সহকারী অধ্যাপক
০৫ জুন, ২০২৬ ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ
আল্লাহর রজ্জু ধরে রাখো (সূরা আলে-ইমরান ১০৩-১০৪-এর আলোকে একটি দীর্ঘ কাব্য) মোঃ মুজিবুর রহমান
আল্লাহর রজ্জু ধরে রাখো
(সূরা আলে-ইমরান ১০৩-১০৪-এর আলোকে একটি দীর্ঘ কাব্য)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি প্রাণের গভীর গান,
মানবতার মুক্তির বাণী, শান্তির কবিতা মহান।
যে বাণীতে মিলনের সুর, ভ্রাতৃত্বের আহ্বান,
যে বাণীতে জাগে হৃদয়ে ঈমানের দীপ্তিমান।
আল্লাহ বলেন—হে মানবজাতি!
ধরো আমার রজ্জু শক্ত হাতে,
বিভেদের পথে যেও না আর,
ভালোবাসা রাখো সাথে।
এক ছিলে তোমরা শত্রু হয়ে,
হিংসা-বিদ্বেষে ভরা প্রাণ,
ক্ষুদ্র কারণে জ্বলত আগুন,
রক্তে রঞ্জিত হতো ধরণীস্থান।
গোত্রে গোত্রে সংঘাত ছিল,
ছিল না শান্তির আলো,
অহংকারে অন্ধ মানুষ
হারিয়েছিল সত্য ভালো।
প্রতিশোধের আগুন জ্বেলে
দিন কাটত রাতের পরে,
ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই দাঁড়াত
ঘৃণার বিষময় ঘোরে।
তখন এলো আল্লাহর দয়া,
করুণার অপার ঢেউ,
শুষ্ক হৃদয় সিক্ত হলো,
বদলে গেল সবই যেন।
যে হৃদয়ে ছিল ঘৃণার আগুন,
সেখানে প্রেমের ফুল,
যে চোখে ছিল প্রতিশোধের নেশা,
সেখানে ক্ষমার কূল।
মুহাজির আর আনসারের
বন্ধন হলো অটুট,
ঈমান তাদের করল একত্র,
সম্পর্ক হলো সুদৃঢ়, অম্লান, অক্ষুণ্ণ।
ভাই হলো ভাইয়ের আপনজন,
দুঃখে সুখে সমান,
একজন ক্ষুধার্ত হলে অন্যজন
বিলিয়ে দিত প্রাণ।
আল্লাহর অনুগ্রহে গড়ে উঠল
ভ্রাতৃত্বের মহামঞ্চ,
যেখানে নেই জাতির গর্ব,
নেই অহমিকার সঞ্চয়।
হে মানুষ! স্মরণ করো সে নিয়ামত,
স্মরণ করো সেই দিন,
যখন অন্ধকার ভেদ করে
এসেছিল সত্য দ্বীন।
তোমরা ছিলে আগুনের কিনারায়,
জাহান্নামের ভয়াল দ্বার,
পাপের পথে চলতে চলতে
হয়ে গিয়েছিলে পথহারা।
ঠিক তখনই আল্লাহ তোমায়
করলেন দয়ার ছায়া,
অন্ধকার থেকে আলোয় এনে
দিলেন হিদায়াতের মায়া।
আজও যদি ভুলে যাই আমরা
সে মহান উপকার,
তবে কেমন করে শোধ করব
রবের অশেষ ঋণভার?
তাই আসো সবাই একত্র হই,
ধরি কুরআনের হাত,
সুন্নাহর পথে জীবন গড়ি,
আলোকিত হোক রাত।
দলাদলি আর হিংসা নয়,
নয় বিভেদের দেয়াল,
ঈমান হবে মিলনের সেতু,
ভালোবাসা হবে ঢাল।
মসজিদের কাতারে দাঁড়িয়ে
ধনী-গরিব একসার,
সেখানেই শেখায় ইসলাম
সমতার অমর উপহার।
কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়,
তাকওয়াই শ্রেষ্ঠতার মান,
মানবতার এ মহাবাণী
দিয়েছে পবিত্র কুরআন।
কিন্তু শুধু নিজে ভালো হলে
পূরণ হবে না কাজ,
সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে
সত্য ও ন্যায়ের সাজ।
তাই আল্লাহর নির্দেশ এলো—
তোমাদের মাঝে থাকুক দল,
যারা ডাকে কল্যাণপথে,
দূর করে অন্যায়ের ছল।
যারা বলবে সত্য কথা,
ভয় করবে না কারো,
ন্যায়ের পথে ডাকবে সবাইকে,
আলো ছড়াবে চারিধার।
সৎকাজের হবে আহ্বানকারী,
মানবতার বন্ধু,
অসত্য, জুলুম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে
হবে তারা সদা যুদ্ধরত।
যেখানে মিথ্যা মাথা তোলে,
সেখানে বলবে সত্য,
যেখানে ঘৃণা ছড়ায় বিষ,
সেখানে প্রেমের নিত্য।
যেখানে মানুষ ভাঙে সম্পর্ক,
সেখানে মিলনের ডাক,
যেখানে অন্ধকার ঘিরে ধরে,
সেখানে জ্বালাবে আলোর ফাঁক।
তারা হবে সমাজের প্রদীপ,
তারা হবে পথের দিশা,
তাদের হাতে জাগবে আবার
মানবতার নতুন আশা।
আজ আমাদের পরিবারগুলোতে
কেন এত অশান্তি জাগে?
কেন ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে যায়,
কেন হৃদয় বিভেদে রাঙে?
কারণ আমরা ছেড়ে দিয়েছি
আল্লাহর রজ্জু দৃঢ় ধরা,
নিজের মতকে বড় করেছি,
হারিয়েছি সত্যের সুরা।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবিশ্বাস,
সন্তানের সাথে দূরত্ব,
আত্মীয়তার বন্ধন ভেঙে
বাড়ছে শুধু বিভ্রান্তি।
যদি ফিরে আসি কুরআনের পথে,
যদি জাগে ঈমান প্রাণে,
তবে আবার ফুটবে শান্তির ফুল
প্রতিটি ঘরে ঘরে।
ক্ষমা হবে সম্পর্কের ভাষা,
ধৈর্য হবে শক্তি,
ভালোবাসা হবে সেতুবন্ধন,
মিটবে হৃদয়ের ভ্রান্তি।
আসো তবে হাতে হাত রাখি,
ভেঙে ফেলি বিভেদের দেয়াল,
ঈমানের বন্ধনে গড়ি আবার
ভালোবাসার মহাকাল।
আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরে
চলব সঠিক পথে,
কল্যাণের ডাক পৌঁছে দেব
বিশ্বমানবের রথে।
সৎকাজ হবে জীবনের শপথ,
অসৎ হবে পরাজিত,
ন্যায় ও সত্যের পতাকা উড়বে
আকাশ জুড়ে দীপ্তচিত্ত।
যারা এ পথে জীবন গড়বে,
রবের সন্তুষ্টি চাইবে,
মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করে
হৃদয়কে পবিত্র রাখবে—
কুরআন তাদের সফল বলেছে,
তাদেরই চূড়ান্ত জয়,
দুনিয়ার শান্তি, আখিরাতের মুক্তি—
তাদের জন্যই সঞ্চয়।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের করো ঐক্যবদ্ধ,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও,
করো হৃদয় পবিত্র ও শুদ্ধ।
তোমার রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধরে
চলার তাওফীক দাও,
কল্যাণের পথে ডাকতে গিয়ে
সাহস ও হিকমাহ দাও।
আমাদের পরিবার, সমাজ, দেশ
ভরিয়ে দাও শান্তির নূরে,
ভাইকে ভাইয়ের আপন করে
রাখো তোমার রহমতের সুরে।
আমীন।
***
আল্লাহর রজ্জু ধরে রাখো
আকাশ জুড়ে ভোরের আলো,
পাখির কণ্ঠে গান,
সৃষ্টিজগৎ ঘোষণা করে
মহান রবের মান।
পাহাড় বলে, নদী বলে,
বলে সাগর-বন,
এক আল্লাহর ইবাদতে
নিবেদিত জীবন।
মানুষ তবে কেন আজও
বিভেদে বিভ্রান্ত?
কেন হৃদয় ভাঙে ঘৃণায়,
কেন সম্পর্ক ক্লান্ত?
কেন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই,
কেন আত্মীয় দূরে?
কেন ভালোবাসার প্রদীপ
নিভে যায় অন্ধকার সুরে?
এ প্রশ্নেরই উত্তর নিয়ে
নামল কুরআন মহান,
হিদায়াতের উজ্জ্বল আলো,
মুক্তির সুমহান দান।
আল্লাহ বলেন—
"সকলেই ধরো আমার রজ্জু,
এক হয়ে থাকো সবাই,
বিভেদ-বিচ্ছেদ ভুলে গিয়ে
ঐক্যের পতাকা বই।"
রজ্জু মানে কুরআনের বাণী,
রজ্জু মানে দ্বীন,
রজ্জু মানে সত্যের পথ,
শান্তি, প্রেম আর ঈমানী ঋণ।
যে এ রজ্জু আঁকড়ে ধরে,
সে পায় মুক্তির দিশা,
অন্ধকারের পথ ছেড়ে সে
খুঁজে পায় আলোর নিশা।
আর যে ছেড়ে দেয় এ বন্ধন,
হারায় জীবনের মান,
ঝড়ের মাঝে ছিন্ন পাতার
মতো হয় তার প্রাণ।
স্মরণ করো অতীত দিনের
অন্ধকার ইতিহাস,
যখন মানুষ মানুষকে দেখত
শুধু শত্রুর বিশ্বাস।
গোত্র নিয়ে অহংকার ছিল,
ছিল প্রতিহিংসার আগুন,
বছরের পর বছর জ্বলত
ঘৃণার ভয়াল ধুন।
তুচ্ছ ঘটনায় যুদ্ধ হতো,
রক্তে ভিজত ধরা,
ক্ষমার ভাষা হারিয়ে গিয়েছিল,
ভেঙে গিয়েছিল সারা।
শক্তিমান দুর্বলকে করত
অত্যাচারের শিকার,
মানবতা ছিল বন্দী হয়ে
অন্যায়ের অন্ধকার।
তখন এলো কুরআনের আলো,
রাসূলের মহান ডাক,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দিলেন,
খুলে দিলেন মুক্তির ফাঁক।
যারা ছিল কাল শত্রু পরস্পর,
আজ হলো ভাই ভাই,
এক কাতারে দাঁড়িয়ে তারা
একই প্রভুকে চায়।
মুহাজিরের হাতে আনসার
তুলে দিল ঘরের চাবি,
ভালোবাসার এমন ইতিহাস
দেখেনি পৃথিবী কভু নাকি।
একজন ক্ষুধার্ত থাকলে
অন্যজন থাকত না তৃপ্ত,
নিজের চেয়ে ভাইকে আগে
দিতে ছিল সদা ব্যস্ত।
এ ছিল না কোনো গল্প,
না কল্পনার রঙ,
এ ছিল ঈমানের শক্তি,
আল্লাহর রহমতের ঢঙ।
হে মানুষ!
আজও যদি সেই শিক্ষা
হৃদয়ে করি স্থান,
তবে মুছে যাবে বিভেদের সব
অন্ধকারের গান।
আজ পরিবার ভেঙে যায় কেন?
কেন অশান্তি ঘরে?
কেন পিতা-মাতা কাঁদে নীরব,
সন্তান থাকে দূরে?
কেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে
জন্ম নেয় অবিশ্বাস?
কেন সামান্য কথার জন্য
ভেঙে যায় ভালোবাসা?
কারণ আমরা ভুলে গেছি
আল্লাহর পবিত্র বাণী,
নিজের মতকে বড় করেছি,
হারিয়েছি সত্য জানি।
আমরা চাই অধিকার শুধু,
দায়িত্ব নিতে নারাজ,
নিজের ভুল না দেখে শুধু
অন্যের করি বিচার।
আমরা চাই সম্মান অনেক,
দিতে চাই না শ্রদ্ধা,
ফলেই আজ সম্পর্কগুলো
হারাচ্ছে সব মাধুর্য।
যদি আবার ফিরে আসি
কুরআনের ছায়াতলে,
তবে শান্তির ফুল ফুটবে
জীবনের প্রতিটা ফলে।
ধৈর্য হবে শক্তির উৎস,
ক্ষমা হবে ঢাল,
সত্য হবে পথের আলো,
ঐক্য হবে কালজয়ী জাল।
তারপর আল্লাহ দিলেন আরেক
মহান দায়িত্বখানি—
তোমাদের মাঝে থাকুক একটি দল,
যারা বহন করবে বাণী।
যারা ডাকবে কল্যাণ পথে,
শেখাবে ন্যায়ের কথা,
মানুষকে দেবে আলোর সন্ধান,
মুছবে অজ্ঞতার ব্যথা।
যারা বলবে—
সত্যের পথে চলো সবাই,
মিথ্যা থেকে ফিরো,
জুলুম, প্রতারণা, হিংসা ছেড়ে
মানবতার পথে ফিরো।
যারা সমাজের বিবেক হবে,
মানবতার প্রহরী,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে
দাঁড়াবে নির্ভীক ধীরী।
যেখানে ঘুষের কালো ছায়া,
সেখানে সততার ডাক,
যেখানে মিথ্যার উল্লাস,
সেখানে সত্যের ফাঁক।
যেখানে মানুষ অধিকার হারায়,
সেখানে ন্যায়ের শপথ,
যেখানে দুর্বল কাঁদে নীরবে,
সেখানে সহমর্মিতার রথ।
যেখানে পরিবার ভেঙে পড়ে,
সেখানে মিলনের সুর,
যেখানে আত্মীয়তা শুকিয়ে যায়,
সেখানে ভালোবাসার নূর।
তারা হবে সমাজের বাতিঘর,
তারা হবে আলোর দল,
তাদের হাতে জাগবে আবার
সত্য ও ন্যায়ের ফল।
সফলতার সংজ্ঞা শুধু
ধন-সম্পদ নয়,
পদ-পদবী, খ্যাতি, ক্ষমতা
চিরদিন সাথে রয়?
সফল সে-ই, যার হৃদয়ে
আল্লাহর ভয় থাকে,
মানুষের হক আদায়ে যে
সর্বদা সচেষ্ট থাকে।
সফল সে-ই, সত্যের তরে
ত্যাগ করতে জানে,
অন্যের সুখে হাসতে পারে
নিজের দুঃখ টানে।
সফল সে-ই, ভাঙা হৃদয়
জোড়া দিতে পারে,
সফল সে-ই, আল্লাহর প্রেমে
জীবন কাটায় ধীরে।
তাই এসো আজ শপথ করি,
হৃদয় খুলে বলি,
বিভেদের সব দেয়াল ভেঙে
ঐক্যের পথে চলি।
কুরআন হবে জীবনের দিশা,
সুন্নাহ হবে পথ,
মানবতার সেবার মাঝে
খুঁজব জান্নাতের রথ।
পরিবার হবে ভালোবাসার,
সমাজ হবে শান্ত,
ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের হৃদয়
হবে করুণাকান্ত।
হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়গুলোকে
ঈমান দিয়ে ভরো,
ঘৃণা, অহংকার, বিদ্বেষ মুছে
ভালোবাসার আলো ধরো।
আমাদের করো ঐক্যবদ্ধ,
করো সত্যের সাথী,
কল্যাণের পথে ডাকার তাওফিক
দাও হে বিশ্বনাথই।
তোমার রজ্জু শক্ত করে
ধরে রাখার শক্তি দাও,
দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতায়
আমাদের সবাইকে পৌঁছে দাও।
তোমার রহমতের ছায়াতলে
কাটুক জীবনের ক্ষণ,
ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায় ও প্রেমে
গড়ে উঠুক মানবভুবন।
আমীন।
***
আল্লাহর রজ্জুর বন্ধনে
যেদিন ছিল না হৃদয়ে প্রেম,
ছিল না শান্তির ছায়া,
ঘৃণার আগুন জ্বলত শুধু,
বিদ্বেষ ছিল মায়া।
মানুষ তখন মানুষকে
দেখত শত্রুর চোখে,
প্রতিশোধের কালো ধোঁয়া
উড়ত আকাশলোকে।
গোত্র নিয়ে অহংকারে
বিভক্ত ছিল প্রাণ,
সত্য-ন্যায়ের পরিবর্তে
চলত শক্তির গান।
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের রক্ত,
বন্ধুত্ব ছিল ক্ষীণ,
অন্যায়েরই উল্লাস ছিল,
অচেনা ছিল দ্বীন।
ঠিক তখনই রহমত হয়ে
নামল কুরআনখানি,
মানবতার পথ দেখাতে
এলো মোক্ষবাণী।
আল্লাহ বললেন—
ধরো সবাই আমার রজ্জু,
এক হয়ে যাও আজ,
বিভেদের সব দেয়াল ভেঙে
গড়ো সত্যের সমাজ।
রজ্জু মানে কুরআনের পথ,
রজ্জু মানে দ্বীন,
রজ্জু মানে আল্লাহভীতি,
ঈমানের রঙিন ঋণ।
রজ্জু মানে ন্যায় প্রতিষ্ঠা,
মানবতার জয়,
রজ্জু মানে হৃদয় জুড়ে
ভালোবাসার পরিচয়।
যে এ রজ্জু শক্ত করে ধরে,
সে পায় আলোর দিশা,
অন্ধকারের শত ঝড়েও
হারায় না তার নিশা।
যে এ রজ্জু ছেড়ে দেয়,
ভেসে যায় মোহস্রোতে,
নৌকাবিহীন পথিক যেন
হারিয়ে যায় অজানাতে।
স্মরণ করো অতীত দিনের
সেই বিভীষিকাময় কাল,
যখন ঘৃণার বিষবাষ্পে
আচ্ছন্ন ছিল মহাকাল।
আউস-খাযরাজ শত্রু ছিল,
জ্বলত যুদ্ধের আগুন,
বছরের পর বছর ধরে
বইত রক্তের ফাগুন।
তখন এলো নবীর বাণী,
আল্লাহর পবিত্র নূর,
বিদ্বেষ গলল বরফ হয়ে,
ভালোবাসা হলো ভরপুর।
একই কাতারে দাঁড়াল সবাই,
একই রবের দাস,
ঈমান তাদের একত্র করল,
মুছে দিল সর্বনাশ।
মুহাজিরের ব্যথা দেখে
কাঁদল আনসার ভাই,
নিজের ঘরও বিলিয়ে দিয়ে
বলল—“তুমি এসো তাই।”
কী অপূর্ব সেই ভ্রাতৃত্ব,
কী অনন্য দান,
মানবতার ইতিহাসে
অমর যার সম্মান।
আজও যদি সেই শিক্ষা
হৃদয়ে করি ধারণ,
পৃথিবী জুড়ে ফুটবে আবার
শান্তির সুবাসিত কানন।
আজ পরিবার ভাঙে কেন?
কেন সম্পর্ক ক্ষয়?
কেন সামান্য কথার আঘাতে
স্নেহের বন্ধন ক্ষয়?
কেন সন্তান দূরে সরে,
কাঁদে বৃদ্ধ পিতা-মাতা?
কেন ভালোবাসার নীড়গুলো
হারায় সুখের বারতা?
কেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে
জন্ম নেয় অবিশ্বাস?
কেন সন্দেহের অন্ধকারে
ম্লান হয় ভালোবাসা?
কারণ আমরা হারিয়েছি
ঐক্যের পবিত্র সূত্র,
নিজের অহং বড় করেছি,
ভেঙেছি সম্পর্কপুত্র।
আমরা চাই শুধু পাওয়ার হিসাব,
দিতে চাই না কিছু,
স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দিই
সত্যের মহামন্ত্র।
তাই তো ঘরে ঘরে আজ
অশান্তির কালো মেঘ,
মানবতার সবুজ বাগান
শুকিয়ে যায় আবেগ।
এসো ফিরে কুরআনের কাছে,
সুন্নাহর আলোকধারায়,
ঈমানের সেই নির্মল স্রোতে
হৃদয় ধুয়ে যাক বারবার।
ক্ষমা হোক সম্পর্কের ভাষা,
ধৈর্য হোক অলংকার,
নম্রতা হোক হৃদয়ের রূপ,
ভালোবাসা হোক অধিকার।
তারপর এলো মহান নির্দেশ—
শুধু নিজে ভালো নয়,
অন্যকেও ডাকতে হবে
সত্যের পথে নির্ভয়।
তোমাদের মাঝে থাকুক দল,
কল্যাণ যাদের কাজ,
মানবতার কল্যাণসাধন
যাদের জীবনের সাজ।
তারা ডাকবে ন্যায়ের পথে,
সৎকাজে উৎসাহ,
মন্দের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তারা,
রুখবে অন্যায় প্রবাহ।
যেখানে জুলুম মাথা তোলে,
সেখানে সত্যের ডাক,
যেখানে মিথ্যা হাসে জোরে,
সেখানে ন্যায়ের ফাঁক।
যেখানে দুর্বল কাঁদে নীরব,
সেখানে সেবার হাত,
যেখানে মানুষ পথ হারায়,
সেখানে হিদায়াতের প্রভাত।
যেখানে ঘুষে কলুষিত হয়
বিবেকের নির্মল জল,
সেখানে সততার প্রদীপ জ্বেলে
জাগাবে আলোর দল।
যেখানে আত্মীয়তা মরে,
সেখানে বন্ধনের বীজ,
যেখানে হিংসা আগুন জ্বালে,
সেখানে শান্তির সিঁড়ি।
তারা হবে সমাজের বিবেক,
তারা হবে আলো,
তাদের হাতে ফুটবে আবার
মানবতার ভালো।
সফলতা শুধু ধন নয়,
ক্ষমতা কিংবা নাম,
সফলতা হলো আল্লাহর কাছে
পাওয়া সন্তুষ্টির দাম।
সফল সে-ই, হক আদায়ে
যে থাকে সদা সচেষ্ট,
সফল সে-ই, সত্যের তরে
যে হয় ত্যাগে অভ্যস্ত।
সফল সে-ই, ভাঙা হৃদয়ে
আশার প্রদীপ জ্বালে,
সফল সে-ই, মানুষ দেখে
মানুষকেই ভালোবেসে।
তাই এসো আজ শপথ করি,
ঐক্যের পথে চলি,
আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধরে
সত্যের পতাকা তুলি।
পরিবার হোক ভালোবাসার,
সমাজ হোক শান্তিময়,
মানবতার বন্ধনে গাঁথা
হোক পৃথিবীর পরিচয়।
হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়গুলোতে
ঈমানের আলো দাও,
ঘৃণা, হিংসা, অহংকার মুছে
ভ্রাতৃত্বের সুবাস দাও।
তোমার রজ্জু শক্ত করে
ধরে রাখার শক্তি দাও,
কল্যাণের পথে ডাকতে গিয়ে
হিকমাহ ও সাহস দাও।
আমাদের ঘর, সমাজ, দেশ
ভরিয়ে দাও নূরে,
ভাইকে ভাইয়ের আপন করে
রাখো রহমতের সুরে।
দুনিয়াতে দাও শান্তির জীবন,
আখিরাতে জান্নাত,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
আমীন।
***
৪
৪ মন্তব্য