Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জুন, ২০২৬ ০৬:৩২ অপরাহ্ণ

সৃষ্টির কৃতজ্ঞতা, মানুষের অঙ্গীকার - মোঃ মুজিবুর রহমান

সৃষ্টির কৃতজ্ঞতা, মানুষের অঙ্গীকার

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

সুবহানাল্লাহ! চেয়ে দেখি
অসীম নীল আকাশ,
স্রষ্টার গৌরব গেয়ে চলে
প্রকৃতির নিঃশ্বাস।

সূর্য ওঠে নিয়ম মেনে,
আলো ছড়ায় ধরা,
চন্দ্র-তারা আপন কক্ষে
ঘোরে সারা বেলা-ভরা।

সাগর বয়ে সীমা মেনে,
নদী ছুটে যায়,
পাহাড় দাঁড়িয়ে অবনত শিরে
রবের মহিমা গায়।

সবুজ গাছের পাতা নড়ে
বাতাস যখন বয়,
নীরব ভাষায় স্রষ্টার প্রতি
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়।

আকাশ জুড়ে উড়ে পাখি,
ডাকে মধুর সুরে,
প্রভুর নামে জপে যেন তারা
অদৃশ্য এক নূরে।

ক্ষুদ্র পিঁপড়া খাদ্য খুঁজে
সারিবদ্ধ পথ ধরে,
আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মেনে
চলে আপন ঘরে।

মৌমাছিগণ ফুলে ফুলে
সংগ্রহ করে মধু,
স্রষ্টার শেখানো পথেই তারা
পায় জীবনের রসধারা মধুর।

বনের মাঝে হরিণ ছুটে,
সিংহ থাকে স্থির,
সকল প্রাণী রবের হুকুমে
চলছে অবিরাম ধীর।

আকাশ, বাতাস, নদী, পাহাড়,
গ্রহ, নক্ষত্রমালা,
সবাই যেন বলছে সদা
"
আল্লাহ মহান, সুবহানাল্লাহ!"

পবিত্র কুরআনের বাণী
শুনায় সত্য কথা,
জমিন-আসমানের সবকিছুই
গায় তাঁরই পবিত্রতা।

তবে মানুষ সবার সেরা,
আশরাফুল মাখলুকাত,
জ্ঞান বিবেক দিয়ে তাকে
করেছেন সম্মানিত।

মানুষ পেল চিন্তার শক্তি,
পেল বিবেক-বুদ্ধি,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করার
অমূল্য এক সমৃদ্ধি।

ফেরেশতারা সিজদা দিল
আদমের সম্মানে,
মানবজাতির মর্যাদা তাই
উজ্জ্বল যুগে যুগে প্রাণে।

তবু কতবার মানুষ আজ
ভুলে যায় আপন পথ,
লোভের নেশায় হারায় বিবেক,
ভেঙে ফেলে সত্যের রথ।

অন্যায় করে, জুলুম করে,
ভুলে যায় রবের নাম,
ক্ষণিক সুখের মোহে পড়ে
হারায় জীবনের দাম।

অথচ দেখো পাখিরা কত
মানে স্রষ্টার বিধান,
কখনো তারা সীমা লঙ্ঘন করে না,
ভাঙে না নিয়মের মান।

নদী কখনো বিদ্রোহ করে
ছাড়ে না নিজের ধারা,
সূর্য কখনো অবহেলায়
থেমে যায় না সারা।

চন্দ্র কখনো ভুলে না তার
নির্ধারিত কক্ষপথ,
প্রকৃতির সব সৃষ্টি যেন
মানছে স্রষ্টার শপথ।

তবে কেন মানুষ কখনো
অহংকারে হয় অন্ধ?
কেন সে ভোলে স্রষ্টার ডাকে
করতে কৃতজ্ঞ বন্ধ?

মানুষের কাজ কেবল নয়
নিজের সুখের খোঁজ,
মানুষ হবে মানবতার
উজ্জ্বল আলোকরোজ।

নামাজ হবে জীবনের প্রাণ,
সত্য হবে পথ,
ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে সদা,
রুখবে অন্যায়-শক্ত।

রোজা শেখায় সংযম ধৈর্য,
যাকাত শেখায় দান,
হজের শিক্ষা ভ্রাতৃত্ব গড়ে
মানবতার গান।

মিথ্যা, হিংসা, প্রতারণা আর
অহংকার ত্যাগ করে,
সত্য ন্যায়ের পতাকা তুলে
চলতে হবে ঘরে ঘরে।

ক্ষুধার্ত জনে অন্ন দেবে,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াও,
অসহায়ের মুখে হাসি ফোটাও,
মানবতার দীপ জ্বালাও।

পিতা-মাতার সেবা করে
অর্জন করো সুখ,
শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় ভরাও
পরিবারের মুখ।

প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা
করবে সর্বক্ষণ,
মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক
ভালোবাসার বন্ধন।

যদি কখনো ভুল হয়ে যায়,
খুলে তওবার দ্বার,
আল্লাহর কাছে ফিরে এলে
মুছে যায় অন্ধকার।

তিনি অতি দয়ালু প্রভু,
ক্ষমাশীল মহান,
অনুতপ্ত হৃদয় দেখলে
করেন না অপমান।

তাই এসো আজ শপথ করি
রবের পথে চলব,
জীবনের সব কর্মে আমরা
তাঁর সন্তুষ্টি খুঁজব।

সূর্যের মতো নিয়ম মেনে,
চাঁদের মতো শুদ্ধ,
নদীর মতো উপকারী হয়ে
করব জীবন সমৃদ্ধ।

প্রাণীকুলের আনুগত্য থেকে
নেব আমরা শিক্ষা,
আল্লাহভীতি, কৃতজ্ঞতায় গড়ব
জীবনের প্রতিচ্ছবি পবিত্র।

মানুষ হয়ে মানুষ যেন
মানবতার দিশা দেয়,
ন্যায় সত্যের পতাকাখানি
উঁচু করে ধরে রয়।

যেদিন মানুষ স্রষ্টার হুকুম
হৃদয় ভরে মানবে,
সেদিন ধরা শান্তি পাবে,
সুখের আলো টানবে।

অত্যাচারের কালো মেঘ
সরে যাবে দূরে,
ভ্রাতৃত্বের গান ধ্বনিত হবে
বিশ্বের প্রতিটি সুরে।

কৃতজ্ঞ হৃদয়, সৎকর্মময়
হোক আমাদের জীবন,
আল্লাহর প্রেমে আলোকিত হোক
মানবতার ভূবন।

সৃষ্টির সবকিছু যেমন
রবের গৌরব গায়,
মানুষও তেমনি ইবাদতে
সফলতার পথ পায়।

সুবহানাল্লাহ! ধ্বনি উঠুক
আকাশ-বাতাস ভরে,
মানুষ হোক সৃষ্টির মাঝে
আনুগত্যের শ্রেষ্ঠ ঘরে।

রবের হুকুম মান্য করে
চলুক মানবজাতি,
তাঁর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের
জীবনের পরম গতি।

***

সৃষ্টির আনুগত্য, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব

যুগে যুগে নবী-রাসূল
এসেছেন ধরা,
মানবজাতিকে শিখিয়েছেন
সত্যের আলোকধারা।

নূহ (.) ডাকলেন শতাব্দীজুড়ে
রবের পথে ফিরে,
অল্প 'জন সাড়া দিল
ঈমানের আলো নীরে।

ইবরাহিম (.) আগুন মাঝে
রবের প্রেমে হাসেন,
আল্লাহরই আদেশ পেয়ে
ত্যাগের দৃষ্টান্ত গড়েন।

ইসমাঈল (.) কিশোর বুকে
আনুগত্যের গান,
বলেছিলেন"পিতা, করুন
রবের হুকুম পালন।"

মূসা (.) দাঁড়ালেন গিয়ে
ফিরআউনের দ্বারে,
সত্যের বাণী পৌঁছে দিলেন
অত্যাচারের পারে।

ঈসা (.) প্রেমের ভাষায়
মানবতাকে ডাকেন,
কল্যাণ আর সত্যের পথে
মানুষ যেন থাকে।

সর্বশেষে এলেন যিনি
রহমতেরই দিশা,
মুহাম্মদ (সা.) শিখালেন পথ
মুক্তির মহাভাষা।

তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষণ
কুরআনেরই রূপ,
তাঁর চরিত্র আলোকবর্তিকা,
অন্ধকারে ধ্রুবসূর্য।

তিনি ছিলেন সত্যবাদী,
ছিলেন আমিন খ্যাত,
শত্রুরাও স্বীকার করত
তাঁর চরিত্রের জ্যোতিপাত।

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিতেন,
এতিমকে দিতেন স্থান,
দুঃখী মানুষের চোখের জলে
কাঁপত তাঁর প্রাণ।

এমন আদর্শ সামনে রেখে
চলুক মানবগণ,
আল্লাহভীতি মানবতায়
গড়ুক আপন মন।

আজও দেখি পৃথিবীজুড়ে
অন্যায়ের বিস্তার,
লোভের নেশায় মানুষ অনেক
হারায় সত্যের দ্বার।

ক্ষমতার মোহ, অর্থের লোভ,
অহংকারের জাল,
মানবতার কোমল বাগান
করছে বারংবার কাল।

তবু আশা মরে না কখনো,
জাগে নতুন ভোর,
সত্যের আলো ফুটবেই আবার
কাটিয়ে আঁধার ঘোর।

যুবক যদি জ্ঞান অর্জনে
সত্যের পথে রয়,
জাতির ভবিষ্যৎ আলোকিত
হতে দেরি নয়।

শিক্ষক যদি ন্যায় শেখান,
বিচারক হন সৎ,
নেতা যদি জনগণের তরে
রাখেন কল্যাণ-রত

তবে সমাজ বদলে যাবে,
মুছবে হাহাকার,
মানুষ খুঁজে পাবে আবার
শান্তির সব দ্বার।

যেদিন ধনী ভুলবে না আর
গরিবের অধিকার,
যেদিন শক্তিশালী বুঝবে
দুর্বলের আর্তনাদ,

যেদিন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি
পাবে তার প্রাপ্য,
যেদিন ন্যায়ের সামনে হবে
সকল মানুষ সমান

সেদিন হবে প্রকৃত অর্থে
মানবতার জয়,
ভেদাভেদের প্রাচীর ভেঙে
ভালোবাসা কথা কয়।

আল্লাহর এই সুন্দর ধরা
আমানত মানুষের,
রক্ষা করতে হবে একে
সকল প্রাণের তরে।

গাছ লাগানো, নদী বাঁচানো,
প্রকৃতির সম্মান,
এসবও তো ইবাদতেরই
এক মহৎ নিদর্শন।

পাখির কূজন, ফুলের হাসি,
শিশিরভেজা ভোর,
সবকিছুতে স্রষ্টার নিদর্শন
ঝলমল করে ঘোর।

তাই এসো আজ হাতে হাত রেখে
করব নতুন শপথ,
কুরআনের আলোয় গড়ব জীবন,
সত্য হবে রথ।

ইবাদতে হবে দৃঢ় আমাদের
প্রতিটি দিন-রাত,
মানবসেবায় নিবেদিত হবে
আমাদের সব প্রভাত।

সুবহানাল্লাহ! ধ্বনি উঠুক
হৃদয়ের গভীর থেকে,
কৃতজ্ঞতার অশ্রু ঝরুক
রবের প্রেমে ডেকে।

যতদিন সূর্য উদয় হবে,
চন্দ্র উঠবে রাতে,
ততদিন মানুষ স্মরণ করুক
রবকে জীবনের সাথে।

সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা
রক্ষা করুক সবাই,
আল্লাহর হুকুম মান্য করে
সফল হোক মানবজাতি।

শান্তি, ন্যায় আর ভ্রাতৃত্বে ভরে
উঠুক বিশ্বময়,
রবের সন্তুষ্টি অর্জন হোক
জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়।

সেদিন ধন্য হবে পৃথিবী,
ধন্য হবে প্রাণ,
যেদিন মানুষ আল্লাহর পথে
হবে সর্বাগ্রে অগ্রগামী মহান।

***

মানবতার শ্রেষ্ঠ অঙ্গীকার

সৃষ্টিজগত্ সাক্ষী আজও
রবের মহা শক্তির,
প্রতিটি কণা ঘোষণা করে
গৌরব তাঁর অমৃতের।

নীল গগনের বিশাল চাদর,
সূর্যের স্বর্ণরথ,
চাঁদের কোমল জ্যোৎস্নাধারা
চলে নির্ধারিত পথ।

সাগর বলে, "সীমা মানি",
নদী বলে, "চলি",
পাহাড় বলে, "রবের আদেশ
আমার শক্তি বলি।"

বৃক্ষরাজি মাথা নত করে
ঝড়-তুফানের মাঝে,
তবু তারা কৃতজ্ঞ থাকে
রবের দেওয়া সাজে।

মৌমাছিরা শিক্ষা দেয় যে
পরিশ্রমের গান,
ক্ষুদ্র পিঁপড়া দেখায় মোদের
শৃঙ্খলার সম্মান।

পাখিরা সব ভোরের আলোয়
গেয়ে ওঠে সুর,
স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতার
অমলিন এক নূর।

হরিণ ছুটে বনের পথে,
মাছ সাঁতরে যায়,
প্রতিটি প্রাণ আল্লাহর হুকুম
নীরবে মেনে চায়।

কিন্তু মানুষ, সবার সেরা,
পেয়েছে জ্ঞান-বিবেক,
তাই তো তার দায়িত্ব অনেক,
তারই শ্রেষ্ঠ অধিকার এক।

মানুষ যদি সত্যকে ধরে,
ন্যায়ের পথে রয়,
তবে সে হয় পৃথিবীর বুকে
কল্যাণের পরিচয়।

মানুষ যদি জ্ঞানকে নিয়ে
আলোকিত করে প্রাণ,
তবে সে হয় মানবতার
উজ্জ্বল সম্মান।

মানুষ যদি অন্যের তরে
ত্যাগ স্বীকার করে,
তবে সে হয় শান্তির দূত
ধরণীর ঘরে ঘরে।

কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের কথা
নয় তো কখনো ভাই,
কৃতজ্ঞতা কর্মে ফুটে,
সত্যের পথে ঠাঁই।

শুকরিয়া মানে নিয়ামতের
সঠিক ব্যবহার,
রবের দেওয়া প্রতিটি দানে
রাখা তাঁর অধিকার।

চোখ দিয়েছেন সত্য দেখার,
কান দিয়েছেন শুনতে,
হাত দিয়েছেন সেবার তরে,
পা দিয়েছেন চলতে।

বুদ্ধি দিয়েছেন চিন্তা করে
সত্য-মিথ্যা জানার,
হৃদয় দিয়েছেন ভালোবাসায়
মানুষকে আপন মানার।

যে মানুষটি নামাজ পড়ে
নম্র হৃদয় নিয়ে,
সে শিখে যায় বিনয় কাকে
সিজদাতে মাথা দিয়ে।

যে মানুষটি রোজা রাখে
সংযমেরই তরে,
সে শিখে যায় ক্ষুধার কষ্ট
দুঃখীর অন্তরে।

যে মানুষটি দান করে যায়
নিঃস্ব মানুষের তরে,
তার হৃদয়ে দয়া ফুটে
বসন্ত ফুলের মতো ঝরে।

যে মানুষটি সত্য বলে
কঠিন পরিস্থিতিতে,
সে- তো থাকে অটল হয়ে
ন্যায়ের মহাস্রোতে।

হে মানুষ, ভেবো একবার,
কোথা হতে আগমন?
কোথায় হবে শেষ ঠিকানা,
কী জীবনের কারণ?

মাটির দেহ মাটিতে মিশবে,
থাকবে না অহংকার,
থাকবে শুধু সৎকর্মগুলোর
উজ্জ্বল উপহার।

পদ-পদবি, ধন-সম্পদ,
ক্ষমতার গৌরব,
একদিন সব ফুরিয়ে যাবে,
রবে কর্মের সৌরভ।

তাই এসো আজ জীবন গড়ি
আল্লাহরই তরে,
ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই
মানুষের ঘরে ঘরে।

এতিম শিশুর অশ্রু মুছি,
অসহায়ের সাথি হই,
মানবতার কল্যাণযাত্রায়
সত্যের পতাকা বই।

মাজলুম যেন হক ফিরে পায়,
জালিম পায় হুঁশ,
ইনসাফে ভরে উঠুক ধরা,
মুছে যাক সব দুঃখ।

ভাইয়ে ভাইয়ে হিংসা নয়,
বন্ধুত্ব হোক সেতু,
ভালোবাসার আলো ছড়াক
পৃথিবীর প্রতিটি ঋতু।

শিক্ষালয়ে জ্ঞানের দীপ,
মসজিদে ইবাদত,
ঘরে ঘরে নৈতিকতার
ফুটুক শুভ প্রভাত।

তরুণেরা হোক আদর্শবান,
বয়োজ্যেষ্ঠ সম্মানিত,
সত্য জ্ঞানের পথচলায়
হোক সমাজ আলোকিত।

যেদিন মানুষ রবের হুকুম
আন্তরিকতায় মানবে,
সেদিন ধরা শান্তির বুকে
নতুন ইতিহাস জানবে।

সেদিন আর অত্যাচারের
কান্না শোনা যাবে না,
মজলুমের চোখে অশ্রুধারা
নিরাশ হয়ে ঝরবে না।

ন্যায়বিচারের সুবাস ছড়াবে
গ্রাম থেকে নগরে,
মানবতার জয়ধ্বনি উঠবে
বিশ্বময় ঘরে ঘরে।

সৃষ্টির মতো আমরাও যেন
কৃতজ্ঞতায় থাকি,
প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তোষ
অন্বেষণ করি বাকি।

সুবহানাল্লাহ! ধ্বনি উঠুক
অন্তরের গভীর হতে,
মানুষ হোক সৃষ্টির মাঝে
আনুগত্যের শ্রেষ্ঠ রথে।

আল্লাহর প্রেম, আল্লাহর ভয়,
আল্লাহরই বিধান,
এই তিনে গড়ে উঠুক মোদের
সফল মানবজীবন।

কৃতজ্ঞ প্রাণে, সৎকর্মগুণে,
ইবাদতের আলোয়,
মানবতা আর ঈমান মিলে
চলুক বিজয়ের পালোয়।

তাঁরই সন্তুষ্টি হোক আমাদের
জীবনের পরম ধন,
তাঁরই পথে কাটুক মোদের
প্রতিটি ক্ষণ-অনুক্ষণ।

***

Top of Form

সৃষ্টির আনুগত্য, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব

 

যুগে যুগে নবী-রাসূল

এসেছেন ধরা,

মানবজাতিকে শিখিয়েছেন

সত্যের আলোকধারা।

 

নূহ (.) ডাকলেন শতাব্দীজুড়ে

রবের পথে ফিরে,

অল্প 'জন সাড়া দিল

ঈমানের আলো নীরে।

 

ইবরাহিম (.) আগুন মাঝে

রবের প্রেমে হাসেন,

আল্লাহরই আদেশ পেয়ে

ত্যাগের দৃষ্টান্ত গড়েন।

 

ইসমাঈল (.) কিশোর বুকে

আনুগত্যের গান,

বলেছিলেন"পিতা, করুন

রবের হুকুম পালন।"

 

মূসা (.) দাঁড়ালেন গিয়ে

ফিরআউনের দ্বারে,

সত্যের বাণী পৌঁছে দিলেন

অত্যাচারের পারে।

 

ঈসা (.) প্রেমের ভাষায়

মানবতাকে ডাকেন,

কল্যাণ আর সত্যের পথে

মানুষ যেন থাকে।

 

সর্বশেষে এলেন যিনি

রহমতেরই দিশা,

মুহাম্মদ (সা.) শিখালেন পথ

মুক্তির মহাভাষা।

 

তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষণ

কুরআনেরই রূপ,

তাঁর চরিত্র আলোকবর্তিকা,

অন্ধকারে ধ্রুবসূর্য।

 

তিনি ছিলেন সত্যবাদী,

ছিলেন আমিন খ্যাত,

শত্রুরাও স্বীকার করত

তাঁর চরিত্রের জ্যোতিপাত।

 

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিতেন,

এতিমকে দিতেন স্থান,

দুঃখী মানুষের চোখের জলে

কাঁপত তাঁর প্রাণ।

 

এমন আদর্শ সামনে রেখে

চলুক মানবগণ,

আল্লাহভীতি মানবতায়

গড়ুক আপন মন।

 

আজও দেখি পৃথিবীজুড়ে

অন্যায়ের বিস্তার,

লোভের নেশায় মানুষ অনেক

হারায় সত্যের দ্বার।

 

ক্ষমতার মোহ, অর্থের লোভ,

অহংকারের জাল,

মানবতার কোমল বাগান

করছে বারংবার কাল।

 

তবু আশা মরে না কখনো,

জাগে নতুন ভোর,

সত্যের আলো ফুটবেই আবার

কাটিয়ে আঁধার ঘোর।

 

যুবক যদি জ্ঞান অর্জনে

সত্যের পথে রয়,

জাতির ভবিষ্যৎ আলোকিত

হতে দেরি নয়।

 

শিক্ষক যদি ন্যায় শেখান,

বিচারক হন সৎ,

নেতা যদি জনগণের তরে

রাখেন কল্যাণ-রত

 

তবে সমাজ বদলে যাবে,

মুছবে হাহাকার,

মানুষ খুঁজে পাবে আবার

শান্তির সব দ্বার।

 

যেদিন ধনী ভুলবে না আর

গরিবের অধিকার,

যেদিন শক্তিশালী বুঝবে

দুর্বলের আর্তনাদ,

 

যেদিন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি

পাবে তার প্রাপ্য,

যেদিন ন্যায়ের সামনে হবে

সকল মানুষ সমান

 

সেদিন হবে প্রকৃত অর্থে

মানবতার জয়,

ভেদাভেদের প্রাচীর ভেঙে

ভালোবাসা কথা কয়।

 

আল্লাহর এই সুন্দর ধরা

আমানত মানুষের,

রক্ষা করতে হবে একে

সকল প্রাণের তরে।

 

গাছ লাগানো, নদী বাঁচানো,

প্রকৃতির সম্মান,

এসবও তো ইবাদতেরই

এক মহৎ নিদর্শন।

 

পাখির কূজন, ফুলের হাসি,

শিশিরভেজা ভোর,

সবকিছুতে স্রষ্টার নিদর্শন

ঝলমল করে ঘোর।

 

তাই এসো আজ হাতে হাত রেখে

করব নতুন শপথ,

কুরআনের আলোয় গড়ব জীবন,

সত্য হবে রথ।

 

ইবাদতে হবে দৃঢ় আমাদের

প্রতিটি দিন-রাত,

মানবসেবায় নিবেদিত হবে

আমাদের সব প্রভাত।

 

সুবহানাল্লাহ! ধ্বনি উঠুক

হৃদয়ের গভীর থেকে,

কৃতজ্ঞতার অশ্রু ঝরুক

রবের প্রেমে ডেকে।

 

যতদিন সূর্য উদয় হবে,

চন্দ্র উঠবে রাতে,

ততদিন মানুষ স্মরণ করুক

রবকে জীবনের সাথে।

 

সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা

রক্ষা করুক সবাই,

আল্লাহর হুকুম মান্য করে

সফল হোক মানবজাতি।

 

শান্তি, ন্যায় আর ভ্রাতৃত্বে ভরে

উঠুক বিশ্বময়,

রবের সন্তুষ্টি অর্জন হোক

জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়।

 

সেদিন ধন্য হবে পৃথিবী,

ধন্য হবে প্রাণ,

যেদিন মানুষ আল্লাহর পথে

হবে সর্বাগ্রে অগ্রগামী মহান।

***

মন্তব্য করুন

ব্লগ