Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুন, ২০২৬ ০৪:১৭ অপরাহ্ণ

ইসলামি শরিয়তে ধর্ষকের শাস্তি
ইসলামি শরিয়তে ধর্ষকের শাস্তি , বিবাহিত হলে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড), আর অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত।  
ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ। ইসলাম নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ধর্ষণ দমন ও প্রতিরোধে ইসলামে রয়েছে কঠোর শাস্তি, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক দায়িত্বের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

ইসলামি শরিয়তে ধর্ষণকে ব্যভিচার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণে ধর্ষকের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধী যদি বিবাহিত হয়, তবে তার শাস্তি রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড), আর অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত।

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন,  ‘ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো …’ (সুরা নূর, আয়াত : ২)

অন্যদিকে, ধর্ষণের শিকার নারী ইসলামের দৃষ্টিতে নির্যাতিতা ও মজলুম। তার ওপর কোনো শাস্তি নেই, কারণ এটি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, ভুলে যাওয়া বিষয় এবং জোরপূর্বক করানো বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৪৫)

ইসলাম শুধু অপরাধীর শাস্তির কথাই বলেনি, বরং ধর্ষিতার মানসিক পুনর্বাসন, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, তাকে সহায়তা করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করা।

ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলাম ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র, সকল স্তরে নৈতিক শিক্ষা, সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর হলে এবং সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হলে নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত হবে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ