সহকারী অধ্যাপক
২৩ মে, ২০২৬ ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রাসূলের (সা:) সাথীরগন মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
রাসূলের (সা:) সাথীরা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মদিনার পথে উঠেছিল এক নূরের কাফেলা,
হৃদয়ে ছিল ঈমানের দীপ, চোখে হেদায়াতের মেলা।
সামনে ছিলেন মহান নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ দিশারী,
— আল্লাহর প্রিয় রাসূল, সত্যের মহা প্রচারী।
তাঁর সাথে যারা ছিল, তারা ছিল দীনের সৈনিক,
তাওহীদের পতাকা হাতে, ঈমানে ছিল অটল ও দৃঢ় ঠিক।
কাফিরদের সামনে তারা ছিল বজ্রের মত কঠোর,
অন্যায়ের সাথে আপোষহীন, সত্যে ছিল অবিচল ঘোর।
কিন্তু নিজেদের মাঝে কত মায়া, কত দয়া,
একজন কাঁদলে অন্যজন বলত— “ভাই, ধৈর্য ধরো হায়।”
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিল জান্নাতি সুবাসে ভরা,
তাদের হৃদয় ছিল নরম, অহংকার থেকে সরা।
তুমি যদি দেখতে তাদের গভীর রাতের ইবাদত,
সিজদার অশ্রু ঝরত নীরবতায়, কাঁপত জমিনের প্রান্ত।
রুকূতে বিনয়, সিজদাতে প্রেম, তিলাওয়াতে প্রশান্তি,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল তাদের জীবনের চূড়ান্ত কান্তি।
তারা চায়নি দুনিয়ার সোনা, রাজত্ব কিংবা মান,
তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া— রবের সন্তুষ্টির দান।
চেহারায় ফুটত নূরের রেখা, সিজদার শান্ত চিহ্ন,
যেন আখিরাতের বাগান থেকে এসেছে রহমতের গন্ধ।
তাওরাতে ছিল তাদের কথা, নেককারদের পরিচয়,
ইনজীলেও এসেছে তাদের ঈমানী মহিমার জয়।
একটি চারাগাছ যেমন ধীরে ধীরে বাড়ে,
কচি পাতা মেলে ধরে সূর্যের আলো কাড়ে।
তারপর হয় দৃঢ়, শক্ত, মজবুত তার কান্ড,
ঝড় এলেও টলে না সে, থাকে অবিচল অটল বাঁধ।
ঠিক তেমনি সাহাবারা গড়েছিলেন ঈমানের সমাজ,
যেখানে ন্যায় ছিল আলো, তাকওয়া ছিল সাজ।
তাদের দেখে খুশি হতো সত্যের প্রতিটি চাষী,
কারণ তারা ছিল মানবতার মুক্তির আভাসই।
কিন্তু মিথ্যার অন্ধকার শক্তি হতো ক্রোধান্বিত,
কারণ ঈমানের আলো করত তাদের হৃদয় ভীত।
হে মুসলিম, আজও কি আছে সে সাহাবীদের রঙ?
আজও কি জাগে হৃদয়ে তাওহীদের মহা ঢঙ?
আজও কি রাত কেটে যায় সিজদার অশ্রুধারায়?
আজও কি মন কাঁপে আখিরাতের ভয় আর আশায়?
আমরা আজ দুনিয়ার মোহে কত দূরে সরে গেছি,
ক্ষমতার অহংকারে নিজেদেরই হারিয়ে ফেলেছি।
ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ আজ, হৃদয়ে নেই মায়া,
অথচ সাহাবীদের জীবন ছিল ভালোবাসার ছায়া।
তারা ক্ষুধার্ত থেকেও দান করত অপরকে,
নিজেরা কষ্ট পেয়ে হাসত আল্লাহর সন্তোষে।
বদরের ময়দানে তারা ছিল সিংহের মতো দৃঢ়,
তবু এতিমের মাথায় হাত রেখে হতো কোমল নিঃশব্দ।
তাদের ঘর ছিল ছোট, কিন্তু ঈমান ছিল পাহাড়,
তাদের হাতে গড়া ইতিহাস আজও বিশ্বজোড়া উদ্ভাসিত ঝাড়।
তারা শিখিয়েছে— ক্ষমতা নয়, তাকওয়াই আসল মর্যাদা,
রবের ভয় যার অন্তরে, সেই তো সত্যিকারের সাধা।
হে আল্লাহ, আমরাও চাই সেই ঈমানের আলো,
যে আলোয় হৃদয় হবে নির্মল, পবিত্র ও ভালো।
আমাদেরও বানাও সিজদাতে অশ্রু ঝরানো বান্দা,
যারা দুনিয়ার ভিড়ে থেকেও আখিরাতে রাখে ধ্যানটা।
আমাদের অন্তরে দাও সাহাবীদের মত প্রেম,
দাও কুরআনের পথে চলার অবিচল মহা নেম।
অন্যায়ের সামনে দাও সত্য বলার সাহস,
আর মুমিনদের প্রতি দাও কোমলতার সুবাস।
আমাদের মুখেও ফুটুক সিজদার নূরানি ছাপ,
আমাদের জীবনও হোক তাকওয়ার মহা প্রতিচ্ছাপ।
আমাদের সন্তানদের দাও ঈমানী পরিচয়,
যাতে তারা নবীর সুন্নাহ আঁকড়ে পায় মুক্তির জয়।
যেদিন কিয়ামতের ময়দানে উঠবে সব মানুষ,
কেউ হবে হতভাগা, কেউ পাবে জান্নাতের স্পর্শ।
সেদিন যেন আমরাও থাকি রাসূলের উম্মতের দলে,
হাউজে কাওসারের পাশে দাঁড়াই ভালোবাসার ছলে।
হে দয়াময় রব, ক্ষমা করো আমাদের সকল গুনাহ,
দাও নেক আমলের জীবন, দাও ঈমানের সুবাহ।
সূরা আল-ফাতহের এই আয়াত হোক জীবনের দিশা,
রাসূলের সাহাবীদের পথেই হোক আমাদের চলার আশা।
আমিন।
***
নক্ষত্রভরা আকাশ জুড়ে উঠেছিল এক আলো,
অন্ধকারের বুক চিরে সত্যের ডাক ছিল ভালো।
আরবের উত্তপ্ত বুকে জেগেছিল এক সকাল,
যেখানে মিথ্যার দুর্গ ভেঙে উঠেছিল হকের জোয়ারকাল।
সেই আলোর কেন্দ্র ছিলেন মহান নবী করীম,
— যাঁর চরিত্র ছিল কুরআনের জীবন্ত তালীম।
তিনি এলেন দয়ার বারতা নিয়ে মানবতার দ্বারে,
হারানো হৃদয় ফিরিয়ে আনতে রবের পবিত্র পথে।
তাঁর পাশে যারা ছিল, তারা ছিল জান্নাতি ফুল,
তাদের হৃদয় ছিল নির্মল, আমল ছিল কুরআনের মূল।
তারা ছিল ঈমানের সৈনিক, তাকওয়ার মহা ঢাল,
দুনিয়ার ভয় ভুলে যারা আখিরাতকে করেছিল সম্বল।
কাফিরদের সামনে তারা ছিল পর্বতের মতো দৃঢ়,
বাতিলের চোখে চোখ রেখে বলত— “সত্যই চির অমর।”
অত্যাচারের সামনে মাথা নত করেনি কোনোদিন,
কারণ তাদের অন্তরে ছিল আল্লাহর উপর ইয়াকীন।
কিন্তু মুমিনদের বেলায় তারা ছিল শিশিরভেজা ফুল,
ভালোবাসা দিয়ে জুড়ে দিত ভাঙা হৃদয়ের কূল।
এক ভাইয়ের কষ্ট দেখে অন্য ভাই কাঁদত,
নিজের সুখ ভুলে গিয়ে অপরের বোঝা টানত।
তুমি যদি দেখতে তাদের তাহাজ্জুদের গভীর রাত,
নিস্তব্ধ আকাশ শুনত তাদের কান্নাভেজা মুনাজাত।
সিজদার মাটিতে ঝরত চোখের নীরব অশ্রুধারা,
যেন প্রতিটি ফোঁটা বলত— “হে রব, তুমি ছাড়া কে আছে আর?”
রুকূতে ছিল বিনয়, সিজদাতে আত্মসমর্পণ,
তাদের প্রতিটি দোয়ায় ছিল আখিরাতের স্পন্দন।
দুনিয়ার চাকচিক্য তাদের মন ছুঁতে পারেনি,
কারণ জান্নাতের স্বপ্ন হৃদয়ে জায়গা নিয়েছিল ধ্রুবজ্যোতি।
তারা চাইত না সোনা, চাইত না রাজমুকুট,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সুখ।
ক্ষুধা এলেও বলত— “রব আমাদের সাথে আছেন”,
দারিদ্র্য এলেও বলত— “আখিরাত তো সামনে আছে।”
তাদের কপালে ছিল সিজদার পবিত্র দাগ,
যেন নূরের মালা জ্বলছে আল্লাহর রহমতের রাগ।
চেহারায় ফুটে উঠত ইবাদতের প্রশান্ত আলো,
দেখলে মনে হতো ফেরেশতারাও থেমে যায় ভালো।
তাওরাতে ছিল তাদের প্রশংসার পবিত্র ভাষা,
ইনজীলে ছিল তাদের মহিমার উজ্জ্বল আশা।
চারাগাছের মতো তারা বেড়ে উঠেছিল ধীরে,
কচি পাতা মেলে ধরে সত্যের রোদে স্থিরে।
প্রথমে তারা ছিল অবহেলিত ক্ষুদ্র বীজ,
পরে হলো ঈমানের মহীরুহ, ভেঙে দিল অন্ধকারের খাঁচা নিঃশেষ।
ঝড় এলো, তুফান এলো, নির্যাতনের ঢেউ,
তবু তারা বলেনি কখনো— “এ পথে আর কেউ?”
বদরের প্রান্তরে তারা ছিল বজ্রের গর্জন,
উহুদের বুকে তারা ছিল ধৈর্যের অনুরণন।
খন্দকের শীতে তারা ক্ষুধায় কাঁপলেও,
“আল্লাহু আকবার” ধ্বনি তাদের ঠোঁট ছাড়েনি তবুও।
এক টুকরো রুটি ভাগ করত তিনজন মিলে,
এক পেয়ালা পানি দিত অপর ভাইয়ের হাতে তুলে।
নিজেরা না খেয়ে অন্যকে খাওয়াত হাসিমুখে,
কারণ ভালোবাসা ছিল তাদের ঈমানের সুখে।
এক সাহাবী মৃত্যুর মুখে বলেছিল ধীরে,
“আগে আমার ভাইকে দাও”— তৃষ্ণার কাঁপা নীড়ে।
এই ছিল ঈমান, এই ছিল উম্মতের প্রাণ,
যেখানে নিজের চেয়ে বড় ছিল অপরের সম্মান।
তাদের তরবারি উঠত জুলুমের বিরুদ্ধে,
কিন্তু এতিম দেখলে হৃদয় ভেঙে যেত নিভৃতে।
এক হাতে ছিল শক্তি, অন্য হাতে মায়া,
এই ভারসাম্যেই ছিল ইসলামের মহিমাময় ছায়া।
আজ আমরা কোথায় হারালাম সেই দীপ্ত জীবন?
কেন মসজিদ ভরা মানুষ, তবু অন্তরে শূন্যতা গহন?
কেন ভাইয়ে ভাইয়ে আজ বিভেদের দেয়াল?
কেন ভালোবাসার বদলে অহংকারের জঞ্জাল?
সাহাবীরা রাত কাটাত কুরআনের সুরে,
আমরা রাত হারাই দুনিয়ার মিথ্যা নেশার নূরে।
তারা কাঁদত নিজেদের গুনাহ ভেবে,
আমরা হাসি অন্যের দোষ খুঁজে খুঁজে।
হে মুসলিম, ফিরে চলো সাহাবীদের পথে,
ফিরে চলো নবীর সুন্নাহর পবিত্র রথে।
আবার গড়ে তোল ঈমানের সেই সমাজ,
যেখানে ন্যায় হবে আলো, তাকওয়া হবে সাজ।
আবার জাগুক তাহাজ্জুদের কান্নাভেজা রাত,
আবার উঠুক মসজিদমুখী শান্ত প্রভাত।
আবার মানুষ ভালোবাসুক আল্লাহর তরে,
আবার হৃদয় নরম হোক সিজদার অশ্রুধারে।
হে আল্লাহ, আমরাও চাই সাহাবীদের সেই মন,
যেখানে নেই হিংসা, নেই অহংকারের ক্ষণ।
আমাদের অন্তর ভরাও কুরআনের আলোয়,
আমাদের জীবন সাজাও সুন্নাহর ভালোয়।
আমাদের চোখে দাও আখিরাতের ভয়,
আমাদের অন্তরে দাও জান্নাতের আশাময়।
আমাদের হাতে দাও দানের উদারতা,
আমাদের মুখে দাও সত্যের দৃঢ়তা।
আমাদের সন্তানদের করো দীনের সৈনিক,
যারা হবে তাকওয়ায় দৃঢ়, চরিত্রে অনুপম ঠিক।
তাদের হৃদয়ে দাও নবীর ভালোবাসা,
যাতে কিয়ামতেও থাকে ঈমানের আশা।
যেদিন সূর্য হবে কাছে, কাঁপবে সব প্রাণ,
যেদিন আমল ছাড়া থাকবে না কোনো অবলম্বন।
সেদিন যেন আমরাও থাকি নেককারদের সারি,
রাসূলের উম্মত হয়ে পাই জান্নাতের দ্বার খোলা ভারী।
হাউজে কাওসারের পানি যেন পাই তৃষ্ণার শেষে,
নবীর শাফাআত যেন মেলে হাশরের পরিবেশে।
আমলনামা যেন ডান হাতে পাই আনন্দভরে,
আর ফিরদাউসের ছায়ায় থাকি চিরদিন ধরে।
হে দয়াময় রব, আমাদের গুনাহ মাফ করো,
অন্তরের কালো দাগ তোমার রহমতে দূর করো।
সূরা আল-ফাতহের এই আয়াত হোক হৃদয়ের প্রাণ,
সাহাবীদের পথে চলেই হোক জীবনের সম্মান।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
মরুর বুকে জ্বলছিল যখন অন্ধকারের আগুন,
মানুষ তখন হারিয়ে ফেলেছিল সত্যের দিগন্তরঙ।
জাহেলিয়াতের কালো মেঘ ঢেকেছিল চারিধার,
অন্যায় ছিল রাজসিংহাসনে, সত্য ছিল পরাজয়ের ভার।
ঠিক তখনই উঠল এক নূরের সূর্য মহান,
— যাঁর আগমনে জেগে উঠল মৃতপ্রায় জাহান।
তিনি এলেন কুরআনের আলো হাতে করে,
মানুষকে ফিরিয়ে নিতে রবের শান্তির ঘরে।
তাঁর সাথে ছিল একদল নূরানি প্রাণ,
যাদের হৃদয়ে জ্বলত তাকওয়ার দীপ্তিমান।
তারা ছিল সাহাবী— ঈমানের উজ্জ্বল তারা,
যাদের জীবন দেখে ফেরেশতারাও বলত— “সুবহানাল্লাহ” ধারা।
কাফিরদের সামনে তারা ছিল বজ্রের মত কঠিন,
হকের প্রশ্নে আপোষহীন, সত্যে ছিল অটল ঋজু দিন।
জুলুমের সামনে মাথা নোয়ায়নি কোনোদিন,
কারণ অন্তরে ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ইয়াকীন।
কিন্তু নিজেদের মাঝে ছিল কত মায়া,
ভালোবাসার নদী বয়ে যেত হৃদয়ের ছায়া।
একজন ক্ষুধার্ত হলে অন্যজন না খেয়ে থাকত,
ভাইয়ের কষ্ট দেখে নিজের বুক নীরবে ফাটত।
তুমি যদি দেখতে তাদের তাহাজ্জুদের রাত,
আকাশ কাঁপত তাদের অশ্রুভেজা মুনাজাত।
সিজদার মাটিতে ঝরত চোখের নীরব ধারা,
যেন প্রতিটি ফোঁটা ডাকত— “হে রব, তুমি ছাড়া কে আছে আর?”
রুকূতে ছিল বিনয়, সিজদাতে ছিল প্রেম,
তাদের প্রতিটি দোয়ায় ছিল জান্নাতের নেম।
তারা চাইত না দুনিয়ার ক্ষণিক সুখের ভিড়,
আখিরাতের মুক্তিই ছিল তাদের অন্তরের নীড়।
তাদের কপালে ছিল সিজদার নূরের রেখা,
যেন ফেরেশতাদের ছোঁয়া লেগেছে দেখা।
চেহারায় ফুটে উঠত প্রশান্ত ঈমান,
দেখলে মনে হতো— এরা জান্নাতেরই অতিথিমান।
তাওরাতে ছিল তাদের গৌরবের কথা,
ইনজীলে ছিল তাদের ঈমানী ব্যথা।
চারাগাছের মতো তারা বেড়ে উঠেছিল ধীরে,
কচি পাতা মেলে দাঁড়িয়েছিল সত্যের নীড়ে।
প্রথমে তারা ছিল দুর্বল, অবহেলিত ক্ষুদ্র দল,
কিন্তু ঈমানের শক্তিতে হলো পৃথিবীর সম্বল।
একটি চারাগাছ যেমন হয় মহীরুহ মহান,
তেমনি সাহাবীরা বদলে দিল গোটা জাহান।
বদরের বুকে তারা ছিল অগ্নির শিখা,
উহুদের ক্ষতও থামাতে পারেনি ঈমানের দিশা।
খন্দকের শীতে কাঁপলেও বলেনি— “ভয়”,
কারণ আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতেই ছিল তাদের জয়।
তাদের ঘর ছিল মাটির, কিন্তু মন ছিল আকাশ,
তাদের কথায় ছিল সত্য, চরিত্রে সুবাস।
একটি খেজুর ভাগ করেও হাসিমুখে খেত,
কারণ তারা জানত— আখিরাতই চিরস্থায়ী ক্ষেত।
তাদের হাতে ছিল দান, চোখে ছিল অশ্রু,
হৃদয়ে ছিল উম্মতের জন্য অফুরন্ত দুঃখ।
এতিম দেখলে বুক কেঁপে উঠত করুণায়,
মিসকিন দেখলে দিত সবটুকু ভালোবাসায়।
তাদের তরবারি উঠত কেবল জুলুমের বিরুদ্ধে,
কখনো নয় অহংকারের উন্মত্ত নিভৃতে।
এক হাতে শক্তি, অন্য হাতে মায়া,
এই ভারসাম্যেই ফুটেছিল ইসলামের ছায়া।
আজ আমরা কোথায় হারিয়ে ফেলেছি সেই দীপ্ত প্রাণ?
কেন মসজিদ ভরা মানুষ, তবু শূন্য ঈমান?
কেন ভাইয়ে ভাইয়ে আজ বিভেদের দেয়াল?
কেন ভালোবাসার বদলে অহংকারের জঞ্জাল?
সাহাবীরা রাত কাটাত কুরআনের তিলাওয়াতে,
আমরা রাত হারাই দুনিয়ার মিথ্যা বিভ্রান্তিতে।
তারা নিজেদের গুনাহ ভেবে কাঁদত নিরালায়,
আমরা অন্যের দোষ খুঁজি অহংকারের ছলনায়।
হে মুসলিম, আবার জাগো ঈমানের আলোয়,
ফিরে চলো নবীর সুন্নাহর নির্মল ছায়ায়।
আবার গড়ে তোল ভালোবাসার সমাজ,
যেখানে তাকওয়াই হবে মানুষের শ্রেষ্ঠ সাজ।
আবার উঠুক তাহাজ্জুদের অশ্রুভেজা রাত,
আবার ভরে উঠুক মসজিদের কাতারভরা প্রভাত।
আবার মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক আল্লাহর তরে,
আবার হৃদয় নরম হোক সিজদার অশ্রুধারে।
হে আল্লাহ, আমরাও চাই সেই পবিত্র মন,
যেখানে নেই হিংসা, নেই দম্ভের ক্ষণ।
আমাদের অন্তরে দাও কুরআনের আলো,
আমাদের জীবন করো সুন্নাহর ভালো।
আমাদের চোখে দাও আখিরাতের ভয়,
আমাদের অন্তরে দাও জান্নাতের আশাময়।
আমাদের হাতে দাও দানের মহত্ত্ব,
আমাদের কণ্ঠে দাও সত্যের দৃঢ়ত্ব।
আমাদের সন্তানদের করো দীনের যোদ্ধা,
যারা হবে তাকওয়ায় দৃঢ়, চরিত্রে নির্মল সদা।
তাদের হৃদয়ে দাও নবীর অগাধ প্রেম,
যাতে হাশরের দিনেও টিকে থাকে ঈমানের নেম।
যেদিন সূর্য হবে কাছে, কাঁপবে সমস্ত প্রাণ,
যেদিন আমল ছাড়া থাকবে না কোনো অবলম্বন।
সেদিন যেন আমরাও থাকি নেককারদের সাথে,
রাসূলের পতাকার নিচে শান্তির জান্নাতপথে।
হাউজে কাওসারের পানি যেন পাই তৃষ্ণার শেষে,
নবীর শাফাআত যেন মেলে হাশরের পরিবেশে।
আমলনামা যেন ডান হাতে পাই আনন্দভরে,
আর ফিরদাউসের ছায়ায় থাকি চিরকাল ধরে।
হে দয়াময় রব, মাফ করো আমাদের গুনাহ,
অন্তরের কালো দাগ ধুয়ে দাও রহমতের সুবাহ।
সূরা আল-ফাতহের আয়াত হোক হৃদয়ের প্রাণ,
সাহাবীদের পথে চলেই হোক জীবনের সম্মান।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
সূরাঃ আল-ফাতহ আয়াতঃ ২৯ মাদানী
Top of Form
Bottom of Form
৪
৪ মন্তব্য