প্রভাষক
৩১ মে, ২০২৬ ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ
মহাজাগতিক সংঘর্ষ যখন ঘটে
মহাজাগতিক সংঘর্ষ বা কসমিক কলিশন হলো মহাবিশ্বের দুটি বিশাল বস্তুর মধ্যে তীব্র ধাক্কা, যা নতুন নক্ষত্র, গ্রহ বা ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে অথবা স্থান-কালের পুরো নকশাই বদলে দেয়। মহাশূন্যের বিশালতায় বস্তুগুলো যখন তীব্র মহাকর্ষ বলের টানে একে অপরের দিকে ধেয়ে আসে, তখনই এই ঘটনা ঘটে।মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্তরে যখন এই সংঘর্ষগুলো ঘটে, তখন যা যা ঘটে তা নিচে আলোচনা করা হলো:
নক্ষত্রের সংঘর্ষ (Stellar Collision)মহাকাশের যেসব জায়গায় নক্ষত্রদের প্রচণ্ড ভিড় থাকে (যেমন- গ্লোবুলার ক্লাস্টার বা গ্যালাক্সির কেন্দ্র), সেখানে এই সংঘর্ষ বেশি দেখা যায়।
ব্লু স্ট্র্যাগলার সৃষ্টি: দুটি বয়স্ক বা নিভে আসা সাধারণ নক্ষত্রের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তারা ভেঙে টুকরো হয় না। বরং একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন, প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও উজ্জ্বল নীল নক্ষত্রের জন্ম দেয়। বিজ্ঞানীদের কাছে এগুলো ব্লু স্ট্র্যাগলার নামে পরিচিত।
যমজ নক্ষত্রের গ্রাস: বাইনারি বা যমজ নক্ষত্র ব্যবস্থায় একটি নক্ষত্রের বয়স শেষ হলে সেটি ফুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তার পাশের ছোট সঙ্গী নক্ষত্রটিকে আস্ত গিলে ফেলে।নিউট্রন স্টার ও ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষমহাবিশ্বের সবচেয়ে ঘন ও শক্তিশালী বস্তুর সংঘর্ষে চরম মহাজাগতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (Gravitational Waves): দুটি ব্ল্যাক হোল বা নিউট্রন স্টার যখন একে অপরের চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে পরস্পরের সাথে ধাক্কা খায়, তখন স্থান-কালের ফ্যাব্রিকে প্রচণ্ড কম্পন বা ঢেউ তৈরি হয়। একেই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বলা হয়, যা আলোর গতিতে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
ভারী মৌলভীতি ও কিলোনোভা: দুটি নিউট্রন স্টারের সংঘর্ষের ফলে কিলোনোভা নামক এক তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। এই চরম পরিস্থিতিতেই মহাবিশ্বের সোনা, প্লাটিনাম ও ইউরেনিয়ামের মতো অতি মূল্যবান ভারী মৌলগুলো তৈরি হয়。গ্রহাণু ও গ্রহের সংঘর্ষ (Planetary Collision)সৌরজগতের প্রাথমিক সময়ে এই ধরনের সংঘর্ষ খুব সাধারণ ছিল এবং এগুলো গ্রহের রূপ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
চাঁদের উৎপত্তি: প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে থিয়া (Theia) নামক মঙ্গলের আকারের একটি গ্রহাণুর সাথে সদ্য গঠিত পৃথিবীর এক প্রলয়ংকরী সংঘর্ষ ঘটেছিল। এই সংঘর্ষের ফলে ছিটকে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকেই আমাদের চাঁদ তৈরি হয়।গ্রহাণুর ধ্বংসযজ্ঞ: নক্ষত্রমণ্ডলে দুটি গ্রহাণুর সংঘর্ষে বিশাল ধূলিমেঘের সৃষ্টি হয়, যা দূর থেকে দেখলে নতুন গ্রহের মতো মনে হতে পারে।গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের সংঘর্ষ (Galactic Merger)মহাজাগতিক সংঘর্ষের সবচেয়ে বড় রূপ হলো দুটি গ্যালাক্সির মিলন।গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে থাকা গ্যাস এবং ধূলিকণা একে অপরের সাথে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা খায়।এর ফলে গ্যালাক্সির ভেতরে নতুন করে কোটি কোটি নক্ষত্র জন্ম নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এবং প্রতিবেশী অ্যান্ড্রোমেডা গ্যালাক্সি বর্তমানে পরস্পরের দিকে ধেয়ে আসছে এবং আগামী ৪০০ কোটি বছরের মধ্যে এদের মাঝেও এক বিশাল সংঘর্ষ ঘটবে।
৪
৪ মন্তব্য