Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ মে, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ

এক কাল্পনিক ইঞ্জিনের রূপকথা

কল-কাকলি নামের সেই জাদুকরী ইঞ্জিনের জগতের এক বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।ইঞ্জিনের অদ্ভুত গঠনসাধারণ ইঞ্জিনের মতো কল-কাকলি দেখতে ছিল না। তার বাহ্যিক রূপ এবং ভেতরের কারিগরি ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জাদুকরী উপাদানে তৈরি।
রঙিন অবয়ব: তার লোহার শরীরটা ছিল গাঢ় নীল রঙের, যার ওপর দিয়ে সোনালী রঙের লতাপাতা আঁকা ছিল।
জ্যান্ত হৃদয়: ইঞ্জিনের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক পিস্টন ছিল না। সেখানে ছিল একটি কাঁচের পাত্র, যার ভেতর একটি লাল টুকটুকে জ্যান্ত পাখির হৃদয় ধকধক করত।সুরময় চাকা: তার চাকাগুলো লাইনের সংস্পর্শে এলে কোনো কর্কশ শব্দ হতো না, বরং পিয়ানোর মতো সুর তৈরি হতো।স্টেশন ও লাইনের নিয়মএই ট্রেনটি যে লাইনের ওপর দিয়ে চলত, তার নিয়মকানুনও ছিল সাধারণ রেলওয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।টিকিটের মূল্য: এই ট্রেনে চড়তে কোনো টাকা লাগতো না। যাত্রীদের স্টেশনে এসে একটি করে সুন্দর কাগজের নৌকায় নিজের মনের ভালো ইচ্ছা লিখে জমা দিতে হতো।
স্টেশনের নাম: এই ট্রেনের স্টেশনগুলোর নাম ছিল অদ্ভুত—'মেঘবালিকার দেশ', 'স্বপ্নপুরী', 'রোদ্দুর স্টেশন' এবং শেষ স্টেশন ছিল 'রূপকথার সীমানা'।
গতি নিয়ন্ত্রক: ট্রেনের চালক কোনো লিভার টানতেন না। তিনি ট্রেনের জানালার পাশে বসে শুধু সুন্দর সুর করে বাঁশি বাজাতেন। ট্রেনের যাত্রীরা যত বেশি হাসত, ট্রেনের গতি তত বাড়ত।
মহাবিপদ: কালো জাদুকরের আক্রমণএকবার 'অন্ধকার উপত্যকা' থেকে এক কালো জাদুকর এসে দেশের সব মানুষের রূপকথা শোনার ক্ষমতা কেড়ে নিল। সে মানুষের মনে হিংসা আর ক্ষোভ ঢুকিয়ে দিল। মানুষ হাসা ভুলে গেল, গল্প বলা বন্ধ হয়ে গেল।ফলাফল: কল-কাকলি মাঝপথে থেমে গেল। তার চিমনি দিয়ে আর বেলি ফুলের সুবাস বেরোচ্ছিল না, বরং তা কালো পাথরে পরিণত হতে শুরু করল।পাখির আর্তনাদ: কাঁচের পাত্রের ভেতরের জ্যান্ত হৃদয়টি আস্তে আস্তে ধূসর হয়ে যাচ্ছিল।তুলির চূড়ান্ত অভিযানছোট্ট মেয়ে তুলি যখন দেখল ট্রেনটি মরে যাচ্ছে, সে তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিল। সে ছিল এক অন্ধ মেয়ে, কিন্তু তার মনে ছিল এক অদ্ভুত কল্পনার জগৎ। সে ট্রেনের ইঞ্জিনে হাত রেখে তার নিজের জীবনের সমস্ত সুন্দর স্মৃতির গল্প বলতে শুরু করল।সে বলল তার মায়ের গায়ের গন্ধের কথা।সে বলল ভোরের পাখির প্রথম গানের কথা।সে বলল বৃষ্টির জল গায়ে পড়ার অনুভূতির কথা।এই নিঃস্বার্থ এবং খাঁটি অনুভূতির গল্প শুনে কল-কাকলির ভেতরের পাখির হৃদয়টি তীব্র লাল আলোয় জ্বলে উঠল। এক প্রচণ্ড শক্তিতে ইঞ্জিনটি গর্জে উঠল এবং তার চিমনি থেকে এত তীব্র আলোর বুদবুদ বের হলো যে, পুরো দেশের ওপর থেকে কালো জাদুকরের অন্ধকার কেটে গেল। মানুষের মন আবার আনন্দে ভরে উঠল।

মন্তব্য করুন

ব্লগ