সহকারী অধ্যাপক
২৬ মে, ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
ঈদ, হজ্ব ও আরাফার মহামিলন - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ঈদ, হজ্ব ও আরাফার মহামিলন
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পৃথিবীর নানা প্রান্ত হতে
নানা ভাষা, নানা রঙ, নানা পরিচয়ের মানুষ
এক কাতারে এসে দাঁড়ায়—
কেউ ধনী, কেউ গরিব,
কেউ রাজপ্রাসাদের অধিবাসী,
কেউ কুঁড়েঘরের ক্লান্ত পথিক।
তবুও সেদিন কারও মাঝে ভেদাভেদ থাকে না,
সবার পরিচয় একটাই—
“আমরা মুসলিম, আমরা এক উম্মাহ।”
আরাফার ময়দানে ধ্বনিত হয়—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”
মনে হয় আকাশ-বাতাস, পাহাড়-পর্বত
সবই যেন সেই ডাকে সাড়া দেয়।
চোখের অশ্রু ঝরে, হৃদয় নরম হয়,
পাপের বোঝা নামিয়ে মানুষ ফিরে আসে
নতুন এক জীবনের প্রত্যাশায়।
ঈদ আসে আনন্দের সুবাস নিয়ে,
কিন্তু সে আনন্দ কেবল নিজের নয়।
এ আনন্দ ভাগাভাগির,
এ আনন্দ ভ্রাতৃত্বের,
এ আনন্দ মায়া-মমতার।
কোরবানির রক্তে লেখা থাকে—
ত্যাগের শিক্ষা, তাকওয়ার শিক্ষা,
নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মহিমান্বিত আহ্বান।
ঈদের সকালে মসজিদমুখী জনতা
যখন একসাথে তাকবীর ধ্বনি তোলে,
মনে হয় পৃথিবী যেন শান্তির বাগান।
শিশুর হাসি, বৃদ্ধের দোয়া,
আত্মীয়ের কোলাকুলি,
বন্ধুর আন্তরিক শুভেচ্ছা—
সব মিলিয়ে হৃদয়ের জমিনে
ফুটে ওঠে ভালোবাসার রঙিন ফুল।
হজ্ব শেখায়—
মানুষে মানুষে বিভেদ নয়,
বরং পরিচয় হোক মানবতায়।
আরাফা শেখায়—
ক্ষমা করো, ক্ষমা চাও,
অহংকার ভুলে রবের সামনে মাথা নত করো।
ঈদ শেখায়—
অভাবীর মুখে হাসি ফোটানোই
প্রকৃত আনন্দের নাম।
সাদা ইহরামের সরল পোশাকে
লুকিয়ে আছে গভীর এক বার্তা—
মানুষ জন্মায় সমান,
মৃত্যুতেও ফিরে যায় সমান হয়ে।
কেউ চিরস্থায়ী নয়,
চিরস্থায়ী কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি
আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
আজ পৃথিবী জুড়ে কত বিভেদ,
কত হিংসা, কত স্বার্থের দেয়াল!
মানুষ মানুষকে ভুলে যাচ্ছে,
সম্পর্কগুলো হয়ে যাচ্ছে শীতল।
ঠিক তখনই ঈদ, হজ্ব ও আরাফার এই মহামিলন
শিখিয়ে দেয়—
ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবী সুন্দর হয় না,
ভ্রাতৃত্ব ছাড়া উম্মাহ শক্তিশালী হয় না।
এসো আমরা ঈদের শিক্ষা ধারণ করি,
হজ্বের আত্মত্যাগ হৃদয়ে লালন করি,
আরাফার অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা দিয়ে
মনকে পরিশুদ্ধ করি।
হিংসার বদলে বন্ধুত্ব গড়ি,
ঘৃণার বদলে মায়া ছড়াই,
অহংকারের বদলে বিনয় ধারণ করি।
ধনী গরিব সবাই মিলে
একসাথে পথ চলার নামই ইসলাম।
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার নামই
সাম্যের বাস্তব শিক্ষা।
এক টুকরো কোরবানির গোশত
যখন দরিদ্রের ঘরে হাসি হয়ে পৌঁছে যায়,
তখনই ঈদের সৌন্দর্য পূর্ণতা পায়।
হে আল্লাহ!
ঈদের আনন্দকে করো হৃদয়ের পবিত্রতা,
হজ্বের জমায়েতকে করো বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের শক্তি,
আরাফার দোয়াকে করো মানবতার মুক্তির আলো।
মানুষে মানুষে দাও মায়া,
সম্পর্কে দাও সততা,
সমাজে দাও শান্তি ও সহমর্মিতা।
যেন পৃথিবীর প্রতিটি হৃদয়
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়,
যেন মুসলিম উম্মাহ আবারও
এক দেহ, এক আত্মা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যেন ঈদের তাকবীর,
হজের লাব্বাইক
আর আরাফার কান্নাভেজা দোয়া
মানবতার আকাশে ছড়িয়ে দেয়
শান্তি, প্রেম ও অনন্ত কল্যাণের সুবাস।
সমাপনী কাব্যাংশ
ঈদের চাঁদে জাগুক প্রেম,
হজের ডাকে ভাঙুক ভেদ,
আরাফাতে কাঁদুক প্রাণ
মুছে যাক সব হিংসার খেদ।
এক কাতারে বিশ্ব মুসলিম
ভাইয়ের মতো হাত রাখে,
এই দৃশ্যই মানবতাকে
নতুন আশার আলো দেখায় পথে।
ত্যাগ হোক জীবনের ভাষা,
মায়া হোক হৃদয়ের রীতি,
ঈদ, হজ্ব আর আরাফাতে
জাগুক উম্মাহর মহাপ্রীতি।
***
পৃথিবীর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিমের সীমানা,
উত্তরের শীতল পাহাড় পেরিয়ে দক্ষিণের উষ্ণ মরুভূমি—
সব পথ যেন এসে মিশে যায়
এক পবিত্র ডাকের মাঝে।
সেই ডাক—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।”
কত ভাষা, কত সংস্কৃতি,
কত জাতি, কত ইতিহাস—
সব পরিচয় মিলিয়ে যায়
একটি মাত্র পরিচয়ে—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”
আরাফার বিস্তীর্ণ ময়দানে
যখন লাখো প্রাণ একসাথে দাঁড়ায়,
মনে হয়—
এ যেন ক্ষুদ্র পৃথিবীর বুকে
আখিরাতের এক মহড়া।
সাদা ইহরামের সরল পোশাকে
ঢেকে যায় অহংকারের রঙিন আবরণ।
সেখানে রাজা আর প্রজার ভেদ থাকে না,
ধনী আর গরিবের দূরত্ব থাকে না,
ক্ষমতাবান আর দুর্বল এক কাতারে এসে
একই রবের সামনে মাথা নত করে।
কেউ আফ্রিকার কালো মাটি থেকে এসেছে,
কেউ এশিয়ার সবুজ জনপদ থেকে,
কেউ ইউরোপের আধুনিক নগরী পেরিয়ে,
কেউ মরুর বালুকাবেলায় জীবন কাটিয়ে—
তবুও সেদিন সবাই যেন
একই পরিবারের আপন মানুষ।
আরাফার আকাশে যখন ধ্বনিত হয় তাকবীর,
মনে হয় ফেরেশতারাও থেমে শোনে
মানবতার সেই ঐক্যের সুর।
কান্নাভেজা চোখে মানুষ বলে—
“হে আল্লাহ! আমরা ফিরে এসেছি,
ক্ষমা চাইতে, ভালোবাসতে,
নতুন মানুষ হয়ে বাঁচতে।”
হজ্ব কেবল সফর নয়,
এ এক আত্মার বিপ্লব।
এ এমন এক শিক্ষা
যেখানে মানুষ বুঝতে শেখে—
ক্ষমা মহত্ত্বের পরিচয়,
ভালোবাসা ঈমানের সৌন্দর্য,
ভ্রাতৃত্ব ইসলামের প্রাণ।
ঈদের চাঁদ উঠলে
শুধু আকাশই আলোকিত হয় না,
আলোকিত হয় মানুষের হৃদয়ও।
বছরের জমে থাকা অভিমান
কোলাকুলির উষ্ণতায় গলে যায়।
বিচ্ছিন্ন আত্মীয় ফিরে আসে কাছে,
ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল ভেঙে যায়।
শিশুর হাতে নতুন পোশাকের আনন্দ,
মায়ের মুখে প্রশান্তির হাসি,
বৃদ্ধ পিতার চোখে দোয়ার অশ্রু—
সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে
ভালোবাসার জীবন্ত কবিতা।
কোরবানি শেখায়—
ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত ভালোবাসা জন্মায় না।
নিজের স্বার্থ, অহংকার, লোভ, হিংসা—
সবকিছুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
ত্যাগ করার নামই প্রকৃত কোরবানি।
যখন কোরবানির মাংস
অভাবীর দরজায় পৌঁছে যায়,
যখন দরিদ্র শিশুটি
এক টুকরো গোশত হাতে পেয়ে হাসে,
তখনই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায়।
ইসলাম কখনো বিভেদের শিক্ষা দেয় না,
বরং মানুষে মানুষে সেতুবন্ধন গড়ে।
হজ্বের প্রতিটি পদক্ষেপে
ঐক্যের আহ্বান ধ্বনিত হয়।
সাফা-মারওয়ার পথে
ধৈর্যের ইতিহাস,
মিনার প্রান্তরে
অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,
আর আরাফার ময়দানে
ক্ষমা ও করুণার মহাসমুদ্র।
আজ পৃথিবী ক্লান্ত যুদ্ধের আগুনে,
সম্পর্কগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে স্বার্থের বিষে।
মানুষ মানুষকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে,
বন্ধুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে অহংকারে।
ঠিক তখনই ঈদ, হজ্ব ও আরাফা
পৃথিবীকে নতুন করে শেখায়—
মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়
সে মানুষ।
মুসলিম উম্মাহ যেন এক দেহ—
এক অঙ্গে ব্যথা লাগলে
অন্য অঙ্গও কেঁদে ওঠে।
ফিলিস্তিনের কান্না,
নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ,
ক্ষুধার্ত শিশুর দীর্ঘশ্বাস—
সবই একজন মুমিনের হৃদয়কে নাড়া দেয়।
এই শিক্ষা নিয়েই
আরাফার মাঠে লাখো হাত ওঠে দোয়ায়—
“হে আল্লাহ!
মানুষে মানুষে দাও ভালোবাসা,
হৃদয়ে দাও সহমর্মিতা,
পৃথিবী থেকে দূর করো হিংসা ও বিভেদ।”
ঈদের তাকবীর তাই
শুধু উৎসবের ধ্বনি নয়,
এটি ঐক্যের আহ্বান।
হজের লাব্বাইক
শুধু তীর্থযাত্রীর জবাব নয়,
এটি আত্মসমর্পণের ঘোষণা।
আরাফার কান্না
শুধু অনুতাপ নয়,
এটি নতুন জীবনের প্রতিজ্ঞা।
এসো আমরা ঈদের শিক্ষা ধারণ করি,
ভাইকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসি,
প্রতিবেশীর কষ্টে পাশে দাঁড়াই,
অসহায়ের চোখের জল মুছে দিই।
এসো আমরা হজ্বের শিক্ষা নিয়ে
অহংকার ভেঙে ফেলি,
জাতিগত বিভেদ ভুলে যাই,
মানবতার পতাকা উঁচু করি।
এসো আমরা আরাফার শিক্ষা নিয়ে
ক্ষমা করতে শিখি,
নিজেকে শুদ্ধ করি,
হৃদয়কে নরম করি।
হে আল্লাহ!
ঈদের আনন্দকে করো পবিত্রতার আলো,
হজ্বের জমায়েতকে করো মুসলিম ঐক্যের শক্তি,
আরাফার দোয়াকে করো মানবমুক্তির সুবাস।
মানুষে মানুষে দাও সত্যিকারের ভালোবাসা,
সমাজে দাও ন্যায় ও সহমর্মিতা,
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দাও শান্তির বার্তা।
যেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ
অন্যের সুখে হাসতে শেখে,
অন্যের দুঃখে কাঁদতে শেখে,
অন্যের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে শেখে।
যেন ঈদের চাঁদ
ঘৃণার অন্ধকার ভেঙে দেয়,
যেন হজের লাব্বাইক
উম্মাহকে এক কাতারে দাঁড় করায়,
যেন আরাফার অশ্রু
পৃথিবীকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে দেয়।
সমাপনী কাব্যধারা
ঈদের চাঁদে প্রেমের আলো
জ্বলে উঠুক ঘরে ঘরে,
হজের ডাকে বিশ্বমানব
এক হোক আজ অন্তরে।
আরাফাতে অশ্রু ঝরে
ক্ষমা আর করুণার তরে,
বিদ্বেষ হিংসা দূরে সরে
মায়া ফুটুক ধরণী ভরে।
ধনী গরিব একই কাতার
ইসলামের শ্রেষ্ঠ বাণী,
ভ্রাতৃত্বের এই মহাসাগর
মানবতার চিরকাহিনী।
ত্যাগ হোক জীবনের গান,
মানবতা হোক পরিচয়,
ঈদ, হজ্ব আর আরাফাতে
বিশ্ব উম্মাহ খুঁজে পাক নবজয়।
***
ঈদ, হজ্ব ও আরাফার বিশ্বমানবতার মহামিলন
আবার এলো পবিত্র দিন,
আবার উঠলো তাকবীরের ধ্বনি,
আকাশ ভেসে যায় সুরে সুরে—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।”
পৃথিবীর প্রান্ত হতে প্রান্তরে
মানুষ ছুটে আসে এক আহ্বানে,
কেউ মরুর উত্তপ্ত বালুকায়,
কেউ পাহাড় ডিঙিয়ে,
কেউ সাগর পাড়ি দিয়ে,
কেউ অশ্রুসজল চোখে,
কেউ বুকভরা আশা নিয়ে।
সেদিন পৃথিবী যেন
এক বিশাল হৃদয়ে রূপ নেয়,
যেখানে কোটি প্রাণের স্পন্দন
এক সুরে মিশে যায়—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।”
আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে
মানুষ ভুলে যায় তার সব পরিচয়।
সেখানে নেই ধনী-গরিবের দেয়াল,
নেই রাজা-প্রজার ভেদ,
নেই বর্ণের অহংকার,
নেই ভাষার দূরত্ব।
সাদা ইহরামের সরল পোশাকে
সবাই যেন এক নতুন সত্য শিখে—
মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়
সে আল্লাহর বান্দা,
সে মানবতার অংশ।
কত কোটি মানুষ
একসাথে হাত তোলে আকাশের দিকে,
কত অশ্রু ঝরে ক্ষমার আশায়,
কত হৃদয় কেঁপে ওঠে অনুতাপে।
মনে হয়—
এই কান্না শুধু ব্যক্তিগত নয়,
এ যেন সমগ্র মানবতার কান্না।
কেউ কাঁদে নিজের গুনাহের জন্য,
কেউ কাঁদে মায়ের দোয়ার আশায়,
কেউ কাঁদে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে,
কেউ কাঁদে নির্যাতিত উম্মাহর শান্তির জন্য।
আরাফার বাতাস যেন বলে—
ক্ষমা করো,
ভালোবাসো,
মানুষকে আপন করে নাও।
ঈদ আসে শুধু উৎসব হয়ে নয়,
ঈদ আসে হৃদয়ের নবজাগরণ হয়ে।
শিশুর মুখের হাসিতে,
মায়ের স্নেহভরা দোয়ায়,
বাবার শান্ত চোখে,
বন্ধুর কোলাকুলিতে,
আত্মীয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছায়
ঈদ হয়ে ওঠে
ভালোবাসার জীবন্ত ভাষা।
কত অভিমান সারা বছর
হৃদয়ের ভেতর জমে থাকে,
কত সম্পর্ক ভেঙে যায়
স্বার্থের সংঘাতে।
কিন্তু ঈদের সকাল এসে
মনের দরজায় কড়া নাড়ে—
“এসো, আবার এক হই,
ভাইকে বুকে টেনে নিই।”
কোরবানি শেখায়—
ত্যাগ ছাড়া ভালোবাসা পূর্ণ হয় না।
নিজের অহংকার,
নিজের হিংসা,
নিজের লোভ,
নিজের স্বার্থপরতা—
এসবকেই কোরবানি করতে হয়
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
যখন কোরবানির মাংস
অভাবীর ঘরে পৌঁছে যায়,
যখন দরিদ্র শিশুর চোখে
আনন্দের দীপ্তি জ্বলে ওঠে,
তখনই ঈদের সৌন্দর্য
পূর্ণতা লাভ করে।
হজ্ব শেখায়—
মানুষে মানুষে বিভেদ নয়,
বরং সহমর্মিতার সেতুবন্ধন।
আরাফা শেখায়—
অহংকার ভেঙে
বিনয়ের পথে ফিরতে।
ঈদ শেখায়—
নিজে সুখী হওয়ার আগে
অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে।
আজ পৃথিবী ক্লান্ত
হিংসা আর বিভাজনের আগুনে।
মানুষ মানুষকে ভুলে যাচ্ছে,
সম্পর্ক শুকিয়ে যাচ্ছে স্বার্থের খরায়।
বন্ধুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতায়,
ভ্রাতৃত্ব হারিয়ে যাচ্ছে অহংকারে।
ঠিক তখনই
ঈদ, হজ্ব ও আরাফার এই মহামিলন
পৃথিবীকে নতুন করে শেখায়—
ভালোবাসা ছাড়া শান্তি নেই,
ঐক্য ছাড়া শক্তি নেই,
সহমর্মিতা ছাড়া মানবতা পূর্ণ হয় না।
মুসলিম উম্মাহ যেন এক দেহ—
এক অঙ্গে ব্যথা লাগলে
অন্য অঙ্গও কেঁদে ওঠে।
ফিলিস্তিনের কান্না,
নির্যাতিত শিশুর আর্তনাদ,
ক্ষুধার্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস—
সবই একজন মুমিনের হৃদয়ে
ঝড় তোলে।
আরাফার ময়দানে তাই
লাখো হাত একসাথে উঠে যায়—
“হে আল্লাহ!
পৃথিবী থেকে দূর করো বিভেদ,
মানুষে মানুষে দাও মায়া,
সম্পর্কে দাও সততা,
সমাজে দাও শান্তি।”
ঈদের তাকবীর
শুধু উৎসবের ধ্বনি নয়,
এটি ঐক্যের আহ্বান।
হজের লাব্বাইক
শুধু জবাব নয়,
এটি আত্মসমর্পণের ঘোষণা।
আরাফার কান্না
শুধু অনুতাপ নয়,
এটি নতুন জীবনের সূচনা।
এসো আমরা শিখি—
ভাইকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসতে,
প্রতিবেশীর কষ্টে পাশে দাঁড়াতে,
অসহায়ের চোখের জল মুছে দিতে।
এসো আমরা শিখি—
অহংকার ভেঙে ফেলতে,
মানবতার পতাকা উঁচু করতে,
ভেদাভেদ ভুলে
এক কাতারে দাঁড়াতে।
ধনী-গরিব একই কাতার—
ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।
সাদা ইহরামে দাঁড়িয়ে
মানুষ যেন বুঝে যায়—
পৃথিবীর সব গর্ব একদিন মুছে যাবে,
রয়ে যাবে শুধু আমল,
ভালোবাসা আর মানবতা।
হে আল্লাহ!
ঈদের আনন্দকে করো হৃদয়ের পবিত্রতা,
হজ্বের জমায়েতকে করো বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের শক্তি,
আরাফার দোয়াকে করো মানবমুক্তির আলো।
মানুষে মানুষে দাও মায়া,
হৃদয়ে দাও করুণা,
সমাজে দাও ন্যায় ও সহমর্মিতা।
যেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ
অন্যের সুখে হাসতে শেখে,
অন্যের দুঃখে কাঁদতে শেখে,
অন্যের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে শেখে।
যেন ঈদের চাঁদ
ঘৃণার অন্ধকার ভেঙে দেয়,
যেন হজের লাব্বাইক
উম্মাহকে এক হৃদয়ে গেঁথে দেয়,
যেন আরাফার অশ্রু
পৃথিবীকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে।
ঈদের চাঁদে প্রেমের আলো
জ্বলে উঠুক প্রাণে প্রাণে,
হজের ডাকে বিশ্বমানব
আসুক আবার একই টানে।
আরাফাতে অশ্রু ঝরুক
ক্ষমা আর মায়ার তরে,
বিদ্বেষ হিংসা দূরে যাক
ভালোবাসা ফুটুক ঘরে ঘরে।
ধনী গরিব এক কাতারে
ইসলামের মহান বাণী,
ভ্রাতৃত্বের এই মহাসাগর
মানবতার চিরকাহিনী।
ত্যাগ হোক জীবনের গান,
মানবতা হোক পরিচয়,
ঈদ, হজ্ব আর আরাফাতে
উম্মাহ খুঁজে পাক নবজয়।
৪
৪ মন্তব্য