সহকারী অধ্যাপক
০২ জুন, ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
আলহামদুলিল্লাহ-২ - মোঃ মুজিবুর রহমান
আলহামদুলিল্লাহ-২
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আকাশ জুড়ে সূর্য জ্বলে,
আলো বিলায় প্রাণে,
চাঁদটি আবার শীতল হাসি
ছড়িয়ে দেয় সন্ধ্যাবেলায়।
নক্ষত্রগুলো রাতের বুকে
জ্বালে আশার দীপ,
অন্ধকারে পথিক খুঁজে
পায় যে আলোর নীড়।
মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,
শস্যে ভরে মাঠ,
নদী বয়ে জীবন আনে
অবিরাম দিনরাত।
বৃক্ষরাজি অক্সিজেন দেয়,
নীরব সেবক তারা,
ছায়া, ফল আর কাঠ বিলিয়ে
কাটায় জীবনসারা।
ফুলের বুকে রঙের মেলা,
সুগন্ধ ছড়ায় দূর,
মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে
রচে শ্রমের সুর।
গাভী দেয় দুধের ধারা,
পাখি গায় যে গান,
ঘোড়া, উট আর নানা প্রাণী
সেবায় সদা মহান।
সাগর ভরা অগণিত প্রাণ,
রয়েছে নিজ কাজে,
প্রতিটি সৃষ্টি বিধান মেনে
চলে আপন সাজে।
পর্বত দাঁড়ায় দৃঢ় হয়ে,
রাখে ধরার ভার,
বাতাস বয়ে শীতলতা দেয়,
করে জীবন পার।
সূর্য কখন দাবি করে না,
"আমায় কিছু দাও",
চাঁদও বলে না কোনোদিন,
"বিনিময়ে কী পাও?"
নদী কখন থেমে গিয়ে
চায় না কোনো দাম,
গাছের ডালে ফল যে ফলে
চায় না কোনো নাম।
প্রকৃতির এই মহাশিক্ষা
ভাবায় বারবার,
সেবার মাঝে লুকিয়ে আছে
মহত্ত্ব অপরিসীম আর।
তবু মানুষ সেরা সৃষ্টি,
মর্যাদা তার বড়,
জ্ঞান-বিবেক, বিচারশক্তি
দিয়েছে প্রভু ঘরে।
ফেরেশতারা প্রশ্ন করল,
"কী সে রহস্য আজ?"
আল্লাহ বললেন, "আমি জানি
তোমরা জানো না যার।"
মানুষ পাবে জ্ঞানের আলো,
পাবে সত্যপথ,
পাবে ইচ্ছার স্বাধীনতা,
পাবে দায়িত্ব শত।
এই স্বাধীনতা নিয়েই মানুষ
করবে পরীক্ষা,
সত্যের পথে চলবে নাকি
হারাবে নিজ দিশা?
যদি মানুষ কৃতজ্ঞ হয়ে
রবের বিধান মানে,
তবে সে হবে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি
দুই জগতের টানে।
আর যদি সে অহংকারে
ভুলে যায় উপকার,
তবে হারাবে আপন মর্যাদা,
হবে পথহারা।
কত নিয়ামত চারপাশে আজ,
গুনে কি শেষ হয়?
শ্বাসের বাতাস, পানির ধারা,
সবই করুণাময়।
চোখের দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি,
হৃদয়ের স্পন্দন,
প্রতিটি ক্ষণেই জড়িয়ে আছে
রবের অনুগ্রহগণ।
একটি বীজে লুকিয়ে রাখেন
বনের সম্ভাবনা,
এক ফোঁটা জল বাঁচিয়ে রাখে
জীবনের ঠিকানা।
ক্ষুধার পরে আহার মেলে,
তৃষ্ণার পরে জল,
দুঃখ শেষে আশার আলো,
ভাঙে অশ্রুজল।
তাই যে মানুষ চিনতে শেখে
সৃষ্টির এই রীতি,
তার হৃদয়ে জেগে ওঠে
কৃতজ্ঞতার গীতি।
সে দেখে শুধু নিজের সুখ নয়,
দেখে সবার হক,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়,
রাখে ন্যায়ের পক্ষ।
সে জানে সেবা ইবাদতও বটে,
উপকার বড় দান,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
থাকাই মহাসন্মান।
এ পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টি
যখন রবের তরে,
নিজ দায়িত্ব পালন করে
নিয়ম মেনে ঘুরে,
তখন কেন মানুষ হয়ে
ভুলব তাঁর বাণী?
কেন হব স্বার্থের দাস,
কেন হব গাফেল প্রাণী?
এসো সবাই শিখি আজকে
প্রকৃতিরই পাঠ,
সেবার মাঝে খুঁজে নেব
জীবনের প্রভাত।
স্বার্থ ভুলে ভালোবাসি
মানুষ ও সৃষ্টিকে,
ন্যায় ও দয়ার আলো ছড়াই
প্রতিটি হৃদপিণ্ডে।
আকাশ, জমিন, চন্দ্র, সূর্য,
নক্ষত্রের এ গান,
শুনিয়ে দেয় অবিরতই
রবের মহিমা জ্ঞান।
তাই তো আমি সেজদায় নত,
নত হৃদয়খানি,
বলছি ভরে কৃতজ্ঞতায়—
হে দয়াময় প্রাণের ধনী,
তুমি দিলে জীবন, আলো,
দিলে অগণিত দান,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
শূন্য এ জাহান।
সকল সৃষ্টি সাক্ষী হয়ে
গাই কৃতজ্ঞতার সুর,
আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি উঠুক
ভরুক ভুবনপুর।
আলহামদুলিল্লাহ!
শ্বাসে শ্বাসে আলহামদুলিল্লাহ!
সুখে-দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ!
জীবনের প্রতিটি ক্ষণে—
আলহামদুলিল্লাহ, রব্বিল আলামিন।
***
আলহামদুলিল্লাহ
আকাশ ভরা সূর্য-চাঁদ,
নক্ষত্র অগণন,
রবের হুকুম মান্য করে
চলছে অনুক্ষণ।
প্রভাত আসে সূর্যের সাথে,
রাত্রি আসে চাঁদে,
নিয়ম মেনে সৃষ্টি চলে
মহাবিশ্বের বাঁধে।
মেঘের কোলে বৃষ্টি নামে,
সিক্ত করে ধরা,
শুষ্ক মাটির বুকে তখন
জীবন জাগে সারা।
নদী বয়ে যায় অবিরত,
তৃষ্ণা মেটায় প্রাণ,
ফসল ফলে মাঠের পরে
হাসে কৃষকগণ।
পর্বতগুলো অটল হয়ে
দাঁড়িয়ে যুগ যুগ,
ধৈর্যের যেন জীবন্ত ছবি,
অবিচল তার রূপ।
বৃক্ষরাজি ছায়া বিলায়,
ফল ও ফুলের দান,
অক্সিজেনের সুধা দিয়ে
বাঁচায় কোটি প্রাণ।
মৌমাছিরা মধু আনে,
পিঁপড়া শেখায় শ্রম,
ক্ষুদ্র হয়েও কর্মে তারা
রচনা করে ধর্ম।
গাভী দেয় দুধের ধারা,
ছাগল দেয় উপকার,
অশ্ব টানে বোঝার ভার,
উট পাড়ি দেয় মরুপ্রান্তর।
পাখিরা গায় ভোরের গান,
জাগায় নিদ্রিত মন,
প্রাণীকুলও সেবা করে
নেই তো অহংবোধের ধ্বনন।
সাগর ভরা প্রাণের মেলা,
মাছের কত জাত,
খাদ্য দিয়ে টিকিয়ে রাখে
মানব সভ্যতার ঘাট।
কোথাও দেখি ফুলের হাসি,
কোথাও শস্যক্ষেত,
স্রষ্টার দেওয়া অগণিত দান
গুনে না শেষ হেতু।
সূর্য কি চায় পারিশ্রমিক
আলো দেওয়ার তরে?
চাঁদ কি চায় কোনো প্রতিদান
জোছনা ঢালার পরে?
বাতাস কি চায় মূল্য কিছু
শ্বাসের সুধা দিতে?
নদী কি চায় বিনিময়
জীবনধারা বয়ে নিতে?
গাভী কি বলে—
“দুধের দামে ভালোবাসা দাও?”
বৃক্ষ কি বলে—
“ফল খেলে কিছু ফিরিয়ে নাও?”
না, তারা সব সেবক হয়ে
রবের বিধান মানে,
নিজ নিজ কর্ম সম্পাদন করে
অবিচল প্রাণে।
তবু মানুষ সেরা সৃষ্টি,
সম্মান যার বেশ,
আল্লাহ দিলেন জ্ঞান-বিবেক,
করলেন মর্যাদায় শেষ।
দিলেন ভাষা, দিলেন বুদ্ধি,
দিলেন চিন্তার শক্তি,
সত্য-মিথ্যা বুঝার তরে
দিলেন নৈতিক ভক্তি।
দিলেন চোখে দেখার ক্ষমতা,
কানে শুনার দান,
দিলেন হৃদয়, দিলেন অনুভব,
দিলেন সুন্দর প্রাণ।
তবুও কেন মানুষ অনেক
ভুলে যায় উপকার?
কেন সে শুধু নিতে শেখে,
দিতে হয় যে ভার?
কেন সে ভাবে—
“সবই আমার,
আমি সবার বড়?”
যেখানে তার প্রতিটি শ্বাস
রবের দানের ঘর।
একটু ভেবে দেখো বন্ধু,
কত পেয়েছি আজ,
মায়ের স্নেহ, বাবার মমতা,
প্রভুর অশেষ সাজ।
জন্মের আগে কে দিয়েছিল
মায়ের বুকের দুধ?
কে সাজিয়েছিল পৃথিবীটাকে
ফসল, ফুলে সুদৃঢ়?
কে দিয়েছিল বৃষ্টির পানি,
সূর্যের সোনার আলো?
কে দিয়েছিল বাতাস ভরা
জীবন রাখার পালো?
সবই তো সেই মহান রবের
অশেষ অনুগ্রহ,
যাঁর দয়ার নেইকো সীমা,
নেই কোনো বিরহ।
মানুষ যদি বুঝতে পারে
সৃষ্টির এ আহ্বান,
তবে তার মন নত হবে
রহমানের দরবারে প্রাণ।
তখন সে আর অত্যাচারী
হতে পারবে না,
অন্যের হক গ্রাস করার
দুঃসাহস পাবে না।
তখন সে হবে সেবক একজন,
মানবতার বন্ধু,
মজলুমের পাশে দাঁড়াবে,
মুছবে চোখের অশ্রুবিন্দু।
তখন সে জানবে—
সত্যিকারের শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?
ক্ষমতা নয়, সম্পদ নয়,
রয়েছে সেবার ছায়ায়।
সৃষ্টিজগত শিক্ষা দেয়
দিনের পরে দিন,
নিজের চেয়ে অন্যের কল্যাণ
ভাবাই শ্রেষ্ঠ ঋণ।
তাই আসো আজ শপথ করি,
স্বার্থ ভুলে যাই,
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের
শুকরিয়া আদায় করি ভাই।
সেজদায় নত করি ললাট,
নত করি প্রাণ,
কৃতজ্ঞতার অশ্রু মেখে
গাই তাওহিদের গান।
আকাশ বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
বাতাস বলে তাই,
নদী বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
সাগর বলে ভাই।
পর্বত বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
বনানী বলে সুর,
চন্দ্র-সূর্য, নক্ষত্রমালা
গায় কৃতজ্ঞতার নূর।
আমিও তাই সৃষ্টির সাথে
মেলাই আমার বাণী,
হে পরম দয়ালু রব,
তুমিই প্রাণের ধনী।
তোমার দান অগণিত প্রভু,
গুনে শেষ না হয়,
তোমার রহম ছাড়া আমার
কিছুই আপন নয়।
তাই হৃদয়ের গভীর হতে,
তাই আত্মার তৃষ্ণায়,
তাই সেজদাবনত প্রাণের ভাষায়,
তাই জীবনের প্রত্যাশায়—
আলহামদুলিল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
যতদিন আকাশ থাকবে,
যতদিন থাকবে জমিন,
ততদিন ধ্বনিত হোক বিশ্বময়—
“সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর,
যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।”
***
সৃষ্টির সেবার পাঠ
আকাশ জুড়ে সূর্য হাসে,
আলো বিলায় নিত্য,
চাঁদ ছড়িয়ে শীতল জোছনা,
রাঙায় রাতের চিত্র।
নক্ষত্রগুলো দূর গগনে
জ্বলে অনন্তকাল,
ক্লান্ত পথিক খুঁজে পায় তায়
আশার আলোকজাল।
মেঘের বুকে বৃষ্টি নামে,
সিক্ত করে ধরা,
শুষ্ক মাটির অন্তর জুড়ে
জাগে জীবনের সাড়া।
নদী বহে অবিরাম,
ক্লান্তিহীন স্রোতে,
তৃষ্ণার্ত প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে
শত সহস্র ক্ষণে।
বৃক্ষরাজি মাথা তুলে
দাঁড়িয়ে নীরব প্রাণ,
ছায়া, ফল আর অক্সিজেন দিয়ে
করে সেবার দান।
ফুলের বুকে রঙের হাসি,
সুবাস ছড়ায় দূর,
মৌমাছিরা শ্রমের গানে
তুলে কর্মের সুর।
গাভী দেয় যে দুধের ধারা,
পাখি দেয় সংগীত,
প্রাণীকুলও সেবায় ব্যস্ত,
নেই কোনো অভিযোগচিত্ত।
পর্বত দাঁড়ায় যুগের পরে যুগ,
অটল মহীয়ান,
সাগর বুকে প্রাণের ভাণ্ডার,
অশেষ তার দান।
বাতাস বয়ে শ্বাসের সুধা
পৌঁছে দেয় ঘরে ঘরে,
বিনিময়ে সে কিছুই চায় না,
নীরবে থাকে পড়ে।
সূর্য কি চায় পারিশ্রমিক
আলো বিলানোর তরে?
চাঁদ কি চায় কোনো প্রতিদান
জোছনা ঢালার পরে?
নদী কি চায় মূল্য কোনো
জীবনধারা বয়ে?
বৃক্ষ কি চায় প্রতিদান
ফলের ভার বইয়ে?
না, তারা সব প্রভুর হুকুমে
নিয়োজিত আপন কাজে,
সেবার মহিমা লিখে চলে
বিশ্বজগতের মাঝে।
তবু মানুষ সেরা সৃষ্টি,
সম্মান তার বড়,
জ্ঞান-বিবেক, বিচারশক্তি
দিয়েছে প্রভু ঘর।
দিয়েছে ভাষা, দিয়েছে বুদ্ধি,
দিয়েছে চিন্তার ডানা,
সত্যের পথে চলার তরে
দিয়েছে হৃদয়খানা।
কিন্তু মানুষ কতই না আজ
ভুলে যায় সে কথা,
ভোগের নেশায় হারায় অনেক
কৃতজ্ঞতার ব্যথা।
শুধু নিতে শিখি আমরা,
দিতে শিখি কই?
নিয়ামতের পাহাড় পেয়েও
শুকরিয়া কমই হয়।
একটু যদি ভাবি বসে
নির্জন কোনো ক্ষণে,
কত অগণিত দান যে আছে
জীবনের প্রতিক্ষণে।
চোখের আলো, মায়ের স্নেহ,
বাবার মমতা ভরা,
এক ফোঁটা জল, একমুঠো অন্ন,
কত নিয়ামত ধরা।
জন্মের আগে কে সাজালো
আমার থাকার স্থান?
কে বানালো পৃথিবীজুড়ে
জীবনধারার গান?
কে দিল সূর্য, কে দিল চাঁদ,
কে দিল নীল গগন?
কে দিল নদী, কে দিল বৃষ্টি,
কে দিল স্পন্দন?
সবই তো সেই মহান রবের
অশেষ অনুগ্রহ,
যাঁর দয়ার নেইকো সীমা,
নেইকো কোনো বিরহ।
সৃষ্টির দিকে তাকাও যদি,
মিলবে শিক্ষা কত,
নিজের তরে নয়, অন্যের তরে
বাঁচাই মহৎ পথ।
গাছের মতো দানশীল হও,
নদীর মতো দাও,
সূর্যের মতো আলো বিলাও,
চাঁদের মতো চাও—
মানুষ যেন শান্তি পায়,
মুছে যায় সব দুঃখ,
সেবার মাঝে খুঁজে নিক সে
জীবনের আসল সুখ।
মজলুম যেন হক ফিরে পায়,
মাহরুম পায় স্থান,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক,
জাগুক মানবপ্রাণ।
অন্যায়ের পথ ত্যাগ করে
ন্যায়ের পথে চলি,
রবের দেওয়া প্রতিটি দানে
কৃতজ্ঞতার বুলি।
তখন বুঝব সেরা সৃষ্টি
হওয়ার অর্থ কী,
সেবার মাঝে ইবাদত লুকায়,
এটাই সত্যি।
তাই আমি আজ সেজদাবনত
নত করি প্রাণ,
হে পরম করুণাময়,
তুমিই মহামহান।
আকাশ বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
জমিন বলে তাই,
সূর্য-চাঁদ আর নক্ষত্রমালা
একই সুরে গায়।
নদী বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
বনানী তোলে তান,
প্রাণীকুলও আপন ভাষায়
করে তোমার গুণগান।
আমিও তাই সবার সাথে
তুলি কৃতজ্ঞ বাণী,
হে সকল জগতের প্রতিপালক,
তুমিই প্রাণের ধনী।
শ্বাসে শ্বাসে উচ্চারিত হোক
হৃদয়ের গভীর টান—
আলহামদুলিল্লাহ,
আলহামদুলিল্লাহ,
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।
***
আকাশ জুড়ে সূর্য হাসে,
আলো ছড়ায় প্রাণে,
চাঁদটি যেন স্নিগ্ধ মমতা
ঢালে রাতের টানে।
নক্ষত্রেরা দূর গগনে
জ্বলে নীরব দীপ,
পথহারা জন খুঁজে পায়
আশার আলোক-নীড়।
মেঘের কোলে বৃষ্টি নামে,
সিক্ত হয় ধরা,
শুকনো মাটির অন্তর জুড়ে
জাগে জীবনের সাড়া।
নদী বয়ে চলে নিরন্তর,
থামে না কোনো ক্ষণ,
তৃষ্ণার্তের মুখে তুলে দেয়
জীবনরসের পণ।
পর্বত অটল মাথা তুলে
দাঁড়িয়ে যুগে যুগে,
ধৈর্য, শক্তি, স্থিরতার পাঠ
দেয় সে নীরব মুখে।
বৃক্ষরাজি ছায়া বিলায়,
ফল ও ফুলের দান,
অক্সিজেনের সুধা দিয়ে
বাঁচায় অগণন প্রাণ।
মৌমাছিরা মধু আনে,
পিঁপড়া শেখায় শ্রম,
ক্ষুদ্র হয়েও কর্মের মাঝে
রচে মহৎ ধর্ম।
গাভী দেয় দুধের ধারা,
পাখি গায় গান,
প্রাণীকুলও সেবার পথে
উজাড় করে প্রাণ।
সাগর বুকে প্রাণের মেলা,
মাছের কত জাত,
মানবজীবন টিকিয়ে রাখে
অশেষ নিয়ামত।
সূর্য কি চায় কোনো মূল্য
আলো দেওয়ার তরে?
চাঁদ কি চায় প্রতিদান
জোছনা ঢালার পরে?
নদী কি চায় মজুরি কোনো
জীবনধারা বয়ে?
গাছ কি চায় পুরস্কার
ফলের ভার বইয়ে?
না, তারা সব রবের হুকুমে
নিয়োজিত আপন কাজে,
নিঃস্বার্থ সেবার মহাকাব্য
লিখছে বিশ্বমাঝে।
তবু মানুষ সেরা সৃষ্টি,
মর্যাদা যার বড়,
জ্ঞান-বিবেক, বিচারশক্তি
দিয়েছে প্রভু ঘর।
দিয়েছে ভাষা, দিয়েছে চিন্তা,
দিয়েছে অনুভব,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বোঝার
দিয়েছে মহারব।
কিন্তু মানুষ কতই না আজ
ভুলে যায় সে দান,
ভোগের নেশায় ডুবে গিয়ে
হারে কৃতজ্ঞ প্রাণ।
নিতে শিখি প্রতিক্ষণে,
দিতে শিখি কই?
অগণিত দান পেয়েও কেন
শুকরিয়া কমই হয়?
একটু যদি ভাবি বসে
নীরব কোনো ক্ষণে,
কত নিয়ামত ছড়িয়ে আছে
জীবনের প্রতিক্ষণে।
চোখের আলো, মায়ের স্নেহ,
বাবার মমতাঘেরা,
এক ফোঁটা জল, একমুঠো অন্ন—
নিয়ামতের নেইকো সীমানা।
জন্মের আগে কে সাজালো
আমার থাকার স্থান?
কে বানালো পৃথিবীজুড়ে
জীবনময় এ গান?
কে দিল সূর্য, কে দিল চাঁদ,
কে দিল নীলাকাশ?
কে দিল বৃষ্টি, নদীর স্রোত,
শ্বাসের পরশ-শ্বাস?
সবই তো সেই মহান রবের
অশেষ অনুগ্রহ,
যাঁর দয়ার সীমা নেই,
নেই কোনো বিরহ।
সৃষ্টির দিকে তাকাও যদি,
শিখবে অনেক পাঠ,
নিজের তরে নয় শুধু,
অন্যের তরে হাত।
গাছের মতো দানশীল হও,
নদীর মতো দাও,
সূর্যের মতো আলো বিলাও,
চাঁদের মতো চাও—
মানুষ যেন শান্তি পায়,
মুছে যাক সব ক্ষত,
সেবার মাঝেই লুকিয়ে থাকে
মানবতার রত্ন।
মজলুম যেন হক ফিরে পায়,
মাহরুম পায় স্থান,
ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক
প্রতিটি ঘর-বাড়ান।
অন্যায়ের সব অন্ধকার
সত্যের আলোয় ঢাকি,
ভালোবাসা আর সহমর্মিতায়
মানবতার পথ আঁকি।
তখন বুঝব সেরা সৃষ্টি
হওয়ার অর্থ কী,
সেবার মাঝে ইবাদত লুকায়—
এ সত্য চিরদিনই।
তাই আমি আজ সেজদাবনত,
নত করি প্রাণ,
হে পরম করুণাময়,
তুমিই মহামহান।
আকাশ বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
জমিন বলে তাই,
সূর্য-চাঁদ আর নক্ষত্রমালা
একই সুরে গায়।
নদী বলে— আলহামদুলিল্লাহ,
বনানী তোলে তান,
প্রাণীকুলও আপন ভাষায়
করে তোমার গুণগান।
আমিও তাই সবার সাথে
তুলি কৃতজ্ঞ বাণী—
হে রব্বুল আলামিন,
তুমিই প্রাণের ধনী।
শ্বাসে শ্বাসে উচ্চারিত হোক
হৃদয়ের গভীর টান,
সুখে-দুঃখে, দিনে-রাতে
জাগুক সেই গান—
আলহামদুলিল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
যতদিন আকাশ থাকবে,
যতদিন থাকবে জমিন,
ততদিন ধ্বনিত হোক বিশ্বময়—
“সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর,
যিনি সকল জগতের প্রতিপালক,
পরম দয়ালু, অসীম করুণাময়,
রব্বুল আলামিন।”
৪
৪ মন্তব্য