Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ মে, ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

স্বামী স্ত্রী ও সন্তান -মোঃ মুজিবুর রহমান

স্বামী স্ত্রী সন্তান

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

সংসার শুধু ইটের ঘর নয়,
মানুষে মানুষে গড়া এক নরম আশ্রয়।
যেখানে স্বামী-স্ত্রীর শ্রদ্ধা,
সন্তানের হাসি,
মায়ার হাতছানি
সব মিলেই গড়ে ওঠে জীবনের সত্যিকারের সম্পদ।

ভালোবাসাহীন সংসার
ধন থাকলেও শূন্য থাকে;
আর স্নেহ-সম্মানের সংসার
অল্পেও জান্নাতের শান্তি এনে দেয়।

পরিবারতন্ত্রের কাব্য

ঘর মানে শুধু চারটি দেয়াল নয়,
ঘর মানে ক্লান্ত শেষে শান্তির আশ্রয়।
একটি মুখে হাসি ফুটলে
আরেকটি প্রাণ জুড়িয়ে যায়,
একজনের দুঃখ নীরবে এসে
অন্যজনের চোখে জল হয়ে ঝরায়।

স্বামী যদি হয় কঠিন পাহাড়,
স্ত্রী তবে তার সবুজ বন,
একজন রোদে পথ দেখায়,
অন্যজন দেয় ছায়ার মন।

স্ত্রী যদি শুধু কাজের মানুষ,
আর স্বামী শুধু আদেশ দেয়,
সেই সংসারে সুখের পাখি
নীরব হয়ে দূরে উড়ে যায়।

ভালোবাসা যেখানে কমে যায়,
শ্রদ্ধা যেখানে মুছে যায় ধীরে,
সন্তানের ছোট্ট মনও
ভেঙে পড়ে অন্ধকার নীড়ে।

শিশুরা কথা কমই বলে,
তবু সবকিছু দেখে যায়,
মায়ের চোখের নীরব কান্না,
বাবার রাগও বুঝে যায়।

তাই তো ঘরে উচ্চস্বরে
অহংকারের ঝড় তুলো না,
ক্ষমতার বলে ভালোবাসাকে
কখনো ছোট কোরো না।

সংসার যুদ্ধের ময়দান নয়,
সংসার মানে বোঝাপড়া,
একটু নরম ভাষার ভেতর
লুকিয়ে থাকে সুখের ধরা।

স্বামী বলুক
তুমি পাশে আছো বলেই
জীবনটা সহজ লাগে।
স্ত্রী বলুক
তোমার কষ্ট আমিও বুঝি,
তোমার স্বপ্ন আমারও ভাগে।

সন্তান যেন ভয় না পায়
নিজের কথা খুলে বলতে,
মমতার হাত থাকুক সদা
ভুলের পরেও টেনে নিতে।

বাড়াবাড়ি চাওয়া-পাওয়া
সম্পর্কগুলো ভেঙে দেয়,
সামর্থ্যের বাইরে চাপ সৃষ্টি
হাসিমুখও কেঁদে নেয়।

যে স্বামী শুধু অর্থ বোঝে,
স্ত্রীর মনের খবর রাখে না,
সে ধনী হলেও তার ঘরে
শান্তির আলো জ্বলে না।

যে স্ত্রী শুধু অভিযোগ করে,
স্বামীর ক্লান্তি বোঝে না,
সে সংসারের ফুলগুলোও
ধীরে ধীরে ফোটে না।

দুজন যদি হাত ধরাধরি
ঝড়ের দিনেও পাশে রয়,
সন্তানেরা শেখে তখন
ভালোবাসাই সত্য জয়।

বাবা শুধু রোজগারের মানুষ নয়,
মায়ের মতো তিনিও ছায়া,
আর মা শুধু রান্নাঘরের নন,
তিনি ঘরের সবচেয়ে বড় মায়া।

সন্তান হলো আমানত এক,
নরম মাটির ছোট্ট প্রাণ,
ভালোবাসা দিয়ে গড়তে হয়
মানবিকতার সুন্দর জ্ঞান।

ধমক দিয়ে মানুষ গড়া
কখনো সত্যি হয় না গো,
আদর্শ দিয়ে শেখাতে হয়
কীভাবে মানুষ হতে হয় তো।

একটি পরিবার তখনই সফল
যখন থাকে নৈতিকতা,
মানুষ হওয়ার শিক্ষা থাকে,
থাকে দয়া মানবতা।

শ্রদ্ধাহীন সম্পর্কগুলো
অল্পতেই যায় ভেঙে,
আর মায়াভরা ছোট্ট সংসার
হাসতে শেখায় রঙে রঙে।

স্বামী যদি স্ত্রীর সম্মান রাখে,
স্ত্রী যদি স্বামীর কষ্ট বোঝে,
সন্তান যদি আদব শেখে,
সুখ তখন ঘরের মাঝে খোঁজে।

অতিরিক্ত রাগের আগুন
ঘরের শান্তি পুড়িয়ে দেয়,
কঠিন কথার বিষের আঘাত
বছরের সম্পর্ক ভেঙে দেয়।

তাই তো বলি
কথা বলো নরম সুরে,
ক্ষমা রাখো হৃদয় জুড়ে,
ভালোবাসা লুকিয়ে রেখো না
অহংকারের কঠিন ঘেরে।

মানুষ বড় পদে নয়,
মানুষ বড় ব্যবহারে,
একটি মধুর বাক্যও পারে
ক্লান্ত হৃদয় বাঁচাতে।

রাত শেষে যেমন ভোর আসে,
অন্ধকার শেষে আলো,
তেমনি মায়া-ভরা সংসারে
দুঃখও থাকে ভালো।

যেখানে স্ত্রী নিরাপদ বোধ করে,
স্বামী পায় সম্মান,
সন্তান পায় স্নেহের ছোঁয়া
সেই ঘরই সুখের স্থান।

ভালোবাসা মানে শুধু
মুখে মুখে কথা নয়,
দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াও
ভালোবাসার পরিচয়।

একটু সময়, একটু যত্ন,
একটু আন্তরিকতা
এই ছোট ছোট জিনিসেই
টিকে থাকে মানবতা।

সংসার হলো নদীর মতো,
দুতীর মিলেই তার চলা,
এক তীর ভাঙলে অন্য তীরও
ধীরে ধীরে যায় তো ভোলা।

তাই স্বামী-স্ত্রী-সন্তান মিলে
গড়ুক মায়ার সুন্দর ঘর,
যেখানে থাকবে শান্তির বাতাস,
মানবতার উজ্জ্বল ভোর।

সেই পরিবারই সফল হয়
যেখানে নেই অবহেলা,
যেখানে সবাই মানুষ হয়ে
ভালোবাসে সারাবেলা।

যেখানে কর্তব্য আছে,
আছে অধিকারও সমান,
যেখানে হৃদয় বুঝে হৃদয়
সেই ঘরই পৃথিবীর জান্নাতখান।



মায়া-মমতার সংসার

সংসার মানে শুধু
এক ছাদের নিচে থাকা নয়,
সংসার মানে
একজন ক্লান্ত হলে
অন্যজনের নীরব ছায়া হয়ে দাঁড়ানো।

সংসার মানে শুধু
ভাত-কাপড়-টাকার হিসাব নয়,
সংসার মানে
একটু সম্মান,
একটু কোমল কথা,
একটু তুমি কেমন আছো?” বলা।

স্বামী যদি ভাবে
আমি শুধু উপার্জনের যন্ত্র,
আর স্ত্রী যদি ভাবে
আমি শুধু সংসারের কর্মচারী,
তবে সেই ঘরের দেয়াল থাকে,
কিন্তু ঘর থাকে না।

ঘর তখন নিঃশব্দ কারাগার,
যেখানে হাসি থাকে না,
থাকে শুধু দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

সন্তান তখন চুপচাপ বসে
মায়ের মুখ দেখে ভয় পায়,
বাবার কণ্ঠ শুনে কেঁপে ওঠে,
আর রাতের আঁধারে
নিজের ছোট্ট হৃদয় লুকিয়ে কাঁদে।

কারণ শিশুরা
শুধু কথা শুনে না,
তারা আচরণও পড়ে।

বাবা-মায়ের রাগ,
অবহেলা,
অপমান,
কঠিন ভাষা
সব নরম মাটির মতো মনে
দাগ কেটে যায়।

তাই সংসারে
ক্ষমতার বড়াই নয়,
মানবতার আলো দরকার।

যেখানে স্বামী স্ত্রীর সম্মান রাখে,
স্ত্রী স্বামীর ক্লান্তি বোঝে,
সন্তান বাবা-মায়ের চোখে
ভালোবাসার ভাষা পড়ে
সেই পরিবারই প্রকৃত সফল।

ধন থাকলেই সুখ আসে না,
বড় বাড়ি থাকলেই শান্তি আসে না,
অনেক সময়
ছোট্ট ভাঙা ঘরেও
ভালোবাসার আলো জ্বলে,
আর প্রাসাদসম বাড়িতেও
মানুষ একা কাঁদে।

স্বামী বলুক
তোমার কষ্ট আমি বুঝি,
স্ত্রী বলুক
তোমার লড়াই আমারও লড়াই।

এই কয়েকটি বাক্যই
ক্লান্ত জীবনের বড় ওষুধ।

সংসারে দায়িত্ব আছে,
অধিকারও আছে;
কিন্তু দায়িত্ব ছাড়া অধিকার চাইলে
সম্পর্ক শুকিয়ে যায়।

আবার অধিকার না দিয়ে
শুধু দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেও
ভালোবাসা মরে যায়।

তাই ভারসাম্য দরকার,
দরকার পারস্পরিক বোঝাপড়া।

সামর্থ্যের বাইরে চাওয়া,
অতিরিক্ত চাপ,
জোর করে নিজের মত চাপানো
এসব সম্পর্কের ভিত নষ্ট করে।

ভালোবাসা কখনো
জোর করে আদায় করা যায় না;
এটি হৃদয়ের ফুল,
যত্ন পেলে ফোটে,
অবহেলা পেলে ঝরে।

স্ত্রী মানুষ,
তিনি মেশিন নন;
স্বামীও মানুষ,
তিনি পাথর নন।

দুজনেরই ক্লান্তি আছে,
স্বপ্ন আছে,
ভয় আছে,
অভিমান আছে।

তাই একজন আরেকজনকে
ছোট না করে,
হাত ধরে পাশে দাঁড়ানোই
সংসারের আসল সৌন্দর্য।

বাবা শুধু টাকা আনার মানুষ নয়,
তিনি সন্তানের প্রথম সাহস।
মা শুধু রান্নাঘরের পরিচয় নন,
তিনি সন্তানের প্রথম বিদ্যালয়।

সন্তান হলো
আল্লাহর দেওয়া এক আমানত,
যাকে শুধু বড় করলেই হয় না,
মানুষও বানাতে হয়।

শিক্ষা মানে শুধু বই নয়,
শিক্ষা মানে
সত্য বলা,
ক্ষমা করা,
বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করা,
অসহায়কে সাহায্য করা।

যে ঘরে বাবা-মা
একজন আরেকজনকে সম্মান করে,
সেই ঘরের সন্তান
মানবিক হয়।

আর যে ঘরে
দিনরাত ঝগড়া,
অপমান,
চিৎকার
সেই ঘরের শিশুরা
নীরবে ভেঙে যায়।

সংসার যুদ্ধ নয়,
সংসার সহযোগিতা।

এখানে জয় মানে
কাউকে হারানো নয়,
বরং সবাইকে নিয়ে
ভালো থাকা।

স্বামী যদি ভুল করে
স্ত্রী ক্ষমা করুক,
স্ত্রী যদি কষ্ট পায়
স্বামী বুঝুক।

কারণ ক্ষমাহীন সংসারে
শান্তি টেকে না।

একটু হাসি,
একটু সময়,
একটু আন্তরিকতা
এই ছোট ছোট জিনিসই
একটি পরিবারকে জান্নাত বানায়।

অহংকারের আগুন
ভালোবাসাকে পুড়িয়ে দেয়,
আর নম্রতার বৃষ্টি
সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।

মানুষ বড় হয় না
ধন-সম্পদে,
মানুষ বড় হয়
ব্যবহারে।

একটি নরম বাক্য
বহু ভাঙা মন জোড়া লাগাতে পারে।

তাই তো বলি

ঘরে রাগ নয়,
রাখো মমতা।
ঘরে অপমান নয়,
রাখো সম্মান।
ঘরে ভয় নয়,
রাখো নিরাপত্তা।
ঘরে স্বার্থ নয়,
রাখো মানবতা।

যে পরিবারে
স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা দেয়,
স্ত্রী স্বামীর শান্তি রক্ষা করে,
সন্তান ভালোবাসার ছায়ায় বড় হয়
সেই পরিবারই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ।

সন্ধ্যায় ক্লান্ত মানুষটি
যদি ঘরে ফিরে শান্তি পায়,
শিশুটি যদি নির্ভয়ে হাসে,
স্ত্রী যদি নিরাপদ বোধ করে,
স্বামী যদি সম্মান পায়
তবে সেই ঘরই সফল।

সংসার টিকে থাকে না
শুধু টাকায়,
সংসার টিকে থাকে
বিশ্বাসে।

সংসার সুন্দর হয় না
শুধু সাজানো আসবাবে,
সংসার সুন্দর হয়
মানুষের সুন্দর আচরণে।

তাই আসুন
স্বামী, স্ত্রী সন্তান মিলে
একটি মানবিক পৃথিবী গড়ি,
যেখানে থাকবে
ভালোবাসা,
শ্রদ্ধা,
নৈতিকতা,
সহমর্মিতা,
আর একে অপরকে আগলে রাখার
নিঃস্বার্থ প্রতিজ্ঞা।

কারণ
পরিবার শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়,
পরিবার হলো
হৃদয়ের নিরাপদ আশ্রয়।
***

হৃদয়ের সংসার

সংসার মানে শুধু
দুইজন মানুষের একসাথে থাকা নয়,
সংসার মানে
দুটি হৃদয়ের ধৈর্য শেখা,
দুটি জীবনের বোঝা ভাগাভাগি করা,
আর একটি শিশুর চোখে
নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা।

স্বামী যদি শুধু কর্তৃত্ব বোঝে,
স্ত্রী যদি শুধু অভিমান বোঝে,
আর সন্তান যদি ভালোবাসা না পায়
তবে সেই ঘর
আলো জ্বালিয়েও অন্ধকার থাকে।

কারণ সংসারের আসল বাতি
বিদ্যুতের আলো নয়,
মায়া-মমতা আর শ্রদ্ধাবোধ।

যেখানে মানুষ মানুষকে
ছোট করে না,
অপমান দিয়ে ভাঙে না,
বরং ভুল হলে বুঝিয়ে বলে,
কষ্ট হলে পাশে বসে
সেই ঘরেই শান্তি নামে।

স্বামী যখন ক্লান্ত হয়ে ফেরে
দিনভর জীবনের যুদ্ধ শেষে,
স্ত্রীর একটি কোমল প্রশ্ন
খুব কষ্ট হলো?”
তার হৃদয়ের সব ক্লান্তি মুছে দেয়।

স্ত্রী যখন সারাদিন
সংসারের শত ব্যস্ততায়
নিজেকে ভুলে যায়,
স্বামীর একটি সম্মানভরা দৃষ্টি
তার হৃদয়কে আবার জীবন্ত করে।

ভালোবাসা মানে শুধু
উৎসবের হাসি নয়,
ভালোবাসা মানে
অসুস্থ হলে মাথায় হাত রাখা,
মন খারাপ হলে পাশে বসা,
রাগ হলে চুপ করে না থেকে
বোঝার চেষ্টা করা।

সন্তান হলো
মাটির প্রদীপের মতো,
যে আলো পাবে
সেই আলোই ছড়াবে।

যদি ঘরে ঝগড়া দেখে,
সে ভয় শিখবে।
যদি অপমান দেখে,
সে কঠিন হবে।
যদি ভালোবাসা দেখে,
সে মানুষ হবে।

তাই সন্তান গড়ার আগে
পরিবারকে গড়তে হয়।

বাবা-মায়ের সম্পর্কই
সন্তানের প্রথম বিদ্যালয়।

বাবার রাগ যদি আগুন হয়,
মায়ের ধৈর্য হোক বৃষ্টি।
মায়ের কষ্ট যদি নীরব হয়,
বাবার মমতা হোক আশ্রয়।

কারণ সংসারে
জয়ী হওয়ার নয়,
একসাথে টিকে থাকার লড়াই চলে।

অতিরিক্ত চাওয়া,
সামর্থ্যের বাইরে চাপ,
জোর করে নিজের ইচ্ছা চাপানো
এসব ধীরে ধীরে
ভালোবাসার শিকড় শুকিয়ে দেয়।

যেখানে অধিকার আছে
সেখানে দায়িত্বও আছে।
যেখানে দাবি আছে
সেখানে ত্যাগও থাকা দরকার।

শুধু আমার প্রাপ্য ভাবলে
সংসার ভেঙে যায়,
আর আমাদের সুখ ভাবলে
সংসার বেঁচে থাকে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই
মানুষ,
দুজনেরই মন আছে,
অভিমান আছে,
ক্লান্তি আছে।

তাই কাউকে দাস বানিয়ে নয়,
কাউকে ভয় দেখিয়ে নয়,
সম্মান দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়।

স্ত্রী যদি নিরাপদ বোধ না করে,
সন্তান যদি হাসতে ভয় পায়,
স্বামী যদি ঘরে শান্তি না খুঁজে পায়
তবে সেই বাড়ি বড় হলেও
সেখানে সুখ থাকে না।

একটি ছোট্ট ঘরও
স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে,
যদি সেখানে থাকে
নরম ভাষা,
পারস্পরিক শ্রদ্ধা,
এবং সত্যিকারের মানবতা।

যে স্বামী স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করে,
সে শুধু একজন মানুষ নয়,
সে পরিবারের ছায়া।

যে স্ত্রী স্বামীর দুঃখ বোঝে,
সে শুধু গৃহিণী নয়,
সে ঘরের প্রশান্তি।

যে সন্তান বাবা-মায়ের আদব শেখে,
সে শুধু পরীক্ষায় নয়,
জীবনেও সফল হয়।

সংসারে রাগ আসবেই,
ভুল বোঝাবুঝি হবেই,
কিন্তু সম্পর্ক টিকে থাকে
ক্ষমা আর ধৈর্যের উপর।

একটু নরম কথা
বড় ঝগড়া থামিয়ে দিতে পারে।
একটু আন্তরিক ক্ষমা
বহু বছরের দূরত্ব মুছে দিতে পারে।

অহংকারের ভাষা
সংসার ভাঙে,
আর বিনয়ের ভাষা
সংসার জোড়া লাগায়।

তাই ঘরে ভয় নয়,
বিশ্বাস দাও।
ঘরে অপমান নয়,
সম্মান দাও।
ঘরে কঠোরতা নয়,
মমতা দাও।

সন্তানের হাতে শুধু
মোবাইল নয়,
নৈতিকতাও তুলে দাও।

তাকে শেখাও
মানুষকে কাঁদিয়ে সুখী হওয়া যায় না,
অন্যের অধিকার মেরে বড় হওয়া যায় না,
ভালোবাসা ছাড়া পরিবার টিকে না।

যে ঘরে
মায়ের চোখে শান্তি থাকে,
বাবার মুখে তৃপ্তি থাকে,
সন্তানের হাসিতে ভয় থাকে না
সেই ঘরই সফল।

সংসার টিকে থাকে না
শুধু অর্থে,
সংসার টিকে থাকে
বিশ্বাসে,
সহানুভূতিতে,
এবং একে অপরকে আগলে রাখার ইচ্ছায়।

দিন শেষে মানুষ
বড় বাড়ি খোঁজে না,
খোঁজে একটি শান্ত হৃদয়।

আর সেই শান্ত হৃদয়ের নামই
পরিবার।


***


***

শান্তির নীড়

সংসার মানে শুধু
একসাথে থাকা নয়,
সংসার মানে
একজনের সুখে আরেকজনের হাসা,
একজনের দুঃখে আরেকজনের কাঁদা।

স্বামী-স্ত্রী আর সন্তান মিলে
একটি ছোট্ট পৃথিবী,
যেখানে ভালোবাসা না থাকলে
সবকিছু থেকেও থাকে দারিদ্র্য।

ঘরে দামি আসবাব থাকতে পারে,
বড় দালান থাকতে পারে,
কিন্তু যদি মায়া না থাকে,
তবে সেই ঘর মরুভূমি হয়ে যায়।

আবার ভাঙা টিনের ঘরেও
স্বর্গের শান্তি নামে,
যদি সেখানে থাকে
সম্মান,
সহানুভূতি,
আর একে অপরকে আগলে রাখার মন।

স্বামী যদি স্ত্রীর চোখের ভাষা বোঝে,
স্ত্রী যদি স্বামীর নীরব কষ্ট পড়ে,
সন্তান যদি বাবা-মায়ের মাঝে
নিরাপত্তার ছায়া পায়
তবে সেই পরিবারই সফল।

মানুষের জীবনে
সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো পরিবার,
যেখানে ক্লান্ত মানুষটি
দিন শেষে একটু শান্তি খোঁজে।

কিন্তু সেই শান্তি
রাগে পাওয়া যায় না,
জোরে পাওয়া যায় না,
অপমানে পাওয়া যায় না।

শান্তি আসে
নরম ব্যবহারে,
ভালোবাসার কথায়,
এবং সম্মানের হাত ধরে।

স্বামী যদি বলে
তুমি একা নও, আমি আছি,
স্ত্রী যদি বলে
তোমার কষ্ট আমারও কষ্ট,
তবে দুঃখও সহজ হয়ে যায়।

কারণ সংসারে
টাকা সবকিছু নয়,
মানুষের মনটাই আসল সম্পদ।

সন্তান হলো
সাদা কাগজের মতো,
যে রঙ দেখবে
সেই রঙেই রাঙবে।

যদি ঘরে ঝগড়া দেখে,
সে অস্থির হবে।
যদি অপমান দেখে,
সে কঠিন হবে।
যদি ভালোবাসা দেখে,
সে মানবিক হবে।

তাই সন্তানকে শুধু
স্কুলে পাঠালেই দায়িত্ব শেষ নয়,
তাকে মানুষ করার জন্য
বাবা-মাকেও মানুষ হতে হয়।

বাবার আচরণ
সন্তানের সাহস শেখায়,
মায়ের ব্যবহার
সন্তানের হৃদয় গড়ে।

যে ঘরে
বাবা-মা একে অপরকে সম্মান করে,
সেই ঘরের সন্তান
অন্যকেও সম্মান করতে শেখে।

আর যে ঘরে
দিনরাত তুচ্ছতাচ্ছিল্য,
চিৎকার,
অভিযোগ
সেই ঘরের শিশুরা
নীরবে ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ে।

সংসার মানে
কর্তৃত্ব নয়,
সহযোগিতা।

এখানে কেউ কারো মালিক নয়,
সবাই একে অপরের সাথী।

স্বামী শুধু উপার্জনের যন্ত্র নয়,
তারও ক্লান্তি আছে।
স্ত্রী শুধু কাজের মানুষ নয়,
তারও স্বপ্ন আছে।

দুজনেরই অনুভূতি আছে,
অভিমান আছে,
চাপ আছে।

তাই কাউকে ছোট না করে,
কাউকে ভয় না দেখিয়ে,
হাত ধরে পাশে দাঁড়ানোই
সুন্দর সংসারের চিহ্ন।

সামর্থ্যের বাইরে চাওয়া
সম্পর্কে বিষ ঢালে।
অতিরিক্ত চাপ
হাসি কেড়ে নেয়।

ভালোবাসা কখনো
জোর করে পাওয়া যায় না,
এটি যত্নে বেড়ে ওঠে,
অবহেলায় শুকিয়ে যায়।

যেখানে দায়িত্ব আছে
সেখানে অধিকারও থাকবে,
আর যেখানে অধিকার আছে
সেখানে ত্যাগও থাকতে হবে।

শুধু নিজের কথাই ভাবলে
সংসার ভেঙে যায়,
আর আমরা ভাবতে শিখলে
সংসার বেঁচে থাকে।

একটু সময় দেওয়া,
একটু মন দিয়ে শোনা,
একটু ক্ষমা করো বলা
এসব ছোট ছোট জিনিস
সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।

অহংকার আগুনের মতো,
সব পুড়িয়ে দেয়।
আর নম্রতা বৃষ্টির মতো,
সব ঠাণ্ডা করে দেয়।

তাই রাগ এলে
কথা থামাও,
ভালোবাসা এলে
তা প্রকাশ করো।

কারণ নীরব ভালোবাসাও
কখনো কখনো
অভিমানের দেয়ালে হারিয়ে যায়।

সন্তানের হাতে শুধু
প্রযুক্তি নয়,
নৈতিকতাও তুলে দাও।

তাকে শেখাও
মিথ্যা বলে বড় হওয়া যায় না,
অন্যকে কষ্ট দিয়ে সুখী হওয়া যায় না,
মানুষের হৃদয় ভেঙে শান্তি পাওয়া যায় না।

একটি পরিবার তখনই সুন্দর
যখন সেখানে ভয় নয়,
বিশ্বাস থাকে।

যখন সেখানে
অপমান নয়,
মর্যাদা থাকে।

যখন সেখানে
শুধু দায়িত্ব নয়,
ভালোবাসাও থাকে।

যে ঘরে
স্ত্রীর চোখে নিরাপত্তা থাকে,
স্বামীর মুখে তৃপ্তি থাকে,
সন্তানের হাসিতে নির্মলতা থাকে
সেই ঘরই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নেয়ামত।

সংসার টিকে থাকে না
শুধু রুটিতে,
সংসার টিকে থাকে
হৃদয়ের বন্ধনে।

দিন শেষে মানুষ
বড় বাড়ি চায় না,
চায় এমন একটি জায়গা
যেখানে ফিরে এসে
মনে হবে
এখানেই আমার শান্তি।

আর সেই শান্তির আরেক নাম
ভালোবাসাময় পরিবার।

মন্তব্য করুন

ব্লগ