
সেই কুরআন সত্যের আলো, চিরকল্যাণের দিশা,
যার বাণীতে মুছে যায় সব বিভ্রান্তির কালো নিশা।
ন্যায়ের পথে চলতে শেখায়, শেখায় ধৈর্য, প্রেম,
রবের ভয়ে জীবন গড়ার চিরসুন্দর মহা নেম।
কুরআনেরই ব্যাখ্যা হয়ে এলেন প্রিয় নবী,
মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সত্যের অমর ছবি।
তাঁর জীবন এক জীবন্ত গ্রন্থ, আদর্শের দীপশিখা,
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে মুক্তি পায় সকল দিশাহারা।
উম্মতের প্রতি অশেষ মমতায় বিদায়বেলায় তিনি,
রেখে গেলেন অমূল্য ধন, চিরকল্যাণের ঋণী।
বললেন তিনি, "আমি রেখে যাচ্ছি দুটি মহাসম্বল,
যদি তোমরা আঁকড়ে ধরো, হবে না পথচ্যুত কখনো বল।"
একটি হলো আল্লাহর কিতাব, নূরের অফুরন্ত ধারা,
অন্যটি তাঁর রাসূলের সুন্নাহ, মুক্তির শ্রেষ্ঠ সওগাত সারা।
যে এ দু’টির বন্ধন ধরে রাখবে দৃঢ় প্রাণে,
সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হবে না কোনো কালে।
কত মত আর কত পথের ডাকে মানুষ হয় বিভ্রান্ত,
কত চিন্তা, কত দর্শনে হারায় সত্যের প্রান্ত।
কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহ যখন থাকে জীবনের সাথী,
তখন মুমিন চিনে নেয় সে হক ও বাতিলের গাঁথি।
যেখানে কুরআনের বিধান, সেখানেই কল্যাণ,
যেখানে সুন্নাহর অনুসরণ, সেখানেই সফল প্রাণ।
যে ঘরে এ দু’টির শিক্ষা প্রতিদিন হয় চর্চা,
সেই ঘরে বরকত নামে, দূরে সরে সব অশান্তি-ঝড়।
শুধু তিলাওয়াত করলেই নয়, বুঝতে হবে অর্থ,
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে করতে হবে তার প্রয়োগ যথার্থ।
কুরআনের আলো হৃদয়ে জ্বেলে গড়তে হবে চরিত্র,
সুন্নাহর রঙে রাঙাতে হবে প্রতিটি দিন ও মিত্র।
লেনদেনে হতে হবে সৎ, কথায় হতে হবে সত্য,
মানুষের হক আদায় করে গড়তে হবে ন্যায়ের শক্ত।
ক্ষমা, দয়া, নম্রতা, শিষ্টতা রাখতে হবে প্রাণে,
যেমন শিক্ষা দিয়েছেন নবী তাঁর জীবনখানিতে।
কুরআন শেখায় তাকওয়ার পথ, শেখায় রবের ভয়,
সুন্নাহ শেখায় কীভাবে সেই শিক্ষা জীবনে হয়।
একটি মূল, অন্যটি তার সুন্দর ব্যাখ্যামালা,
দু’টি মিলে গড়ে তোলে ঈমানের সুবিশাল জ্বালা।
আজকে কত মানুষ দেখি নামের মাঝে মুসলিম,
কিন্তু জীবনের পথচলায় সুন্নাহ থেকে বহু দূর সীম।
কেউ গ্রহণ করে নিজের মত, ছেড়ে দেয় রবের বিধান,
এভাবেই জন্ম নেয় বিভ্রান্তি, দুর্বল হয় ঈমান।
যখন কুরআন পড়া হয় শুধু অনুষ্ঠানের তরে,
যখন সুন্নাহ ভুলে মানুষ চলে নিজের মনমতো করে,
তখন সমাজে বাড়ে অন্যায়, বাড়ে বিভেদের দেয়াল,
অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে, মুছে যায় নৈতিক জয়ধ্বনি কাল।
তাই হে মুমিন, ফিরে চলো কিতাব ও সুন্নাহর পানে,
সত্যের এই অমর সম্পদ রাখো দৃঢ়ভাবে প্রাণে।
এ দু’টির মাঝে রয়েছে মুক্তি, রয়েছে জান্নাতের দিশা,
রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের মহা আশা।
শিশুর হাতে দাও কুরআনের পবিত্র নূরের শিক্ষা,
তরুণদের শেখাও সুন্নাহর মহিমান্বিত দীক্ষা।
পরিবারে জাগাও আবার রাসূলপ্রেমের আলো,
হৃদয় ভরে অনুসরণ করো তাঁর পথ নির্ভালো।
যতদিন থাকবে উম্মতের মাঝে কুরআনের মর্যাদা,
যতদিন সুন্নাহ হবে জীবনের শ্রেষ্ঠ সাধনা,
ততদিন জাগ্রত থাকবে ঈমান, অটুট থাকবে বন্ধন,
ততদিন মুসলিম জাতি পাবে সম্মানের সুশোভন।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর কুরআনের প্রেমে ভরাও,
রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের তাওফীক দান করাও।
হককে হক হিসেবে চিনে তা মানার শক্তি দাও,
বাতিলকে বাতিল জেনে তা থেকে দূরে রাখাও।
কিতাব ও সুন্নাহর পথে কাটুক জীবনের কাল,
এই পথেই খুঁজি আমরা মুক্তির চিরন্তন জয়মাল।
রবের সন্তুষ্টি অর্জনে থাকুক আমাদের সাধনা,
এই দু’টি আঁকড়ে ধরে হোক জান্নাতের ঠিকানা।
***
কিতাব ও সুন্নাহর অটল বন্ধন
শুরু করি রবের নামে, পরম করুণাময়,
যাঁর দয়াতে সৃষ্টি জগৎ, যাঁর হুকুমে সব হয়।
যুগে যুগে নবী পাঠিয়ে দিয়েছেন সত্যের বাণী,
মানবজাতির মুক্তির তরে খুলেছেন হিদায়াতের খানি।
দুনিয়াটা ক্ষণিক সফর, মুসাফির সবার প্রাণ,
আজকে যারা ভরসা করে, কালই হবে অবসান।
ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, ক্ষমতার যত গৌরব,
কবরের ঘরে পৌঁছালে সবই হবে নিরব।
মানুষ যখন পথ হারিয়ে বিভ্রান্তির পথে চলে,
মিথ্যার ডাকে সাড়া দিয়ে সত্যকে পিছে ফেলে,
তখন রবের অশেষ দয়ায় নাযিল হলো কুরআন,
অন্ধকারে পথহারা জনে দেখালো সরল পথের জ্ঞান।
কুরআন হলো নূরের সাগর, হিদায়াতের আলো,
যার বাণীতে মৃত হৃদয় ফিরে পায় জীবন ভালো।
ন্যায়ের শিক্ষা, সত্যের ডাক, তাকওয়ার মহাগান,
মানবজীবন গড়ার তরে এতে রয়েছে সব বিধান।
কিন্তু শুধু গ্রন্থ দিলেই পূর্ণ হতো না দিশা,
তাই তো এলেন শ্রেষ্ঠ নবী, রহমতের আলোকরশ্মি।
তাঁর জীবন কুরআনেরই বাস্তব রূপের ছায়া,
তাঁর চলনে ফুটে উঠেছে আল্লাহর সন্তোষ-মায়া।
তিনি ছিলেন সত্যের শিক্ষক, আদর্শের মহাপাঠ,
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে সফল হয় জীবনযাত্রার ঘাট।
ইবাদত, আখলাক, আচরণ, পরিবার ও সমাজ,
সব ক্ষেত্রেই সুন্নাহ আমাদের শ্রেষ্ঠ পথের সাজ।
বিদায় হজের ঐ প্রাঙ্গণে উম্মতের প্রতি মায়ায়,
রাসূল দিলেন অমূল্য নসীহত গভীর হৃদয়ছোঁয়ায়।
বললেন তিনি, রেখে গেলাম দুটি মহান দান,
যতদিন আঁকড়ে ধরবে, হারাবে না সঠিক জ্ঞান।
একটি হলো আল্লাহর কিতাব, চিরসত্যের আলো,
অন্যটি আমার সুন্নাহ, মুক্তির পথচলা ভালো।
এ দু’টির মাঝে রয়েছে উম্মতের কল্যাণ,
এ দু’টির মাঝেই লুকিয়ে আছে সফলতার জ্ঞান।
যে জাতি কুরআন ধরেছে, পেয়েছে মর্যাদা,
যে জাতি সুন্নাহ মান্য করেছে, পেয়েছে শ্রেষ্ঠ সাধনা।
আর যখন এ দু’টিকে ছেড়ে মানুষ চলে দূরে,
তখন নেমে আসে অন্ধকার সমাজের প্রতিটি সুরে।
কত মতবাদ, কত দর্শন, কত বিভ্রান্তির ঢেউ,
সত্যের দাবিদার অনেক, কিন্তু সত্যিকারের ক’জন কেউ?
কুরআন ও সুন্নাহ হলো সত্য যাচাইয়ের মানদণ্ড,
এ দু’টির আলোয় চিনে নাও কোনটি সঠিক পন্থ।
কেউ যদি বলে ধর্ম মানো, কিন্তু কুরআন মানে না,
কেউ যদি দাবি করে প্রেম, অথচ সুন্নাহ জানে না,
তবে সে পথে নিরাপত্তা নেই, নেই কোনো নিশ্চয়তা,
কিতাব-সুন্নাহ ছাড়া অসম্পূর্ণ সব চিন্তা ও ব্যাখ্যাতা।
কুরআন শেখায় রবকে চেনা, শেখায় আখিরাত,
সুন্নাহ শেখায় কীভাবে হবে সেই শিক্ষার বাস্তব প্রভাত।
কুরআন হলো মূল উৎস, সুন্নাহ তার ব্যাখ্যা,
দু’টি মিলে সম্পূর্ণ করে ইসলামের মহারেখা।
সালাত কেমন আদায় হবে, শিখিয়েছেন নবী,
যাকাত, সাওম, হজের পথে দিয়েছেন সঠিক ছবি।
লেনদেন, বিবাহ, বিচার, প্রতিবেশীর অধিকার,
সুন্নাহর মাঝে রয়েছে এসব শিক্ষার অপার ভান্ডার।
শুধু মুখে ভালোবাসা নয়, চাই বাস্তব অনুসরণ,
নবীর পথে জীবন গড়াই সত্য প্রেমের প্রমাণ।
যে ভালোবাসে রাসূলকে, মানে তাঁর নির্দেশ,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে ঈমানের সুবাস বিশেষ।
আজও যদি মুসলিম জাতি জাগতে চায় আবার,
তবে ফিরতে হবে কুরআনের কাছে বারংবার।
ফিরতে হবে সুন্নাহর ছায়ায় বিনম্র হৃদয় নিয়ে,
মুক্তির পথ খুঁজতে হবে রাসূলের পদচিহ্ন বেয়ে।
ঘরে ঘরে কুরআনের শিক্ষা জাগুক নতুন করে,
সন্তানরা শিখুক সত্যপথ ভালোবাসার ঘরে।
সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি পরিবার,
তাহলেই দূর হবে সমাজের অশান্তির অন্ধকার।
যুবকরা গড়ুক চরিত্র নবীর আদর্শ ধরে,
সততা, দয়া, নম্রতা রাখুক অন্তর ভরে।
মিথ্যা, অহংকার, হিংসা, লোভ যাক দূরে সরে,
কিতাব ও সুন্নাহর নূর ছড়াক ঘরে ঘরে।
যখন বিচার হবে কুরআনে, চলবে সুন্নাহর পথে,
তখন ন্যায়ের সুবাস ছড়াবে মানবতার রথে।
জুলুম কমবে, হক প্রতিষ্ঠা পাবে দৃঢ় হাতে,
শান্তির ফুল ফুটে উঠবে সমাজের প্রতিটি প্রাতে।
হে মুমিন! সময় এখনও আছে, জাগো নিদ্রা ভেঙে,
হিদায়াতের এই অমূল্য ধন রাখো হৃদয় রঙ্গে।
কিতাব ও সুন্নাহর চেয়ে নিরাপদ পথ নেই,
এ দু’টির আলোয় চললে বিভ্রান্তি কাছে নাহি ঠাঁই।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো কুরআনের সাথী,
সুন্নাহর পথে চলার শক্তি দাও দিনরাতই।
সত্যকে বুঝে মানার তাওফীক দাও হে রহমান,
বাতিল থেকে দূরে রেখে রক্ষা করো ঈমান।
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকুক এই বন্ধন,
কিতাব ও সুন্নাহ হোক মুমিন হৃদয়ের স্পন্দন।
এই দুই মহাসম্বল ধরে চলি যদি অবিরাম,
দুনিয়াতে শান্তি পাব, আখিরাতে জান্নাতের ইনআম।
***
কিতাব ও সুন্নাহর অটল বন্ধন
শুরু করি রবের নামে, দয়াময় পরওয়ারদিগার,
যাঁর কুদরতে সৃষ্টি হলো এই বিশাল সংসার।
যাঁর রহমতে বেঁচে আছি, যাঁর দানে জীবন,
তাঁরই পথে চলার মাঝে মুমিনের সফলতা গঠন।
আসমানের নক্ষত্রমালা, সাগর, পাহাড়, বন,
সবই যেন ঘোষণা করে এক মহান স্রষ্টার গুণ।
তবু মানুষ ভুলে যায় কত সহজে সেই রব,
দুনিয়ার মোহে ডুবে গিয়ে হারায় সত্যের সব।
তখন আসে হিদায়াতের আলো, কুরআনের মহান ডাক,
অন্ধকারের গভীর গহীন ভেঙে দেয় বিভ্রান্তির ফাঁক।
এ গ্রন্থ শুধু পাঠের তরে অবতীর্ণ নয়,
এতে আছে জীবনের বিধান, মুক্তির পরিচয়।
কুরআনের প্রতিটি আয়াত নূরের দীপ্তি ছড়ায়,
পাষাণ হৃদয় কোমল করে, অন্তরকে জাগায়।
এতে আছে ধৈর্যের শিক্ষা, আছে শোকরের বাণী,
আছে ন্যায়ের সুস্পষ্ট পথ, আছে মুক্তির খনি।
কিন্তু কুরআনের অর্থ বুঝে বাস্তবে চলিবার তরে,
প্রয়োজন ছিল এক আদর্শ মানব সমাজের ঘরে।
সেই জন্যই এলেন নবী, রহমতের মহাদান,
তাঁর জীবনে ফুটে উঠল কুরআনের প্রতিচ্ছায়া মহান।
তিনি ছিলেন সত্যবাদী, বিশ্বস্ততার প্রতীক,
তাঁর চরিত্রের সুবাসে মুগ্ধ ছিল প্রতিটি দিক।
দুঃখে তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, সুখে ছিলেন কৃতজ্ঞ,
তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল আল্লাহভীতির যজ্ঞ।
বিদায়কালে উম্মতের তরে রেখে গেলেন দিশা,
যেন না হারায় কেউ কখনো সত্যপথের নিশা।
বললেন তিনি— "দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি আমি,
যতদিন আঁকড়ে ধরবে সেগুলো, হারাবে না ঠিকানা তুমি।"
একটি হলো আল্লাহর কিতাব, নূরের মহাসমুদ্র,
অন্যটি আমার সুন্নাহ, হিদায়াতের অমৃতসুধা।
যে এ দু’টিকে শক্ত হাতে রাখবে আপন প্রাণে,
পথভ্রষ্টতার ঝড় এলেও টিকবে ঈমানখানে।
কুরআন হলো মূল ভিত্তি, সুন্নাহ তার ব্যাখ্যা,
দু’টি মিলে পূর্ণ করে ইসলামের মহারেখা।
একটিকে ছেড়ে অন্যটিকে গ্রহণ করলে ভাই,
পূর্ণাঙ্গ দ্বীন কখনো আর প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।
সালাতের কথা কুরআনে আছে, রাকাতের শিক্ষা কই?
রাসূলেরই সুন্নাহ ছাড়া জানার উপায় নেই।
যাকাত, সাওম, হজের বিধান বাস্তবে যেভাবে,
শিখিয়েছেন নবী নিজে উম্মতের কল্যাণে।
কত মানুষ নিজের মতকে দ্বীনের ওপর রাখে,
কতজন আবার কুরআন-সুন্নাহ থেকে দূরে থাকে।
ফলে জন্ম নেয় বিভ্রান্তি, বাড়ে মতের ভেদ,
সত্যের বদলে মানুষ তখন অনুসরণ করে খেয়াল-খুশির রীত।
কিতাব ও সুন্নাহ হলো সত্য যাচাইয়ের মান,
এ দু’টির আলোয় প্রকাশ পায় সঠিক জ্ঞানের জ্ঞান।
যা মিলে যায় কুরআনের সাথে, সুন্নাহ দেয় যার সাক্ষ্য,
সেটিই হক, সেটিই সত্য, সেটিই মুক্তির রক্ষ্য।
যে ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত প্রতিদিন ধ্বনিত হয়,
যে ঘরে সুন্নাহর আমল জীবনের সঙ্গী হয়,
সে ঘরে নামে বরকত, নেমে আসে শান্তির ঢেউ,
ফেরেশতারা রহমত নিয়ে ঘিরে থাকে সেই ঢেউ।
পিতা যদি কুরআন শেখায়, মাতা সুন্নাহ গড়ে,
সন্তান তখন দীনের পথে বেড়ে ওঠে ঘরে।
তাদের হৃদয় আলোকিত হয় ঈমানের আলোয়,
ভবিষ্যতের উম্মাহ তখন সত্যপথেই চলয়।
যুবকদের আজ প্রয়োজন নবীর আদর্শ ধরা,
ভোগবাদের অন্ধ স্রোতে না হওয়া দিশেহারা।
সুন্নাহর পথে গড়তে হবে চরিত্র মহীয়ান,
তবেই হবে উম্মাহর মাঝে নবজাগরণের গান।
কুরআন শেখায় নম্র হতে, শেখায় ক্ষমা করা,
সুন্নাহ শেখায় শত্রুকেও ভালোবাসা ধরা।
কুরআন শেখায় ন্যায়ের পথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে,
সুন্নাহ শেখায় ধৈর্য ধরে কষ্টগুলো সইতে।
যখন মানুষ কিতাব-সুন্নাহ ভুলে নিজের পথে চলে,
শয়তান তখন হাসে নীরব অন্ধকারের তলে।
বাড়ে হিংসা, বাড়ে বিদ্বেষ, বাড়ে অন্যায়ের ভার,
সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ফিতনার অন্ধকার।
তাই হে মুমিন, ফিরে এসো কুরআনের ছায়াতলে,
সুন্নাহর সেই সুমহান পথ হৃদয় জুড়ে তোলে।
রাসূলপ্রেমের সত্য প্রমাণ তাঁর অনুসরণে,
মুখের দাবিতে নয় কখনো, কর্মের আয়োজনেই।
চল জীবনের প্রতিটি ক্ষণ গড়ি নবীর মতো,
সত্য বলি, হক আদায় করি, থাকি বিনয়ী যত।
কুরআনের আলো হৃদয়ে আর সুন্নাহ হাতে নিয়ে,
চলি আমরা জান্নাতপথে রবের সন্তোষ পেয়ে।
হে আল্লাহ! কুরআনের প্রেম দাও আমাদের অন্তরে,
সুন্নাহর আলো জ্বালিয়ে দাও জীবনের প্রতিক্ষণে।
হককে হক জেনে মানার শক্তি দাও হে রব,
বাতিল থেকে দূরে রেখে রক্ষা করো সব।
জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত থাকুক এ আহ্বান,
কিতাব ও সুন্নাহ হোক মুমিন হৃদয়ের প্রাণ।
এই দুই মহা-নিয়ামত ধরে চলি অবিরাম,
দুনিয়াতে হিদায়াত পাব, আখিরাতে জান্নাতের ইনআম।
***
কিতাব ও সুন্নাহর চিরন্তন পথ
কুরআন হলো নূরের বাতি, সুন্নাহ তার শিখা,
দু’টি মিলেই জ্বালিয়ে রাখে ঈমানের দীপশিখা।
একটি ছাড়া অন্যটি যেন অপূর্ণ এক দিশা,
দু’টির মাঝে লুকিয়ে আছে মুক্তির মহা-নিশা।
যখন ফিতনার কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য তখন হয় যে সর্বনাশ।
সেই সময়ে কুরআন এসে দেখায় সঠিক পথ,
সুন্নাহ তখন হাতে ধরে পার করিয়ে দেয় রথ।
যুগে যুগে যত বিভ্রান্তি, যত ভ্রান্ত মতবাদ,
কিতাব-সুন্নাহর সামনে সবই হয়েছে বরবাদ।
হকের পাল্লা ভারী হয়েছে এই দুইয়ের জোরে,
সত্যের সৈনিক বেঁচে থাকে তাদের আলো ধরে।
সাহাবিগণ এই শিক্ষাতে গড়েছিলেন জীবন,
তাই তো তাদের পদতলে নত হয়েছে ভূবন।
কুরআনের বাণী ছিল তাদের বুকের স্পন্দন,
সুন্নাহ ছিল কর্মপথের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণ।
আবু বকর, উমর, উসমান, আলীর মহা জীবন,
কিতাব-সুন্নাহর আলোতেই পেয়েছিল সম্মান।
তাঁদের পথে চললে আজও জাগবে নব উদয়,
হারানো সেই গৌরব আবার ফিরে আসবে নিশ্চয়।
আজকে যদি উম্মাহ চায় হারানো মান ফিরে,
ফিরতে হবে কুরআনেরই সুশীতল তীরে।
সুন্নাহর সেই সুবাস ছড়াক প্রতিটি প্রাণে,
তবেই আবার জাগবে আশা ক্লান্ত মুসলিমখানে।
শাসক যদি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে কুরআনের আলোয়,
ব্যবসায়ী যদি সত্য বলে সুন্নাহরই ছায়ায়,
আলিম যদি হক প্রচারে থাকে অবিচল,
উম্মাহ তখন পাবে আবার সম্মানের ফল।
মাতা যদি সন্তান গড়ে নবীর আদর্শ ধরে,
পিতা যদি সত্য শেখায় ভালোবাসার ঘরে,
তাহলে ঘরে ঘরে জ্বলবে ঈমানের প্রদীপ,
অন্ধকারের রাজ্য ভেঙে উঠবে নূরের দীপ।
কুরআন আমার হৃদয়বাগের চিরসবুজ ফুল,
সুন্নাহ আমার জীবনপথের অমূল্য মূল।
এ দু’টির মাঝে খুঁজে পাই শান্তির ঠিকানা,
এ দু’টির মাঝেই লুকিয়ে আছে জান্নাতের খাজানা।
হে আল্লাহ! আমাদের রাখো কিতাবের ছায়াতলে,
সুন্নাহর পথে অটল রেখো জীবন চলার কলে।
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন না হারাই এ বন্ধন,
কিতাব ও সুন্নাহ হোক আমাদের চিরস্পন্দন।
কবরের ঘোর অন্ধকারে যখন থাকব একাকী,
ধন-সম্পদ, বন্ধু-বান্ধব কেউ হবে না সাথী।
সেদিন যেন কুরআনের নূর আলোকিত করে প্রাণ,
সুন্নাহর আমল হয়ে যায় মুক্তির সম্মান।
হাশরের সেই ভয়াল দিনে, রৌদ্র যখন জ্বলে,
মানুষ যখন আশ্রয় খুঁজে দিশেহারা চলে,
তখন যেন এই দুই ধন হয় আমার পক্ষে সাক্ষী,
রবের দরবারে লাঞ্ছনা থেকে রাখে আমাকে বাঁচিয়ে।
দুনিয়াতে হিদায়াত, আখিরাতে জান্নাতের দান,
কিতাব ও সুন্নাহতেই রয়েছে তার প্রমাণ।
তাই হে মুমিন, দৃঢ় হাতে ধরো এ দুই রশি,
এই পথেই সফল হবে জীবনের সবই খুশি।
৪
৪ মন্তব্য