সহকারী অধ্যাপক
০১ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
পূর্ণ দ্বীনের আহ্বান (সূরা আল-বাকারা ৮৫-৮৬-এর আলোকে) — মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
পূর্ণ দ্বীনের আহ্বান
(সূরা আল-বাকারা ৮৫-৮৬-এর আলোকে)
— মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ যদি সত্যের পথে
চলতে চায় নির্ভয়ে,
তবে তাকে মানতে হবে
দ্বীনটাকে সম্পূর্ণভাবে।
নিজের খুশি, নিজের মতে
কাটা-ছেঁড়া নয় যে ধর্ম,
আল্লাহ যেটা দিয়েছেন নাযিল
সেটাই মানবতার কর্ম।
কিছু মানি, কিছু ছাড়ি—
এ নীতি নয় মুমিনের,
সত্যকে যে খণ্ডিত করে
ক্ষতি হয় সেই জীবনের।
যখন আসে আদেশ কোনো
মন না চাইলেও মানতে হয়,
রবের বিধান শ্রেষ্ঠ জেনে
নত হতে হয় বিনম্র হৃদয়।
কেউ যদি নেয় সহজ অংশ,
কঠিন অংশ ফেলে দেয়,
নিজ স্বার্থের পাল্লা মেপে
সত্যটাকে বদলে নেয়;
তবে সে কি দ্বীনের পথে
রয়েছে সত্যিকারভাবে?
নাকি কেবল নিজের নফসের
খেয়াল মেটায় অভিনয়ে?
আল্লাহ বলেন, "কেন তোমরা
কিছু অংশে ঈমান রাখো?
আবার কিছু অংশ অস্বীকারে
নিজের হৃদয় অন্ধ করো?"
যে কিতাবে হেদায়াত আছে,
যে কিতাব আলো জ্বালে,
সেই কিতাবের বাণী মানতে
হবে জীবনের সব কালে।
নদীর পানি অর্ধেক নিলে
তৃষ্ণা কি আর মেটে ভাই?
সূর্যের আলো অর্ধেক হলে
পৃথিবী কি আলো পায়?
তেমনি দ্বীনের কিছু মানলে
পূর্ণ সফলতা মেলে না,
সত্যকে ভাগ করলে শেষে
শান্তির দুয়ার খোলে না।
ইতিহাসের পাতায় দেখো,
কত জাতি হয়েছিল ধ্বংস,
যখন তারা রবের বাণী
করেছিল খণ্ড-বিখণ্ড।
নিজ সুবিধার অংশ নিল,
ত্যাগ করল বাকি কথা,
ফলে নেমে এল জীবনে
অপমান আর ব্যর্থতা।
আজও যদি মানুষ চায়
সম্মান, শান্তি, মুক্তি পেতে,
তবে তাকে ফিরতে হবে
পূর্ণ দ্বীনের ছায়াতলে।
দুনিয়ার লোভ, ক্ষমতার মোহ,
সম্পদের ঝলমলে রং,
অনেক মানুষকে দূরে সরায়
সত্যের সরল পথ থেকে।
আখিরাতকে ভুলে গিয়ে
দুনিয়াকে যে বড় মনে করে,
সাময়িক সুখের বিনিময়ে
চিরস্থায়ী ক্ষতি ঘরে।
সে যেন মরুর পথিক একজন,
দূর থেকে দেখে মরীচিকা,
পানির আশায় ছুটতে ছুটতে
হারায় জীবনের দিশা।
কিন্তু মুমিন জানে অন্তরে—
এই জীবন ক্ষণিকের পথ,
আসল ঘর তো আখিরাতে,
সেখানেই চূড়ান্ত রথ।
তাই সে মানে রবের বিধান
সুখে যেমন, দুঃখেও তেমনি,
বিপদ এলেও ছাড়ে না কখনো
ঈমানের দৃঢ় ভূমি।
সে জানে আল্লাহ সবই দেখেন,
গোপন কিংবা প্রকাশ্য কাজ,
রাতের আঁধার, দিনের আলো—
সবই তাঁর কাছে সুস্পষ্ট আজ।
মানুষ হয়তো লুকাতে পারে
পৃথিবীর বহু চোখ থেকে,
কিন্তু কোনো কর্ম গোপন নয়
সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানের কাছে।
যে অন্যায় করে ভাবছে মনে,
"কেউ তো জানল না আমার কথা",
সে ভুলে যায়, আসমানের মালিক
রাখছেন সবকিছুর হিসাব লেখা।
সেদিন হবে বিচার মহান,
যেদিন কাঁপবে ধরণী-আকাশ,
ক্ষমতা, ধন, পরিচয় তখন
দেবে না কোনো আশ্বাস।
বন্ধু হবে না বন্ধুর কাজে,
সম্পদও হবে না সহায়,
শুধু আমল আর ঈমান তখন
মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
তাই এসো সবাই শিক্ষা নিই
পবিত্র কুরআনের বাণী থেকে,
আংশিক নয়, পূর্ণভাবে
দ্বীনকে ধরি জীবনমুখে।
সত্যকে সত্য বলি আমরা,
মিথ্যার সাথে না করি সন্ধি,
আল্লাহর সব নির্দেশ মেনে
গড়ি ন্যায়ের মানববন্ধন।
হোক আমাদের চিন্তা-চেতনা
কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত,
হোক আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ
সুন্নাহর পথে পরিচালিত।
লোভ, অহংকার, স্বার্থপরতা
দূর হোক হৃদয়ের গভীর থেকে,
মানবতা আর ন্যায়ের পতাকা
উড়ুক পৃথিবীর প্রতিটি বুকে।
পূর্ণ ঈমানের শক্তি নিয়ে
জাগুক নতুন প্রজন্ম আজ,
সত্যের ডাকে সাড়া দিয়ে
গড়ুক সুন্দর সমাজ।
আল্লাহ যেন তাওফিক দেন
পূর্ণ দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার,
কিছু নয়, সবটুকু মেনে
তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জন করার।
তখনই মিলবে প্রকৃত সম্মান,
দূর হবে লাঞ্ছনা ও ভয়,
দুনিয়া হবে কল্যাণময়
আখিরাতও সফল হয়।
২***
পূর্ণ দ্বীনের আহ্বান
কিছু মানি, কিছু ছাড়ি—
এ কেমন ঈমানের রীতি?
সত্যকে কি খণ্ড করা যায়,
সত্য কি মানে স্বার্থনীতি?
আল্লাহ দিলেন পূর্ণ বিধান,
মানবতার শ্রেষ্ঠ পথ,
তবু কেন মানুষ খোঁজে
নিজ প্রবৃত্তির মিথ্যা মত?
যখন বলা হয়—মানো কিতাব,
যেমন নাযিল হয়েছে তা,
কেন তখন কেউ বা বেছে
নেয় কেবল সুবিধাটা?
সহজ অংশ গ্রহণ করে,
কঠিন অংশ ফেলে দেয়,
নিজ স্বার্থের দাঁড়িপাল্লায়
সত্যটাকে মেপে নেয়।
যা অনুকূল তা-ই গ্রহণ,
যা প্রতিকূল তা পরিহার,
এভাবে কি পূর্ণ হবে
রবের প্রতি আনুগত্য আর?
কিতাব তো নয় বাজারপণ্য,
ইচ্ছামতো বাছাই করে,
কিতাব হলো জীবনবিধান,
স্রষ্টা দিলেন দয়া ভরে।
সূর্যের আলো অর্ধেক হলে
দূর হয় না আঁধার ঘোর,
নদীর পানি অর্ধেক নিলে
মেটে না তৃষ্ণা অন্তর ভর।
তেমনি দ্বীনের কিছু মানলে
পূর্ণ মুক্তি আসে না,
সত্যকে ভাগ করলে শেষে
শান্তির দুয়ার খোলে না।
ইতিহাসের দীর্ঘ পথে
কত জাতির হয়েছে ক্ষয়,
রবের বাণী বিকৃত করে
নিজেরাই ডেকেছে ভয়।
যারা নিল সুবিধার অংশ,
ত্যাগ করল বাকি বিধান,
তাদের ঘরে নেমে এলো
অপমানের কালো ঝড়বাণ।
দুনিয়ার মোহ চোখে মেখে
ভুলল তারা আখিরাত,
ক্ষণিক সুখের বিনিময়ে
হারাল চিরস্থায়ী নাজাত।
ক্ষমতার নেশা, ধনের লোভ,
মর্যাদার মিথ্যা গান,
কত মানুষকে দূরে সরায়
আল্লাহভীতির পবিত্র জ্ঞান।
তারা ভাবে—দুনিয়াই সব,
এখানেই সুখ, এখানেই জয়,
কিন্তু মৃত্যু এসে বলে—
"সবই ক্ষণিক, সবই ক্ষয়।"
দুনিয়ার এই রঙিন মেলা
স্বপ্নসম এক পথচলা,
চোখের পলক ফুরিয়ে গেলে
শেষ হবে সব আয়োজনভরা।
যে আখিরাত বেচে দিয়ে
দুনিয়াকে করে গ্রহণ,
সে তো যেন মরুভূমিতে
খোঁজে ছায়ার মিথ্যা জীবন।
দূর মরীচিকাকে পানি ভেবে
ছুটে চলে অবিরাম,
কাছে গিয়ে দেখে শেষে
সবই ছিল মরুভ্রম।
আল্লাহ দেখেন সবকিছুই,
গোপন কিংবা প্রকাশ্য কাজ,
রাতের আঁধার, দিনের আলো—
সবই তাঁর সামনে আজ।
মানুষ ভাবে—লুকিয়ে রাখি,
কেউ তো জানবে না এ কথা,
কিন্তু আসমানের মালিক
রাখেন সব হিসাবগাঁথা।
পাতার নড়ন, শিশিরবিন্দু,
অন্তরেরও ক্ষুদ্র ভাব,
সবই লেখা রয়েছে তাঁর
অসীম জ্ঞানের মহাকিতাব।
যেদিন হবে বিচারসভা,
কাঁপবে ধরণী, কাঁপবে গগন,
সেদিন কোনো শক্তি, সম্পদ
করবে না আর রক্ষণ।
রাজা-প্রজা সমান হবে,
নেই পরিচয়, নেই অহংকার,
শুধু আমল কথা বলবে,
শুধু সত্যের হবে বিচার।
বন্ধু সেদিন বন্ধু নয়,
আত্মীয়ও হবে না সহায়,
যার ছিল ঈমান ও আমল,
শুধু সে-ই মুক্তি পায়।
তাই হে মানুষ, জাগো এবার,
ফিরে চলো সত্যপথে,
পূর্ণ দ্বীনের আলো নিয়ে
চলো জীবনের প্রতিরথে।
কুরআনের সব নির্দেশই
মানতে হবে সমানভাবে,
রবের হুকুম বেছে নেওয়া
শোভা পায় না মুমিনভাবে।
সুন্নাহর পথ আলোকবর্তিকা,
নাজাতের শ্রেষ্ঠ দিশারী,
এ পথ ছেড়ে অন্য পথে
সফলতা নয় যে ভারী।
লোভ, হিংসা, অহংকার আর
স্বার্থপরতার কালো ধোঁয়া,
দূর হোক আজ মানবহৃদয়,
জ্বলে উঠুক সত্যের ছোঁয়া।
ন্যায়ের পতাকা উড়ুক আবার,
সত্যের জাগুক নব আহ্বান,
মানবতার কল্যাণ গড়ে
ফুটুক দ্বীনের মহাবাগান।
শিশুরা শিখুক সত্যের বাণী,
যুবক হোক আদর্শবান,
প্রবীণেরা হোক প্রজ্ঞার দীপ,
আলোকিত হোক বাংলাদেশ মহান।
পূর্ণ ঈমানের দৃঢ় শক্তি
জাগুক সবার অন্তরজুড়ে,
মিথ্যার দেয়াল ভেঙে যাক
সত্যের স্রোতধারা বয়ে পড়ে।
যে জাতি মানে পূর্ণ কিতাব,
আল্লাহর সব বিধান,
সে জাতিরই হাতে থাকে
সম্মান, মর্যাদা, কল্যাণ।
তাই আসুন করি অঙ্গীকার—
কিছু নয়, মানব সব,
আল্লাহ যাহা দিয়েছেন নাযিল,
জীবনে করব তারই রব।
পূর্ণ দ্বীনের ছায়াতলে
গড়ব ন্যায়ের নতুন সমাজ,
দুনিয়া হবে শান্তিময়,
আখিরাতে সফল আজ।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে সত্যের আলোয় ভরিয়ে দিন,
কুরআনের প্রতিটি নির্দেশ মানার তাওফিক দিন,
আংশিক নয়—পূর্ণ দ্বীনের অনুসারী করুন,
দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
আমীন।
৩ ***
পূর্ণ দ্বীনের শপথ
এসো আজি শপথ করি
রবের পথে চলব সব,
মনের খেয়াল নয়কো আর,
মানব শুধু তাঁরই রব।
সুখে-দুঃখে, শোকে-আনন্দে,
বিপদ কিংবা স্বস্তিতে,
কুরআনেরই আলো জ্বালব
জীবনভরা প্রতিক্ষণে।
মানব না আর দ্বিধা রেখে,
মানব না আর অর্ধসত্য,
পূর্ণ দ্বীনের ছায়াতলে
গড়ব মোদের মানবভ্রাতৃত্ব।
যে কিতাবের প্রতিটি বাণী
নাজিল হলো হকের তরে,
কেমন করে তারই মাঝে
বাছাই করি স্বার্থ ভরে?
আল্লাহ দিলেন পূর্ণ বিধান,
পূর্ণ তারই হেদায়াত,
পূর্ণভাবে মানলেই মেলে
দুনিয়া-আখিরাতের নাজাত।
যতদিন সূর্য উঠবে ভোরে,
চাঁদ হাসিবে নীল গগনে,
ততদিন এই সত্যবাণী
জাগরুক থাকুক জীবনে।
শিশুর মুখে ফুটুক আবার
ঈমানভরা মধুর গান,
যুবকেরা সত্যের ডাকে
গড়ুক নূতন বাংলাদেশ মহান।
মায়ের কোলে আদর্শ ফুটুক,
বাবার মুখে ন্যায়ের বাণী,
সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক
ইসলামের সুমহান বাণী।
জুলুম, মিথ্যা, লোভের আগুন
নিভে যাক সব অন্তরে,
সত্য, ন্যায় আর মানবতা
ফুটুক নবীন কুসুম হয়ে।
হে আল্লাহ! তুমি দাও শক্তি
পূর্ণ দ্বীনকে মানার তরে,
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন
অটল থাকি সত্যঘরে।
কিয়ামতের ভয়াল দিনে
যখন হবে কঠিন বিচার,
পূর্ণ ঈমানের বদৌলতে
পাই যেন রহমতের দ্বার।
দুনিয়ার লাঞ্ছনা হতে,
আখিরাতের কঠিন শাস্তি,
রক্ষা করো তোমার দাসে,
দাও জান্নাতের চিরশান্তি।
আমরা যেন কিতাবের সব
বিধান করি হৃদয়ঙ্গম,
আংশিক নয়—পূর্ণ আনুগত্যে
হই তোমার প্রিয় বান্দাগণ।
আমীন।
৪***
কুরআনের এই মহাসাগরে
আলোর মুক্তা অগণন,
যে যত ডুবে জ্ঞান সুধায়
ততই পায় পথের দিশা তখন।
সত্যের পথে কাঁটা থাকুক,
থাকুক যত বাধা-বিপত্তি,
রবের সন্তোষ লাভের আশায়
অটুট থাকুক ঈমানশক্তি।
নফস যখন ডাকে মানুষকে
স্বার্থলোভের অন্ধ পথে,
কুরআনের বাণী স্মরণ করে
ফিরে আসি সত্যমতে।
দুনিয়ার রঙিন প্রলোভন
মুহূর্তেই হবে অবসান,
রয়ে যাবে শুধু আমলনামা,
রয়ে যাবে ঈমান।
ক্ষমতা, ধন আর প্রতিপত্তি
কবরপথে যায় না সাথে,
সৎকর্ম শুধু প্রদীপ হয়ে
আলো জ্বালে অন্ধ রাতে।
হে যুবসমাজ! জাগো এবার,
সত্যের পতাকা হাতে নাও,
পূর্ণ দ্বীনের সুমহান শিক্ষা
দেশ ও জাতির মাঝে ছড়াও।
হে শিক্ষার্থী! জ্ঞানের সাথে
চরিত্র গড়ো দীপ্তিমান,
ইলম ও আমল মিলিয়ে হও
উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তান।
হে সমাজপতি! ন্যায়ের পথে
করো তোমার নেতৃত্ব,
মাজলুম যেন পায় তার হক,
মিটুক জুলুমের দুঃখভার।
হে আল্লাহ! তুমি কবুল করো
আমাদের এই অঙ্গীকার,
পূর্ণ দ্বীনের পথে চলার
অবিচল ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত আর।
হাশরের মাঠে রহমত দিও,
করো না আমাদের বঞ্চিত,
পূর্ণ ঈমানের আলোয় রেখো
তোমার বান্দাদের আলোকিত।
কুরআন হোক জীবনের সংবিধান,
সুন্নাহ হোক চলার পথ,
এই প্রার্থনায় শেষ করি আজ
পূর্ণ দ্বীনের পবিত্র শপথ।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
৪
৪ মন্তব্য