তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যালয়গামী শিশুদের পানিশূন্যতা ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে প্রচুর বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন সাথে দেওয়া এবং হালকা ও ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরানো জরুরি। এছাড়া রোদ থেকে সুরক্ষায় ছাতা ব্যবহার এবং স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের করণীয়গুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
- পানি ও খাবার: স্কুলে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও ওআরএস বা খাবার স্যালাইন সঙ্গে দিন। তবে স্যালাইন সবসময় না দিয়ে মাঝে মাঝে সাধারণ পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত দেওয়া ভালো।
- পোশাক: শিশুদের হালকা রঙের, সুতি এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরাবেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং বাতাস চলাচল করতে পারে।
- বাইরে সুরক্ষা: রোদ থেকে বাঁচাতে ছাতা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন এবং প্রয়োজনে টুপি ও হালকা সুতি ফুলহাতা জামা পরাতে পারেন।
- সকালের নাশকতা: স্কুলে যাওয়ার আগে পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়াবেন। তেল-মসলাযুক্ত বা বাইরের খোলা খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
- স্কুল যাতায়াত: রোদ এড়িয়ে রিকশা বা নিরাপদ যানবাহনে যাতায়াতের ব্যবস্থা করবেন।
- শ্রেণেকক্ষে বাতাস: শ্রেণিকক্ষগুলোতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল (Ventilation) নিশ্চিত করুন। ফ্যানগুলো ঠিকভাবে চলছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- পানি পানের বিরতি: ক্লাসে প্রতি ২০-৩০ মিনিট পরপর শিশুদের পানি পানের জন্য ১ মিনিটের বিরতি দেওয়া যেতে পারে।
- অসুস্থতার দিকে নজর: কোনো শিশু অতিরিক্ত ঘামলে, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা ঝিমুনি অনুভব করলে দ্রুত তাকে ফ্যানের নিচে বা ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যান।
- অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কমানো: প্রখর রোদে সমাবেশ (Assembly) বা দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা খেলাধুলা ও পিটি (PT) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন।
তাপমাত্রা বা হিট স্ট্রোকের লক্ষণ:
শিশু অতিরিক্ত ঘামা, ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, তীব্র জ্বর, খিঁচুনি বা অচেতন হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪
৪ মন্তব্য