সহকারী শিক্ষক
২৪ মে, ২০২৬ ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে লেখা চিঠি
প্রিয় কোমলপ্রাণ ফুটফুটে মুখগুলো,
আজ তিন দিন অতিবাহিত হতে চলল, অথচ তোমাদের হাসিমুখ দেখা হয়নি। তোমাদের হাসি এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিষয়গুলোর একটি। তোমরা নিষ্পাপ, তাই তোমরাই উত্তম। তোমরা আমার ভালো থাকার এক অনন্য উপলক্ষ। তোমরা আছো বলেই পৃথিবী এত সুন্দর।
প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা কিংবা তার একটু পর, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে তোমাদের বিদ্যালয়ে আসার দৃশ্য যেন যেকোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও হার মানায়। তোমরা যেন এক পৃথিবী হাসি। তোমাদের সবার পরিবার আলাদা হলেও, একটি ছোট্ট বিদ্যালয় তোমাদের একসূত্রে গেঁথে দিয়েছে। সেই মহান প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যাঁর অশেষ কৃপায় তোমরা ভালো আছো। তবে অনিতা এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে বলে মনে হলো না। তার জন্যও রইল শুভকামনা।
তোমাদের অনেকেই এবার পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে বিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে নতুন পথে যাত্রা শুরু করবে। এই শ্রেণির অনেকেই আমার অমূল্য সম্পদ। মানুষকে হারানোর আগে তার গুরুত্ব বোঝা সত্যিই কঠিন। কিন্তু তোমাদের হারানোর আগেই আমি তোমাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি।
তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন সৃজনশীল শিল্পী। তোমাদের সবার ভেতরেই বিশেষ গুণ ও মেধা রয়েছে। হয়তো আমরা সব সময় তা খুঁজে পাই না, কিংবা তোমাদের নিজেদের প্রকাশের যথেষ্ট সুযোগ করে দিতে পারি না। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমরা সবাই মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়।
দীর্ঘ ছুটির কারণে তোমাদের সঙ্গে দেখা হতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। আমার এই লেখাটি তোমাদের অনেকেরই পড়ার সুযোগ হবে। তাই ছোট্ট দুটি অনুরোধ—
প্রথমত, নিজেদের শরীরের প্রতি যত্ন নিও।
দ্বিতীয়ত, প্রতিদিন অল্প হলেও পড়াশোনা করবে।
তোমরা সবাই ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে এবং স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাবে—এই কামনাই সব সময় করি। কারণ, শিক্ষার্থীরাই একজন শিক্ষকের প্রাণ।
ইতি
তোমাদের স্যার ❤
৪
৪ মন্তব্য