সহকারী অধ্যাপক
২৩ মে, ২০২৬ ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
কুরবানীর ঈদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
কুরবানীর ঈদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
রহমতের ছায়াতলে জাগে ঈমানের গান।
মহান আল্লাহ সবার দয়াময় মেজবান,
তাঁরই নামে মুখরিত আসমান আর প্রাণ।
এ ঈদ শুধু হাসি নয়, নয় কেবল ভোজন,
এ ঈদ ত্যাগের দীপশিখা, আত্মার জাগরণ।
এ ঈদ শেখায় অন্তরে পশুত্ব কর জবাই,
লোভ-হিংসা-অহংকার হৃদয় থেকে সরাই।
কুরবানী শুধু পশুর রক্ত ঝরানো নয়,
আল্লাহর প্রেমে নিজের নফস ভাঙার পরিচয়।
নিজের ভেতর জমে থাকা অন্ধকারের দল,
তাকওয়ার ছুরিতে কাটতে হবে অবিরল।
আদি পিতা আদমের দুই পুত্রের দান,
হাবীলের সেই আন্তরিকতা পেয়েছিল সম্মান।
কাবীলের অন্তরে ছিল অহংকারের ছাপ,
তাই তার কুরবানীতে নেমে এলো অভিশাপ।
সেই থেকে চলছে ধারা যুগে যুগে আজ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিতে বান্দার নিবেদিত সাজ।
তারপর এলেন খলিল ইবরাহীম মহান,
তাওহীদের আলো হাতে জাগালেন জাহান।
স্বপ্নে এল আদেশ এক—
“প্রিয় পুত্রকে কুরবান কর, হে আমার বান্দা এক।”
কাঁপেনি তাঁর অন্তর তখন, থামেনি চোখের জল,
আল্লাহর প্রেমে বিলিয়ে দিলেন হৃদয়েরই ফল।
শিশু ইসমাঈল বললেন হেসে,
“আব্বা, পালন করুন আদেশ ভেসে।
আমায় পাবেন ইনশাআল্লাহ ধৈর্যশীলদের দলে,
আল্লাহর হুকুম মানাই শ্রেষ্ঠ সবকিছুর তলে।”
মিনার প্রান্তর স্তব্ধ হলো, নীরব হলো বাতাস,
ফেরেশতারাও দেখল সেদিন ঈমানের সুবাস।
ছুরি চলল, কিন্তু আল্লাহ দিলেন মহান দান,
দুম্বা নেমে এলো আসমান হতে রহমতের নিদান।
সেই স্মৃতি আজও বয়ে আনে ঈদুল আযহার দিন,
ত্যাগের মাঝে লুকিয়ে আছে জান্নাতের রঙিন।
আজও মুসলিম বিশ্বজুড়ে জাগে সেই আহ্বান,
“আল্লাহর পথে বিলিয়ে দাও তোমার প্রাণ-সম্ভার।”
কুরবানীর ঈদে ধনী-গরীব এক কাতারে রয়,
ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের জয়।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যখন তাকবীর ওঠে ধ্বনি,
মনে হয় এ পৃথিবীতে শান্তিই আসল ধনই।
এই ঈদ শেখায় ভাগ করে খেতে,
ক্ষুধার্ত মুখে হাসি ফোটাতে।
শুধু নিজের ঘর ভরালে নয়,
পাশের মানুষের কান্নাও শুনতে হয়।
যে মাংস যায় গরীবের ঘরে,
সেই আনন্দ লুকায় অন্তরে।
এক টুকরো গোশতে কত সুখের আলো,
অসহায়ের মুখে তখন ফুটে আশার ভালো।
আল্লাহ বলেন, “রক্ত-মাংস পৌঁছে না মোর কাছে,
তোমাদের তাকওয়াই কেবল আমায় ভালোবাসে।”
তাই তো কুরবানীর আসল মহিমা এই,
আল্লাহর ভয়ে অন্তর ভিজে যায় যেই।
হে মানুষ, পশু জবাইয়ের আগে
নিজের ভেতর তাকাও অনুরাগে।
কত হিংসা, কত রাগ, কত লোভ জমে,
এসবই তো আগুন হয়ে জ্বলে অন্তরমনে।
কেটে ফেল অহংকারের শিকড়,
ভেঙে ফেল মিথ্যা গৌরবের ঘর।
মানুষকে ভালোবাস, কর দয়া সবার তরে,
এটাই তো কুরবানীর শিক্ষা অন্তরে অন্তরে।
কুরবানী মানে শুধু ছুরি নয় হাতে,
কুরবানী মানে সত্য পথে থাকা প্রভাতেতে।
হারাম ছেড়ে হালাল পথে জীবন গড়া,
অন্যায়ের সামনে সত্যকে ধরা।
কুরবানী মানে মায়ের চোখের জল মুছে দেওয়া,
অসহায়ের কষ্ট নিজের বুকে নিয়ে নেওয়া।
এতিম শিশুর মাথায় স্নেহের হাত রাখা,
দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা আঁকা।
যে যুবক গুনাহ ছেড়ে রবের পথে আসে,
তার জীবনেও কুরবানীর সুবাস ভাসে।
যে ধনী নিজের সম্পদ বিলিয়ে দেয় দান,
সে-ও তো করে আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধান।
যে স্ত্রী পর্দায় রাখে ঈমানের মান,
সে-ও তো কুরবানীর উজ্জ্বল সম্মান।
যে পিতা সন্তান গড়ে দ্বীনের আলোয়,
তার ঘরেও রহমত নামে ভালোয় ভালোয়।
হে মুসলিম, জাগো আবার ইবরাহীমী তেজে,
অন্ধকার হার মানুক ঈমানী আলোয় মেজে।
দুনিয়ার মোহ যেন না করে বন্দী,
আখিরাতের পথেই হোক জীবন আনন্দী।
আজ মিনার প্রান্তর যেন ডাকে বারবার,
“আল্লাহর প্রেমেই লুকিয়ে মুক্তির দ্বার।”
তাই তো বলি হৃদয় ভরে,
ত্যাগের আলো জ্বালো ঘরে ঘরে।
কুরবানীর ঈদ মানে শান্তির আহ্বান,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক প্রাণ।
বিদ্বেষ ভুলে গড়ি ভালোবাসার ভুবন,
আল্লাহর নামে হোক আত্মার শুদ্ধিকরণ।
ওরে মানুষ, পশু নয় শুধু,
কুরবান কর অন্তরের ক্রোধ-বিষাদ-বিষধূ।
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে ফেল প্রাণে,
ভালোবাসা ফুটুক মানবতার গানে।
আল্লাহর নামে যে জীবন দেয়,
তার হৃদয়ে জান্নাতের সুবাস বয়ে যায়।
ত্যাগের মাঝেই লুকিয়ে সফলতা মহান,
এই শিক্ষাই দেয় কুরবানীর কোরআনী বাণ।
এসো সবাই হাত তুলি আজ,
রবের দরবারে করি মোনাজাতের সাজ—
হে আল্লাহ, দাও ইবরাহীমী ঈমান,
ইসমাঈলী ত্যাগ আর হাবীবের সম্মান।
আমাদের কুরবানী কবুল করো,
গুনাহ মাফ করে হৃদয় ভরো।
তোমার প্রেমে ভিজুক অন্তর,
তোমার পথেই কাটুক জীবনভর।
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
মহান আল্লাহ সবার চির দয়ালু মেজবান।
তাঁর রহমতের ছায়ায় কাটুক জীবনের পথ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক দুনিয়া ও আখিরাত।
***
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
রহমতের দরিয়ায় ভাসে মুমিনের প্রাণ।
মহান আল্লাহ সবার দয়ালু মেজবান,
তাঁরই নামে মুখর হয় ধরণী আর আসমান।
এ ঈদ কেবল রঙিন পোশাক, খুশির দিন নয়,
এ ঈদ আত্মশুদ্ধির, তাকওয়ার পরিচয়।
এ ঈদ শেখায়—
নিজের নফস ভাঙতে হয়,
অহংকারের প্রাসাদটাকে
ধূলায় মিশিয়ে দিতে হয়।
পশু জবাই শুধু বাহ্যিক রীতি নয়,
ভেতরের পশুত্ব কাটাই আসল পরিচয়।
হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ আর ক্রোধ,
এসবই মানুষের অন্তরের রোধ।
তাকওয়ার ছুরিতে কাটতে হবে সেগুলো,
তবেই খুলবে রহমতের জানালাগুলো।
আদি পিতা আদমের দুই পুত্র একদিন,
নিয়ে এলো কুরবানী রবের দরবারে বিনম্র ঋণ।
হাবীল দিল আন্তরিক হৃদয়ের দান,
তাই কবুল হলো তার নিবেদন মহান।
কাবীল দিল অহংকারে ভরা উপহার,
তাই সে হারালো রবের দরবার।
সেই থেকে কুরবানীর ধারা বহমান,
নবীদের যুগে যুগে জেগেছে ঈমান।
তারপর এলেন ইবরাহীম খলিল,
তাওহীদের আলোয় করলেন বিশ্ব ঝলমল।
স্বপ্নে এলো আল্লাহর হুকুম একদিন—
“প্রিয় পুত্রকে কুরবান করো আমার দ্বীন।”
কঠিন সে পরীক্ষা, কাঁপে মানব প্রাণ,
কিন্তু ইবরাহীম ছিলেন আল্লাহভীরু মহান।
ইসমাঈল বললেন শান্ত চোখ তুলে,
“আব্বা, পালন করুন রবের হুকুম ভুলে
যাবেন না আপনি ভয় কিংবা মায়া,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই শ্রেষ্ঠ ছায়া।”
মিনার বুকে স্তব্ধ হলো বাতাস,
আসমান জুড়ে নেমে এলো রহমতের সুবাস।
ছুরি চলল, কিন্তু আল্লাহ মহান,
ইসমাঈলের বদলে দিলেন দুম্বার কুরবান।
সেই স্মৃতি আজও বহে যুগের পর যুগ,
তাই তো ঈদুল আযহা আজও হৃদয়ে সুখ।
প্রতি বছর তাকবীর ওঠে ধ্বনি,
“আল্লাহু আকবার”—কম্পে ধরণী।
কুরবানীর ঈদে ধনী-গরীব এক কাতার,
একই মাটিতে সিজদা করে বারবার।
রাজা-প্রজা মুছে ফেলে সব ভেদাভেদ,
ভালোবাসায় জেগে ওঠে মানবতার বেদ।
এ ঈদ শেখায় গরীবের পাশে দাঁড়াতে,
অসহায়ের চোখের জল মুছে দিতে।
এক টুকরো গোশত যখন পৌঁছে ক্ষুধার ঘরে,
এক টুকরো হাসি ফুটে দুঃখী মুখের তরে।
কুরবানী মানে কেবল রক্তের ধারা নয়,
এটা ঈমানের শক্তি, তাকওয়ার পরিচয়।
আল্লাহ বলেন—
“মাংস কিংবা রক্ত পৌঁছে না আমার কাছে,
পৌঁছে শুধু তাকওয়া, যে হৃদয় আমায় ভালোবাসে।”
তাই যে কুরবানী করে লোক দেখানো মনে,
তার আমল হারিয়ে যায় দুনিয়ার ক্ষণে।
আর যে বান্দা রবের প্রেমে চোখের জল ফেলে,
তার নাম লেখা হয় রহমতের মেলায়।
হে মানুষ, নিজের অন্তর দেখো,
কত পাপ সেখানে জমে আছে একসাথে রেখো।
লোভের আগুন, অহংকারের বিষ,
এসবই তো মানুষকে করে নিঃস্ব নিঃশেষ।
কেটে ফেল হিংসার কালো জাল,
সত্যের পথে জ্বালো ঈমানের মশাল।
মানুষকে ভালোবাসো আল্লাহর তরে,
শান্তির সুবাস ছড়াও ঘরে ঘরে।
কুরবানী মানে সত্য বলা,
অন্যায়ের সামনে মাথা না নত করা।
কুরবানী মানে হালাল পথে চলা,
গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর পথে মনটা গড়া।
কুরবানী মানে মায়ের সেবা করা,
বাবার মুখে হাসির আলো ধরা।
এতিম শিশুর মাথায় হাত বুলানো,
দুঃখী মানুষের কষ্ট আপন করে নেওয়া।
যে যুবক হারাম ছেড়ে দ্বীনের পথে ফেরে,
তার জীবনেও কুরবানীর আলো ঝরে।
যে মানুষ গোপনে দান করে রাতের শেষে,
ফেরেশতারা তার নাম লেখে ভালোবেসে।
যে স্ত্রী লজ্জা-হায়া আঁকড়ে রাখে প্রাণ,
তার জীবনেও জ্বলে ঈমানের সম্মান।
যে পিতা সন্তান গড়ে কুরআনের আলোয়,
তার ঘর ভরে যায় রহমতের ঢল বয়ে।
হে মুসলিম, জাগো আবার তাওহীদের ডাকে,
ইবরাহীমী ঈমান ফিরুক হৃদয়ের ফাঁকে।
আজও পৃথিবী কাঁদে অন্যায়ের ভারে,
মানবতা হারায় অন্ধকারের কারাগারে।
তাই তো দরকার ইসমাঈলী ত্যাগ,
যে ত্যাগে জাগে আখিরাতের অনুরাগ।
দুনিয়ার মোহ যেন গ্রাস না করে প্রাণ,
রবের প্রেমেই খুঁজে নাও জীবনের জ্ঞান।
আজ মিনার প্রান্তর যেন ডাকে অবিরাম—
“ত্যাগ ছাড়া কখনো জাগে না ইসলামের নাম।”
তাই কুরবানীর আগে নিজেকে বদলাও,
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয় শিখাও।
পশুর গলায় ছুরি দেওয়ার আগে,
নিজের নফসকে জবাই কর অনুরাগে।
ক্রোধ, লোভ, হিংসা, মিথ্যা আর পাপ,
এসবই মানুষের অন্তরের অভিশাপ।
কুরবানীর ঈদ মানে শান্তির বারতা,
মানবতার হাতে হাতে ভালোবাসার চিঠা।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক ঐক্যের গান,
ভ্রাতৃত্বের সুবাসে ভরে উঠুক প্রাণ।
এসো সবাই তুলি দু’হাত মোনাজাতে,
রহমত ঝরুক আজ আসমানের পথে।
হে আল্লাহ, দাও আমাদের খাঁটি ঈমান,
ইবরাহীমের মতো দৃঢ় আত্মসমর্পণ দান।
দাও ইসমাঈলের মতো ধৈর্যের আলো,
দাও হাবীবের সুন্নাহ ভালোবাসতে ভালো।
আমাদের কুরবানী কবুল করো হে রব,
গুনাহ মুছে দাও, খুলে দাও রহমতের দরজ।
আমাদের জীবন, মৃত্যু, সালাত আর দান,
সবকিছু হোক শুধু তোমারই সম্মান।
তোমার প্রেমে কাটুক প্রতিটি ক্ষণ,
তোমার নূরে আলোকিত হোক জীবন।
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
মহান আল্লাহ সবার চিরদয়ালু মেজবান।
তাঁর রহমতের ছায়ায় কাটুক দুনিয়ার পথ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক আখিরাতের রথ।
***
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
মহান আল্লাহ সবার দয়ালু মেজবান।
রহমতের মেঘ নামে আসমানের বুকে,
মাগফিরাতের সুবাস ভাসে মানুষের সুখে।
এ ঈদ কেবল নতুন কাপড়, খুশির আয়োজন নয়,
এ ঈদ আত্মশুদ্ধির, তাকওয়ার পরিচয়।
এ ঈদ শেখায়—
অন্তরের পশুত্বকে করতে হবে জবাই,
লোভ-লালসা-অহংকার হৃদয় থেকে সরাই।
কুরবানী মানে শুধু পশুর রক্তধারা নয়,
এটি আল্লাহর প্রেমে আত্মবিসর্জনের পরিচয়।
নিজের নফস যখন রবের হুকুমে নত হয়,
তখনই বান্দার জীবনে সত্যিকারের ঈদময়।
আদি পিতা আদমের ঘরেই শুরু সেই ইতিহাস,
হাবীলের আন্তরিকতায় নেমেছিল রহমতের সুবাস।
কাবীলের অন্তরে ছিল হিংসার কালো ছায়া,
তাই তার কুরবানী পেল না রবের মায়া।
সেই থেকে যুগে যুগে নবীদের ডাক,
“আল্লাহর প্রেমেই জীবনের আসল হাক।”
তারপর এলেন ইবরাহীম খলিল মহান,
তাওহীদের আলোয় ভরালেন দুনিয়ার প্রাণ।
স্বপ্নে এলো আল্লাহর হুকুম একদিন—
“হে ইবরাহীম! কুরবান কর প্রিয় সন্তান তোমার দ্বীন।”
কঠিন সে পরীক্ষা, কাঁপে মানব হৃদয়,
কিন্তু আল্লাহভীরু হৃদয় তখনও অবিচল রয়।
ইসমাঈল বললেন শান্ত মুখ তুলে—
“আব্বা, পালন করুন আদেশ ভুলে
যাবেন না মায়া কিংবা ভয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই শ্রেষ্ঠ পরিচয়।”
মিনার বুকে স্তব্ধ হলো দিগন্তের বাতাস,
ফেরেশতারাও দেখল সেদিন ঈমানের সুবাস।
ছুরি চলল, কিন্তু আল্লাহ মহান,
ইসমাঈলের বদলে দিলেন জান্নাতি কুরবান।
সেই স্মৃতি আজও জাগে ঈদুল আযহায়,
ত্যাগের আলো ঝরে প্রতিটি মুমিনের চাওয়ায়।
আজও তাকবীর ধ্বনি কাঁপায় আকাশ-বাতাস,
“আল্লাহু আকবার”—জাগে হৃদয়ে উল্লাস।
কুরবানীর ঈদে ধনী-গরীব একই কাতারে,
কাঁধে কাঁধ মিলায় ভালোবাসার দ্বারে।
ভেদাভেদ ভুলে যায় রাজা আর প্রজা,
মানবতার বাগানে ফুটে শান্তির সাজা।
এ ঈদ শেখায় ভাগ করে খেতে,
ক্ষুধার্ত মুখে হাসির আলো দিতে।
নিজের সুখে ডুবে থাকা নয়,
অসহায়ের কান্নাও শুনতে হয়।
যে গোশত পৌঁছে দরিদ্রের ঘরে,
সেই আনন্দ জমে আখিরাতের তরে।
এক মুঠো দানে কত প্রাণে আলো জ্বলে,
এক টুকরো ভালোবাসা হৃদয় ছুঁয়ে চলে।
আল্লাহ বলেন—
“রক্ত-মাংস পৌঁছে না আমার কাছে,
পৌঁছে শুধু তাকওয়া, যে হৃদয় আমায় ভালোবাসে।”
তাই তো কুরবানীর আসল মহিমা এই,
আল্লাহভীত হৃদয়ই সবচেয়ে বড় কিছু সেই।
হে মানুষ, পশু জবাইয়ের আগে
নিজের অন্তর দেখো অনুরাগে।
কত রাগ, কত লোভ, কত অহংকার,
এসবই তো মানুষের অন্তরের অন্ধকার।
কেটে ফেল হিংসার বিষাক্ত শেকড়,
ভেঙে ফেল মিথ্যা গৌরবের ঘর।
সত্যের পথে জ্বালো ঈমানের প্রদীপ,
তবেই হৃদয় হবে জান্নাতের নিকটদ্বীপ।
কুরবানী মানে সত্য কথা বলা,
অন্যায়ের সামনে মাথা না নত করা।
হারাম ছেড়ে হালালের পথে চলা,
রবের সন্তুষ্টিতে জীবন গড়া।
কুরবানী মানে মায়ের চোখের জল মুছানো,
বাবার ক্লান্ত মুখে হাসি ফুটানো।
এতিম শিশুর মাথায় স্নেহের হাত রাখা,
দুঃখী মানুষের কষ্ট নিজের মনে আঁকা।
যে যুবক গুনাহ ছেড়ে রবের পথে ফেরে,
তার জীবনেও কুরবানীর আলো ঝরে।
যে ধনী গোপনে দান করে রাতের শেষে,
ফেরেশতারা তার নাম লেখে ভালোবেসে।
যে স্ত্রী লজ্জা-হায়া আঁকড়ে রাখে প্রাণ,
তার জীবনেও জ্বলে ঈমানের সম্মান।
যে পিতা সন্তান গড়ে কুরআনের আলোয়,
তার ঘর ভরে রহমতের ঢল বয়ে যায় ভালোয়।
হে মুসলিম! জাগো আবার ইবরাহীমী তেজে,
আধুনিক জাহেলিয়াত হার মানুক ঈমানী মেজে।
দুনিয়ার মোহ যেন না করে বন্দী,
আখিরাতের পথেই হোক প্রাণ আনন্দী।
আজ মিনার প্রান্তর যেন ডাকে বারবার—
“ত্যাগ ছাড়া খুলে না মুক্তির দ্বার।”
তাই তো বলি হৃদয় ভরে,
ত্যাগের আলো জ্বালো ঘরে ঘরে।
কুরবানীর ঈদ মানে শান্তির আহ্বান,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক প্রাণ।
বিদ্বেষ ভুলে গড়ি ভালোবাসার ভুবন,
আল্লাহর নামে হোক আত্মার শুদ্ধিকরণ।
ওরে মানুষ! পশু নয় শুধু,
কুরবান কর অন্তরের বিষধূ।
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে ফেল প্রাণে,
ভালোবাসা ফুটুক মানবতার গানে।
কুরবানী মানে নিজের নফস ভাঙা,
অন্ধকার হৃদয়ে তাকওয়ার বাতি জ্বালা।
কুরবানী মানে আল্লাহর হুকুমে নত হওয়া,
নিজেকে তাঁর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়া।
আজও ইবরাহীমের ঈমান ডাকে,
ইসমাঈলের ত্যাগ হৃদয়ে আঁকে।
আজও মিনার প্রতিটি ধূলিকণা কয়—
“ত্যাগের মাঝেই মুমিনের আসল জয়।”
এসো সবাই তুলি দু’হাত মোনাজাতে,
রহমত ঝরুক আসমানের পথে।
হে আল্লাহ! দাও খাঁটি ঈমান,
দাও ইবরাহীমী দৃঢ় আত্মসমর্পণ দান।
দাও ইসমাঈলের মতো ধৈর্যের আলো,
দাও হাবীবের সুন্নাহ ভালোবাসতে ভালো।
আমাদের কুরবানী কবুল করো হে রব,
গুনাহ মুছে খুলে দাও রহমতের দরজ।
আমাদের সালাত, কুরবানী, জীবন-মরণ,
হোক শুধু তোমারই সন্তুষ্টির কারণ।
তোমার প্রেমে ভিজুক অন্তর সারাক্ষণ,
তোমার নূরে আলোকিত হোক জীবন।
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
মহান আল্লাহ সবার চিরদয়ালু মেজবান।
তাঁর রহমতের ছায়ায় কাটুক জীবনের পথ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক দুনিয়া ও আখিরাত।
***
Top of Form
******
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
রহমতের ছায়াতলে জাগে ঈমানের গান।
মহান আল্লাহ সবার দয়াময় মেজবান,
তাঁরই নামে মুখরিত আসমান আর প্রাণ।
এ ঈদ শুধু হাসি নয়, নয় কেবল ভোজন,
এ ঈদ ত্যাগের দীপশিখা, আত্মার জাগরণ।
এ ঈদ শেখায় অন্তরে পশুত্ব কর জবাই,
লোভ-হিংসা-অহংকার হৃদয় থেকে সরাই।
কুরবানী শুধু পশুর রক্ত ঝরানো নয়,
আল্লাহর প্রেমে নিজের নফস ভাঙার পরিচয়।
নিজের ভেতর জমে থাকা অন্ধকারের দল,
তাকওয়ার ছুরিতে কাটতে হবে অবিরল।
আদি পিতা আদমের দুই পুত্রের দান,
হাবীলের সেই আন্তরিকতা পেয়েছিল সম্মান।
কাবীলের অন্তরে ছিল অহংকারের ছাপ,
তাই তার কুরবানীতে নেমে এলো অভিশাপ।
সেই থেকে চলছে ধারা যুগে যুগে আজ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিতে বান্দার নিবেদিত সাজ।
তারপর এলেন খলিল ইবরাহীম মহান,
তাওহীদের আলো হাতে জাগালেন জাহান।
স্বপ্নে এল আদেশ এক—
“প্রিয় পুত্রকে কুরবান কর, হে আমার বান্দা এক।”
কাঁপেনি তাঁর অন্তর তখন, থামেনি চোখের জল,
আল্লাহর প্রেমে বিলিয়ে দিলেন হৃদয়েরই ফল।
শিশু ইসমাঈল বললেন হেসে,
“আব্বা, পালন করুন আদেশ ভেসে।
আমায় পাবেন ইনশাআল্লাহ ধৈর্যশীলদের দলে,
আল্লাহর হুকুম মানাই শ্রেষ্ঠ সবকিছুর তলে।”
মিনার প্রান্তর স্তব্ধ হলো, নীরব হলো বাতাস,
ফেরেশতারাও দেখল সেদিন ঈমানের সুবাস।
ছুরি চলল, কিন্তু আল্লাহ দিলেন মহান দান,
দুম্বা নেমে এলো আসমান হতে রহমতের নিদান।
সেই স্মৃতি আজও বয়ে আনে ঈদুল আযহার দিন,
ত্যাগের মাঝে লুকিয়ে আছে জান্নাতের রঙিন।
আজও মুসলিম বিশ্বজুড়ে জাগে সেই আহ্বান,
“আল্লাহর পথে বিলিয়ে দাও তোমার প্রাণ-সম্ভার।”
কুরবানীর ঈদে ধনী-গরীব এক কাতারে রয়,
ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের জয়।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যখন তাকবীর ওঠে ধ্বনি,
মনে হয় এ পৃথিবীতে শান্তিই আসল ধনই।
এই ঈদ শেখায় ভাগ করে খেতে,
ক্ষুধার্ত মুখে হাসি ফোটাতে।
শুধু নিজের ঘর ভরালে নয়,
পাশের মানুষের কান্নাও শুনতে হয়।
যে মাংস যায় গরীবের ঘরে,
সেই আনন্দ লুকায় অন্তরে।
এক টুকরো গোশতে কত সুখের আলো,
অসহায়ের মুখে তখন ফুটে আশার ভালো।
আল্লাহ বলেন, “রক্ত-মাংস পৌঁছে না মোর কাছে,
তোমাদের তাকওয়াই কেবল আমায় ভালোবাসে।”
তাই তো কুরবানীর আসল মহিমা এই,
আল্লাহর ভয়ে অন্তর ভিজে যায় যেই।
হে মানুষ, পশু জবাইয়ের আগে
নিজের ভেতর তাকাও অনুরাগে।
কত হিংসা, কত রাগ, কত লোভ জমে,
এসবই তো আগুন হয়ে জ্বলে অন্তরমনে।
কেটে ফেল অহংকারের শিকড়,
ভেঙে ফেল মিথ্যা গৌরবের ঘর।
মানুষকে ভালোবাস, কর দয়া সবার তরে,
এটাই তো কুরবানীর শিক্ষা অন্তরে অন্তরে।
কুরবানী মানে শুধু ছুরি নয় হাতে,
কুরবানী মানে সত্য পথে থাকা প্রভাতেতে।
হারাম ছেড়ে হালাল পথে জীবন গড়া,
অন্যায়ের সামনে সত্যকে ধরা।
কুরবানী মানে মায়ের চোখের জল মুছে দেওয়া,
অসহায়ের কষ্ট নিজের বুকে নিয়ে নেওয়া।
এতিম শিশুর মাথায় স্নেহের হাত রাখা,
দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা আঁকা।
যে যুবক গুনাহ ছেড়ে রবের পথে আসে,
তার জীবনেও কুরবানীর সুবাস ভাসে।
যে ধনী নিজের সম্পদ বিলিয়ে দেয় দান,
সে-ও তো করে আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধান।
যে স্ত্রী পর্দায় রাখে ঈমানের মান,
সে-ও তো কুরবানীর উজ্জ্বল সম্মান।
যে পিতা সন্তান গড়ে দ্বীনের আলোয়,
তার ঘরেও রহমত নামে ভালোয় ভালোয়।
হে মুসলিম, জাগো আবার ইবরাহীমী তেজে,
অন্ধকার হার মানুক ঈমানী আলোয় মেজে।
দুনিয়ার মোহ যেন না করে বন্দী,
আখিরাতের পথেই হোক জীবন আনন্দী।
আজ মিনার প্রান্তর যেন ডাকে বারবার,
“আল্লাহর প্রেমেই লুকিয়ে মুক্তির দ্বার।”
তাই তো বলি হৃদয় ভরে,
ত্যাগের আলো জ্বালো ঘরে ঘরে।
কুরবানীর ঈদ মানে শান্তির আহ্বান,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক প্রাণ।
বিদ্বেষ ভুলে গড়ি ভালোবাসার ভুবন,
আল্লাহর নামে হোক আত্মার শুদ্ধিকরণ।
ওরে মানুষ, পশু নয় শুধু,
কুরবান কর অন্তরের ক্রোধ-বিষাদ-বিষধূ।
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে ফেল প্রাণে,
ভালোবাসা ফুটুক মানবতার গানে।
আল্লাহর নামে যে জীবন দেয়,
তার হৃদয়ে জান্নাতের সুবাস বয়ে যায়।
ত্যাগের মাঝেই লুকিয়ে সফলতা মহান,
এই শিক্ষাই দেয় কুরবানীর কোরআনী বাণ।
এসো সবাই হাত তুলি আজ,
রবের দরবারে করি মোনাজাতের সাজ—
হে আল্লাহ, দাও ইবরাহীমী ঈমান,
ইসমাঈলী ত্যাগ আর হাবীবের সম্মান।
আমাদের কুরবানী কবুল করো,
গুনাহ মাফ করে হৃদয় ভরো।
তোমার প্রেমে ভিজুক অন্তর,
তোমার পথেই কাটুক জীবনভর।
কুরবানীর ঈদ মানে মোরা আল্লাহর মেহমান,
মহান আল্লাহ সবার চির দয়ালু মেজবান।
তাঁর রহমতের ছায়ায় কাটুক জীবনের পথ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক দুনিয়া ও আখিরাত।
….
৪
৪ মন্তব্য