সহকারী শিক্ষক
০১ জুন, ২০২৬ ০৭:৩২ অপরাহ্ণ
টাকা জমানোর জাদুকরী সমীকরণ: খরচ ও সঞ্চয়ের চিরন্তন দ্বন্দ্ব
মাসের শেষ দিকে এসে মানিব্যাগের শূন্যতার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা আমাদের অনেকেরই নিয়মিত গল্প। প্রতি মাসের ১ তারিখে আমরা এক বুক আশা নিয়ে ভাবি, এবার সব খরচ সামলে নিয়ে যা উদ্বৃত্ত থাকবে, তার পুরোটাই জমিয়ে ফেলব। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম সত্য হলো, ৩০ তারিখে এসে দেখা যায় জমানোর মতো একটি টাকাও আর অবশিষ্ট নেই। এই চিরচেনা সংকটের মূলে রয়েছে আমাদের একটি মস্ত বড় মনস্তাত্ত্বিক ভুল। আমরা সাধারণত ভাবি যে পুরো মাস মনের সুখে খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা-ই হবে আমাদের সঞ্চয়। কিন্তু মানুষের স্বভাবই এমন যে, পকেটে বা অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে অপ্রয়োজনীয় জিনিসকেও খুব জরুরি মনে হতে শুরু করে। ফলে খরচের খাত দিন দিন বাড়তেই থাকে, কিন্তু সঞ্চয়ের খাতাটা আর কখনোই খোলে না।
এই ফাঁদ থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো আমাদের প্রচলিত চিন্তাভাবনা এবং হিসাবের সূত্রটিকে সম্পূর্ণ উল্টে দেওয়া। দুনিয়ার সব সফল সঞ্চয়কারী একটি চমৎকার নিয়ম মেনে চলেন, যা হলো আয় করার পরপরই খরচের পেছনে না ছুটে প্রথমে সঞ্চয়ের অংশটুকু আলাদা করে ফেলা। অর্থাৎ, মাসের শুরুতে টাকা হাতে আসার সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট অংশ অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে বা ডিপিএস-এ সরিয়ে নিতে হবে, যা কোনো অবস্থাতেই স্পর্শ করা যাবে না। এরপর অবশিষ্ট যে অর্থ থাকবে, তা দিয়েই পুরো মাসের যাবতীয় প্রয়োজনের হিসাব মেলাতে হবে।
এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের ইতিবাচক সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। যখন আমরা দেখি যে খরচের জন্য বরাদ্দের অঙ্কটা নির্দিষ্ট এবং সীমিত, তখন আমাদের মন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই সীমার মধ্যে সংসার ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে নেওয়ার কৌশল খুঁজে বের করে। এভাবে জীবনযাত্রায় কোনো বড় ধরনের ঘাটতি না এনেও প্রতি মাসে নিশ্চিতভাবে কিছু অর্থ জমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। দিনশেষে অর্থ সঞ্চয় করা কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং এটি একটি সঠিক অভ্যাসের নাম। তাই আগে খরচ করে পরে জমানোর ব্যর্থ চেষ্টা বাদ দিয়ে, আগে সঞ্চয় করে পরে খরচ করার অভ্যাস গড়ে তোলাই হোক আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
৪
৪ মন্তব্য