Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ মে, ২০২৬ ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

হাশরের ময়দান মোঃ মুজিবুর রহমান


হাশরের ময়দান

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হাশরের মাঠে রৌদ্র জ্বলে, কাঁপবে ধরণী-আসমান,
মানুষ তখন ছুটবে শুধু বাঁচাতে নিজের প্রাণ।
ইয়া নাফসি! ইয়া নাফসি!”—চারিদিকে সেই ধ্বনি,
মা ভুলে যাবে সন্তানকেও, কাঁদবে সকল জনই।

দুনিয়ার যত অহংকার আর ক্ষমতার বড়াই,
এক নিমিষে মুছে যাবে, কিছুই সাথে নয় ভাই।
ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, প্রাসাদ অট্টালিকা,
কবরপথে থেমে যাবে সব, রবে শুধু আমলিকা।

কেউ তখন আর বন্ধু হবে না, হবে না আপন,
নেক আমলই সঙ্গী হবে, দেবে শান্তি-স্বপন।
যে নামাজে কাঁদত রাতে, লুকিয়ে করত দোয়া,
আজ সে পাবে রহমতেরই জান্নাতি সুবাস ছোঁয়া।

রাসুলের উম্মতের মাঝে সত্তর হাজার জন,
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেকী মহা সম্মান!
না থাকবে ভয়, না থাকবে শাস্তি, না কোনো জিজ্ঞাসা,
রহমতের দরজা খুলে দিবে মহান রব ভাসা।

কারা তারা? কেমন তারা? শুনে নাও মন খুলে,
তাওহীদের আলো জ্বালিয়েছে অন্তরেরই মূলে।
শিরকের ছায়া কাছে আসেনি, ঈমান ছিল খাঁটি,
আল্লাহ ছাড়া মাথা নত নয়এই ছিল তাদের গাঁথি।

তারা ছিল না কুসংস্কারে অন্ধ বিভ্রান্ত প্রাণ,
অশুভ বলে মানেনি কিছু, রাখেনি ভুল জ্ঞান।
ঝাড়ফুঁকের মোহে পড়ে হারায়নি ভরসা,
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলেই পেয়েছে ভালোবাসা।

কত মানুষ দুনিয়াতে আজ পাপের নেশায় মাতে,
হারাম টাকার আগুন জ্বলে সংসারেরই ঘাটে।
মিথ্যা কথা, সুদের ব্যবসা, প্রতারণার ছল,
বাহিরে হাসি, অন্তরে শুধু অন্ধকারের দল।

গীবত যেন আগুন হয়ে পুড়িয়ে ফেলে প্রাণ,
চোগলখোরি বিষের মতো ভাঙে সম্পর্ক-টান।
কারো সম্মান নষ্ট করে হাসে যারা হেসে,
হাশরের দিন দাঁড়াবে তারা ভয়ংকর পরিবেশে।

অন্যের হক আত্মসাৎ যে করে দিনের পরে দিন,
ভাবছে বুঝি রক্ষা পাবে, লুকিয়ে যাবে ঋণ!
সেদিন কিন্তু নেক আমলই দিতে হবে তার,
নেকি ফুরালে পাপের বোঝা নেবে নিজের ঘাড়।

কত ভয়ংকর সেই বিচার! কাঁপে অন্তর আজ,
একটু পাপের জন্যও হবে কঠিন জবাবদিহাজ।
তাই তো মুমিন কাঁদে রাতে
হে আল্লাহ! তুমি দাও মাফ,
আমার গুনাহ পাহাড়সম,
তবু রহমত করো সাফ।

তওবা হলো মুমিন হৃদয় জাগ্রত রাখার আলো,
অশ্রুভেজা সিজদাখানি রবের নিকট ভালো।
যে বান্দাটি ভাঙা মনে বলে—“প্রভু, আমি দোষী,
আল্লাহ তার পাপ মুছে দেন দয়ার সাগর বসি।

যে যুবকটি হারাম পথে ছিল বহুদিন,
ফিরে এসে কোরআনেরই শুনল মধুর বাণী বিন।
সে যখন রাত জেগে বলে
রব! আমি আর ভুল করব না,”
আসমানে তখন ফেরেশতারা
খুশিতে ওঠে গেয়ে সনা।

দুনিয়া ক্ষণিক মরীচিকা, ধোঁকার মতো রঙ,
আজ যে রাজা, কাল সে হবে কবরবাসীর সঙ্গ।
যে হৃদয়ে আখেরাতের ভয় জাগ্রত থাকে সদা,
সে কখনো জুলুম করে না, দেয় না কষ্ট বাধা।

হে মানুষ! সময় থাকতে বদলে ফেল পথ,
মৃত্যু কিন্তু দরজায় এসে দেয় না কোনো রথ।
আজকে যারা গাফেল হয়ে হাসছে পাপের নেশায়,
কালকে তারা আফসোস করে কাঁদবে হাশর দেশে।

নামাজ যেন জীবন জুড়ে জ্বলুক নূরের দীপ,
কোরআনেরই বাণী হোক অন্তরের সাথী নীড়।
সত্য কথা বলো সদা, রাখো সবার হক,
মানুষকে দিও না কষ্ট, ভেঙো না কারো লোক।

যে চোখ গুনাহ দেখে না আর, কাঁদে রবের তরে,
যে হাত বাড়ায় দানের পথে গোপনে অন্ধকারে,
যে মুখ শুধু সত্য বলে, করে না অপবাদ,
সেই মানুষই পাবে একদিন জান্নাতেরই সাদ।

হাশরের দিন ডাক আসিবে
এসো হে মুমিন বান্দা!
আজ তোমার ভয় নেই কোনো,
শেষ হয়েছে কান্না।

সিরাত সেতু পার হয়ে যাবে ঈমানেরই জোরে,
রাসুল তখন হাসিমুখে নেবেন কাছে ঘিরে।
কাওসারেরই পবিত্র পানি পান করবে প্রাণভরে,
জান্নাত তখন খুলে যাবে শান্তির সুবাস ঝরে।

সেখানে নেই কষ্ট কোনো, নেই দুঃখের ছায়া,
নদীর জলে নূরের ঢেউ, প্রেমময় মায়া।
চিরযৌবন, চিরশান্তি, নেই মৃত্যুর ভয়,
আল্লাহরই দীদার পেয়ে পূর্ণ হবে হৃদয়।

তাই হে মন! আজই ফিরে চল দয়ার রবের কাছে,
সময় কিন্তু থেমে থাকে না কারো জীবনের মাঝে।
সত্তর হাজার জান্নাতির দলে থাকতে চাই,
তাওহীদেরই আলো নিয়ে জীবন গড়ি ভাই।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি অন্তরে,
পাপের পথে আর না ফিরি জীবনেরই পরে।
তওবার জলে ধুইয়ে ফেলি অন্তরের সব কালো,
হয়তো আমরাও পাব একদিন জান্নাতেরই আলো।

হে মহান রব! তুমি দয়াময়, তুমি ক্ষমাশীল,
তোমার রহমত ছাড়া মোদের জীবন অচল নিঃশীল।
আমাদেরকে করো তুমি সত্যপথের সাথী,
বিনা হিসাবে জান্নাত দিও
এই তো হৃদয়ের প্রার্থনা-মাতি।

আমিন।

***

আখেরাতের পথে চলা বড় কঠিন, বড় ভয়,
তবু মুমিন আশা রাখেরব কখনো ছাড়েন না য়।
হাশরের সেই ভয়াল দিনে, দগ্ধ হবে মাঠ,
মানুষ শুধু নিজের চিন্তায় হারাবে সব ঠাঁট।

সূর্য তখন মাথার কাছে, ঘাম হবে নদী,
পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে কাঁদবে মানব-সদী।
ইয়া নাফসি! ইয়া নাফসি!”—ধ্বনি উঠবে চারিধার,
ভাই ভুলিবে ভাইকে সেদিন, হারাবে সংসার।

মা ভুলিবে বুকের সন্তান, স্ত্রী ভুলিবে স্বামী,
দুনিয়ার সব সম্পর্ক সেদিন হবে থামি।
যে পুত্রেরে বুকে নিয়ে কাটিয়েছিল রাত,
সেই পুত্রও পালাবে সেদিন ভয়ে শত আঘাত।

হায়! দুনিয়ার ক্ষণিক সুখে কত গাফেল মন,
আখেরাতের ডাক ভুলে করে পাপের আয়োজন।
নামাজ ছেড়ে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত সকাল-সাঁঝ,
মৃত্যু কিন্তু পিছু পিছু করছে নীরব সাজ।

কত মানুষ মিথ্যার হাসি ঠোঁটের কোণে মেখে,
অন্যের হক খেয়ে বাঁচে দুনিয়ার সুখ দেখে।
গীবতেরই আগুন জ্বেলে ভাঙে ভাইয়ের মন,
চোগলখোরি বিষ ঢেলে দেয় সম্পর্কের বন্ধন।

কিন্তু সেদিন লুকোবার আর কোনো পথ রবে না,
আমলনামার প্রতিটি লিপি অস্বীকার হবে না।
হাত-পা, চোখ, কান সবই দেবে সাক্ষ্য খাঁটি,
দুনিয়াতে যা করেছিল মানুষ গোপন-গাঁথি।

তবু আশার আলো আছে রহমতেরই দ্বার,
আল্লাহ কত দয়াময়, ক্ষমাশীল অপার।
যে বান্দাটি কাঁদে রাতে গোপন সিজদাতে,
রব তারে ফেরান না তো শূন্য দুই হাতে।

রাসুল (সা.)-এর উম্মতের মাঝে সৌভাগ্যবান দল,
সত্তর হাজার জান্নাতিকি অপরূপ ফল!
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে যেই প্রাণ,
না থাকবে ভয়, না থাকবে শাস্তি, না কোনো অবসান।

কারা তারা? শুনে নাও গো হৃদয় খুলিয়া,
তাওহীদের আলো ছিল অন্তরে জ্বলিয়া।
শিরকের কালো ছায়া তাদের স্পর্শ করেনি কভু,
আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে নত হয়নি মস্তক তবু।

তারা ছিল না কুসংস্কারে অন্ধ বিভোর প্রাণ,
অশুভ লক্ষণ মানেনি তারা, ছিল না মিথ্যা জ্ঞান।
ঝাড়ফুঁকের ভরসা ছেড়ে রেখেছিল রবের উপর,
তাওয়াক্কুলের শক্তি নিয়ে পার হয়েছিল সাগর।

তাদের চোখে দুনিয়া ছিল ক্ষণিক পথের ধূলি,
আখেরাতের আশায় তারা রাখত অন্তর ভুলি।
নামাজ ছিল প্রাণের শান্তি, কোরআন হৃদয়-নূর,
গোপন রাতে তাহাজ্জুদে বইত অশ্রি-সুর।

কেউ দেখেনি দানের হাত, কেউ জানেনি কথা,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি ছিল তাদের জীবনের ব্যথা।
মানুষ যদি কষ্ট পায়কাঁদত তাদের মন,
ক্ষমা করে দিত সহজে শত অন্যায়-গণ।

যে যুবক আজ পাপে ডুবে ভাবছে—“শেষ আমি,
জেনে রাখো, তওবার দরজা খোলা দিবা-রামী।
এক ফোঁটা চোখের অশ্রু যদি খাঁটি মনে ঝরে,
আল্লাহ তাতে পাহাড়সম গুনাহ মুছে ফেলে তরে।

তওবা মানে ফিরে আসা প্রভুর দয়ার নীড়ে,
অন্ধকারের পথ ছেড়ে নূরের আলো ঘিরে।
যে হৃদয়টা ভাঙা সুরে বলে—“আমি দোষী রব!,
সেই হৃদয়ের কান্না শুনে কেঁপে ওঠে সব।

হে মানুষ! সময় থাকতে বদলে ফেল প্রাণ,
মৃত্যুর পরে আফসোস করে মিলবে না পরিত্রাণ।
কবর যখন ডাক দেবে আর থামবে শ্বাসের গান,
তখন শুধু আমল ছাড়া থাকবে না কিছু মান।

ধন-সম্পদ, প্রাসাদ, গাড়ি, ক্ষমতার অহংকার,
এক মুঠো মাটির নিচে হবে সবই ছারখার।
যে নামাজ আজ কষ্ট লাগে, সেদিন হবে ঢাল,
যে কোরআন আজ পড় না তুমি, দেবে নূরের জাল।

সত্য কথা বলো সদা, রাখো সবার হক,
কারো মনে কষ্ট দিয়ে করো না সুখ-লোক।
গীবতের সেই বিষের আগুন নিভাও অন্তরে,
ক্ষমা করো, ভালোবাসো আল্লাহরই তরে।

যে মা-বাবার চোখের জলে কাঁদে নিরব প্রাণ,
তাদের দোয়া জান্নাতেরই সুবাস আনে জান।
যে এতিমের মাথায় রাখে স্নেহমাখা হাত,
রহমতেরই ফেরেশতা তারে ঘিরে রাত।

যে ব্যবসায়ী সত্য পথে হালাল রুজি খায়,
কম লাভে তবু প্রতারণার ছায়া কাছে নায়।
যে শ্রমিকও কষ্ট সয়ে আল্লাহর নাম কয়,
রবের কাছে তার মর্যাদা অনেক উঁচু হয়।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে ডাক আসিবে ধীর
এসো হে মুমিন বান্দারা, ভয় করো না আর ফির।
সিরাত সেতু বিদ্যুৎবেগে পার হবে ঈমানদার,
নূরের আলো সামনে নিয়ে যাবে জান্নাত-দ্বার।

কাওসারেরই পানির ধারা শীতল প্রশান্তিময়,
একবার যে পান করবে তার আর তৃষ্ণা নয়।
জান্নাতেরই বাগান জুড়ে বইবে নূরের হাওয়া,
সেখানে নেই কষ্ট কোনো, নেই তো হারানোর ছাওয়া।

চিরযৌবন, চিরশান্তি, নেই মৃত্যু-ভয়,
আল্লাহরই দীদার পেয়ে পূর্ণ হবে হৃদয়।
রাসুল (সা.) হাসিমুখে নেবেন কাছে টেনে,
সৌভাগ্যবান সেই তো মানুষ ঈমান রাখে বুকে।

তাই হে আমার অবুঝ মন! ফিরো দয়ার দ্বারে,
তওবার অশ্রু ঝরাও নীরব গভীর আঁধারে।
সত্তর হাজার জান্নাতির দলে থাকতে চাই,
তাওহীদেরই পতাকা হাতে জীবন গড়ি ভাই।

শিরকমুক্ত অন্তর নিয়ে চলি সত্যপথে,
মানুষেরে ভালোবেসে থাকি দয়ার রথে।
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি দিনরাত,
তাঁর রহমত ছাড়া মোদের কে-বা আছে সাথ?

হে মহান রব! তুমি মোদের ক্ষমা করে দিও,
গুনাহভরা হৃদয়খানি নূরের পথে নিও।
হাশরের সেই কঠিন দিনে রেখো রহমতের ছায়া,
বিনা হিসাবে জান্নাত দিও
এই তো প্রাণের মায়া।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

***

হাশরের মাঠে সূর্য জ্বলবে আগুনেরই মতো,
মানুষ তখন দিশেহারা, কাঁদবে শত শত।
চারিদিকে ইয়া নাফসি!”—ভয়ার্ত সেই ডাক,
নিজের প্রাণই বাঁচাতে ব্যস্ত হবে লাখো লাখ।

মা ভুলিবে আদরের সন্তান বুকের ধন,
ভাই ভুলিবে ভাইকে সেদিন, হারাবে আপনজন।
দুনিয়ার সব সম্পর্ক তখন থেমে যাবে হায়,
আমল ছাড়া আর কিছুই পাশে দাঁড়াবে নায়।

রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব, একই মাঠের সারি,
কারো হাতে থাকবে না আর দুনিয়ার ক্ষমতাধারী।
সোনা-রুপা, অট্টালিকা, কত অহংকার,
এক মুঠো মাটির নিচে হয়েছে ছারখার।

যে মানুষটা দুনিয়ার সুখে আখেরাত ভুলে রয়,
নামাজ ছেড়ে গুনাহ করে, মৃত্যুকে নাহি ভয়,
সেদিন তার বুকের ভেতর জ্বলবে আফসোস-আগুন,
হায়! কেন যে কাটালাম জীবন গাফেলতায় গুণ!

কত মানুষ হারাম টাকায় সাজায় সুখের ঘর,
অন্যের হক মেরে খেয়ে হাসে নিরন্তর।
মিথ্যার রঙে রাঙায় মুখ, প্রতারণার ছল,
অন্তরজুড়ে জমে থাকে অন্ধকারের দল।

গীবতের সেই বিষের আগুন জ্বালায় ভাইয়ের প্রাণ,
চোগলখোরি ভেঙে ফেলে সম্পর্কেরই টান।
কারো সম্মান নষ্ট করে যে হাসে দিবানিশি,
হাশরের দিন তার মুখে নেমে আসবে বিষি।

তবু আল্লাহ দয়াময়, রহমতের সাগর,
তওবার দুয়ার খোলা আছে সকাল হতে ভোর।
যে বান্দাটি কাঁদে রাতে গোপন সিজদাতে,
আল্লাহ তার অশ্রুবিন্দু রাখেন রহমতে।

রাসুল (সা.)-এর উম্মতের মাঝে সৌভাগ্যবান দল,
সত্তর হাজার জান্নাতিঅপরূপ সে ফল!
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে যেই প্রাণ,
না থাকবে ভয়, না থাকবে শাস্তি, না কোনো অবসান।

কারা তারা? শুনে নাও গো হৃদয় দিয়ে আজ,
তাওহীদেরই আলো ছিল তাদের জীবনের সাজ।
শিরকের ছায়া স্পর্শ করেনি অন্তরেরই দ্বার,
আল্লাহ ছাড়া মাথা নত নয় কোনো শক্তিধার।

তারা মানেনি কুসংস্কার, অশুভ লক্ষণ,
রবের ওপর পূর্ণ ভরসা ছিল তাদের মন।
ঝাড়ফুঁকের মোহে পড়ে হারায়নি বিশ্বাস,
তাওয়াক্কুলের নূরেই ছিল তাদের সর্বনাশ-নাশ।

তাদের চোখে দুনিয়া ছিল পথের ধূলিকণা,
আখেরাতের শান্তি ছিল অন্তরেরই সোনা।
গোপন রাতে তাহাজ্জুদে ভিজত দুই নয়ন,
হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া নেই তো আপনজন।

তারা ছিল সত্যবাদী, কোমল ছিল প্রাণ,
মানুষেরে কষ্ট দিলে কাঁদত অন্তঃপ্রাণ।
ক্ষমা করে দিত সহজে শত অন্যায়-দোষ,
রবের সন্তুষ্টি ছাড়া ছিল না কোনো হোষ।

যে যুবক আজ পাপের স্রোতে ডুবে গেছে ভাই,
ভাবছে বুঝি ক্ষমার আশা তার জীবনে নাই
জেনে রাখো, এক ফোঁটা চোখের খাঁটি অশ্রুধারা,
মুছে দিতে পারে গুনাহ পাহাড়েরও কারা।

তওবা মানে ফিরে আসা আল্লাহরই পথে,
অন্ধকারের রাত পেরিয়ে নূরের আলো রথে।
যে হৃদয়টা কেঁদে বলে—“আমি অপরাধী!,
আল্লাহ তার গুনাহ ঢেকে করেন দয়া সাধী।

কবর যখন ডাক দেবে আর থামবে শ্বাসের গান,
তখন কিন্তু সাথে যাবে না দুনিয়ার সম্মান।
বন্ধু-স্বজন দূরে সরে দেবে বিদায়বাণী,
আমল ছাড়া কেউ হবে না কবরের সাথীখানি।

যে নামাজ আজ ভারী লাগে অলসতার তরে,
সেই নামাজই আলো হবে অন্ধ কবরঘরে।
যে কোরআন আজ পড় না তুমি ব্যস্ততার ছলে,
সেই কোরআনই শাফাআত দেবে হাশর তলে।

হে মানুষ! সময় থাকতে বদলে ফেল মন,
মৃত্যু কিন্তু কড়া নাড়ে নীরব প্রতিক্ষণ।
আজকে যারা গুনাহ করে হাসছে অহংকারে,
কালকে তারা কাঁদবে শুধু হাশরেরই দ্বারে।

সত্য কথা বলো সদা, রাখো সবার হক,
কারো মনে কষ্ট দিয়ে করো না সুখলোক।
গীবতের আগুন নিভাও, বন্ধ করো ছল,
মানুষেরে ভালোবেসে ভরাও হৃদয়তল।

যে মা-বাবার খেদমতে কাটায় জীবনকাল,
তার জন্যে জান্নাত খুলে রহমতেরই জাল।
যে এতিমের মাথায় রাখে স্নেহমাখা হাত,
ফেরেশতারা দোয়া করে নীরব গভীর রাত।

যে ব্যবসায়ী সত্য পথে হালাল রুজি খায়,
প্রতারণার অন্ধ ছায়া কাছে ঘেঁষতে নায়।
যে শ্রমিকও কষ্ট সয়ে আল্লাহর নাম কয়,
রবের কাছে সেই মানুষ বড় মর্যাদাময়।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে ডাক আসিবে ধীর
এসো হে মুমিন বান্দারা, শেষ হয়েছে ভীর।
সিরাত সেতু পার হবে তারা বিদ্যুতেরই বেগে,
নূরের আলো সামনে নিয়ে জান্নাতি পথ লেগে।

কাওসারেরই শীতল পানি পান করবে প্রাণ,
একবার যে পান করবে, মিটবে তৃষ্ণাজ্বালান।
জান্নাতেরই বাগান জুড়ে শান্তির সুবাস,
সেখানে নেই দুঃখ-বেদনা, নেই কোনো হতাশ।

নদীর জলে নূরের ঢেউ, ফলের মিষ্টি ঘ্রাণ,
চিরযৌবন, চিরশান্তি, নেই তো মৃত্যুগান।
সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে সেই পবিত্র ক্ষণ
আল্লাহরই দীদার পেয়ে ভরবে মুমিন মন।

রাসুল (সা.) হাসিমুখে নেবেন কাছে টেনে,
এসো আমার উম্মত!”—বলি রাখবেন বুকে ছেয়ে।
কি অপরূপ সেই সম্মান! কি অপার সুখ!
দুনিয়ার সব কষ্ট তখন হবে নিমিষ মুখ।

তাই হে মন! আজই ফিরে চল রবের দ্বারে,
তওবার অশ্রু ফেলো তুমি গভীর আঁধারে।
সত্তর হাজার জান্নাতির দলে থাকতে চাই,
তাওহীদেরই নূর বুকে জীবন গড়ি ভাই।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি দিনরাত,
মানুষেরে ভালোবেসে চলি সত্যের সাথ।
গুনাহভরা হৃদয়খানি ধুই তওবার জলে,
হয়তো আমরাও ডাক পাব জান্নাতি সেই দলে।

হে মহান রব! তুমি দয়াময়, ক্ষমাশীল মহান,
তোমার রহমত ছাড়া নাই তো পরিত্রাণ।
হাশরের সেই কঠিন দিনে রেখো রহমতের ছায়া,
বিনা হিসাবে জান্নাত দিও
এই তো প্রাণের মায়া।

আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।

**

মন্তব্য করুন

ব্লগ