সহকারী শিক্ষক
২৮ মে, ২০২৬ ১১:২৩ অপরাহ্ণ
টুকটুকির লাল জামা ( ঈদের)
টুকটুকির লাল জামা!
ছোট্ট একটা মেয়ে, বয়স মাত্র পাঁচ বছর। ছোট্ট মেয়েটার নাম টুকটুকি। কী মিষ্টি করে কথা বলে! হাসলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটা ফুল ফুটে উঠল।
কিন্তু এত ছোট বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতা ওকে ছুঁয়ে গেছে।
টুকটুকির মা অনেক আগেই চলে গেছে। কারণ, ওর বাবার ভালো কোনো চাকরি নেই। মানুষটা খুব গরিব। টিউশনি করিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। তবু মেয়েটাকে বুকের ভেতর আগলে রাখেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিসের মতো।
যেদিন টুকটুকির মা চলে যায়, সেদিন মেয়েটার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। ওকেও সঙ্গে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ছোট্ট টুকটুকি বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “আমি বাবার কাছেই থাকব।”
তারপর কেটে গেছে একটা বছর।
এখন বাবা-ই টুকটুকির সব। বাবা নিজ হাতে খাইয়ে দেয়, চুল বেঁধে দেয়, রাতে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়। নিজের সব কষ্ট লুকিয়ে শুধু মেয়েটার মুখে হাসি দেখতে চায়।
কয়েকদিন ধরে টুকটুকি ঈদের জন্য একটা লাল জামা চাচ্ছে। “বাবা, আমাকে একটা টুকটুকে লাল জামা কিনে দিবা?”
বাবা হেসে বলে, “দেব মা, অবশ্যই দেব।”
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কত কষ্ট!
পাঁচটা টিউশনি করায় মানুষটা। অথচ একটা জায়গা থেকে এখনো টাকা পায়নি। হাতে টাকাও নেই তেমন। ঈদ চলে এসেছে প্রায়। অথচ নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় মেয়েটার জন্য একটা লাল জামা কিনতে পারছে না।
রাতে চুপচাপ বসে থাকে বাবা। বারবার শুধু টুকটুকির মুখটাই চোখে ভাসে।
শেষমেশ মানুষটা একটা সিদ্ধান্ত নেয়।
নিজের বহু কষ্টে কেনা পুরোনো সাইকেলটা বিক্রি করে দেবে। যে সাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন দূরে দূরে টিউশনি করাতে যায়, সেই সাইকেলটাই।
সাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত রেখে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল সে। তারপর মনে মনে বলল, “সাইকেল আবার কেনা যাবে… কিন্তু আমার টুকটুকির হাসিটা হারিয়ে যেতে দিতে পারি না।”
ঈদের সকালে টুকটুকি যখন টুকটুকে লাল জামাটা পরে বাবার সামনে এসে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, “বাবা, আমি সুন্দর লাগছি?”
তখন হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা ছিল সেই দরিদ্র বাবাই।
৪
৪ মন্তব্য