Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ মে, ২০২৬ ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ

হজ কবুল হয়েছে কি না বুঝবেন যেভাবে

হজ কবুল হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন হলেও, ইসলামি গবেষক ও ওলামায়ে কেরামের মতে হজ কবুল বা ‘হজে মাবরুর’ হওয়ার কিছু বাহ্যিক আলামত বা লক্ষণ মানুষের জীবনে প্রকাশ পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়"।হজ পরবর্তী জীবনে নিচের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করার মাধ্যমে একজন হাজি বুঝতে পারেন যে তার হজ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কি না:
১. জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনইমান-আমলে দৃঢ়তা: হজের পর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
আখিরাতমুখী মনোভাব: পার্থিব ধন-সম্পদ বা দুনিয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং পরকালের প্রতি প্রবল আকর্ষণ বাড়ে। বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) এটিকে হজে মাবরুরের প্রধান লক্ষণ বলেছেন।
খারাপ কাজ বর্জন: অতীত জীবনের সব পাপকাজ—যেমন সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, গিবত বা হারাম উপার্জন থেকে মানুষ সম্পূর্ণ দূরে থাকে।
২. ইবাদতে ধারাবাহিকতা ও প্রবৃদ্ধিনেক আমল বৃদ্ধি: ইসলামি স্কলারদের মতে, একটি ভালো আমল কবুল হওয়ার বড় প্রমাণ হলো তার পর আরও একটি ভালো আমল করার তৌফিক পাওয়া। হজের পর জামাতে নামাজ পড়া ও নফল ইবাদতের প্রতি যত্নশীলতা বাড়ে।
দান-সদকার মানসিকতা: ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, মানুষকে সাহায্য করা এবং বেশি বেশি দান করার মানসিকতা তৈরি হয়।
জিকির ও ইস্তিগফার: হজের পর মানুষের জিহ্বা আল্লাহর স্মরণে বা জিকিরে মগ্ন থাকে এবং নিজের ভুলত্রুটির জন্য তওবা-ইস্তিগফারের পরিমাণ বেড়ে যায়।
৩. আচরণের নম্রতা ও অহংকার মুক্তিবিনয় ও নম্রতা: বিশাল একটি ইবাদত সম্পন্ন করার পরও নিজের মধ্যে কোনো আত্মতৃপ্তি বা অহংকার আসে না। মানুষ অত্যন্ত বিনয়ী হয়ে ওঠে।
লোকদেখানো ভাব বর্জন: নামের আগে ‘হাজি’ পদবি ব্যবহার করে সমাজে বাহবা বা প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা (রিয়া) থেকে হাজি মুক্ত থাকেন।
ত্রুটির ভয় থাকা: সব আমল ঠিকঠাক করার পরও "আমার হজ আল্লাহর দরবারে কবুল হলো তো?"—এই চিন্তা ও ভয় মনের ভেতর সবসময় জাগ্রত থাকে।ইসলামিক স্কলারদের মতে, হজের আগের জীবন আর হজের পরের জীবনের মাঝে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো স্থায়ী রাখাই হলো হজের প্রকৃত সার্থকতা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ