Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুন, ২০২৬ ০৮:০২ পূর্বাহ্ণ

সৃষ্টির সেবা ও মানুষের দায় - মোঃ মুজিবুর রহমান

সৃষ্টির সেবা মানুষের দায়

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বৃক্ষরাজি নীরব থেকে
কত সেবা করে যায়,
অক্সিজেনের শীতল ছোঁয়ায়
পৃথিবীটাকে ভরিয়ে দেয়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে
রাখে পরিবেশ নির্মল,
নিজের কথা ভাবে না তারা,
উজাড় করে দেয় সম্বল।

ফল দেয় তারা, ফুলও দেয়,
দেয় ছায়ার স্নিগ্ধতা,
ঝড়-বাদলেও দাঁড়িয়ে থাকে
নিয়ে ধৈর্যের মহত্ত্ব।

নদী বয়ে যায় অবিরত,
পিপাসিতের তৃষ্ণা হরে,
সূর্য আলো বিলিয়ে দেয়
সকল প্রাণের তরে।

চাঁদ ছড়ায় তার কোমল জ্যোৎস্না,
রাত্রিকে করে মধুময়,
পাখিরা গেয়ে যায় স্রষ্টার গুণ,
নেই তাদের কোনো ভয়।

এক মুঠো খাদ্য দিলে দেখো
পশুও থাকে কৃতজ্ঞ হয়ে,
লেজ নাড়িয়ে ভালোবাসা দেয়
আপন স্নেহের পরিচয়ে।

সৃষ্টির মাঝে কত নিদর্শন,
কত শিক্ষা চারিধার,
প্রত্যেক প্রাণী নিজ নিজ কর্মে
পালন করে রবের আদেশ ভার।

তবে মানুষ কেন ভুলে যায়
তার মর্যাদা, দায়িত্ব, মান?
কেন উপকারের বদলে দেয়
প্রতারণা, কষ্ট আর অপমান?

কেন কখনো বিশ্বাসভঙ্গের
কালো ছায়া নামে ঘরে?
কেন স্বার্থের ক্ষুদ্র হিসাব
মানবতাকে ফেলে দূরে?

আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন
জ্ঞান, বিবেক আর বোধ,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝে
চলার জন্য দৃঢ় শোধ।

তিনি বলেছেনপথ দুটি আছে,
একটি আলো, একটি আঁধার,
যে যেটি বেছে নেবে শেষে
সেই হবে তার পথের অধিকার।

লোভ যখন হৃদয়ে জাগে,
নফস যখন করে জয়,
তখন মানুষ ভুলে বসে
কোনটি সত্য, কোনটি নয়।

সম্পদের মোহ, ক্ষমতার নেশা,
অহংকারের বিষাক্ত ঢেউ,
অনেক মানুষ ডুবিয়ে দেয়
অন্যায়ের অন্ধ গহ্বরে ঢেউ।

উপকারীর ক্ষতি করে,
বন্ধুর সাথে করে ছল,
স্বার্থ ফুরালেই সম্পর্ক ভাঙে
কেমন মানবতার ফল?

যে হাত বাড়ায় বিপদকালে,
সাহায্য করে দুঃসময়ে,
অনেক সময় সেই হাতই
অবহেলার বোঝা বয়ে।

তবু ইতিহাস সাক্ষী হয়ে
আজও আমাদের বলে যায়
সত্য ন্যায়ের পথের যাত্রী
শেষ পর্যন্ত জয়ই পায়।

মহানবীদের জীবন জুড়ে
ছিল ত্যাগের উজ্জ্বল দিশা,
অন্যায়ের মুখোমুখি হয়েও
হারাননি তাঁরা আশা।

কত কষ্ট, কত নির্যাতন,
কত অপবাদ, কত ক্ষতি,
তবুও তাঁরা মানবতার তরে
দেখিয়েছেন ধৈর্যের গতি।

তাই হে মানুষ, শিক্ষা নাও
বৃক্ষের নীরব জীবন থেকে,
নদীর মতো দাও উপকার
স্বার্থের হিসাব দূরে রেখে।

সূর্যের মতো আলো ছড়াও,
চাঁদের মতো দাও প্রশান্তি,
দুঃখী মানুষের মুখে ফুটাও
আশার ফুল আর শান্তি।

একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যদি
তোমার দ্বারে আসে কভু,
তার মুখে অন্ন তুলে দিয়ে
রাখো না কোনো গর্ব তবু।

একটি এতিম শিশুর চোখে
যদি দেখো নীরব ব্যথা,
স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিও
এও তো ইবাদতের কথা।

মাজলুম যদি কাঁদে রাতে,
শোনো তার সে আর্তনাদ,
তার হক ফিরিয়ে দিতে চাও
এটাই হোক মানবতার সাধ।

ধনী-গরিব ভেদ ভুলে গিয়ে
মানুষকে মানুষ ভাবি,
ভ্রাতৃত্ব, মমতা, ন্যায় প্রেমে
গড়ি নতুন পৃথিবী।

কেউ যেন আর প্রতারণার
শিকার হয়ে না কাঁদে,
কারও জান, মাল, ইজ্জত যেন
অন্যায়ের আগুনে না দগ্ধে।

আমরা তো সেরা সৃষ্টি হয়েও
কত ভুলের পথে যাই,
হে রব! তোমার হেদায়েত ছাড়া
সঠিক পথ খুঁজে না পাই।

অহংকার থেকে বাঁচাও মোদের,
বাঁচাও লোভের জাল,
সত্যের পথে দৃঢ় রাখো,
করো হৃদয় উজ্জ্বল।

উপকারের প্রতিদানে যেন
উপকারই দিতে পারি,
কৃতজ্ঞতার সুন্দর ফুলে
জীবনটাকে ভরতে পারি।

বৃক্ষের মতো সেবক হই,
নদীর মতো কল্যাণময়,
মানবতার পথে চলি সবাই,
হোক হৃদয় আলোকময়।

হে আল্লাহ! আমাদের দাও
সত্যকে ভালোবাসার শক্তি,
ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবার সাহস,
মানবসেবার পবিত্র ভক্তি।

তোমার হেদায়েতের আলোয়
জেগে উঠুক প্রতিটি প্রাণ,
সৃষ্টির সেবায় কাটুক জীবন
এই হোক মোদের চির আহ্বান।

আমিন।



সৃষ্টির পাঠ, মানুষের জবাব

(আশরাফুল মাখলুকাতের আত্মসমালোচনা)

বৃক্ষ বলে—“দেখো মানুষ,
আমি দাঁড়াই নীরব হয়ে,
প্রখর রৌদ্র, ঝড়-তুফানে
সবার উপকারে রয়।

কার্বন নিয়ে বুকের মাঝে
অক্সিজেন দিই ফিরিয়ে,
জীবনধারা সচল রাখি
সৃষ্টিজগত জুড়িয়ে।

আমার ফলে ক্ষুধা মেটে,
আমার ছায়ায় শান্তি,
নিজে কিছুই চাই না তবু
বিলাই অফুরন্ত প্রান্তি।

নদী বলে—“শিখো আমার
অবিরাম চলার গান,
পাহাড় ভেঙে, বাধা ঠেলে
বয়ে যাই অবিরাম।

পিপাসিতের মুখে আমি
তৃপ্তির বারি ঢালি,
নিজের সুখের হিসাব করি না,
পরের তরে জ্বালি।

সূর্য বলে—“প্রতিদিন আমি
আলো বিলাই বিশ্বময়,
কেউ কৃতজ্ঞ, কেউ অকৃতজ্ঞ
তবু থামে না কর্মময়।

চাঁদ বলে—“অন্ধকারে
আশার প্রদীপ জ্বালি,
নিঃশব্দে আমি সেবা করি,
নেই কোনো বড়াইখানি।

পাখিরা কয়—“প্রভুর গুণে
মুখর থাকে প্রাণ,
প্রভাত বেলায় সিজদার সুরে
গেয়ে উঠি গান।

এক মুঠো খাদ্য দিলে দেখো
পশুও থাকে স্মরণে,
ভালোবাসার ঋণ সে রাখে
নীরব কৃতজ্ঞ মনে।

তখন মানুষ নিজের কাছে
প্রশ্ন করে একবার
আমি তো সেরা সৃষ্টি হয়ে
কেন হই পথহারা?

গাছের চেয়ে সেবা কম কেন?
নদীর চেয়ে দান?
পশুর চেয়ে কৃতজ্ঞতা
কমে কেন অবিরাম?

উপকার পেয়ে উপকারীর
করি কেন অপমান?
কেন তারই ক্ষতি করি,
ভাঙি বিশ্বাসের প্রাণ?

কেন স্বার্থের মোহে পড়ে
হই বিবেকহীন?
কেন লোভে বিকিয়ে ফেলি
মানবতার ঋণ?”

আল্লাহ দিলেন জ্ঞান-বিবেক,
দিলেন সত্যবোধ,
তবু কেন নফসের কাছে
হেরে যাই নিরোধ?

দিলেন হৃদয়, দিলেন দৃষ্টি,
দিলেন চিন্তার শক্তি,
তবু কেন ভুলে যাই
কৃতজ্ঞতার ভক্তি?

ক্ষমতার মোহ, সম্পদের নেশা,
খ্যাতির মিথ্যা জাল,
কত মানুষ হারিয়ে ফেলে
সুন্দর জীবনের কাল।

উপকারীর হাত কেটে দেয়,
বিশ্বাস করে ক্ষয়,
অন্যায়ের পথে হাঁটতে গিয়ে
মানবতা হারায়।

তবু এখনো পৃথিবীতে
আছে অনেক প্রাণ,
যারা নীরবে মানুষের তরে
করছে কল্যাণ।

কেউ ক্ষুধার্তকে অন্ন দেয়,
কেউ মুছে চোখের জল,
কেউ অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে
গড়ে আশার দল।

কেউ ফিরিয়ে দেয় ন্যায্য হক,
কেউ করে ন্যায়ের সাধনা,
তাদের কারণেই পৃথিবীতে
বেঁচে আছে মানবতা।

এসো তবে শিখি আমরা
বৃক্ষের মহান দান,
নদীর মতো উদার হতে,
সূর্যের মতো প্রাণ।

পশুর মতো কৃতজ্ঞ হই,
পাখির মতো সরল,
অহংকারের দেয়াল ভেঙে
হই মানবিক, সফল।

উপকারের প্রতিদানে যেন
উপকারই দিতে পারি,
বিশ্বাস পেলে বিশ্বাস দিয়ে
সম্পর্ক গড়ে ধরি।

কারও জান না করি ক্ষতি,
না করি ইজ্জতহানি,
না লুটে নিই কারও সম্পদ,
না ভাঙি বিশ্বাসখানি।

মাজলুম যদি কাঁদে কোথাও,
শুনি তার আর্তনাদ,
ন্যায়ের পথে দাঁড়াই সবাই,
হোক জীবনের সাধ।

মানুষ যেন মানুষ থাকে,
এই হোক বড় পরিচয়,
ধর্ম-বর্ণের ভেদ ভুলে
ভ্রাতৃত্বের হোক জয়।

বৃক্ষরাজি সেবা করে
প্রভুর দেওয়া নিয়মে,
আমরাও যেন সেবা করি
সত্য-ন্যায়ের ভূমিতে।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর জুড়ে
হেদায়েতের আলো দাও,
লোভ, হিংসা, প্রতারণা থেকে
চিরতরে মুক্তি দাও।

উপকারীর মর্যাদা দিতে
শিক্ষা দাও প্রতিক্ষণ,
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক
মানবতার অঙ্গন।

মোরা যেন আশরাফুল মাখলুকাত
নামের মর্যাদা রাখি,
সৃষ্টির সেবায় জীবন গড়ে
কল্যাণের প্রদীপ আঁকি।

তোমার প্রেমে, তোমার ভয়ে,
তোমার বিধান মেনে,
সত্য ন্যায়ের পথে চলি
জীবনের প্রতিক্ষণে।

হে রব্বুল আলামিন!
মানুষকে মানুষ হওয়ার
তাওফিক দাও সদায়,
সৃষ্টির সেবায় কাটুক জীবন,
হেদায়েতের আলোয়।

আমিন।

***

সৃষ্টির সেবা মানুষের জবাবদিহি

(আশরাফুল মাখলুকাতের প্রতি এক জাগরণী আহ্বান)

সৃষ্টির বিশাল অঙ্গন জুড়ে
চলছে কত কাজ,
নীরব ভাষায় সবার মাঝে
ছড়িয়ে দেয় যে সাজ।

বৃক্ষরাজি দাঁড়িয়ে থাকে
মাঠে, বনে, পথে,
অক্সিজেনের সুধা বিলায়
জীবন জাগায় রথে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে
রাখে ধরণী শুদ্ধ,
নিজের তরে কিছু না চেয়ে
সেবায় থাকে বদ্ধ।

ফল দেয় তারা, ফুল দেয় তারা,
দেয় যে শীতল ছায়া,
পাথর ছুঁড়ে মারলেও তারা
হারায় না তো মায়া।

নদী বয় অবিরাম স্রোতে,
পাহাড় ভেঙে যায়,
তৃষ্ণার্তের শুকনো মুখে
শান্তিধারা ছায়।

সূর্য প্রতিদিন আলো বিলায়,
চায় না কোনো দাম,
চাঁদও নেমে আঁধার রাতে
ছড়ায় স্নিগ্ধ ঘ্রাণ।

পাখিরা সব প্রভাত বেলায়
গেয়ে ওঠে গান,
স্রষ্টার দেওয়া নিয়ম মেনে
কাটায় সারাজীবন।

এক মুঠো খাদ্য দিলে দেখো,
পশুও থাকে পাশে,
কৃতজ্ঞতার ভাষা লেখা
তারই চাহনি-হাসে।

সৃষ্টির মাঝে এত উদাহরণ,
এত শিক্ষার ধারা,
তবু কেন মানুষ হয়ে
হারাই পথের তারা?

মোরা তো সেই মানুষজাতি,
সৃষ্টির সেরা বলে,
জ্ঞান-বিবেকের অমূল্য মুকুট
রয়েছে মাথার তলে।

আল্লাহ দিলেন চিনার শক্তি,
সত্য-মিথ্যার জ্ঞান,
দিলেন ন্যায় অন্যায়ের
বুঝবার অবধান।

তবু কেন উপকারীর
করতে থাকি ক্ষতি?
কেন বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে
গড়ি অন্যায় গতি?

কেন বন্ধু বন্ধুর সাথে
প্রতারণার খেলা?
কেন স্বার্থের কাছে বিকায়
মানবতার মেলা?

কেন জানের ক্ষতি করি,
কেন ইজ্জতহানি?
কেন সম্পদ লুটে নিতে
লজ্জা নাহি মানি?

নফস যখন হৃদয় জুড়ে
বিস্তার করে জাল,
লোভ তখন বিবেকখানি
করে দেয় বেহাল।

ক্ষমতার মোহ, অর্থের নেশা,
অহংকারের ঢেউ,
মানুষ তখন ভুলে বসে
সে কে, কোথা, কেউ।

দুনিয়া কিন্তু ক্ষণিকবাস,
চিরদিনের নয়,
আজ যে রাজা, কাল সে মাটির
অতিথি হয়ে রয়।

রবে না ধন, রবে না মান,
রবে না ক্ষমতাবল,
রবে শুধু কর্মের হিসাব,
সত্য-মিথ্যার ফল।

তবু আশা মরে না কখন,
আলো নিভে না তায়,
এখনো কত সৎ মানুষ
মানবতার গায়।

কেউ ক্ষুধার্তকে অন্ন দেয়,
কেউ মুছে চোখের জল,
কেউ অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে
গড়ে আশার দল।

কেউ ফিরিয়ে দেয় ন্যায্য হক,
কেউ রাখে আমানত,
কেউ অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে
রক্ষা করে মানবত্ব।

তাদের জন্য পৃথিবীজুড়ে
টিকে আছে প্রাণ,
তাদের ত্যাগে বেঁচে আছে
মানবতার গান।

এসো তবে শিক্ষা নিই
বৃক্ষের ত্যাগ হতে,
নদীর মতো উদার হই
মানুষেরই তরে।

সূর্যের মতো আলো ছড়াই,
চাঁদের মতো শান্তি,
কৃতজ্ঞতার ফুল ফুটিয়ে
ভরি হৃদয়-কান্তি।

উপকারীর উপকার করি,
বিশ্বাস রাখি অটুট,
অন্যায়ের সাথে আপস না করে
সত্যের পথে যুক্ত।

মাজলুম যদি কাঁদে কোথাও
শুনি তার আর্তনাদ,
তার ন্যায্য হক ফিরিয়ে দিতে
জাগুক মানবসাধ।

এতিম, গরিব, অসহায়ের
হই আপনজন,
মানবসেবায় খুঁজে নেব
জীবনেরই ধন।

মানুষ যেন মানুষ থাকে,
এই হোক বড় জয়,
ভালোবাসা, ন্যায় দয়ায়
ভরে উঠুক হৃদয়।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর হতে
লোভ-অহংকার হর,
হিংসা, প্রতারণা, অন্যায়ের
বন্ধ করো ঘর।

আমাদেরকে হেদায়েত দাও,
সত্যের পথে রাখো,
উপকারের প্রতিদানে যেন
উপকারই শিখাও।

মোরা যেন আশরাফুল মাখলুকাত
নামের মর্যাদা ধরি,
সৃষ্টির সেবায় জীবন গড়ে
কল্যাণের প্রদীপ জ্বালি।

তোমার রহমতের আলোয়
উজ্জ্বল হোক প্রাণ,
মানবতার পথে কাটুক জীবন
এই হোক শেষ গান।

আমিন।


মন্তব্য করুন

ব্লগ