সহকারী শিক্ষক
০২ জুন, ২০২৬ ০৪:১২ অপরাহ্ণ
দাবা আবিষ্কারের কাহিনী
অনেক আগে ভারতের এক রাজা ছিলেন, যিনি যুদ্ধে ও ক্ষমতায় খুবই অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ভাবতেন, যুদ্ধ মানেই কেবল রাজা–রানির শক্তি, আর সৈন্যদের তেমন গুরুত্ব নেই।
এই সময় রাজ্যের এক মেধাবী গণিতজ্ঞ ও উদ্ভাবক ছিলেন—তার নাম ছিল সিসা ইবনে দাহির (কিংবদন্তি অনুযায়ী)। তিনি রাজাকে বোঝাতে চাইলেন যে, যুদ্ধ আসলে শুধুই রাজা নয়; বরং প্রত্যেকটি সৈন্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
দাবার আবিষ্কার
সিসা একটি নতুন খেলার নকশা তৈরি করলেন—যেখানে ছিল:
- * রাজা
- * মন্ত্রী (কুইন)
- * হাতি
- * ঘোড়া
- * নৌকা/রুক
- * সৈন্য (পন)
এই খেলাটিই পরে “দাবা” নামে পরিচিত হয়। এতে দেখানো হলো, ছোট সৈন্যরাও যদি সঠিকভাবে চলে, তবে তারা রাজাকেও রক্ষা করতে পারে।
রাজার বিস্ময় ও উপহার চাওয়ার গল্প
রাজা এই খেলায় খুব খুশি হলেন এবং সিসাকে পুরস্কার দিতে চাইলেন। তখন সিসা একটি অদ্ভুত অনুরোধ করলেন—
তিনি বললেন:
“দাবার প্রথম ঘরে ১টি গম দাও, দ্বিতীয় ঘরে ২টি, তৃতীয় ঘরে ৪টি—এভাবে প্রতিটি ঘরে আগের ঘরের দ্বিগুণ করে গম দাও।”
রাজা ভাবলেন, এটা তো খুব সামান্য চাওয়া! কিন্তু আসল হিসাব ছিল ভয়ংকর বড়।
বিস্ময়কর ফলাফল
৬৪টি ঘরের মোট গমের পরিমাণ দাঁড়ায়:
18,446,744,073,709,551,615 টি গম!
এত গম পৃথিবীতে তখন ছিলই না! রাজা বুঝতে পারলেন, এই খেলাটি শুধু বিনোদন নয়, বরং গণিতের এক অসাধারণ শিক্ষা।
শিক্ষা
এই কাহিনী আমাদের শেখায়:
- ছোট জিনিসও বড় পরিবর্তন আনতে পারে
- গণিত বাস্তব জীবনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত
- বুদ্ধি ও কৌশল শক্তির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
দাবা আজও পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিবর্ধক খেলাগুলোর একটি—যার পেছনে আছে এই সুন্দর কিংবদন্তি।
৪
৪ মন্তব্য