সহকারী অধ্যাপক
০১ জুন, ২০২৬ ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ
সৃষ্টির ভারসাম্য (সূরা আর-রাহমান ৫–১২-এর আলোকে) -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সৃষ্টির ভারসাম্য
(সূরা আর-রাহমান ৫–১২-এর আলোকে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সূর্য চলে আপন কক্ষে,
চাঁদও চলে সাথে,
অটল বিধান মেনে তারা
ঘুরে অনন্ত পথে।
দিনের আগে আসে রাত্রি,
রাত্রি শেষে ভোর,
নিয়মমাফিক চলছে সবই
যুগে যুগে ঘোর।
কোটি তারার দীপ্ত শিখা
আকাশজুড়ে রয়,
মহান স্রষ্টার আদেশ পেয়ে
পথভ্রষ্ট কভু নয়।
চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র,
বিশ্বজগতখানি,
এক ইশারায় চলছে যেন
মহাশক্তির বাণী।
বৃক্ষলতা, তৃণ আর তরু,
সবুজ পাতার দল,
নীরব ভাষায় সিজদা করে
প্রভুর মহিমাতল।
ফুলের হাসি, ফলের মাধুর্য,
বনের মৃদু গান,
প্রতিটি কণা ঘোষণা করে—
"আল্লাহ মহান!"
নদীর স্রোত, সাগরগর্জন,
পাহাড় অটল শির,
সৃষ্টিজগৎ সাক্ষ্য দেয় যে
প্রভু মহাশক্তিধর।
তিনি গড়লেন আকাশখানি
অপরূপ মহিমায়,
স্তম্ভবিহীন বিশাল ছাদ
দাঁড়িয়ে যুগযুগায়।
নীল গম্বুজ মাথার উপরে
বিস্ময়েরই দেশ,
তারই মাঝে লিখা রয়েছে
স্রষ্টার নির্দেশ।
নিখুঁত তার ভারসাম্য,
নিখুঁত তার রীতি,
এক বিন্দুও ব্যর্থ নয়
সৃষ্টির কোনো গতি।
আকাশ পরে স্থাপন করলেন
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা,
যেন ধরায় অন্যায় এসে
না জ্বালাতে পারে জ্বালা।
বললেন তিনি—"ন্যায়ের পথে
রেখো তোমাদের প্রাণ,
মাপে-ওজনে কম দিও না,
করো না অবিচার।"
ওজনে কম, মাপে কম,
প্রতারণার ধারা,
মানুষে মানুষে বিশ্বাস ভেঙে
আনে অন্ধকারা।
অন্যের হক গ্রাস যে করে
লোভের মোহজালে,
তার জীবনে শান্তি থাকে না,
দুঃখ ঘিরে কালে।
যে ব্যবসায়ী সত্য আঁকড়ে
রাখে ন্যায়ের মান,
তারই ঘরে বরকত নামে,
বাড়ে সম্মান-প্রাণ।
যে বিচারক সত্যের তরে
অটল থাকে সদা,
মানবতার ইতিহাসে সে
থাকে চিরদিন জাগা।
ন্যায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে
সভ্যতার ভিত্তি,
সত্য ছাড়া মানুষের নেই
কল্যাণের গতি।
তিনি আবার বিছিয়ে দিলেন
পৃথিবী সবার তরে,
মানুষ-পশু-পাখি সবাই
বাঁচে যারই 'পরে।
সবুজ মাঠে সোনার ফসল
দোলে মৃদু হাওয়ায়,
কৃষকের মুখ হাসি ফুটে
শ্রমের সফলতায়।
ধানের শীষে সোনার রোদ,
গমে জীবনের গান,
যব ও ভুট্টা, নানা শস্য
ভরে তোলে প্রাণ।
খোসাযুক্ত দানার মাঝে
রয়েছে কত দান,
প্রভুর অশেষ অনুগ্রহে
বেঁচে থাকে প্রাণ।
আমের ডালে মুকুল হাসে,
কাঁঠাল ঝোলে শাখায়,
লিচুর রঙে রাঙা হয়ে
গ্রীষ্ম আসে মহিমায়।
খেজুরগাছে ঝুলে থাকে
মধুর রসের ফল,
আবরণে ঢাকা সৌন্দর্য
জুড়ায় হৃদয়তল।
বাগানভরা ফলের শোভা,
রঙিন প্রকৃতি,
মানবজীবন আনন্দে ভরে,
বাড়ায় কৃতজ্ঞতা-ভক্তি।
ফুলের বনে সুবাস ছড়ায়
শিশিরভেজা প্রাতে,
মনে করায় দয়াময়ের
রহমতেরই কথা।
গোলাপ, বেলি, শিউলি, চামেলি,
রঙে-ঘ্রাণে ভরা,
প্রকৃতিজুড়ে স্রষ্টার শিল্প
অপরূপে ধরা।
একটি ফুলের পাপড়িতেও
অসীম রহস্য রয়,
ভাবতে গেলে বিস্ময়ে মানুষ
নতশির হয়ে যায়।
দেখো তবে বিশ্বখানি,
কী অপূর্ব সমতা!
কোথাও নেই বিশৃঙ্খলতা,
কোথাও নেই ব্যর্থতা।
সূর্য শেখায় সময়মতো
কর্মে হতে রত,
চাঁদ শেখায় বিনয় দিয়ে
হতে আলোকিত।
তারারা শেখায় আঁধার রাতে
আশার প্রদীপ জ্বালা,
বৃক্ষ শেখায় স্রষ্টার তরে
নত হও নিরালা।
আকাশ শেখায় উচ্চতা,
ধরা শেখায় দান,
দাঁড়িপাল্লা শেখায় মানুষ
রক্ষা করতে মান।
শস্যক্ষেত্রের সোনার ঢেউ
শোনায় রহমতের গান,
ফলের বাগান শেখায় শুধু
কৃতজ্ঞতার জ্ঞান।
হে মানবজাতি! চিনে নাও আজ
সৃষ্টির মহাপাঠ,
ন্যায় ও সত্য ছাড়া কখনো
মজবুত হয় না ঘাট।
লোভ-প্রতারণা দূরে ঠেলে
ফিরিয়ে দাও হক,
মানবতার সুন্দর পথে
জ্বালো ন্যায়ের শিখা।
সূর্য-চাঁদের শৃঙ্খলা দেখে
শিখি নিয়ম মানা,
গাছের মতো বিনয়ী হয়ে
নত করি প্রাণখানা।
আকাশ যেমন সমুন্নত,
হোক আমাদের মন,
সত্য-ন্যায়ের আলোয় ভরে
উজ্জ্বল হোক জীবন।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
দাও এমন জ্ঞান,
তোমার গড়া ভারসাম্য যেন
রাখি চিরকাল মান।
ন্যায়, সততা, ভ্রাতৃত্ব, প্রেম
ছড়িয়ে যাক ধরায়,
সূরা আর-রাহমানের শিক্ষা
জাগুক বিশ্বময়।
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার মহিমা
প্রতিক্ষণে করি স্মরণ,
কৃতজ্ঞ হৃদয়, ন্যায়ের সমাজ—
হোক মানবতার জীবন।
***
দেখো তবে বিশ্বখানি,
কী অপূর্ব সমতা!
কোথাও নেই বিশৃঙ্খলতা,
কোথাও নেই ব্যর্থতা।
সূর্য শেখায় সময়মতো
কর্মে হতে রত,
চাঁদ শেখায় নম্রতা দিয়ে
হতে আলোকিত।
তারারা শেখায় আঁধার রাতে
আশার প্রদীপ জ্বালতে,
বৃক্ষ শেখায় স্রষ্টার তরে
নত হয়ে থাকতে।
আকাশ শেখায় উচ্চ আদর্শ,
ধরা শেখায় দান,
দাঁড়িপাল্লা শেখায় মানুষ
রক্ষা করতে মান।
শস্যক্ষেতের সোনার ঢেউ
শোনায় রহমতের গান,
ফলের বাগান শেখায় শুধু
কৃতজ্ঞতার জ্ঞান।
হে মানবজাতি! চিনে নাও আজ
সৃষ্টির মহাপাঠ,
ন্যায় ও সত্য ছাড়া কখনো
সুদৃঢ় হয় না ঘাট।
লোভ-প্রতারণা দূরে ঠেলে
ফিরিয়ে দাও হক,
মানবতার সুন্দর পথে
জ্বালো ন্যায়ের শিখা।
সূর্য-চাঁদের শৃঙ্খলা দেখে
শিখি নিয়ম মানা,
গাছের মতো বিনয়ী হয়ে
নত করি প্রাণখানা।
আকাশ যেমন সমুন্নত,
হোক আমাদের মন,
সত্য-ন্যায়ের আলোয় ভরে
উজ্জ্বল হোক জীবন।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
দাও এমন জ্ঞান,
তোমার গড়া ভারসাম্যের
রাখি চিরসম্মান।
ন্যায়, সততা, ভ্রাতৃত্ব, প্রেম
ছড়িয়ে যাক ধরায়,
সূরা আর-রাহমানের শিক্ষা
জাগুক বিশ্বময়।
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার মহিমা
প্রতিক্ষণে করি স্মরণ,
কৃতজ্ঞ হৃদয়, ন্যায়ের সমাজ—
হোক মানবতার জীবন।
সূর্য, চাঁদ, তারা, তরু,
ফুলে-ফলে ভরা ধরা,
সবই যেন একসাথে গায়—
"মহান প্রভুর জয়ধ্বজা।"
যতদিন এই বিশ্ব থাকবে,
রবে আকাশ-ভূমি,
ততদিন তাঁর কুদরতেরই
গাইবে সৃষ্টি ভূমি।
৪
৪ মন্তব্য