সহকারী অধ্যাপক
৩১ মে, ২০২৬ ০৫:৫০ অপরাহ্ণ
মাজলুমের হক মোঃ মুজিবুর রহমান
মাজলুমের হক
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে আল্লাহ! দাও সে শাসন ফিরে,
যেথায় সত্য দাঁড়ায় মাথা উঁচু করে,
যেথায় দুর্বল মানুষ ভয়ে কাঁপে না,
অন্যায়ের কাছে নতশির হয় না।
যেথায় বিচার বিকায় না অর্থের দামে,
ক্ষমতার অহংকার জেতে না কোনো নামে,
যেথায় মানুষের মর্যাদা অটুট থাকে,
সত্যের আলো প্রতিটি প্রাণে জাগে।
মক্কার পথে একদিন ঘটেছিল ঘটনা,
অত্যাচারের বিরুদ্ধে উঠেছিল প্রতিবাদ-গাথা।
এক মুসাফির এসেছিল দূর দেশ হতে,
বাণিজ্যের আশায়, স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথে।
উট বিক্রি করেছিল এক প্রভাবশালীর কাছে,
পাওনা তার রইল বাকি প্রতারণার ফাঁদে।
দ্বারে দ্বারে ঘুরে সে পেল না সহায়,
ক্ষমতার ভয়ে সবাই নীরব দাঁড়ায়।
অসহায় সেই মানুষ করল আর্তনাদ,
কোথায় পাব ন্যায়ের আলো, কোথায় সুবিচার?
তখন তিনি এলেন মানবতার দূত,
সত্য ও ন্যায়ের মহাসমুদ্র, রহমতের সুরভিত স্রোত।
তিনি শুনলেন মজলুমের বুকভাঙা বেদনা,
অবহেলা করেননি একটুও তার কথা।
চলে গেলেন অত্যাচারীর দরজার সামনে,
সত্যের দীপ্তি নিয়ে অবিচল আপন মনে।
প্রতাপশালীও সেদিন মাথা নত করল,
মজলুমের পাওনা অর্থ ফিরিয়ে দিল।
ক্ষমতার চেয়ে বড় হলো ন্যায়ের আহ্বান,
মানবতার কাছে হার মানল সব অভিমান।
এই শিক্ষা শুধু ইতিহাসের নয়,
প্রতিটি যুগে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে রয়।
মজলুমের অশ্রু যেন বৃথা না যায়,
সত্যের বিজয় প্রতিদিন ফিরে পায়।
আজও কত মানুষ কাঁদে নীরব রাতে,
অধিকার হারিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গোপনে।
কত শ্রমিক ঘামে ভেজায় দিনের আলো,
ন্যায্য মজুরি পেতে হয় কত যে কালো।
কত এতিম তাকিয়ে থাকে আশার দ্বারে,
কত বিধবা হারায় শক্তি জীবনের ভারে।
কত কৃষক ফসল ফলায় মাঠের বুকে,
তবু দুঃখ জমে থাকে অশ্রুসিক্ত চোখে।
কত মানুষ প্রতারণার জালে বন্দী হয়,
বিশ্বাস ভেঙে যায়, স্বপ্নগুলো ক্ষয়।
কত দুর্বল মানুষ নীরবে সহে আঘাত,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে পায় না কোনো হাত।
তবু আশা মরে না, আশা বেঁচে থাকে,
সত্যের সূর্য একদিন উঠবেই আকাশে।
ন্যায়ের প্রদীপ আবার জ্বলবে ঘরে ঘরে,
মানুষ মানুষকে চিনবে ভালোবাসার ডোরে।
শাসক যদি হন ন্যায়ের পথে অবিচল,
জনগণের কল্যাণে থাকেন সদা উজ্জ্বল,
তবে সমাজে ফুটবে শান্তির ফুল,
কমে যাবে হিংসা, দূর হবে ভুল।
ধনী যদি গরিবের পাশে এসে দাঁড়ায়,
শক্তিমান যদি দুর্বলের হাত ধরায়,
জ্ঞানী যদি সত্যের বাণী ছড়িয়ে দেয়,
তবে মানবতা নতুন জীবন পেয়ে যায়।
ইনসাফের পথে চলুক সকল মানুষ,
দূর হোক জুলুম, মুছে যাক সর্বনাশ।
ক্ষমতা হোক আমানত, নয় অহংকার,
সেবাই হোক নেতৃত্বের সত্যিকার ভিত্তি আর।
হে আল্লাহ! তুমি দাও সে সুন্দর ভোর,
যেথায় থাকবে না অত্যাচারের ঘোর।
যেথায় মজলুম কাঁদবে না দিন-রজনী,
অধিকার পেয়ে হাসবে প্রতিটি প্রাণী।
যেথায় আদালতে সত্যের জয়ধ্বনি বাজে,
যেথায় দুর্নীতি লুকাতে না পারে সাজে।
যেথায় শিশু, নারী, বৃদ্ধ সকলেই নিরাপদ,
যেথায় মানবতা পায় সম্মানের আসন সদা।
হে রব্বুল আলামিন! এ আমাদের মিনতি,
দূর করো জালেমের সকল দম্ভ-শক্তি।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও পূর্ণতায়,
ভরে দাও পৃথিবী ন্যায়, শান্তি ও মমতায়।
সত্যের পতাকা উড়ুক আকাশময়,
ইনসাফের সুবাস ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্রময়।
মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
এই হোক আমাদের প্রার্থনা, এই হোক জীবন।
আমিন।
***
মজলুমের হক ও ন্যায়ের শাসন
হে আল্লাহ! দাও সে শাসন ফিরে,
যেথায় সত্য দাঁড়ায় বুক উঁচু করে।
যেথায় জুলুম দেখে নীরব কেউ নয়,
ন্যায়ের ডাক শুনে জাগে মানবময়।
যেথায় ক্ষমতা নয় মানুষের পরিচয়,
সততা ও ইনসাফই শ্রেষ্ঠ মহিমাময়।
যেথায় ধনী-গরিব সমান চোখে দেখা,
বিচারের পাল্লা থাকে সত্য দিয়ে মাপা।
মক্কার পথে ঘটেছিল একদিন ঘটনা,
ইতিহাসে জ্বলছে আজও সেই আলোকগাথা।
এক মুসাফির এলেন দূর অজানা দেশ,
বাণিজ্যের আশায় মনে ছিল পরিবেশ।
নিজের উট বিক্রি করলেন বাজারের মাঝে,
পাওনা টাকা আটকে গেল প্রতারণার সাজে।
প্রভাবশালী ব্যক্তি দিলেন শুধু ফাঁকি,
ন্যায্য অধিকার হলো দীর্ঘদিন বাকি।
দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরেও পেলেন না বিচার,
ক্ষমতাবানদের ভয়ে সবাই ছিল নির্বিকার।
অসহায় মানুষটি বুকভরা ব্যথা নিয়ে,
দাঁড়ালেন ন্যায়ের দ্বারে আশার আলো দিয়ে।
মানবতার নবী তখন শুনলেন তার কথা,
দেখলেন নির্যাতিত প্রাণের গভীর ব্যথা।
বিলম্ব নয়, অবহেলা নয়, নয় কোনো ভয়,
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর পরিচয়।
তিনি গেলেন অত্যাচারীর ঘরের দুয়ারে,
সত্যের দীপ্তি নিয়ে দৃঢ়তার অহংকারে।
অন্যায়ের দুর্গ তখন কেঁপে উঠল ভয়,
ন্যায়ের সামনে মাথা নোয়াল শক্তিময়।
ফিরে পেল মুসাফির তার প্রাপ্য অধিকার,
মানবতার ইতিহাসে জ্বলল সেই অঙ্গার।
শিখিয়ে গেলেন বিশ্বকে মহান সেই নবী,
মজলুমের পাশে থাকা ঈমানেরই ছবি।
আজও সেই শিক্ষা আকাশে বাতাসে রয়,
সত্য ও ন্যায়ের বাণী হৃদয়ে কথা কয়।
কিন্তু কত মানুষ আজ কাঁদে অশ্রু ঝরায়,
অধিকার হারিয়ে নীরবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ায়।
কত শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি,
ঘামে ভেজায় পৃথিবী, তবু দুঃখ নিরবধি।
কত কৃষক সোনার ফসল ফলায় মাঠে,
তবু অভাবের কষ্ট জাগে জীবনের ঘাটে।
কত এতিম তাকিয়ে থাকে শূন্য পথপানে,
কত বিধবা কাঁদে নীরব বেদনার গানে।
কত অসহায় মানুষ বিচার পায় না আজ,
ক্ষমতার দেয়াল গড়ে অন্যায়ের সমাজ।
কত প্রতিশ্রুতি লেখা থাকে কাগজের পাতায়,
বাস্তবতার আদালতে তা হারিয়ে যায়।
কত বিশ্বাস ভেঙে যায় লোভের আঘাতে,
মানুষ মানুষকে ঠকায় আপন পরিচয়ে।
কত দুর্বল মানুষ নীরবে কষ্ট সয়ে,
দিন কাটায় আশা নিয়ে, চোখের জল বয়ে।
তবু তারা বিশ্বাস রাখে মহান রবের উপর,
ন্যায়ের সূর্য উঠবেই একদিন ভেদ করে অন্ধকার।
যেদিন নেতা হবে জনগণের খাদেম,
যেদিন শাসক হবে সত্যেরই অনুগামী।
যেদিন বিচারক ভয় করবে শুধু আল্লাহকে,
সেদিন ইনসাফ ফিরবে সমাজের প্রতিটি বাঁকে।
যেদিন শিক্ষক গড়বে চরিত্রের মিনার,
যেদিন আলেম বলবেন সত্য নির্ভয়ার।
যেদিন ধনী বুঝবে গরিবের আর্তনাদ,
সেদিন কমবে সমাজের দুঃখ ও বিষাদ।
যেদিন ব্যবসায়ী হবে আমানতের প্রতীক,
প্রতারণা হবে লজ্জার, সততা হবে ঠিক।
যেদিন কর্মচারী কাজ করবে নিষ্ঠাভরে,
ঘুষের কালো ছায়া হারাবে ধীরে ধীরে।
যেদিন সন্তানেরা শিখবে মানবতার পাঠ,
পিতা-মাতার সম্মানে গড়বে জীবনের ঘাট।
যেদিন যুবকেরা সত্যকে করবে ভালোবাসা,
সেদিন বদলে যাবে সমাজের ভাষা।
হযরত ওমরের শাসনের মতো যদি হয় দেশ,
যেথায় রাতের আঁধারে শাসকেরও থাকে রেশ।
প্রজার দুঃখ শুনতে যিনি ঘুরতেন পথে পথে,
মানুষের কল্যাণ ছিল যার চিন্তার রথে।
তেমন যদি জাগে আবার ন্যায়ের অঙ্গীকার,
জালেম কাঁপবে, হাসবে মজলুম বারবার।
হারানো অধিকার ফিরে পাবে নির্ভয়ে,
ইনসাফের সুবাস ছড়াবে বিশ্বময়।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের সেই জাগরণ,
দূর করো হৃদয় থেকে অন্যায়ের আগ্রাসন।
লোভ, হিংসা, অহংকার করো দূরীভূত,
মানবতার বাগানে ফুটুক শান্তির ফুল।
দাও এমন সমাজ, যেথায় কেউ বঞ্চিত নয়,
দুর্বলের কান্না শুনে মানুষ ছুটে যায়।
যেথায় ক্ষমতা হবে সেবার মহিমান্বিত নাম,
যেথায় ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্রের মূলধাম।
মজলুম যেন আর কাঁদে না দিবা-নিশি,
অধিকার ফিরে পেয়ে হাসুক খুশি খুশি।
অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা করো সবাইকে,
সত্যের পথে পরিচালিত করো মানবজাতিকে।
হে রব্বুল আলামিন! এ আমাদের প্রার্থনা,
ইনসাফে ভরে উঠুক পৃথিবীর প্রতিটি সীমানা।
জালেমের জুলুম হোক চিরতরে পরাজিত,
মজলুমের অধিকার হোক সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত।
সত্যের পতাকা উড়ুক দিগন্তের পরে,
মানবতার জয়গান ধ্বনিত হোক ঘরে ঘরে।
ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব হোক জীবনের পণ,
এই হোক আমাদের স্বপ্ন, এই হোক জীবন।
আমিন।
***
***
মজলুমের আর্তনাদ ও ন্যায়ের প্রত্যাশা
হে আল্লাহ! দাও সে যুগ ফিরে,
যেথায় সত্য চলে মাথা উঁচু করে।
যেথায় দুর্বল মানুষ পায় সমান অধিকার,
যেথায় ইনসাফের আলো ছড়ায় বারবার।
যেথায় বিচার বিক্রি হয় না ধনের কাছে,
ক্ষমতার দম্ভ মাথা তোলে না সমাজে।
যেথায় শাসক থাকে জনগণের দ্বারে,
মানুষের দুঃখ শুনে দাঁড়ায় তাদের পাশে।
মক্কার বুকে ঘটেছিল একদিন,
মানবতার ইতিহাসে অমর সেই দিন।
এক অসহায় মুসাফির এল দূর দেশ হতে,
বাণিজ্যের আশায় পথ চলেছিল মক্কাতে।
নিজের উট বিক্রি করল এক প্রভাবশালীর তরে,
পাওনা টাকা রইল পরে প্রতারণার ঘোরে।
বারবার তাগাদা দিল, পেল শুধু ফাঁকি,
অধিকারের দাবিটুকুও রইল অনেক বাকি।
কুরাইশ নেতাদের কাছে করল বিচার প্রার্থনা,
ক্ষমতার ভয়ে কেউ দিল না সান্ত্বনা।
অবশেষে সে দাঁড়াল নবীর দরজায়,
আশার প্রদীপ জ্বেলে বুকের ব্যথায়।
রহমতের নবী শুনলেন তার আর্তনাদ,
দেখলেন বঞ্চিত প্রাণের গভীর বিষাদ।
বিলম্ব নয়, অজুহাত নয়, নয় কোনো ভয়,
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর পরিচয়।
চলে গেলেন তিনি জালেমের দুয়ারে,
সত্যের দীপ্তি নিয়ে দৃঢ় অঙ্গীকারে।
অত্যাচারীর অহংকার কেঁপে উঠল সেদিন,
ন্যায়ের সামনে মাথা নত করল তখনই।
মুসাফির ফিরে পেল তার ন্যায্য পাওনা,
ইতিহাসে লেখা হলো সুবিচারের গাঁথা।
মানবতার শিক্ষক শিখালেন বিশ্ববাসীকে,
মজলুমের পাশে দাঁড়াতে সত্যের শক্তিকে।
আজও সেই শিক্ষা জাগে হৃদয়ের মাঝে,
কিন্তু কত মানুষ হারায় অধিকারের সাজে।
কত শ্রমিক ঘাম ঝরায় সকাল হতে রাত,
তবু ন্যায্য মজুরি পেতে করে দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
কত কৃষক ফসল ফলায় সোনালি মাঠে,
তবু অভাবের ছায়া ঘুরে তারই ঘাটে।
কত এতিম চেয়ে থাকে আশার আকাশ পানে,
কত বিধবা কাঁদে নীরব ব্যথার গানে।
কত ছাত্র হারায় স্বপ্ন দারিদ্র্যের জ্বালায়,
কত অসহায় মানুষ কাঁদে অশ্রুর মালায়।
কত রোগী চিকিৎসার অভাবে নীরব রয়,
কত নির্যাতিত প্রাণ বিচারহীনতায় ক্ষয়।
কত বিশ্বাস ভেঙে যায় আপনজনের ছলে,
কত প্রতারণা লুকিয়ে থাকে হাসিমুখের তলে।
কত মানুষ কাগজ হাতে ঘুরে পথে পথে,
ন্যায়ের আশায় জীবন কাটে দুঃখের রথে।
হে আল্লাহ! এ দৃশ্য কতকাল আর দেখি?
কতকাল মজলুম কাঁদবে বুকের ব্যথা ঢাকি?
কতকাল জালেম হাসবে ক্ষমতার ছায়ায়?
কতকাল দুর্বল মানুষ হারাবে মিথ্যা দায়ে?
আমরা চাই সেই সমাজ, সেই সুন্দর ভোর,
যেথায় অন্যায়ের থাকবে না কোনো ঘোর।
যেথায় আদালতে সত্যের জয়ধ্বনি বাজে,
মিথ্যার দুর্গ ভেঙে পড়ে ন্যায়ের মহাসাজে।
যেথায় নেতা হবে জনগণের খাদেম,
ক্ষমতার অহংকার নয়, সেবাই হবে নিয়ম।
যেথায় বিচারক ভয় করবে শুধু রবকে,
সত্যের মানদণ্ড রাখবে সকল রায়ে।
যেথায় আলেম বলবেন সত্য নির্ভয়ে,
শিক্ষক গড়বেন মানুষ আদর্শের আলোয়ে।
যেথায় ব্যবসায়ী হবে আমানতের প্রতীক,
প্রতারণা হবে লজ্জার, সততা হবে ঠিক।
যেথায় ধনী বুঝবে গরিবের কান্না,
ভাগ করে নেবে সুখ, দূর করবে বঞ্চনা।
যেথায় শক্তিমান ধরবে দুর্বলের হাত,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে জুড়বে সকল জাত।
যেথায় শিশুরা পাবে নিরাপদ ভবিষ্যৎ,
নারীরা পাবে সম্মান, মর্যাদা অক্ষুণ্ণ।
যেথায় বৃদ্ধদের থাকবে স্নেহের আশ্রয়,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠবে বিশ্বময়।
আমরা স্মরণ করি ন্যায়ের সেই ইতিহাস,
যেখানে ইনসাফ ছিল রাষ্ট্রের নিঃশ্বাস।
আমরা স্মরণ করি সাহসী সেই মহান প্রাণ,
যিনি শিখিয়েছেন মানবতার সম্মান।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের সে জাগরণ,
দূর করো হৃদয় হতে লোভের আগ্রাসন।
অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ করো দূর,
মানবতার প্রদীপ জ্বালো ভুবনজুড়।
মজলুম যেন আর কাঁদে না দিবা-নিশি,
অধিকার ফিরে পেয়ে হাসুক খুশি খুশি।
জালেমের হাত থেকে রক্ষা করো সবাইকে,
সত্যের পথে পরিচালিত করো মানবজাতিকে।
ইনসাফের বৃষ্টি ঝরুক পৃথিবীর বুকে,
শান্তির ফুল ফুটুক প্রতিটি মানুষের সুখে।
ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব হোক জীবনের গান,
মানবতার আলোয় ভরে উঠুক বিশ্বজাহান।
হে রব্বুল আলামিন! এ আমাদের প্রার্থনা,
দূর করো পৃথিবী থেকে জুলুমের যন্ত্রণা।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও সম্মানের সাথে,
সত্যের পতাকা উড়ুক দিগন্তের প্রভাতে।
সকলের মুখে ফুটুক শান্তির হাসি,
অন্যায়ের রাত্রি পেরিয়ে আসুক সুবেহ-সাদিক ভাসি।
ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক ঘরে ঘরে,
মানুষ বাঁচুক মানুষের ভালোবাসার তরে।
আমিন।
***
মজলুমের হক ও ন্যায়ের প্রত্যাশা
হে আল্লাহ! দাও সে শাসন আবার,
যেথায় সত্য থাকে চিরদিন সমুন্নত-অপার।
যেথায় দুর্বলের কান্না হারিয়ে যায় না,
অধিকারহীন প্রাণ নীরবে কাঁদে না।
যেথায় বিচার বিকায় না অর্থের দামে,
ক্ষমতার দম্ভ জেতে না কোনো নামে।
যেথায় আইনের চোখে সবাই সমান,
মানুষের মর্যাদা পায় সত্যের সম্মান।
যেথায় নেতা নয় শুধু সিংহাসনের মানুষ,
জনগণের সেবায় যাঁর প্রতিটি নিশ্বাস।
যেথায় শাসকের হৃদয় থাকে জাগ্রত সদা,
প্রজার অশ্রু দেখে যার কাঁপে অন্তরটা।
মক্কার পথে ঘটেছিল একদিন,
ইতিহাসে জ্বলজ্বল করে সেই অমলিন দিন।
এক মুসাফির এল দূর মরুপ্রান্ত হতে,
জীবিকার আশায় বাণিজ্যের পথে।
উট বিক্রি করল সে এক প্রভাবশালী জনে,
স্বপ্ন ছিল পাওনা পাবে যথাসময়ে।
কিন্তু লোভের অন্ধকার ঢেকে দিল মন,
প্রতিশ্রুতি হলো মিথ্যা, ভঙ্গ হলো পণ।
দ্বারে দ্বারে ঘুরল সে ন্যায়ের আশায়,
কিন্তু ভয়ের দেয়াল দাঁড়াল তারই পাশায়।
ক্ষমতার সামনে সবাই নীরব রইল,
মজলুমের আর্তনাদ বাতাসে ভেসে মিলল।
তখন সে দাঁড়াল মানবতার দ্বারে,
সত্যের আলো জ্বালানো নবীর কাছে।
রহমতের নবী শুনলেন তার বেদনা,
অবহেলা করলেন না অসহায়ের কথা।
তিনি বললেন না—“অপেক্ষা করো আর”,
তিনি দিলেন না কোনো অজুহাতের ভার।
অত্যাচারীর ঘরে গেলেন দৃঢ় পায়ে,
ন্যায়ের পতাকা তুলে সত্যের মহিমায়।
সেদিন কেঁপে উঠল অন্যায়ের প্রাসাদ,
অহংকার হার মানল ন্যায়ের ইরশাদ।
মুসাফির ফিরে পেল তার ন্যায্য হক,
সত্যের সামনে মুছে গেল জুলুমের শক।
সেই শিক্ষা আজও আকাশে ভাসে,
মানবতার বাণী হয়ে হৃদয়ে আসে।
মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দিশা,
ন্যায় প্রতিষ্ঠাই মুসলিম জীবনের আশা।
কিন্তু আজও কত মানুষ কাঁদে নীরবে,
অধিকার হারিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গোপনে।
কত শ্রমিক ঘামে ভিজায় সকাল-সন্ধ্যা,
তবু মজুরি পেতে পোহায় কত বন্দনা।
কত কৃষক ফলায় সোনালি ধান,
তবু অভাব মোছে না জীবনের টান।
কত জেলে লড়াই করে উত্তাল জলে,
তবু সুখের নৌকা ভেড়ে না কূলে।
কত এতিম তাকিয়ে থাকে পথের পানে,
কত বিধবা ডুবে থাকে নীরব গানে।
কত অসহায় মানুষ বিচারহীনতায়,
দিন গোনে শুধু বেদনার ছায়ায়।
কত ছাত্র মেধা নিয়ে এগোতে চায়,
দারিদ্র্যের দেয়াল তার পথ রুদ্ধায়।
কত রোগী অপেক্ষা করে চিকিৎসার তরে,
অভাবের শৃঙ্খলে জীবন কাটে ঝরে।
কত বিশ্বাস ভাঙে আপনজনের হাতে,
কত প্রতারণা লুকিয়ে থাকে মিষ্টি কথাতে।
কত কাগজে লেখা থাকে প্রতিশ্রুতির নাম,
বাস্তবের আদালতে হারিয়ে যায় সে দাম।
তবু আশা মরে না মানুষের অন্তরে,
সত্যের সূর্য ওঠে অন্ধকার ভেদ করে।
ইতিহাস সাক্ষী—জুলুম থাকে না চিরকাল,
অন্যায়ের দুর্গ হয় একদিন বেহাল।
যেদিন শাসক হবেন জনগণের খাদেম,
যেদিন সেবা হবে নেতৃত্বের নিয়ম।
যেদিন ক্ষমতা হবে আমানতের ভার,
সেদিন ফুটবে ন্যায়ের শুভ অঙ্কুরধার।
যেদিন বিচারক ভয় করবেন শুধু রবকে,
সত্যের মানদণ্ড রাখবেন সকল রায়ে।
যেদিন আইন হবে দুর্বলের আশ্রয়,
সেদিন সমাজজুড়ে শান্তির পরিচয়।
যেদিন শিক্ষক গড়বেন চরিত্রবান প্রাণ,
জ্ঞান হবে আলোর মতো মহীয়ান।
যেদিন আলেম বলবেন সত্য নির্ভীক মনে,
মানুষ ফিরবে ন্যায়ের সোনালি অঙ্গনে।
যেদিন ব্যবসায়ী রাখবে আমানতের মান,
প্রতারণার পথ করবে অপমান।
যেদিন কর্মচারী নিষ্ঠাকে করবে সাথী,
ঘুষের অন্ধকার হারাবে তার গতি।
যেদিন ধনী বুঝবে গরিবের বেদনা,
ভাগ করে নেবে সুখ, কমাবে যন্ত্রণা।
যেদিন শক্তিমান ধরবে দুর্বলের হাত,
ভ্রাতৃত্বে মিলবে সকল জাত।
আমরা স্মরণ করি ন্যায়ের সে ইতিহাস,
যেখানে ইনসাফ ছিল রাষ্ট্রের নিঃশ্বাস।
আমরা স্মরণ করি সেসব মহামানব,
যাঁদের জীবনে সত্য ছিল অনুপম অভ্যাস।
আমরা স্মরণ করি ন্যায়পরায়ণ শাসন,
যেখানে মানুষের কল্যাণ ছিল প্রধান অনুশাসন।
যেখানে রাতের আঁধারে খোঁজা হতো দুঃখ,
মানুষের সেবাই ছিল নেতৃত্বের সুখ।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের সে জাগরণ,
দূর করো হৃদয় থেকে লোভের আগ্রাসন।
অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ করো দূর,
মানবতার বাগান করো ফুলে ভরপুর।
মজলুম যেন আর কাঁদে না দিবা-নিশি,
অধিকার ফিরে পেয়ে হাসুক খুশি খুশি।
জালেমের হাত থেকে রক্ষা করো সবাইকে,
সত্যের পথে পরিচালিত করো মানবজাতিকে।
দাও এমন সমাজ, যেথায় কেউ বঞ্চিত নয়,
অন্যের দুঃখ দেখে হৃদয় কাঁদতে রয়।
দাও এমন রাষ্ট্র, যেথায় ইনসাফের জয়,
ন্যায়ের সুবাসে ভরে ওঠে বিশ্বময়।
ইনসাফের বৃষ্টি ঝরুক ধরার বুকে,
শান্তির ফুল ফুটুক মানুষের সুখে।
সাম্য, মৈত্রী, ভালোবাসা হোক জীবনের গান,
মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক বিশ্বজাহান।
হে রব্বুল আলামিন! এ আমাদের মিনতি,
দূর করো পৃথিবী থেকে জুলুমের অন্ধগতি।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও সম্মানের সাথে,
সত্যের সূর্য উঠুক নতুন প্রভাতে।
সকলের মুখে ফুটুক প্রশান্তির হাসি,
ভেঙে যাক অন্যায়ের দীর্ঘ নিশ্বাসি।
ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক ঘরে ঘরে,
মানুষ বাঁচুক মানুষের কল্যাণের তরে।
সত্যের পতাকা উড়ুক আকাশময়,
ইনসাফের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হোক বিশ্বময়।
মজলুমের অশ্রু মুছে যাক চিরদিন,
এই হোক আমাদের স্বপ্ন, এই হোক জীবন।
আমিন।
***
৪
৪ মন্তব্য